Amader Kagoj

Amader Kagoj page for The Daily Amader Kagoj. www.amaderkagoj.com

টেলিফোনে হিন্দুস্তান টাইমসের সাক্ষাৎকারে যা বললেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। প্রশ্ন:আপনি কি (দেশে) ফেরার টাইমফ্রেম চূড়ান্ত করে...
02/09/2026

টেলিফোনে হিন্দুস্তান টাইমসের সাক্ষাৎকারে যা বললেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

প্রশ্ন:
আপনি কি (দেশে) ফেরার টাইমফ্রেম চূড়ান্ত করেছেন? আওয়ামী লীগের যেসব নেতা স্বেচ্ছা নির্বাসনে আছেন, আপনি কি তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ফেরার পরিকল্পনা করছেন? আপনার সংবাদ সম্মেলনে কেন বলেছেন দেশে ফিরলে আপনাকে হত্যা বা গ্রেপ্তার করা হতে পারে?

উত্তর:
আমি বলেছি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরবো। কারণ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত চলতে দেয়া যায় না। যথাযথ সময়ে আমি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময় এবং কোন পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করবো তা জানিয়ে দেবো। আমি দেশে ফিরতে চাই। কারণ, বাংলাদেশকে উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আমার সরকারের সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলারে। মাথাপিছু আয় ৪৮২ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল ২৭৮৪ ডলার। এই অগ্রগতিকে এখন ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সময়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল শতকরা ৬.৮০ ভাগ। তা থেকে কমে এখন জিডিপি দাঁড়িয়েছে ২.২২ ভাগ। ৫৪ বছরের মধ্যে প্রথমবার শিল্পখাত ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে রেকর্ড করেছে। দারিদ্র্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগ কমেছে। নতুন করে কমপক্ষে দুই কোটি মানুষ বেকার হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট আবার ফিরেছে। এটা শুধু আওয়ামী লীগের ইস্যু নয়। এটি একটি জাতীয় সংকট। যখন উন্নয়ন থেমে যায়, তখন কর্মসংস্থান হারায়। যখন আইন ভেঙে পড়ে, তখন জনগণ নিরাপত্তা হারায়। যখন উগ্রপন্থি নেটওয়ার্ক আবার সুযোগ পায়, তখন বাংলাদেশ আঞ্চলিক উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে।
আওয়ামী লীগের বহু নেতা দেশের বাইরে। অন্য অনেকে বাংলাদেশের ভিতরেই আছেন। কিন্তু তারা আত্মগোপন করে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। কে কখন ফিরবেন তা দলীয় পরামর্শের মাধ্যমে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমি চাই না কোনো নেতা, কোনো কর্মী বা সমর্থক অপ্রয়োজনে বিপদের মুখে পড়ুক। আমার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৬০০টি বানোয়াট মামলা হয়েছে। আমার জীবন নিয়ে হুমকি নতুন নয়। ১৯৭৫ সালে আমার পরিবারকে হারিয়েছি। তারপর বাংলাদেশে ফিরে আমি সামরিক শাসন, স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্র এবং বার বার হত্যাচেষ্টার মুখোমুখি হয়েছি। আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আমার পাবলিক র‌্যালিতে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড ছোড়া হয়েছিল। সেখানে কমপক্ষে ২৪ জন নিহত ও কমপক্ষে ৩০০ মানুষ আহত হন। আমি বেঁচে যাই। কিন্তু আমার সহকর্মীদের অনেকে বাঁচতে পারেননি। তারপরও ওই হামলা আমাকে থামাতে পারেনি। এখন হুমকি আমাকে আমার দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে পারবে না। আমার নিজের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। ক্ষমতার জন্য আমি ফিরবো না। জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ফিরবো।

প্রশ্ন:
আপনি কি দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের প্রস্তুতি শুরু করেছেন?

