Asia Age

Asia Age Tara Buzz

আমাদের ৩ জন শীর্ষ,, জেনারেল পালিয়ে চলে গেছে অন্যদেশে! এটা খুবই কনসার্নের বিষয় যে, সাথে তারা আমাদের অনেক সিকিউরিটি রিলেটে...
29/08/2026

আমাদের ৩ জন শীর্ষ,, জেনারেল পালিয়ে চলে গেছে অন্যদেশে! এটা খুবই কনসার্নের বিষয় যে, সাথে তারা আমাদের অনেক সিকিউরিটি রিলেটেড ইনফরমেশন আর সামরিক তথ্য নিয়ে গেছে! এটা কতোটা গভীর আর উদ্বেগের বলে শেষ করা যাবে না।

এজন্যই এসব দেশে আধিপত্যবাদ দেখা দেয়, দেশের মধ্যে দেয়াল তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে! কেউ নিজেদের স্বাধীনতা পক্ষের বলছে আবার কেউ আরেকদলকে স্বাধীনতার বিপক্ষের বলছে! ভিয়েতনামেও তো যুদ্ধ হইছে তারাতো শর্ট টাইমে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

যেখানে আমাদের সিকিউরিটি রিলেটেড চিন্তা করা দরকার,,,, আমাদের সামরিক তথ্যগুলো আবারও সিকিউর করা দরকার! সেখানে আমরা বিভাজিত আর এই জন্যই জাতির উন্নতি চোখে পড়ে না।

প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ,

★অধ্যাপক ডক্টর দিলারা চৌধুরী

28/08/2026

আমার ধারণা, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই চায় বাংলাদেশ যেন সৌদি,তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার হওয়া নতুন জোট "মক্কা প্যাক্টে" যুক্ত হয়। জনগন রিতীমত মুখিয়ে আছে মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার জন্য।

যদিও স্রোতের বিপরীতে কিছু বলা উচিত না, তবে আমি স্রোতের বিপরীতে কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করতে চাই—কেন এখনই তড়িঘড়ি করে বাংলাদেশের মক্কা প্যাক্টে যুক্ত হওয়া সমীচীন হবে না।

যেহেতু অধিকাংশ মানুষই মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার পক্ষেই মতামত দিচ্ছে, তাই আমি ধরে নিচ্ছি, এই জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশ কী কী সুবিধা পাবে বা বাংলাদেশের কীভাবে লাভবান হবে। তাই আমি এই লেখায় মক্কা জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ার বেনিফিটগুলো নয়, বরং ঝুঁকিগুলো আলোচনা করব। ঠিক যেসব কারণে এখনই মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়াটা একেবারেই সমীচীন হবে না।

ধরুন, বাংলাদেশ সবকিছু আগে-পিছে, কস্ট-বেনিফিট চিন্তাভাবনা করে এখন মক্কা প্যাক্টে যুক্ত হলো। কিন্তু এরপর যা যা ঘটতে পারে বা যা ঘটার সম্ভাবনা একেবারেই বেশি, তা হলো—

১. মক্কা প্যাক্ট অনুযায়ী ন্যাটোর আর্টিকেল-৫-এর মতোই একটি ধারা আছে। যেই ধারা অনুযায়ী বলা হচ্ছে, "জোটের যেকোনো দেশের ওপর বহিঃশত্রুর হামলা হওয়া মানে জোটের সকল দেশের ওপর হামলা বলে বিবেচিত হবে এবং জোটের সকল দেশ একসাথে শত্রুকে মোকাবিলা করবে।" আমার ধারণা, মক্কা প্যাক্টে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ বাংলাদেশিই এই আর্টিকেল-৫-এর মতো ধারাটির প্রতিই আকৃষ্ট হয়ে বাংলাদেশ সরকারকে তাগিদ দিচ্ছে, যেন বাংলাদেশ নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই জোটে এক্ষুনি যুক্ত হয়। তারা ভাবছে, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ভারত বা অন্য কোনো দেশের দ্বারা হামলার শিকার হলে মক্কা প্যাক্টের দেশগুলো বাংলাদেশকে বাঁচাতে আসবে।

আমি ধরে নিলাম, আসলেই বাঁচাতে আসবে (যদিও বাস্তবে এই ধারা কার্যকর করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও জটিল ব্যাপার)। তবুও এখানে বাংলাদেশের জন্য আছে চরম ঝুঁকি। কিন্তু কেমন ঝুঁকি?

খেয়াল করে দেখুন, মক্কা জোটের প্রধান দেশগুলো কারা? সৌদি, পাকিস্তান, তুরস্ক। সেইসাথে ইরানকেও যেহেতু এই জোটে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাই আজ অথবা কাল ইরানও এই জোটে যুক্ত হবে। এখন এইসব দেশের (সৌদি, তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তান) ভূরাজনৈতিক অবস্থানগুলো একটু দেখুন তো!

প্রায় অধিকাংশ দেশই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত। যেই অঞ্চলে কিনা সারা বছরই কোনো না কোনো ছোট-বড় যুদ্ধ চলতেই থাকে। এখন ভাবুন তো, বাংলাদেশ যদি এই জোটে যুক্ত হয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত এই জোটের কোনো দেশ তথা সৌদি, তুরস্ক, ইরান বা পাকিস্তান যদি অন্য কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে মক্কা প্যাক্টের আর্টিকেল-৫ অনুযায়ী জোটের আক্রান্ত দেশকে বাঁচাতে বাংলাদেশকেও সেই যুদ্ধে নেমে পড়তে হবে। অথচ যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ যুদ্ধে নামবে, সেই দেশের সাথে বাংলাদেশের কোনোদিন কোনো রকম শত্রুতাই ছিল না। কিন্তু জোটে যুক্ত হওয়ার কারণে বাংলাদেশকে বাধ্য হয়ে সেই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে।

তাহলে এভাবে নতুন শত্রু বানানোটা কি বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু হবে? অবশ্যই না। কেননা মধ্যপ্রাচ্য হলো বাংলাদেশের শ্রমবাজারের প্রধান হাব। বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রবাসী তথা শ্রমিকই মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠায়। এমতাবস্থায় জোটের হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের সাথে যুদ্ধ করা মানে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আর শ্রমবাজার নিজের হাতে ধ্বংস করা।

২. বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান বাজার হলো ইউরোপ ও আমেরিকা, যেই শিল্পের ওপর আমাদের রপ্তানি আয় মোটাদাগে নির্ভরশীল। এবং বাংলাদেশ বহুকাল যাবত পৃথিবীর সকল ব্লকের সাথেই একধরনের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক মেইনটেইন করে আসছে। এমতাবস্থায় মক্কা প্যাক্টে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ মূলত একটি নির্দিষ্ট ব্লকে যুক্ত হয়ে যাবে। ফলে, আমেরিকা ও ইউরোপ ব্লক যদি বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার বন্ধ করে দেয়, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্যের ওপর চড়া শুল্কারোপ করে, তাহলে বাংলাদেশের গার্মেন্টসগুলোতে আর কাপড় তৈরির বিদেশি অর্ডার আসবে না। অর্ডারগুলো সব চলে যাবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে। ফলে আমাদের রপ্তানির প্রধান খাতটি বন্ধ হয়ে রাতারাতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ধস নামবে।

আর এমনটা হতে পারে। কেননা আমেরিকা ব্লকের প্রধান অস্ত্রই হলো শুল্ক অস্ত্র। এই তো গত এক বছরেও আমেরিকার উচ্চ শুল্কারোপের কারণে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির হার ভয়াবহ মাত্রায় কমে এসেছে। এরপর যদি পোশাক রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে এর ফলে বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে ভালো হবে না।

৩. ন্যাটোর আর্টিকেল-৫ অনুযায়ী মক্কা প্যাক্টেও বলা হচ্ছে, এই জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশের ওপর কেউ আক্রমণ করলে এই জোটের দেশগুলো বাংলাদেশকে বাঁচাতে সামরিকভাবে সহায়তা করবে। কিন্তু বাস্তবে, এই ধরনের সামরিক সহায়তা কার্যকর হয় না বললেই চলে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের ওপর কেউ আক্রমণ করলেও জোটের পক্ষ থেকে কোনো সামরিক সহায়তা আসবে কি না, তা জোটের ফোরামে পাস হতে হতেই বাংলাদেশের অবস্থা শোচনীয় হয়ে যাবে। তারওপর এই জোটকে ন্যাটোর মতো বলা হলেও এই জোটে নিজস্ব কোন সামরিক বাহিনী নেই। ফলে বাংলাদেশ কখনো শত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হলে সহায়তা আসতে আসতেই অবস্থা নাজেহাল হবে।

৪. স্বাধীনতার পর ভারতের সাথে বাংলাদেশের বড় ধরনের কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি, বড়াইবাড়ীর ঘটনা ছাড়া। এছাড়াও নানান সময় সীমান্ত হত্যার ঘটনা ঘটলেও ভারতের সাথে একপ্রকার স্থিতিশীল সম্পর্কই আছে বাংলাদেশের। কিন্তু এই মক্কা প্যাক্টে যুক্ত হলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চরম অবনতি হবে, কোনো সন্দেহ নেই। এমতাবস্থায় ভারত যদি ইউক্রেনের উদাহরণ টেনে রাশিয়ার মতো বাংলাদেশের ওপর আগ্রাসন চালায়, তখন দেখবেন জোটের পক্ষ থেকে সামরিক সহায়তা নাও আসতে পারে। কারণ, এই জোটের পক্ষ থেকে ন্যাটোর আর্টিকেল-৫-এর মতো ধারা থাকলেও যুদ্ধ বাধলে সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে—তার কোনো গ্যারান্টি দেওয়া নেই।

তবুও ধরে নিলাম, ভারত বাংলাদেশের ওপর রাশিয়া-ইউক্রেনের মতো বড় ধরনের আগ্রাসন চালাবে না। কিন্তু তবুও যদি কিছুদিন আগে পাকিস্তানের ওপর চালানো অপারেশন সিন্দুরের মতো ভারত আমাদের ওপর আকস্মিক হামলাও চালায়, তাহলেই কি তা ঠেকানোর মতো সক্ষমতা আমাদের আছে? না, নেই।

৫. আবার দেখুন, আমেরিকা এত শক্তিশালী দেশ হয়েও ইরানের ওপর একটানা এতদিন হামলা করেও ইরানকে দমাতে পারছে না। কারণ, ইরানের নিজেদের অস্ত্র তৈরির বিরাট সক্ষমতা ও প্রযুক্তি আছে। অর্থাৎ, ইরান নিজেদের রক্ষায় নিজেদের অস্ত্রাগারের ওপরেই নির্ভরশীল। কিন্তু ওদিকে দেখুন, ইউক্রেনকে পশ্চিমা প্রায় সকল দেশ ও আমেরিকাও সামরিক সহায়তা দিয়েও রাশিয়ার হাত থেকে ইউক্রেন নিজেকে রক্ষা করতে পারছে না। কারণ, ইউক্রেনের নিজের আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা নেই।

এর মানে হলো, যতই বড় বড় সামরিক জোটে যুক্ত হোন না কেন, নিজের উৎপাদিত অস্ত্রভান্ডার না থাকলে আমদানিকৃত অস্ত্র দিয়ে যেকোনো শত্রুর বিরুদ্ধে টিকে থাকা অসম্ভব। সেদিক বিবেচনায় ভাবুন তো, বাংলাদেশের কি নিজস্ব অস্ত্রভান্ডার আছে? বাংলাদেশ কি কোনো ধরনের ভারী অস্ত্র উৎপাদন করে? উত্তর হলো, না। বাংলাদেশ নিজেদের প্রায় ৯৫ ভাগেরও বেশি অস্ত্র বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। এমতাবস্থায় আমদানিনির্ভর এই সামরিক সক্ষমতা দিয়ে কি কোনো ধরনের শত্রু মোকাবিলা সম্ভব? না, সম্ভব না।

৬. বাংলাদেশ নিজেই ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ। এমতাবস্থায় যদি মক্কা প্যাক্টের হয়ে জোটের কোনো দেশকে বাঁচাতে বাংলাদেশ কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে, তাহলে তা কি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সহনশীল হবে? এমনিতেই তো বাংলাদেশ নিজেই ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ। তার ওপর বাংলাদেশ ভাবছে, এই জোটের পাকিস্তান আমাদেরকে ভালোই সহায়তা করবে। কিন্তু পাকিস্তানের কি নিজেরই কিছু আছে বাংলাদেশকে দেওয়ার মতো? নাই, নাই। বাকি থাকল সৌদি ও তুরস্ক। তাদের সাথে এমনিতেই বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ ভালো। তাই তাদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে জোটে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

