Kontho

Kontho This is an entertaining page where you can hear songs and see videos and read stories.

13/04/2026

রাগের আড়ালে তুমি

রোদেলা ছিল কলেজের সবচেয়ে রাগি মেয়ে। কেউ একটু কিছু বললেই চোখ রাঙানো, খোঁচা মারা, দরজা ধুম করে বন্ধ করে চলে যাওয়ার নামই যেন রোদেলা।
কিন্তু ওর রাগের পেছনে যে একটা কষ্ট আছে, সেটা খুব কম মানুষই জানত।

ছোটবেলায় মা-বাবার ডিভোর্স, তারপর মায়ের কঠোর শাসনে বড় হওয়া—সবকিছু মিলিয়ে রোদেলা কেমন যেন একটু ঠান্ডা আর কড়া মনের মানুষ হয়ে গিয়েছিল। ওর চোখে ছেলে মানেই বিপদ, আর প্রেম? "ওসব ফালতু সিনেমার জিনিস"—এই ছিল ওর ভাবনা।

অন্যদিকে অভ্র ছিল একেবারে উল্টো। হাসিখুশি, প্রাণবন্ত, আর সবাইকে ভালো রাখার জন্য ও যেন নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়েছে। সে ছিল নতুন ছাত্র, সদ্য ভর্তি হয়েছে রোদেলার ক্লাসে। সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলে, শুধু রোদেলার সঙ্গেই যেন তার বিশেষ আগ্রহ।

প্রথমদিন রোদেলার পাশে বসতেই সে বলেছিল,
"তুমি এই কলেজের অ্যাটেনডেন্স অফিসার না? সবাইকে এমন দৃষ্টি দিয়ে কেন দেখো?"

রোদেলা ঠাণ্ডা গলায় বলেছিল,
"তুমি আমার পাশে বসার সাহস কোথা থেকে পাও?"
অভ্র হেসে বলেছিল, "তোমার চোখ দুটো ভয়ংকর সুন্দর। ভয় পাই, কিন্তু সরতেও পারি না।"

সেদিন অভ্র একটা খোঁচা খেল, কিন্তু ও থামেনি।

দিন দিন অভ্র নানা অজুহাতে রোদেলার আশেপাশে থাকতে লাগল। লাইব্রেরিতে ওর পেছনে বসা, ক্যান্টিনে ওর পছন্দের খাবার রাখা, ক্লাসে চুপচাপ হুম করে বসে থাকা—সব যেন একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেল।

রোদেলা বুঝত এসব, কিন্তু কিছু বলত না। কখনো বিরক্ত হত, কখনো ঠান্ডা গলায় বলে দিত, "আমি এসব পছন্দ করি না।"
তবুও অভ্র প্রতিদিন নতুন কোনো হাসি নিয়ে হাজির হত।

একদিন ক্লাসের সবাই গিয়েছিল গ্রুপ আউটিং-এ। অভ্র তখন সাহস করে রোদেলাকে বলল,
"তুমি কেন একা থাকো সবসময়? কাউকে বিশ্বাস করতে ভয় পাও নাকি?"

রোদেলা একটু থেমে বলল,
"কারো ওপর ভরসা করলে যদি সে ভেঙে দেয়, তখন কষ্টটা তুমি বুঝবে?"

অভ্র একটু গম্ভীর হয়ে বলল,
"আমি বুঝি না বলছো? তাহলে একটা সুযোগ দাও, দেখো বুঝতে পারি কিনা।"

সেই প্রথমবার, রোদেলা কাঁপা গলায় বলেছিল,
"আমি ভয় পাই। ভয় পাই আবার বিশ্বাস করতে, আবার ভালোবাসতে।"

অভ্র বলেছিল,
"তুমি ভয় পাও, আমি তো আছি তোমার পাশে। আমার বিশ্বাসে তুমি যদি ধীরে ধীরে ভরসা করো, আমি জানি, একদিন তুমি হাসবে—রাগ না করে, ভালোবেসে।"

এরপর সম্পর্কটা বদলাতে শুরু করল। রোদেলা ধীরে ধীরে খুলে গেল, একটু হাসি, একটু কম রাগ, আর অভ্রকে একটু বেশি সময় দেওয়া।

তবে ওর রাগ কমে যায়নি। অভ্র মাঝে মাঝে মজা করে বলত,
"তোমার রাগটা রাখো, তবে সেটা শুধু আমার জন্য রেখো।"
রোদেলা গম্ভীর মুখ করে বলত, "তুমি একটা বিরক্তিকর লোক!"
আর অভ্র হাসত, “আর তুমিই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ঝড়।”

