12/06/2026
সবকিছু কনটেন্ট নয়, সবকিছু প্রচারেরও নয়।
আজকাল কিছু মানুষ কনটেন্ট ক্রিয়েটর হওয়ার নামে এমন এক প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যেখানে ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক গোপনীয়তা, আত্মসম্মান সবকিছুই ভিউ আর লাইক পাওয়ার জন্য উৎসর্গ করে দেওয়া হচ্ছে।
মেহমান আসলে ক্যামেরা, খাবার রান্না হলে ক্যামেরা, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বের হলে ক্যামেরা, ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু করে দিনের প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী। যেন জীবন নয়, সার্কাস চলছে।
বাস্তবতা হলো, পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ পরিবার নিয়ে ঘুরে, ভালো খায়, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটায়। কিন্তু সবাই তা বাজারে তুলে ধরে না। কারণ তারা জানে, আত্মসম্মান আর ব্যক্তিগত মর্যাদারও একটা মূল্য আছে।
অনেকে মনে করেন, হাজার হাজার ফলোয়ার হলেই তিনি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে গেছেন। কিন্তু ফলোয়ার আর সম্মান এক জিনিস নয়। মানুষ অনেককেই বিনোদনের জন্য দেখে, আবার অনেককেই উদাহরণ হিসেবে সম্মান করে। এই দুইয়ের পার্থক্য বুঝতে না পারলে জনপ্রিয়তা একসময় হাস্যকর হয়ে দাঁড়ায়।
দুঃখজনক বিষয় হলো, আজকাল কিছু মানুষ নিজের যোগ্যতা, জ্ঞান বা অবদান দিয়ে পরিচিত হওয়ার চেয়ে ব্যক্তিগত জীবন বিক্রি করে পরিচিত হতে বেশি আগ্রহী। তারা ভুলে যায়, যে সম্মান একবার নষ্ট হয়, তা হাজার ভাইরাল ভিডিও দিয়েও ফিরিয়ে আনা যায় না।
আমি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছি না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সমাজ মানুষকে শুধু কতজন ফলো করে তা দিয়ে বিচার করে না; সমাজ দেখে তার ব্যক্তিত্ব, রুচি, মূল্যবোধ এবং আত্মমর্যাদা কতটুকু আছে।
আমরাও ছবি দিই, আমরাও স্মৃতি শেয়ার করি, আমরাও ভালো কাজের খবর মানুষকে জানাই। কিন্তু নিজের পরিবার, নিজের ঘর, নিজের প্রতিটি ব্যক্তিগত মুহূর্তকে কনটেন্ট বানিয়ে মানুষের সামনে পরিবেশন করার নাম সচেতনতা নয়, অনেক ক্ষেত্রে সেটা আত্মমর্যাদার সীমা অতিক্রম করা।
ভিউয়ের নেশা, লাইকের লোভ আর ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতা মানুষকে এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সে বুঝতেই পারছে না সে কনটেন্ট তৈরি করছে, নাকি নিজের ব্যক্তিত্বকেই ধীরে ধীরে নিলামে তুলে দিচ্ছে।