৭. ধরুন, বাংলাদেশ এই জোটে যুক্ত হয়ে একটা লম্বা সময় পর রিয়েলাইজ করল যে, এই জোটে থাকলে বাংলাদেশের লাভের বদলে ক্ষতিই বেশি হচ্ছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ এই জোট থেকে চাইলেও বের হয়ে আসতে পারবে না। বের হতে চাইলেও জোট থেকে বের হয়ে আসার ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশকে গুনতে হবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পথে বসিয়ে দিতে পারে।

আবার জোট থেকে বের হয়েও আর লাভ নেই। কেননা মক্কা জোটে যুক্ত থাকার কারণে ততদিনে আমেরিকা, ইউরোপ ব্লকের সাথে বাংলাদেশের তিলে তিলে গড়ে তোলা ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে। যেসব দেশ কিনা আর বাংলাদেশের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বিনির্মাণে আগ্রহী হবে না। ফলে বাংলাদেশ মক্কা প্যাক্টের দেশগুলোকেও হারাবে, আবার পূর্বের বন্ধুদেরও হারাবে।

৮. বাংলাদেশের ফরেন পলিসির নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও কূটকৌশল। যেমন দেখুন, পাকিস্তান এমন একটা দেশ, যে দেশটার সাথে আমেরিকার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, আবার চীনের সাথেও আরও ভালো সম্পর্ক। আবার চীন ও আমেরিকা কিন্তু চিরশত্রু দেশ। তবুও পাকিস্তান কিন্তু দুই দেশকেই মেইন্টেইন করেই নিজেদের ফরেন পলিসি মেইন্টেইন করে। অর্থাৎ, আমি তোমাকে বিয়ে করব না, কিন্তু তোমার সাথে প্রেম করব। মূলত বাংলাদেশকেও এমনই ফরেন পলিসি মেইন্টেইন করতে হবে, যেখানে বাংলাদেশ কাউকে বিয়ে করবে না, বরং শুধুমাত্র প্রেম করবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ব্লকে যুক্ত না হয়ে সকল ব্লকের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে।

তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার উন্নয়নে সৌদি, চীন, তুরস্ক ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার জোরালো কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারে বাংলাদেশ। যেমন, সৌদির সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করলে সৌদি আমাদের দেশে বড় ধরনের আর্থিক বিনিয়োগ করবে, তুরস্ক থেকে আমরা পাব উন্নত ড্রোন, হেলিকপ্টার, ট্যাংক, ভেসেল, যুদ্ধজাহাজ। আবার চীনের সাথে যেহেতু আগে থেকেই ভালো সম্পর্ক আছে, তাই চীন থেকে পাব উন্নত যুদ্ধবিমান, কারিগরি সহায়তা ইত্যাদি। তাই এসব দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন করাটাই বাংলাদেশের বর্তমান ফরেন পলিসি গোল হওয়া উচিত।

আমি বলছি না, বাংলাদেশ যেন একেবারেই এই জোটে যুক্ত না হয়। বরং এই জোটের পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে আরও একটা লম্বা সময় যাওয়ার পর, জোটে আরও ১০–১৫টি মুসলিম দেশ যুক্ত হওয়ার পর, জোটের ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণ করার পরই বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তড়িঘড়ি করে জোটে যুক্ত হয়ে, নির্দিষ্ট ব্লকে হেলে পড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও অন্যান্য ব্লকের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করার ঝুঁকি এই মুহূর্তে না নেওয়াই ভালো হবে বাংলাদেশের জন্য।

মালয়েশিয়া থেকে ১,৪৭৬ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগমালয়েশিয়ায় অবস্থানরত যোগ্য মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বেচ্ছায় ন...
28/08/2026

মালয়েশিয়া থেকে ১,৪৭৬ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত যোগ্য মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার।
প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবহনে মিয়ানমারের দুটি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহারের কথা রয়েছে।
মালয়েশিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ফেরত পাঠানোর জন্য নির্বাচিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও যোগ্যতা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। চলতি বছরে ধাপে ধাপে মোট ৫ হাজার যোগ্য মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে মালয়েশিয়ায় থাকা আরও ৪ হাজার ৮ জন শরণার্থীকে নতুন নিবন্ধন কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ রোহিঙ্গা। এই নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদের পরিচয়, নাগরিকত্ব ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হবে।
সরকারি হিসাবে, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন আটককেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ৩৮৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তবে তাদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিজ দেশে ফিরে গেলে যাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যাচাই ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে প্রত্যাবাসন করা উচিত নয়।
📌 প্রবাস খুটিনাটি — মালয়েশিয়া ও প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে পেজটি ফলো করে সঙ্গে থাকুন।
#মালয়েশিয়া #রোহিঙ্গা #মিয়ানমার #প্রত্যাবাসন #মালয়েশিয়াপ্রবাসী #প্রবাসীখবর #মালয়েশিয়াখবর #শরণার্থী #মালয়েশিয়াইমিগ্রেশন #প্রবাসীআপডেট #বাংলাদেশিপ্রবাসী #গুরুত্বপূর্ণখবর

৩০টি অ্যাপে লেনদেন করলে প্রতারিত হবেন নিশ্চিত । এসব অ্যাপে লেনদেন না করতে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব অ্যাপের ফাঁদে...
28/08/2026

৩০টি অ্যাপে লেনদেন করলে প্রতারিত হবেন নিশ্চিত । এসব অ্যাপে লেনদেন না করতে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব অ্যাপের ফাঁদে পড়লে জীবন শেষ....




যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রে লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করলেন ট্রাম্পশুল্কের লড়াই শেষ পর্যন্ত মানচিত্রে এসে ঠেকল। কানাড...
27/08/2026

যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রে লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করলেন ট্রাম্প

শুল্কের লড়াই শেষ পর্যন্ত মানচিত্রে এসে ঠেকল। কানাডার পণ্যে একের পর এক শুল্ক, কানাডার পাল্টা শুল্কের ঘোষণা, তারপর কয়েক দিনের তীব্র বাকযুদ্ধ। বৃহস্পতিবার সেই সংঘাত নতুন এক জায়গায় নিয়ে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বসে নির্বাহী আদেশে সই করে তিনি ‘Lake Ontario’ জলরাশিটির নাম দিলেন ‘Lake America’। কয়েক দিন আগে যে কথাটি ছিল তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হুমকি, ২৭ আগস্ট সেটিই পরিণত হলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সিদ্ধান্তে।

আদেশটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ৩০ দিনের মধ্যে U.S. Board on Geographic Names-এর সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় সরকারের মানচিত্র, নথি, চুক্তিপত্র এবং সরকারি যোগাযোগেও নতুন নাম ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের চোখে লেক অন্টারিও এখন ‘লেক আমেরিকা’।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে নাম বদলালেও লেকটির আন্তর্জাতিক পরিচয় কিংবা সীমান্ত বদলে যাচ্ছে না। কারণ লেক অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্রের একার জলরাশি নয়। এর উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম তীর কানাডার অন্টারিও প্রদেশে, দক্ষিণ ও পূর্ব তীর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। আন্তর্জাতিক সীমারেখা লেকটির মাঝ দিয়ে চলে গেছে এবং জলপৃষ্ঠের প্রায় ৫২ শতাংশ কানাডার অংশে। ফলে ওয়াশিংটন তার নিজস্ব সরকারি ব্যবস্থায় নতুন নাম ব্যবহার করতে পারলেও অটোয়া সেটি মানতে বাধ্য নয়।

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড CBS News-কে বলেন, ট্রাম্প চাইলে একে Lake America, এমনকি Lake Trump-ও বলতে পারেন, কিন্তু কানাডায় এটি Lake Ontario-ই থাকবে।

টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাওয়ের প্রতিক্রিয়া ছিল আরও সরাসরি। লেকটির কানাডীয় তীরের সবচেয়ে বড় শহরের মেয়র হিসেবে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ ‘প্রতিবেশীসুলভ’ নয়।

নাম নিয়ে এত রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হলেও লেক অন্টারিও নিজেই উত্তর আমেরিকার এক বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলভাণ্ডার। এটি পাঁচটি গ্রেট লেকের মধ্যে জলপৃষ্ঠের আয়তনে সবচেয়ে ছোট, কিন্তু এর বিস্তার প্রায় ১৮ হাজার ৯৬০ বর্গকিলোমিটার। পানির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৬৪০ ঘনকিলোমিটার। গড় গভীরতা ৮৬ মিটার এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ২৪৪ মিটার, যা প্রায় ৮০০ ফুট। কানাডীয় কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, এটি গ্রেট লেকসের তৃতীয় গভীরতম হ্রদ। এর প্রায় ১ হাজার ১৪৬ কিলোমিটার তীররেখার পাশে গড়ে উঠেছে উত্তর আমেরিকার কয়েকটি বড় নগর ও শিল্পাঞ্চল।

লেকটির কানাডীয় তীরে রয়েছে টরন্টো, হ্যামিল্টন, ওশাওয়া, কিংস্টন, বেলভিল, সেন্ট ক্যাথারিনস ও নায়াগ্রা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ। মার্কিন পাশে রয়েছে রচেস্টার, ওসওয়েগো ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন শহর। গ্রেট লেকসের পানি পশ্চিম থেকে একটির পর একটি জলপথ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত লেক অন্টারিওতে এসে পৌঁছায়। লেক এরির পানি নায়াগ্রা নদী ও নায়াগ্রা জলপ্রপাত পেরিয়ে এখানে আসে, এরপর লেক অন্টারিও থেকে পানি সেন্ট লরেন্স নদী দিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ এটি শুধু একটি সীমান্তবর্তী লেক নয়, গ্রেট লেকস থেকে আটলান্টিক পর্যন্ত বিস্তৃত উত্তর আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথের শেষ বড় হ্রদ।

এই অভিন্ন জলরাশির ব্যবস্থাপনাও শতাব্দীর পুরোনো কানাডা-মার্কিন ব্যবস্থার অংশ। ১৯০৯ সালের Boundary Waters Treaty দুই দেশের সীমান্তবর্তী জলরাশি ব্যবহারের ভিত্তি তৈরি করে এবং এর অধীনেই International Joint Commission কাজ করে। ফলে কোনো দেশের সরকারি মানচিত্রে নাম পরিবর্তন হলেও লেকটির আন্তর্জাতিক সীমা, পানির প্রবাহ, নৌচলাচল কিংবা দুই দেশের অধিকার ও দায়িত্বে এর মাধ্যমে কোনো পরিবর্তন আসে না।

ট্রাম্প অবশ্য তাঁর নির্বাহী আদেশে যৌথ মালিকানার ইতিহাসের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবদানকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের দাবি, গ্রেট লেকস অঞ্চলে নৌচলাচল সচল রাখা, নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অনেক বড়। আদেশে বলা হয়েছে, গ্রেট লেকসে চলাচলকারী ১১টি আইসব্রেকারের মধ্যে ৯টিই পরিচালনা করে U.S. Coast Guard। গত এক দশকে গ্রেট লেকসের স্বাদুপানির পরিবেশ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। লেক অন্টারিওর গভীরতম অংশ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে হওয়ায় লেকটির মোট পানির বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বলে হোয়াইট হাউসের যুক্তি। এসব কারণ দেখিয়েই ট্রাম্প প্রশাসন জলরাশিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, বাণিজ্য, বসতি ও প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে তুলে ধরেছে।

কিন্তু ‘Ontario’ নামের ইতিহাস বর্তমান দুই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সীমারেখার চেয়েও অনেক পুরোনো। নামটির শিকড় উত্তর আমেরিকার আদিবাসী Iroquoian ভাষাগোষ্ঠীতে। অন্টারিও সরকারের তথ্যে ‘Ontario’ শব্দটির উৎস Iroquois শব্দ ‘kanadario’, যার অর্থ ‘sparkling water’; প্রদেশটির পুরোনো সরকারি নথিতে Mohawk ‘Oniatari’:io’ শব্দের অর্থ দেওয়া হয়েছে ‘beautiful lake’। অর্থাৎ নামটির সঙ্গে শুরু থেকেই জলরাশির সৌন্দর্য ও পানির সম্পর্ক রয়েছে।

নামের ইতিহাস আরও পেছনে নিয়ে যায় পুরোনো মানচিত্র। গ্রেট লেকসের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করা ইতিহাসবিদ মেরি ব্যাক্সটারের তথ্য অনুযায়ী, ১৬৫৬ সালের একটি মানচিত্রে ‘Lake Ontario’ নাম ব্যবহারের সবচেয়ে পুরোনো পরিচিত নজির পাওয়া যায়। ফরাসি শাসনের বিভিন্ন সময়ে লেকটিকে Lac St-Louis ও Lac Frontenac-সহ আরও কয়েকটি নামেও ডাকা হয়েছে, কিন্তু আঠারো শতকের মাঝামাঝি নাগাদ Lake Ontario নামটিই স্থায়ী হয়ে যায়। তখনো যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা হয়নি, কানাডাও আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠেনি। পরে এই লেকের নাম থেকেই অন্টারিও প্রদেশের নাম হয়, প্রদেশের নাম থেকে লেকটির নয়।

