18/04/2023
#কিশোরীকে ধর্ষনের পর হত্যা..............
**************-------------*************
বরগুনা: বরগুনা জেলা ডিবি পুলিশ তালতলীর ছোটবগী ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামের কিশোরী মারুফা হত্যার রহস্য উন্মোচন করে মূল হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম খান।
চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটি অধিকতর তদন্ত ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উৎঘটনের জন্য বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মামলাটি ১৩ মার্চ ২০২৩ বরগুনা জেলা গোয়েন্দা সংস্থার নিকট হস্থান্তর করেন এবং মামলাটি তদন্তের জন্য উপ পরিদর্শক মোশারফ হোসেনের উপর ন্যাস্ত হয়।
মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে উপপরিদর্শক মোশারফ হোসেন আসামীদের জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে সোনালীনিউজকে বলেন, হত্যার দিন সন্ধ্যায় নিহত কিশোরী মারুফা ও তার প্রেমিক হৃদয়কে তালতলী কলেজের নিকট কতিপয় লোকজন আটক করে বেলালের দোকানের সামনে নিয়ে আসে। সেখানে স্থানীয় মেম্বার এনামুল ও মারুফার খালুকে খবর দেয় তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে মেম্বারের ভাগ্নে কবিরকে বলেন উভয়কে বিয়ে পড়িয়ে দিতে। এসময় হৃদয়ের বাবা সুলতান বলে হৃদয়ের বৌ সন্তান রয়েছে এই বিয়ে দিলে আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিবো। এই কথায় বিয়ে না হওয়ায় মারুফার খালু আয়নাল ও তার খালা খাদিজা রাগ করে মারুফা রেখে চলে যায়। পরে ওখানে কবির হৃদয়কে ঘটনা নিষ্পত্তির জন্য ২০ হাজার টাকা নিয়ে আসতে বলে। এরপর কবির মারুফাকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে কিছু লোকজন সঙ্গে করে নিয়ে যায়। আনোয়ার হাওলাদারের ইট ভাটার কাছে সত্তারের দোকানের সামনে এসে ওখানে কিছু খাবার খেয়ে উপস্থিত লোকজনকে বলে আমি একটু মারুফার সঙ্গে একান্তে কথা বলতে চাই। এই বলে ইট ভাটার মাটির ডিবির উপরে নিয়ে কবির প্রথমে মারুফাকে ধর্ষণ করে। পরে ওখান থেকে আসার পরে মারুফকা পৌঁছে দেয়া লোকজন এক এক করে বাড়ি চলে গেলে সর্বশেষ ব্যক্তি সজীবকে কবির বলে সবাই চলে গেছে তুইও চলে যা। সজীব চলে গেলে কবির তাকে সংগ্রামের রাস্তায় নিয়ে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করে। পরে রাত তিনটার সময় মারুফা তার খালু আয়নাল কে ফোন দিয়ে বলে, খালু আপনি রাগ কইরা আমারে রাইখা গেলেন আমারে ঘরে নেন। এসময় আয়নাল জানতে চায় কই আছো কার সঙ্গে আছো। কবিরের সঙ্গে ইট ভাটার কাছে আছে জানতে পেরে আয়নাল বাড়ি থেকে আসে। আয়নাল ইটভাটার তালগাছের নীচে নিয়ে জোরপূর্বক মারুফকে ধর্ষণ করে। এসময় মারুফা বলে খালু আপনাকে আমি বাবার মতন জানতাম আপনিও আমাকে ওদের মতন ধর্ষণ করলেন। সকাল হলে আমি সবাইকে এই কথা বলে দিবো।
এই কথা শুনে আয়নাল এসে কবিরকে বলে মারুফা সব বলে দেবে ওকে বাঁচিয়ে লাভ নেই। তাই ওরা কৌশলে গিয়ে মারুফার ঘরের পিছনে নিয়ে দুজনে গলায় ওড়না লাগিয়ে ফাঁস দেয় এবং আয়নাল গলার টুটি ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে আয়নাল হাত ও কবির পা ধরে মারুফাকে তার বাবার কবরের পাশে রেখে চলে যায়। পরদিন সকালে মারুফার ছোট বোন মারিয়া ফুল গাছে পানি দিতে গেলে মারুফার লাশ দেখতে পায়।
উল্লেখ্য মারুফার বাবা নেই মা লাইলী বেগম ১৫ দিন পূর্বে খুলনায় যায় বাসা বাড়িতে কাজের জন্য। ভাই সবুজ গলাচিপায় বালুর জাহাজে চাকুরী করে। খালা খাদিজা আর খালু আয়নালের ঘরের সঙ্গে ঘর। তাদেরকে দেখভাল দায়িত্বে দিয়ে মা লাইলী গিয়েছিল কাজের সন্ধানে।
তিনি আরো বলেন, গত ১৩ অক্টোবর ২০২২ সালে কিশোরী মারুফাকে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৪ অক্টোবর নিহতের ভাই সবুজ বাদী হয়ে মারুফার কথিত প্রেমিক সাইদুর রহমান পহলান হৃদয় কে মূল আসামি করে ও তার ছোট ভাই সলেমান এবং চাচাতো ভাই সোনাকে আসামী করে হত্যা মামলা করে। তালতলী থানার মামলা নং ১১ জি আর ১৩১। তালতলী থানা পুলিশ তদন্ত নেমে আসামী হৃদয় কে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে নিহতের খালাতো ভাই মিজান পিং আয়নালকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে।
মামলাটি তদন্ত নেমে ডিবির কর্মকর্তা সর্বশেষ মারুফাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়া ব্যক্তি কবিরকে খুঁজতে গেলে সে এলাকায় নেই। এসময় তাকে সন্দেহ করে কবিরকে মোবাইল ট্রাকিং করে দেখতে পায় মারুফা হত্যার পর পরই প্রথমে কুষ্টিয়া পড়ে কিশোরগঞ্জ এলাকায় অবস্থান করছে। ৩০ এপ্রিল রাত তিনটায় তালতলী এসে অবস্থান নিলে পরদিন বিকেল পাচটায় বরগুনা ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার সব বিস্তারিত বলে হত্যাকারী কবির।
এদিকে আয়নাল মামলা থেকে নির্দোষ হতে সুনামগঞ্জের পাগলা এলাকা থেকে আবদুল্লাহ নামক ব্যক্তিকে মাইক্রোবাস ভাড়া করে মারুফার ভাই সবুজের নিকট আপোষ নিস্পত্তির পাঠায় আসামীর পক্ষ থেকে। এর কারণ ছিল মামলা নিস্পত্তি হয়ে গেলে আয়নাল ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থেকে যাবে।
এদিকে আয়নালের ফোন ট্রাকিং করে বন্ধ পেলেও তদন্ত কর্মকর্তা মোশারফ আবদুল্লাহর ফোনে যোগাযোগ ছিল আয়নালের। পরে আবদুল্লাহর ফোন ট্রাকিং করে ১৪ এপ্রিল বরগুনা ডিবি পুলিশের একটি টিম নিয়ে সুনামগঞ্জের ছাতক এলাকার গোবিন্দপুর থেকে আয়নাল কে ধরতে সক্ষম হয় বরগুনা ডিবি পুলিশ। আয়নাল গ্রেপ্তারের পর সকল ঘটনা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে স্বীকারোক্তি করে। গত ১৬ এপ্রিল চাঞ্চল্যকর কিশোরী মারুফা হত্যার পরিকল্পনা কারী খালু আয়নালকে আদালতে তোলা হলে আদালত আয়নালকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
সোনালীনিউজ/এম