একদিন হঠাৎ করে রোদেলার পুরোনো এক বন্ধু কলেজে আসে। সে ছিল ওর ছোটবেলার বন্ধু, একসময় যাকে রোদেলা খুব বিশ্বাস করত। কিন্তু সে-ই একসময় রোদেলার বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছিল। অভ্র দেখে, রোদেলার মুখ কালো হয়ে গেছে।

বন্ধুটি আবার ফিরে বন্ধুত্ব করতে চায়। অভ্র পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, কিছু বলে না। কিন্তু রোদেলা বলে,
"তুমি এসেছো ঠিক আছে, কিন্তু আমি এখন ভালো আছি। আমি আর কাউকে আমার শান্তি নষ্ট করতে দেব না।"

সেইদিন রাতে, অভ্রকে ফোন করে রোদেলা বলেছিল,
"তুমি জানো? আগে আমি মনে করতাম ভালোবাসা মানেই কষ্ট। এখন বুঝি, ভালোবাসা মানে নিরাপত্তা। আর তুমি আমার নিরাপত্তা।"
অভ্র চুপচাপ বলেছিল,
"তুমি যদি রাগ করো, আমি সেটা সহ্য করব। তুমি যদি কাঁদো, আমি তোমার চোখ মুছে দেব। আর যদি ভালোবাসো, আমি তোমাকে সারাজীবন ভালোবাসব।"

রোদেলা হেসে বলেছিল,
"তুমি তো দেখছি পুরো কবি হয়ে গেছো!"
অভ্র বলেছিল,
"কারণ আমি একজন রাগি রাজকন্যার প্রেমে পড়েছি। সে তো আর সাধারণ কথা বোঝে না। তাকে তো মনের গভীর ভাষায় বলতে হয়!"

এখনো মাঝে মাঝে রোদেলা রাগ করে, অভ্রর ফোন কেটে দেয়, কথা বলা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু অভ্র জানে, রোদেলা কিছু সময় নিলেই ঠিক হয়ে যাবে। সে ওর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে চুপচাপ অপেক্ষা করে। আর রোদেলা জানে—এই ছেলেটা সত্যিই ওকে ভালোবাসে।

রাগের আড়ালে যে ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে, অভ্র সেটা দেখেছিল প্রথম দিন থেকেই।

শেষ কথা:
ভালোবাসা মানে কখনো জোর করে কাউকে বদলে দেওয়া না। বরং তার সমস্ত দুর্বলতা, রাগ, ভয়—সবকিছুকে মেনে নিয়ে তাকে বোঝার নামই ভালোবাসা।
রোদেলা আর অভ্রর গল্পটা আমাদের শেখায়, রাগি মেয়েরা খারাপ হয় না—তারা শুধু একটু বেশি যত্ন খোঁজে, একটু গভীর ভালোবাসা চায়।

13/04/2026



কাব্য ঠিক আন্দাজ করতে পারছে যে নীলা কোথাই যেতে পারে, কারণ নীলার কোথাই কি আছে তা সব জানে সে,

অন্যদিকে ——-

–উফ,এই রাস্তাও আমার সাথে দুশমনি করছে,পশু পাখির মতো কী এই রাস্তাও বড় হয় নাকি , ও হ্যা ভালো কথা আমাকে তো সাবধানে থাকা লাগবে তা না হলে আবার ওই ডেভিল এর লোক এর তো অভাব নেই দেখতে পেলেই আমার কাজ শেষ করে দেবে যাকে বলে game over(বিড়বিড় করে,বলেই মুখটি ঢেকে নিল)

–আর এদিকে কাব্যতো প্রায় গাড়ি চালিয়ে পৌছে যাওয়ার মতো কারণ রিক্সা কোন দিন কি আর গাড়ির সাথে পারে?