ভৌগোলিক নাম বদলের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের এটি প্রথম পদক্ষেপ নয়। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিন, ২০ জানুয়ারি ২০২৫, তিনি Gulf of Mexico-কে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারে ‘Gulf of America’ নাম দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে U.S. Board on Geographic Names সেই নাম কেন্দ্রীয় সরকারের ডেটাবেসে অন্তর্ভুক্ত করে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য Google Maps-এও নতুন নাম দেখা যেতে শুরু করে, কিন্তু মেক্সিকো এবং বিশ্বের অধিকাংশ জায়গায় Gulf of Mexico নামই বহাল থাকে। Lake Ontario-র ক্ষেত্রেও একই ধরনের দ্বৈত নামের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

শুল্ক নিয়ে শুরু হওয়া কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বিরোধ তাই এবার মানচিত্রের নামেও পৌঁছাল। কিন্তু শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দুই দেশের ইতিহাস, বাণিজ্য ও মানুষের জীবনকে যুক্ত করে রাখা এই জলরাশির বাস্তব ভূগোল বদলায়নি। তার মাঝ দিয়ে এখনও আন্তর্জাতিক সীমারেখা চলে গেছে, তার পানি এখনও নায়াগ্রা থেকে এসে সেন্ট লরেন্সের দিকে যায়, আর তার উত্তর-পশ্চিম তীরে এখনও দাঁড়িয়ে আছে টরন্টো।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে নাম বদলে দিতে পারেন। কিন্তু টরন্টোর তীর থেকে বিস্তৃত সেই নীল জলরাশি এখনও লেক অন্টারিও।

তথ্যসূত্র:
Reuters, Associated Press, Toronto Star

আদানির সাথে চুক্তি নিয়ে ২০২২ সালে একটি গবেষণা রিপোর্ট বেরিয়েছিল। রিসার্স গেট জার্নালে আর্টিকেলটা আছে। প্রায় ৬০ পৃষ্ঠার ও...
27/08/2026

আদানির সাথে চুক্তি নিয়ে ২০২২ সালে একটি গবেষণা রিপোর্ট বেরিয়েছিল। রিসার্স গেট জার্নালে আর্টিকেলটা আছে। প্রায় ৬০ পৃষ্ঠার ওই রিপোর্টে দেখানো হয়েছিল, এই চুক্তিতে বাংলাদেশ কতভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে। ২০২৫ সালে ন্যাশনাল রিভিউ কমিটিও সরকারকে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, অন্যান্য উৎসের তুলনায় আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ নিতে বাংলাদেশকে বছরে ৫-৬ হাজার কোটি টাকা বাড়তি দেওয়া লাগছে। ২৫ বছরে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা।

২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, খোদ ভারত থেকেই আমদানি করা বিদ্যুতের দাম ছিল যখন ৪.৪৬ সেন্ট, তখন আদানির সঙ্গে ৮.৬১ সেন্টে চুক্তি করা হয়।

রয়টার্সের রিপোর্টে এসেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ আদানিকে ইউনিট প্রতি বিদ্যুৎখরচ দিয়েছে ১৪.৮৭ টাকা। অথচ ওই বছরে ভারতের অন্যান্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ বিক্রি হয়েছে ইউনিট প্রতি ৯.৫৭ টাকা। প্রতি ইউনিটে ৫.৩০ টাকা বেশি। ওই বছরে বিদ্যুৎ নেওয়া হয়েছে ৮.১৬ বিলিয়ন ইউনিট। তার মানে বাড়তি খরচ হয়েছে ৪৩২৫ কোটি টাকা।

একই বছরে বাংলাদেশের মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিক্রয়মূল্য ছিল ইউনিট প্রতি ৮.৪৫ টাকা। নেপালের জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুতের দাম ছিল প্রতি ইউনিট ৮.৩৫ টাকা। আদানির কাছ থেকে প্রায় ৫৫% বেশি দামে নেওয়া হয়েছে।

চু্ক্তির বড় ফাঁদ হচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জ। ২৫ বছরের মধ্যে কোনো বিদ্যুৎ প্রয়োজন না হলেও বা কম পরিমাণ নিলেও অন্তত ৪২০০ কোটি টাকার ফিক্সড পেমেন্ট এক্সপোজার থাকতে হবে। ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ বা জলবিদ্যুৎ প্লান্টে অন্য কারো থেকে কম দামে বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও চুক্তি অনুযায়ী আদানিকে টাকা দিয়ে যেতে হবে।

গবেষণায় দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশের বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের সাধারণ ক্যাপাসিটি চার্জ ইউনিট প্রতি ২.৮৩ টাকা, সেখানে আদানির চুক্তিতে এই চার্জ ৩.২৬ টাকা ধরা হয়েছে। বিদ্যুৎ না নিলেও প্রতিমাসে ৩৫২ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে। এরকম বিপজ্জনক শর্তে ২৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা বাংলাদেশকে বন্দী করার নামান্তর। অথচ চাইলে No Electricity No Payment ধরনের চুক্তি করা সম্ভব ছিল। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ২০২১ সালে NVVN-এর সঙ্গে বিদ্যুতের চুক্তি নবায়ন করেছিল No Electricity, No Payment ভিত্তিতে।

আদানির গোড্ডা কেন্দ্রটি কয়লাভিত্তিক। তাই বিদ্যুতের ভ্যারিয়েবল কস্ট এর বড় অংশ নির্ভর করে কয়লার দাম ও পরিবহন খরচের ওপর। আদানি অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা আমদানি করবে। কয়লার বাড়তি দাম বাংলাদেশকে দিতে হবে। জাহাজ খরচ ও গোড্ডা পর্যন্ত পরিহন খরচও বাংলাদেশকে দিতে হবে। আবার গোড্ডা থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুত পৌছানো পর্যন্ত লাইনের জন্য বাংলাদেশকে হুইলিং চার্জ দিতে হবে, যা বছরে ১% করে বাড়বে।

