01/09/2026
বালুর একটা কণা—কতটুকুই বা তার ওজন!
আঙুলের ফাঁক দিয়ে পড়ে যায়, বাতাসে উড়ে যায়। একেকটি বালুকণা আলাদাভাবে দেখলে যেন তার কোনো মূল্যই নেই।
কিন্তু সেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণাই যখন হাজার হাজার মণ হয়ে একটি বাল্কহেডে ওঠে, তখন দৃশ্যটা বদলে যায়।
বাল্কহেড ভারে নুয়ে পড়ে, পানি ছুঁই ছুঁই করে চলে—মনে হয়, এই বুঝি ডুবে গেল!
অথচ ডোবে না। ভার বহন করেও ঠিকই গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়।
মানুষের জীবনও অনেকটা এমন।
জীবনে বড় কোনো একটি ঘটনা সবসময় মানুষকে ভারী করে তোলে না।
বরং ছোট ছোট দুশ্চিন্তা, দায়িত্ব, অভিমান, না-পাওয়া, ব্যর্থতা, ঋণ, সম্পর্কের টানাপোড়েন—একেকটি বালুকণার মতো এসে জমতে থাকে।
একটি দুশ্চিন্তা তেমন কিছু নয়।
একটি ব্যর্থতা তেমন কিছু নয়।
একটি কষ্টও হয়তো মানুষকে ভেঙে দেয় না।
কিন্তু দিনের পর দিন, বছরের পর বছর সেই ছোট ছোট কষ্টগুলো জমতে জমতে একসময় মানুষও বালিভর্তি বাল্কহেডের মতো ভারী হয়ে যায়।
চোখে তখন ক্লান্তি, মুখে নীরবতা, বুকের ভেতর হাজার মণ বোঝা।
জীবন যেন পানি ছুঁই ছুঁই—একটু ধাক্কাতেই ডুবে যাওয়ার কথা।
তবুও মানুষ ডোবে না।
কারণ মানুষের ভেতরে বাল্কহেডের চেয়েও শক্ত কোনো এক অদৃশ্য শক্তি আছে—
আশা।
তাই জীবন যত ভারীই হোক,
পানি যতই ছুঁই ছুঁই করুক,
গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যেতে হয়।
হয়তো ধীরে।
হয়তো নীরবে।
কিন্তু এগিয়ে যেতে হয়।
কারণ—
ডুবে যাওয়ার মতো ভারী হয়েও যারা ভেসে থাকে, তারাই আসলে জীবনের সবচেয়ে শক্ত মানুষ।