–একবার তোমাকে পাই Dear,, তোমার শাস্তির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখ(রাগে গাড়ি এদিক সেদিক করছে আর চালাচ্ছে)
তুমি আমাকে হেল করেছ তাই তোমার life তো আমি হেল করেই ছাড়ব। (কাব্য) (কাব্য কথা বলছে আর ড্রাইভ করছে)

এদিকে নীলা,,,
—উফ,আচ্ছা আংকেল আপনার রিক্সার কি আর জোর নেই??এত আস্তে চালাচ্ছেন কেন?(বিরক্তিভাব নিয়ে) (নিলা)

–হ্যা জোর আছে ম্যাডাম,কিন্ত রোড এর অবস্থা তো দেখতেই পাচ্ছেন,পাবলিক এর পারাপার আর রিক্সার ব্রেক তো বেশি না তাই জোর এ চালানোর ফলে যেকোন সময় এক্সিডেন্ট হতে পারে।
।
।
—আচ্ছা আপনার যেভাবে ভালো লাগে চালান> কিন্ত একটু জোরে,
।
–আচ্ছা ম্যাডাম চালাচ্ছি।
।
।
এতক্ষনে মনে হয় পুরো বাংলাদেশ আমাকে খুজছে যে নীলা কই নীলা কই, ,তাই আমাকে সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনভাবেই ডেভিল এর লোক দেখতে না পাই,,,
আমার কাছে যদি টাকা থাকত তাহলে আমি এতক্ষন বাসাই পৌছে যেতাম কিন্ত কোন উপায় নেই (বিড়বিড় করে)
।
।
—ম্যাডাম এত কী বিড়বিড় করে বলছেন??

—-এমনিইতেই মেজাজ বিগড়ে আছে তার উপর আবার এই খরগোশটা জ্বালায়(মনে মনে) না কিছু না আচ্ছা আর কত কি.মি. আছে।
।
।
—এইতো আর ১০ কি.মি. মতো,,,,,আচ্ছা ম্যাডাম
।
।
—ধুর এতো ম্যাডাম ম্যাডাম করেন কেন আপু বলেন
।
।
–আচ্ছা আপুই বলছি,,,,,,আচ্ছা আপু আপনি কি এই বাজারের দিকে প্রথাম আসছেন(রিক্সা চালাতে চালাতে)
।
।
—-হ্যা আমি এর আগে কখন ও এদিকে আসি নাই।
।
।
—ও তা কি কাজ এ এসেছিলেন বন্ধুদের বাসাই
।
।
–এই তো আমার পরিচিত এক ফ্রেন্ড এর বাসাই বেড়াতে এসেছিলাম।
।
।
–ও আপনার ফ্রেন্ড যখন আসতে পারল না তাহলে আপনাকে পৌছে দেওয়ার জন্য একটি গাড়ি দিয়ে দিতে পারত
।
।
–(তুই কি করে বুঝবি চান্দু আমি কোন জমের দুয়ার থেকে ফেরৎ আসছি) না আমি ইচ্ছা করেই তাদের সাথে আর হেল্প চাাাাই (বলতে না বলতেই রিক্সার সামনে একটি গাড়ি চলে আসাই রিক্সা জোরে ব্রেক করে আর নীলা তাল সামলাতে না পেরে নিচে পরে যাই)
।
।
—আাাাাম্মুনিইইইইগোো তোমার মেয়ে মরে গেল গো(পড়ে যেয়ে) কোন ভদ্রলোক এর বাচ্চা গাড়ি নিয়ে রাস্তাই এই ক্কক্করে ব্বে(সামনে তাকিয়েই শেষ,কারণ সামনে মানুষ নামে একটি জন্ত দাঁড়িয়ে আছে নীলার মনে হয়,চোখ দিয়ে আগুন বের হচ্ছে আর নীলা ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অবস্থা।)
।
।
–(তোমার আমাকে দেখেই এই অবস্থা, কিন্ত আমি এবার যা তোমার সাথে যা করব তা তুমি দেখে কী অবস্থা হবে নীলা খাতুন) (কাব্য মনে মনে বলছে আর গাড়িতে রেখে একটু একটু করে নীলার দিকে এগিয়ে আসছে)
।
।
—এই ডেভিল আমার দিকে এগিয়ে আসছে কেন আর আমার heartbeat এভাবে বাড়ছে কেন?,,আল্লাহ এবারের মতো বাচিয়ে দাও,(বিড়বিড় করে)
।
।
–কাব্য ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে নীলার দিকে আর চারপাশের লোক নিজের কাজ নিয়ে ব্যাস্ত রিক্সাওয়ালা তো দাঁড়িয়ে সব দেখছে।
।
।
–উনি আমার একদম কাছে চলে এসে একটা ডেবিল এর মতো মুচকি হাসি দেই আর তারপর আমার হাত ধরতেই,,,,,
>>>>আর কিছু মনে নেই