গবেষণা অনুযায়ী, গোড্ডা বিদ্যুতের খরচ বছরে প্রায় ৫.৪৯% হারে বাড়তে পারে। ২০৪৭ সাল নাগাদ আদানি বিদ্যুৎ দিবে ইউনিট প্রতি ৩৬.৪ টাকা হারে (ফিগার কমেন্টে)। অন্যদিকে ভারতে সোলার ট্যারিফ বছরে ১০% হারে কমছিল।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারত সরকার যদি কর্পোরেট কর বাড়ায়, তবে তা বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু সরকার তাদের কর মওকুফ করলে বা ছাড় দিলে সেটার ডিসকাউন্ট বাংলাদেশ পাবে না। এছাড়া পেমেন্ট করতে হবে ডলারে। তার মানে ডলারের বিপরীতে টাকার মান যদি ১০% দুর্বল হয়, তাহলে অন্য সব ঠিক থাকলেও ১ বিলিয়ন ডলার পেমেন্টে অতিরিক্ত ১২০০ কোটি দেওয়া লাগবে।

হাসিনার পতনের পর অন্তর্বতী সরকার এটা নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি লড়াইয়ে গেছে। কিন্তু চুক্তিতে বলা আছে, বিরোধ নিষ্পত্তি হবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী। আর এদিকে টাকা বকেয়া হওয়ায় আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ১৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা থাকলেও বকেয়া বিরোধে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তা একপর্যায়ে মাত্র ৪৭ মেগাওয়াটে নেমে এসেছিল।

২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকার ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার এককালীন দিয়ে মার্চ পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধ করে। তারপর থেকে মাসে প্রায় ১০০ মিলিয়ন পরিশোধ করা হচ্ছে। এরপরও গত মাস পর্যন্ত বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৪০০ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা রাফলি ১৭০০০ মেগাওয়াট। অথচ দেশেই উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ২৯০০০ মেগাওয়াট। কিন্তু গ্যাস, জ্বালানি ও বকেয়া বিল সংকটে কেন্দ্রগুলো পূর্ণ উৎপাদন করতে পারে না।

তারপরও বর্তমানে প্রায় ১২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেশে উৎপাদন হয় (চাহিদার ৭০%)। আদানির সাথে চুক্তি ১৪৯৬ মেগাওয়াট (চাহিদার মাত্র ৯%)। ভারতের অন্য উৎস ও নেপাল থেকে আরও ১২০০ মেগাওয়াট পাওয়া যায়। সবমিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট সরবরাহ আছে। লোডশেডিং আছে আনুমানিক ২০০০ মেগাওয়াট।

২৫ বছর ধরে আদানিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়া বাংলাদেশের জন্য অসহনীয় বোঝা। সেই টাকা দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের সমাধান করতে পারলে চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ উৎপাদন দেশেই করা যেত।
- তানিম ইশতিয়াক
😭😭😭😭

২০১৭ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামী পতিত প্যাথলজিকাল লায়ার স্বৈরাচারী খুনি দানব সাইকো প্রাইম মনস্টারের নির্দেশে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB) কতৃক ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ার-এর ১,৬০০ মেগাওয়াটের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্যে ২৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক বোঝা ও জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরী করেছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে সবচেয়ে আলোচিত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি গুলোর একটি হলো ভারতের আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তি। বর্তমানে চুক্তি ভিত্তিক আমদানি সক্ষমতা ১,৪৯৬ মেগাওয়াট। চুক্তিটি শুরু থেকেই বিদ্যুতের মূল্য, ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়, ডলার ভিত্তিক পেমেন্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বণ্টন নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়।

২০২২ সালে প্রকাশিত Adani Godda Coal Power Plant: An Achilles Heel of the Power Sector of Bangladesh গবেষণাপত্রটি এসব ঝুঁকির বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছিলো।

* ২০২২ সালের গবেষণায় বলা হয়েছিলো, আদানি গোড্ডা কেন্দ্রের বিদ্যুতের মোট খরচ শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কয়লার মূল্য, কয়লা পরিবহন, ক্যাপাসিটি চার্জ, অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স এবং wheeling charge। উক্ত গবেষণায় হিসাব করা হয়েছিলো, ২০২২ সালে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়সহ প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫.১৫ টাকা fuel cost হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়তে পারে। একই গবেষণায় প্রতি ইউনিটে ৩.২৬ টাকা capacity charge এবং ০.২৯ টাকা wheeling charge-এর কথা উল্লেখ করা হয়। Wheeling charge বছরে ১% হারে বাড়ার ব্যবস্থাও চিহ্নিত করা হয়েছিলো। গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস গুলোর একটি ছিলো- বিভিন্ন খরচ ও বিনিময় হার বিবেচনায় আদানি বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি মোট ব্যয় ২০২২ সালের প্রায় ৯.০৯ টাকা থেকে ২০৪৭ সালে প্রায় ৩৬.৪১ টাকায় পৌঁছাতে পারে। এটি ছিলো গবেষকদের হিসাব ভিত্তিক projection, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ মূল্য নয়।

* চুক্তির অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো ক্যাপাসিটি চার্জ। বিদ্যুৎ খাতে capacity charge বলতে বোঝায়- বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রস্তুত ও available রাখার জন্য বিদ্যুৎ ক্রেতাকে যে অর্থ দিতে হয়, বিদ্যুৎ বাস্তবে কতোটা নেওয়া হলো তা নির্বিশেষে। ২০২২ সালের গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের বড় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলোর সাধারণ capacity charge প্রায় ২.৮৩ টাকা/ইউনিট হলেও আদানি চুক্তিতে তা প্রায় ৩.২৬ টাকা/ইউনিট নির্ধারিত হয়েছিলো। গবেষণাটি সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরিস্থিতিতে বছরে প্রায় ৩,৬৫৭ কোটি টাকা capacity charge এবং ২৫ বছরে প্রায় ১.০৮ লাখ কোটি টাকার capacity-charge exposure হিসাব করেছিলো। অর্থাৎ সমস্যা শুধু বিদ্যুতের দাম নয়, বিদ্যুৎ প্রয়োজনের তুলনায় কম ব্যবহার হলেও fixed financial obligation তৈরি হওয়ার ঝুঁকি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির পরবর্তী অনুসন্ধানেও capacity payment, take-or-pay ধরনের বাধ্যবাধকতা এবং sovereign guarantee-কে বিদ্যুৎ খাতের বড় আর্থিক ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

* আদানি বিদ্যুতের দাম অন্য উৎসের তুলনায় বহুগুণ বেশী। Reuters-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারের নথির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ আদানি পাওয়ারকে গড়ে ১৪.৮৭ টাকা/ইউনিট দিয়েছে। একই সময়ে ভারতের অন্যান্য বিদ্যুৎ সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের গড় মূল্য ছিলো ৯.৫৭ টাকা/ইউনিট। অর্থাৎ ব্যবধান প্রায় ৫.৩০ টাকা/ইউনিট। এই পার্থক্যকে সরল ভাবে পুরোপুরি “আদানির অতিরিক্ত মুনাফা” বলা ঠিক হবে না, কারণ বিভিন্ন চুক্তিগত cost component, fuel cost, transmission/wheeling এবং অন্যান্য charge এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে এটি স্পষ্ট যে আদানি চুক্তির effective tariff অন্য ভারতীয় উৎসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশী। জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির সদস্যদের প্রকাশিত বক্তব্যেও বলা হয়েছে, আদানির চুক্তিতে প্রাথমিক মূল্য ৮.৬১ সেন্ট/ইউনিট হলেও বিভিন্ন শর্তের কারণে পরবর্তী সময়ে effective cost অনেক বেড়েছে।

* কয়লার দাম ও পরিবহন ব্যয়ের ঝুঁকি- আদানি পাওয়ারের গোড্ডা কেন্দ্রটি কয়লা ভিত্তিক। ফলে বিদ্যুতের variable cost-এর একটি বড় অংশ কয়লার বাজারদরের ওপর নির্ভরশীল। ২০২২ সালের গবেষণায় দেখানো হয়েছিলো, কয়লার মূল্য এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানির ব্যয়ও বাড়বে। গবেষণায় ২০২২ সালের fuel ও transportation cost এবং ২০৪৭ সালের সম্ভাব্য cost escalation-এর হিসাব করা হয়েছিলো। অর্থাৎ বাংলাদেশের ওপর শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঝুঁকি নয়, আন্তর্জাতিক কয়লা বাজারের volatility-ও এসে পড়ে।

* ডলারভিত্তিক পেমেন্ট ও মুদ্রার ঝুঁকি- বিদ্যুৎ আমদানির অর্থ পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহৃত হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য exchange-rate risk অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টাকার অবমূল্যায়ন হলে একই পরিমাণ ডলার পরিশোধ করতে বেশী টাকা প্রয়োজন হয়। ফলে বিদ্যুতের মূল tariff অপরিবর্তিত থাকলেও BPDB-এর স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ যখন বাড়ে, তখন এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি dollar-linked contract রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।

* Tax benefit নিয়ে বিরোধ- আদানি চুক্তি নিয়ে পরবর্তী বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারতের কর সুবিধা। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশী পক্ষের অভিযোগ ছিলো-গোড্ডা কেন্দ্র ভারতের কাছ থেকে পাওয়া কিছু tax benefit-এর সুবিধা বাংলাদেশকে যথাযথ ভাবে দেওয়া হয়নি। এই বিষয়টি পরবর্তীতে চুক্তির billing ও payment dispute-এর অংশ হয়ে ওঠে। এটি দেখায় যে চুক্তির শুধু headline tariff নয়, tax, fuel, transmission ও অন্যান্য contractual adjustment mechanism-ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ফলাফল নির্ধারণ করে।

* বকেয়া বিল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট- ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও আদানি পাওয়ারের মধ্যে বকেয়া বিল নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়। Reuters জানিয়েছিলো, ২০২৪ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের বকেয়া প্রায় ৬৫০–৯০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ছিলো বলে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ছিলো। বকেয়া পরিশোধে বিলম্বের মধ্যে আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেয়। একপর্যায়ে বাংলাদেশে সরবরাহ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যায়। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরে কেন্দ্রটির ব্যবহার বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিলো এবং একটি ইউনিট বন্ধ ছিলো। এ ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে আনে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকলেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, payment security এবং foreign-exchange availability-ও supply security-এর অংশ।

* ২০২৫ সালের বড় পরিশোধ- ২০২৫ সালের জুনে বাংলাদেশ আদানি পাওয়ারকে এককালীন প্রায় ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে। এই অর্থ ৩১শে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত স্বীকৃত বকেয়া নিষ্পত্তিতে ব্যবহৃত হয়েছিলো বলে বাংলাদেশী সূত্র জানিয়েছিলো। এর আগে সাধারণতঃ মাসে প্রায় ৯০–১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হচ্ছিলো। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরী- “৪৩৭ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার পরও ৪০০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া” ধরনের হিসাব নির্দিষ্ট cut-off date ও disputed/claimed dues-এর ওপর নির্ভর করে। তাই প্রতিটি সময়ের বকেয়া আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

* আন্তর্জাতিক সালিশি ও আইনি ঝুঁকি- চুক্তি নিয়ে বিরোধ আন্তর্জাতিক সালিশির পর্যায়ে গড়িয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে Reuters জানায়, আদানি পাওয়ার international arbitration process শুরু করার কথা জানিয়েছিলো; বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তখনও আলোচনা চলছিলো এবং প্রয়োজন হলে arbitration-এর দিকে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিলো। পরবর্তীতে বাংলাদেশে আদালতও arbitration proceedings নিয়ে হস্তক্ষেপ করে এবং চুক্তির fairness তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয় বলে Reuters জানিয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে বিদ্যুৎ মন্ত্রী জানায়, চুক্তি পুনর্বিবেচনা অথবা আন্তর্জাতিক arbitration- দুই পথই সরকার বিবেচনা করছে।

* জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির পর্যবেক্ষণ- জাতীয় কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদানি পাওয়ারের ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তি বাংলাদেশের জন্য একটি major financial burden হয়ে উঠেছে। কমিটি আরও বলেছে, বিদ্যুৎ খাতের অনেক চুক্তিতে capacity payment, take-or-pay obligation, fuel cost pass-through, exchange-rate risk এবং sovereign guarantee-এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক ও macroeconomic ঝুঁকির বড় অংশ রাষ্ট্রের ওপর স্থানান্তরিত হয়েছে। অর্থাৎ বিতর্কটি কেবল “আদানি বনাম বাংলাদেশ” নয়; এটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ক্রয় ব্যবস্থার contract architecture-এর একটি বড় সমস্যা।