12/04/2026

হঠাৎ বৃষ্টি

'বৃষ্টির ভিতর প্রতিদিন আপনি ছাতা ছাড়া বের হোন কেন? বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগে বুঝি? নাকি প্রতিদিন আপনাকে আমি ছাতা দিতে আসি এটাই আমার দোষ! মা ঠিকই বলে, কিছু মানুষের উপকার করতে নেই। তারা বারবার সেই উপকার হাসিল করতে চায়। কাল থেকে ছাতা নিয়ে বের হবেন বাসা থেকে৷ আমি আর আসবো না। যত্তসব!'
এক নিঃশ্বাসেই কথাগুলো বললো রিনি। তার চেহারার দিকে তাকিয়ে রইলাম বেশ খানিক্ষন। কি সুন্দর চেহারা তার। আমি যতোবার তাকাই ততোবারই 'মাশাআল্লাহ' উচ্চারণ করে ফেলি। এই উচ্চারণ করাটা প্রতিবারই থাকে মনে মনে। কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো পরশুদিন। সে নিয়মমাফিক আমার জন্য ছাতা নিয়ে তার বাসা থেকে নিচে নামে।

তখন তাকে দেখে একটু বড় স্বরেই বলে ফেলেছিলাম 'মাশাআল্লাহ'। সে আমার এমন কথা শুনে থতমত খেয়ে গেল। তারপর এদিক সেদিক তাকিয়ে চেহারায় গম্ভীর একটা ভাব এনে প্রস্থান করেছিলো। ভাগ্যিস আর বেশি কিছু বলেনি৷ নাহয় লজ্জায় তার সামনে এসে দাঁড়ানোর সেই দুঃসাহস আমার আর হতো না।
'কি হলো চুপ আছেন কেন? মুখ থেকে কি শব্দ বের হচ্ছে না?'
রিনির কথায় আমি একটু নড়েচড়ে দাঁড়ালাম। আসলে এতক্ষণ তার চেহারার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম। এভাবে কেউ কি কারো দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে? নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলাম। উত্তর মেলানোর চেষ্টায় আছি। হয়তো পারে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তা যে সম্ভব নয় এটা শুধু আমি নই, ফ্রেন্ড সার্কেল থেকে শুরু করে বাড়ির সবাই জানে।
গত সপ্তাহে মেয়ে দেখতে গেছিলাম মা আর বাবার সাথে। আমাকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য সাথে বড় ভাই আর ভাবীও ছিলেন। পাত্রী যখন চায়ের ট্রে নিয়ে আমার সামনে এসে চায়ের কাপ ধরলো তখন আমি পুরোপুরি ঘাবড়ে যাই। সে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে বললো, 'চা নিন।'
ব্যাস এইটুকুই। আর কোনো কথা বলার আগেই সে চায়ের কাপ আমার দিকে এগিয়ে দেয়। আমি হাতে বাড়িয়ে যেই নিতে যাবো ঠিক সেই মুহুর্তেই আমার হাত কাঁপতে শুরু করে দেয়। কি একটা লজ্জাকর অবস্থায় পড়ে গেছিলাম। মুহুর্তেই আমি সামনের দিকে তাকাতেই দেখলাম পাত্রীর মা আমার দিকে বেশ বড়বড় চোখ করে তাকিয়ে রইলেন।

পাশ থেকে বড় ভাই বললেন, 'কি করিস রে হারামজাদা, কাপটা নে হাতে। হাত কাঁপছে কেন রে এতো তোর?'

আমি বড় ভাইকে কিছু বলতে যাবো এমন সময় মা আমার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে গলার স্বর চেপে বললেন, 'বেইজ্জত করাবি নাকি আমাদের হতচ্ছাড়া! তোর হাত কাঁপছে কেন রে? তাড়াতাড়ি চায়ের কাপটা নে।'

আমি হাত আরেকটু বাড়াতেই যে চাইলাম, ঠিক সেই মুহুর্তে পাত্রী তার হাত গুটিয়ে নিয়েছে। চায়ের কাপ আবারো ট্রেতে রেখে দিলেন। আমি কেমন যেন লজ্জায় পড়ে গেলাম। আমি হাত বাড়ালাম অথচ চায়ের কাপ নেই। ব্যাপারটা এমন ঘটলো যে বহুদিন অপেক্ষা করে থেকেছিলাম বৃষ্টির জন্য। যেই বৃষ্টি আসলো, আমি ভিজতে গেলাম ঠিকই কিন্তু বৃষ্টি উধাও হয়ে রোদে পরিণত হলো। বেশ খারাপ একটা অবস্থা।