* ‘No Electricity, No Payment’ কি বিকল্প হতে পারতো? বাংলাদেশে No Electricity, No Payment ভিত্তিতে বিদ্যুৎ কেনার নজির রয়েছে। ২০২১ সালে BPDB কয়েকটি quick-rental/private power plant-এর চুক্তি এই ধরনের payment mechanism-এ নবায়নের উদ্যোগ নেয়। এই ব্যবস্থায় প্রয়োজন না হলে বিদ্যুৎ না কিনলে capacity payment-এর বোঝাও থাকে না। ২০২২ সালের গবেষণাটিও excess capacity কমাতে এবং stranded generation assets-এর আর্থিক বোঝা কমাতে No Electricity, No Payment নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলো। তবে আদানি চুক্তিতে ঠিক একই কাঠামো প্রয়োগ করা সম্ভব ছিলো কিনা, তা নির্ধারণ করতে মূল PPA-এর সম্পূর্ণ legal text, financing structure এবং applicable law পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

* বাংলাদেশের মূল সমস্যা: উৎপাদন সক্ষমতা বনাম বাস্তব উৎপাদন- বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি paradox রয়েছে—installed capacity অনেক বেশি, কিন্তু fuel shortage, gas shortage, financial constraints এবং maintenance সমস্যার কারণে সব কেন্দ্র একসঙ্গে পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো যায় না। BPDB-এর ৩১শে জানুয়ারি ২০২৬-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট grid-connected installed capacity ছিল প্রায় ২৮,৯১৯ MW এবং এর মধ্যে আদানি Power-এর import capacity ছিল ১,৪৯৬ MW। একই পরিসংখ্যানে ২৩ জুলাই ২০২৫-এর সর্বোচ্চ served demand ১৬,৭৯৪ MW দেখানো হয়েছে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের জন্য মূল শিক্ষা হলোঃ
শুধু নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করলেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন-
- পর্যাপ্ত গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ;
- transmission ও distribution capacity;
- affordable fuel;
- efficient power plants;
- competitive electricity procurement;
- renewable energy;
- financially sustainable BPDB।

* ২৫ বছরের চুক্তির সুযোগব্যয়- ধরা যাক, কোনো একটি চুক্তিতে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তাহলে ২৫ বছরে শুধু nominal arithmetic-ই বিশাল অঙ্কে পৌঁছে যায়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সতর্কতা রয়েছে- বছরের অতিরিক্ত ব্যয় সরাসরি ২৫ দিয়ে গুণ করে “চূড়ান্ত ক্ষতি” বলা যথার্থ নয়, কারণ বিদ্যুতের demand, fuel price, exchange rate, dispatch, inflation, tariff এবং contract adjustment সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হবে। বরং সঠিক পদ্ধতি হলোঃ
Net Present Value (NPV) + scenario analysis + fuel-price sensitivity + exchange-rate sensitivity + dispatch scenario ব্যবহার করে ২০২৬–২০৫২ সময় কালের প্রকৃত fiscal exposure নির্ণয় করা।

* বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যৎ করণীয়ঃ

চুক্তি পুনর্বিবেচনা-.সরকারের উচিত tariff formula, capacity charge, fuel adjustment, tax benefit এবং wheeling charge পুনর্বিবেচনার চেষ্টা করা।

Independent forensic contract audit- PPA-এর প্রতিটি ধারা, negotiation record, tariff calculation, tax treatment এবং financing arrangement স্বাধীনভাবে audit করা প্রয়োজন।

Competitive procurement- ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ক্ষেত্রে competitive bidding এবং least-cost procurement বাধ্যতামূলক করা উচিত।

No Electricity, No Payment- যেখানে প্রযুক্তিগত ও আইনি দিক থেকে সম্ভব, সেখানে capacity-payment নির্ভর মডেলের পরিবর্তে প্রয়োজন ভিত্তিক electricity purchase model বিবেচনা করা উচিত।

Renewable energy- Solar, rooftop solar, floating solar, wind এবং battery storage-এর সমন্বয়ে diversified generation portfolio তৈরি করতে হবে।

Domestic fuel security- দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, LNG diversification, fuel storage এবং efficient gas allocation-এর মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর fuel availability নিশ্চিত করতে হবে।

Power-sector master plan পুনর্মূল্যায়ন- নতুন কেন্দ্র অনুমোদনের আগে বাস্তব demand, reserve margin, plant load factor এবং existing idle capacity বিবেচনা করা জরুরি।

উপসংহারঃ
আদানি পাওয়ারের সাথে করা বিদ্যুৎ চুক্তির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো- বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা কেনার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কী দামে, কী শর্তে এবং কোন ঝুঁকি নিয়ে সেই বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। ২০২২ সালের গবেষণা বহু বছর আগেই capacity charge, fuel-cost escalation, wheeling charge এবং দীর্ঘমেয়াদি financial exposure নিয়ে সতর্ক করেছিলো। পরবর্তী সময়ে Reuters-এর প্রতিবেদনে আদানি বিদ্যুতের effective tariff অন্য ভারতীয় সরবরাহকারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশী হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। জাতীয় পর্যালোচনা কমিটিও capacity payment, take-or-pay এবং ঝুঁকি রাষ্ট্রের ওপর স্থানান্তরের মতো কাঠামোগত সমস্যার কথা বলেছে। তবে বাংলাদেশের স্বার্থে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিৎ, আবেগ নয়, চুক্তিভিত্তিক অর্থনৈতিক হিসাব।

সরকারের উচিৎ একটি স্বচ্ছ সমীক্ষা প্রকাশ করাঃ
“আদানি চুক্তি বহাল রাখলে ২০২৬–২০৫২ পর্যন্ত মোট কতো টাকা দিতে হবে, চুক্তি পুনর্বিন্যাস করলে কতো সাশ্রয় হবে, আর চুক্তি বাতিল বা arbitration-এ গেলে সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ কতো হতে পারে”।
এর পাশাপাশি একই অর্থ দিয়ে গ্যাস অবকাঠামো, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, grid modernization, rooftop/utility-scale solar এবং energy storage-এ বিনিয়োগ করলে কতো MW নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব- তারও তুলনামূলক হিসাব প্রকাশ করা প্রয়োজন। কারণ বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ শুধু “আরও বিদ্যুৎ” নয়; বরং “কম খরচে, নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বিদ্যুৎ”। এটাই প্রকৃত Energy Security।
-sayedul islam montu

Address

Dhaka
1207

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Asia Age posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Asia Age:

Shortcuts

Share