আমি শিওর, আমার বামপাশে বড় ভাই আর ডানপাশে মা, দুইজনের পরিবর্তে যে-কোনো একপাশে যদি বাবা বসতেন, তাহলে নির্ঘাত এতক্ষণে আমার কান মলে দিতেন ধরে। শুধুই কান মলে দিয়ে তিনি ক্রান্ত হতেন না। এই কান মলে দেয়ার পাশাপাশি আমাকে অনেক বকাও দিতেন। এসবকে বকা বললে ভুল হবে। পারফেক্ট হবে যদি 'গালি' সম্বোধন করি।
'আজব, আপনি কিছু বলছেন না কেন? বোবা হয়ে গেলেন নাকি? অবশ্য আপনি এটা ছাড়া আর পারেন কী!'
রিনির কথায় এবার একটা হাল্কা কাশি দিয়ে মুখের ধরণ বদলানোর চেষ্টা করলাম। এতক্ষণ চেয়ে থাকলাম ওর দিকে? ভাবতেও কেমন জানি লজ্জা লাগছে। এইবার মুখ খুললাম কিছু বলার জন্য। কিন্তু কোনোভাবেই কিছুই বলতে পারছি না। রিনির সামনে আসলে কেমন জানি আমার ভেতর থেকে কোনো শব্দ বের করতে পারি না। সবকিছু যেন গুলিয়ে বসি।

এইবার কোনোরকমে শব্দ করে কথা বলার চেষ্টা করলাম। 'ইয়ে মানে আপনি যেন কী জিজ্ঞেস করেছিলেন?'
আমি যে হাত বাড়িয়েও চায়ের কাপ না পেয়ে আরেক লজ্জায় পড়লাম তা ঠিক সবাই বুঝতে পেরেছেন। বিশেষকরে পাত্রীর বাবা। তিনি পরিবেশকে স্বাভাবিক করে দিয়ে বললেন পাত্রীকে, 'মা, আবার দাও চা চয়নকে।'
তিনি তার বাবার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে বললেন, 'আচ্ছা।'
আমার সমানে আবারো হাল্কা ঝুঁকে বললেন, 'চা নিন।' তার কণ্ঠটা এতো মধুর ছিলো যে আমি মুহুর্তেই যেন তার সেই মধুর কন্ঠে হারিয়ে যাচ্ছিলাম।
ধীরে ধীরে হাত বাড়ালাম। পাত্রীর হাত থেকে চায়ের কাপ নিচ্ছি এমন সময় দেখলাম আমার হাত আবারো কাঁপছে। কি একটা লজ্জাকর অবস্থায় যে পড়েছিলাম সেদিন! তা বলে বুঝানো মুশকিল।

বাবা বেশ রাগী চোখে আমার দিকে তাকালেন। তারপর পাত্রীর বাবার উদ্দেশ্যে বললেন, 'চয়ন একটু লাজুক টাইপের। ওর এই লজ্জার কারণে কখনো কোনো অনুষ্ঠানেও যেতে পারতো না। মানে মেয়েদের একটু লজ্জা বেশিই পায়।'
বাবা এসব আমার হয়ে সুপারিশ গাইলেও আমি ঠিকই বুঝতে পেরেছি যে উনি বিষয়টিকে স্বাভাবিক করে দেয়ার জন্য এসব বলছেন। এমন সময় যদি বাবা আমায় একা পেতেন, তখন কি হাল করতো আমার, তা ভেবেই ভয় ঢুকলো বুকের ভিতর।

সেই যাইহোক, আমার এমন অবস্থা দেখে পাত্রীর বাবা এসে আমার সামনে আরেকটা টি-টেবিল রাখলেন। উনার মেয়ের উদ্দেশ্যে বললেন, 'এখানে রাখো।'
পাত্রী ঠিক সেই কাজ করলো। তার বাবার কথামতো চায়ের কাপ টেবিলে রেখে তার মায়ের পাশে গিয়ে বসলেন।
'বলছি যে আপনি প্রতিদিন ছাতা ছাড়া বের হোন কেন? প্রতিদিন কী আমি এখানে থাকবো? হুট করে আমি না থাকলে যদি আপনি বৃষ্টিতে ভিজে যান! তখন কি হবে? আপনার জ্বর এসে যাবে না ঠান্ডা লেগে?'
'আমি চাই যে আমার জ্বর আসুক।' কথাটা অনেক কষ্টে পেট থেকে বের করলাম। আমার এমন প্রতুত্তরে রিনি যে অবাক হয়েছে বেশ, তা আমি ঠিকই বুঝতে পেরেছি। সে অবাক দৃষ্টিতে হা করে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ আমার দিকে। তারপর চোখ বড় করে বললেন, 'আপনি কী ঠিক আছেন? মানে কিছু হয়নি তো আপনার?'

এসব বলতে বলতে আমার কপালে হাত দেয় রিনি। মুহুর্তেই আমার শরীরে বিদ্যুৎ চমকে গেল। প্রিয় মানুষের প্রথম স্পর্শে এমন হয় বুঝি? তারপর আমার কপাল থেকে হাত সরাতে সরাতে বললো, 'কই না তো, জ্বর তো নেই শরীরে। তাও এমন কথা বের করতে পারলেন কীভাবে আপনার মুখ দিয়ে? মানে ঠিক আছেন তো আপনি? কেমন কেমন যেন লাগতেছে।'

আমি মুচকি হেঁসে বললাম, 'আমি পুরোপুরি ঠিক আছি। আসলে আপনাকে বলবো বলে আপনার অনুপস্থিতে যতক্ষণ থাকি, ততক্ষণই কতো হাজার কথা ভাবি, কিন্তু আপনার সামনে আসলে যেন কিছুই বের করতে পারি না। হুট করে মনে হয় আমি বোবা হয়ে গেলাম না তো! কি অদ্ভুত কাণ্ড তাই না?'
আমার কথা শুনে রিনি তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো, 'আমি স্বপ্ন দেখছি নাকি! একটা চিমটি কাটেন তো! আমার যে বিশ্বাস ই হচ্ছে না আপনার বোবা মুখে বুলি ফুটেছে।'
ভাবী বাবা মায়ের কথাবার্তার এক পর্যায়ে গিয়ে বড় করে বললেন, 'বাবা এদের বোধহয় একটু আলাদা কথা বলতে দেওয়া উচিত। তাদের কোনো সমস্যা থাকলে তা জানাতে পারবে। আর এখন তো এটা স্বাভাবিক। পরিবারের পছন্দ হলে পাত্র পাত্রীকে আলাদা কথা বলতে দেয়া।'
ভাবীর কোনো কথায় বাবা না করেন না। এইবারো তার ফল দেখলাম। বাবা পাত্রীর বাবাকে কে বললেন, 'তাদেরও তো একটু বুঝাপড়া থাকতে পারে, কি বলেন ভাই!'

বাবার এমন কথায় পাত্রীর মায়ের দিকে তাকালেন পাত্রীর বাবা। তিনি মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেন। তারপর আমায় ছাদে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু ভয় করলো আমার। যেখানে হাত থেকে এক কাপ চা নিতে পারছি না সেখানে একা গিয়ে কথা বলবো কীভাবে? বড় ভাইকে ইশারা দিয়ে ডাকলাম। বললাম, 'আপনি সহ আসেন, আমার ভয় করছে।' বড় ভাই মজা করলো সাথে যেতে বলাতে। রাগ হলো বেশ। ভাবীকে যেতে বলাতে তিনি জবাব দিলেন, 'তোমরা স্বামী স্ত্রীর কতো পার্সোনাল কথা থাকতে পারে। তা কি আমার শোনা উচিত হবে? না ভাই, তুমিই যাও বরং।'

শেষমেশ একাই উঠতে হলো ছাদে। পাত্রীর মুখোমুখি দাঁড়ালম। কেন যেন ঘামতে শুরু করলাম। পুরো শার্ট ভিজে একাকার হয়ে গেছে।

আধ ঘন্টা পরে নিচে নামলাম। বাড়ি চলে আসার পরে ও বাড়ি থেকে বাবাকে কল করে বললো আমি যতোদিন না পাত্রীর সাথে ঠিকভাবে কথা বলতে পারছি, ততোদিন বিয়ে আঁটকে থাকবে। কথা বলতে যতো দেরি হবে, বিয়ে ততো পিছবে।
রিনির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে বললাম, 'আপনি সেদিন যতো প্রশ্ন করেছিলেন, সব প্রশ্নের উত্তর কিন্তু আমার জানা ছিলো। সেই মুহুর্তে আপনি ছাড়া অন্য কেউ থাকলে আমি ঠিকই প্রতুত্তরে সব প্রশ্নের জবাব দিতাম। কিন্তু আপনার সামনে কেমন যেন আমার কথা আঁটকে যাচ্ছিলো। আপনারর প্রতি এতোই দূর্বল হয়ে পড়েছিলাম যে তা শুধু মনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তা আমার গলা অবধি এসে আটকেছে। যার কারণে কিছুই বলতে পারিনি। আমার কিন্তু প্রশ্ন গুলো সব মনে আছে।

আপনি প্রথমেই জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'এক আকাশ পরিমাণ কী কেউ কাউকে ভালোবাসতে পারে? যদি হ্যাঁ হয় তবে তার পক্ষে যুক্তি দেয়া লাগবে।' এটা বলছি। আমার পৃথিবীটা বিশাল না। আমি, আমার পরিবার আর, এই আপনাকে ঘিরেই। আমার এই পৃথিবীর আকাশ যতটুকু ঘিরে, তার সবটুকুই আপনারা বিদ্যমান। ধরতে পারেন আপনারা আমার আকাশ। আপনাদের ছাড়া আমার এই আমি কল্পনা করা যায়না। কোনো ভাবেই না।

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিলো, 'আমার চাচাতো বোনের প্রতি তার স্বামীর ভালোবাসা দেখেছি। আমি চাচাতো বোনের স্বামীর মতো স্বামী প্রার্থনা করতাম। কিন্তু কি জানেন? গতমাসে তাদের ডিভোর্স হয়। আচ্ছা এমন কেন বলতে পারেন? তাদের সেই ভালোবাসা হুট করে ফুরিয়ে গেল কীভাবে? আপনার কাছে কী এর আদৌও কোনো জবাব আছে?'

রিনি, আমরা কেমন জানেন? স্বার্থপর। আমরা নিজেদের নিয়ে ভাবি। নিজেদের স্বপ্নের পিছনে ছুটি। আমার হাত যে ভরসা করে চেপে ধরেছে তার কথা মাঝেমধ্যে ভুলে যাই। তারপর আসে অবহেলা। ধীরে ধীরে ভালোবাসার কমতি শুরু হয়। আর যেই সম্পর্কে ভালোবাসার কমতি থাকে সেখানে সংসার মানেই একটা ঝামেলা। হ্যাঁ, অনেকেই এই কমতি ভালোবাসা নিয়ে দিব্যি পুরো জীবন পার করে দেয়। এই পার করে দেয়াটা হচ্ছে কারণ বশত। বিভিন্ন কারণে তারা ডিভোর্সে যেতে পারে না। হয় সমাজ, নাহয় বাচ্চাকাচ্চার প্রতি মায়ামমতা। আপনাকে আমি এইটুকু ভরসা দিতে পারি৷ আমি ভালোবাসার ঘাটতি রাখবো না।'

আমার কথা শুনে রিনি অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। তার দু-চোখে হাল্কা বৃষ্টি দেখা যাচ্ছে। আমি ছাতা ফেলে দিলাম। কাঁদলে মন হাল্কা হয়। তার এখন একটু কাঁদা উচিত। তাকে আটকানো ঠিক হবে না। এইবার আমি বললাম, 'আমার এদিকে কোনো কাজ নেই মেয়ে। তোমাকে একটু দেখবো বলেই তোমাদের এইদিকে আসি। আমার ইচ্ছে করে এই বৃষ্টিতে তোমায় নিয়ে একটু ভিজি। তোমার হাতে হাত রেখে একটু বৃষ্টির কান্না অনুভব করি।'

আমার কথায় মুচকি হেঁসে দিয়ে রিনি বললো, 'তুমি কি ভাবছো আমি কিছুই বুঝিনি? না বুঝলে কি প্রতিদিন একই টাইমে বৃষ্টির অপেক্ষা করি? আর বৃষ্টি এলেই আমি ছাতা নিয়ে ব্যালকনিতে কি শুধু শুধুই আসি?'

রিনির কথায় আমি অবাক হলাম। তাও একটু হেঁসে ফেললাম, তারপর বললাম, 'এই মেয়ে, আজকে কিন্তু তোমার চোখ মুছে দিবো না৷ যতো ইচ্ছে বৃষ্টি ঝড়াতে পারো। তবে কথা দিলাম, এমন বৃষ্টিতে তুমি আমি ভিজবো, কিন্তু তোমার চোখের বৃষ্টি ঝড়তে দিবো না। বুঝছো মেয়ে?'

12/04/2026

Devil Love (part 1)

what ওর সাহস হয় কী করে এখান থেকে পালানোর??
(রাগে চোখ মুখ দিয়ে আগুন বের হচ্ছে কাব্যর) তোমাদের এখানে কী করতে রেখেছি,ans me (চেচিয়ে)ওইটুকু একটি মেয়েকে Guard দিতে পার না,তোমাদের সবাইকে আমি খুন করব(পাশে থাকা টেবিলে বাড়ি মেরে গ্লাস এর টেবিল ভেঙে ফেললো)
একজন গার্ড: sir,plz sir sorry sir.We locked at all sight but উনি যে এভাবে পালাবে এটা বুঝতে পারি নি(মাথা নিচু করে ভয়ে ভয়ে)
।
কাব্যঃ যেভাবে হোক ও কে তোমরা খুজে নিয়ে এসে দেবে আমার সামনে অকে আমি চাই,(চিল্লিয়ে)
(পাশে থাকা সকল gourd ভয়ে চুপসে গেছে)
।
।
কাব্য সেখান থেকে সোজা রুম এ যেয়ে সব ভাংচুর করছে আর পুরো বাড়ি তার ভয়ে স্তব্ধ।
।
আর এদিকে
–উফ বাবা যা বাচা বাচলাম, ওই ডেভিল তো আজ আমাকে পেলে একবারে মাথার চুল থেকে শুরু করে খাবে,আজ কেন যেদিনই পাবে,কিন্ত আমি আর ওই কচ্ছপ এর কাছে যাবই না,কিন্ত বাসাই তো যেতে হবে এত দূর কীভাবে যাব আ্য্য্য মামুনিই তোমার মেয়ের পা ব্যাথা হয়ে গিয়েছে
আমার তো দৌড় দিতে দিতে খেয়ালই নেই
আর আমার কাছে তো টাকাও নেই,বাসাই যাব কী করে (ন্যাকা কান্না)
।
। যা করার এখনি করতে হবে(রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে একটি রিক্সা) ওই রিক্সা যাবে?
রিক্সাওয়ালাঃ কোথাই যাবেন আপা?
।
–এইতো সামনে মেহেরপুর বড় বাজার
।
–কীীীী এটা সামনে??? আপা এটাতো অনেক দূর প্রায় ১৮ কি.মি.।
।
–আচ্ছা এটা কোন বাজার
।
–আপা এটাতো গাংনি বাজার,কিন্ত আপনি কি এখানে নতুন,আর আপনি বাস রেখে রিক্সাই কেন যাবেন?
।
–এত প্রশ্ন করেন কেন,(রিক্সায় উঠে)চলেন তো ভাই, আমি এখানে এক ফ্রেন্ড এর কাছে এসেছিলাম,কিন্ত ও একটু ব্যাস্ত থাকাই আমাকে একা যেতে হচ্ছে,আর আমার বাস এ গেলে একটু সমস্যা করে(যেতে যেতে)
।
–আচ্ছা আপা আপনিই চিন্তা করবেন না আমি ঠিক জাইগাতেই আপনাকে পৌছে দেব,
ফেসবুক পেজ: নিঃস্বার্থ ভালোবাসা
–ok চলুন।
।।
।।
আর এদিকে কাব্যর প্রায় পাগল হওয়ার অবস্থা
কাব্যঃ তোমার সাহস হয় কী করে জানু আমাকে
না বলে পালিয়ে যাওয়া,এর পরিণয় যে কী হতে পারে তা তোমাকে পেলে বুঝাবো,মনে হয় তোমার কিছু কমতি ছিলো এবার তা পূরণ করে দেব(রাগে চোখ লাল হয়ে আছে)(হাত দিয়ে bleeding হচ্ছে সেদিকে কোন খেয়াল নেই)
।
।
কিছুক্ষন পর কাব্য হাত রুমাল দিয়ে পেচিয়ে নিচে আসল।
।
কাব্য নিচে এসে দেখে সকল Gourd নীলাকে খুজতে বের হয়ে গিয়েছে,
কাব্যও গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল,একদম ফুল স্পিড এ গাড়ি চালাচ্ছে যেন তাকে কেউ মারার জন্য তেড়ে আসছে আর সে পালাচ্ছে, কাব্য ঠিক আন্দাজ করতে পারছে যে নীলা কোথাই যেতে পারে
,,,,চলবে,,,

Address

Dhaka
1212

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Kontho posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share