উত্তর:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ একমাত্র দল, যা সৃষ্টি হয়েছে ১৯৪৭ সালে। সৃষ্টির সময় থেকেই এ দল দেশের জন্য কাজ করেছে। আমার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দলকে নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ এবং উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে আওয়ামী লীগ। মানুষকে গরিব থেকে ব্যবসায়ী ও বেতনভোগী শ্রেণিতে পরিণত করেছে আওয়ামী লীগ। বেতনভুক্ত শ্রেণি, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করেছে। আমরা স্বল্প উন্নত একটি দেশ থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত করেছিলাম প্রায়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী অর্থনীতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ৩৫তম অবস্থানে ছিল। ভারতের পরে আমরা ছিলাম দ্বিতীয়। কিন্তু এখন তারা (সরকার) সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ এমন একটি রাজনৈতিক সংগঠন, যার উত্থান হয়েছে সাধারণ জনগণ থেকে। অসাংবিধানিক বা অবৈধভাবে ক্ষমতালোভী ব্যক্তিরা এর উত্থান ঘটাননি। সামরিক স্বৈরাচার বাংলাদেশে ক্ষমতা গ্রাস করেছিল। তারা সামরিক শাসন জারি করেছে। গঠন করেছে রাজনৈতিক দল। মুহাম্মদ ইউনূসও অসাংবিধানিক সরকার গঠন করেছিলেন এবং একটি দল সৃষ্টি করেছেন। আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করা হলো? আওয়ামী লীগ যদি অনেক খারাপ কাজ করে থাকে, তাহলে জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। আমরা ভালো হই বা খারাপ হই, নির্বাচনে আমরা জনগণের কাছে যাব এবং তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা যদি খারাপ কাজ করে থাকি, জনগণ আমাদের প্রত্যাখ্যান করবে। যারা ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের কী অধিকার আছে আমাদের দলকে নিষিদ্ধ করার? তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে মামলায় জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ছয় লাখ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ নিয়ে কি কারও কথা বলা উচিত নয়? ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে যারা অগ্নিসংযোগ, হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, যারা পুলিশ সদস্য এবং দীপু দাসের মতো মানুষকে হত্যা করেছে- তাদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে না। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদীদের অবাধে কাজ করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আওয়ামী লীগ আছে এবং থাকবে। তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে বা অন্য যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারে, কিন্তু আওয়ামী লীগের জনসমর্থন ও প্রতিষ্ঠান হিসেবে দলটি টিকে থাকবে। আমি নিয়মিত আমাদের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলি এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। যদিও এক কোটি নেতা-কর্মী গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং দুই কোটি মানুষ নিজেদের পরিবারের সঙ্গেও আর যোগাযোগ করতে পারছেন না। আওয়ামী লীগের সদস্যদের ওপর এত নির্যাতন চালানোর পরও যদি জনগণের মধ্যে কোনো দল জনপ্রিয় থাকে, তাহলে সেটি আওয়ামী লীগ। মানুষ এখনো এই দলের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখে।

প্রশ্ন:
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কি আপনি ভারত সরকার বা ঢাকার সরকারের সঙ্গে গোপন আলোচনা বা সমঝোতা করেছেন?

উত্তর:
আমার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত একান্তই আমার নিজের এবং এটি আমার দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়। ঢাকার সরকারের সঙ্গে আমার কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা নেই। যারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে এবং আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা করেছে, তারা কোনো গোপন সমঝোতার অংশীদার হতে পারে না।

প্রশ্ন:
কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির চাপের কারণে বিএনপি সরকার আপনার প্রত্যর্পণের জন্য চাপ দিচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

উত্তর:
এই প্রশ্নটি আমাকে না করে বিএনপি বা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে করা উচিত। আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। আমি শুধু বলতে পারি, জামায়াত ও বিএনপি সবসময় একসঙ্গে ছিল, অতীতেও তারা একসঙ্গে নির্বাচন করেছে। প্রকৃত অর্থে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। দ্বিতীয়ত, মুহাম্মদ ইউনূসও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এবং এই তিনটি গোষ্ঠী মূলত একই। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কী চলছে, তা আমি জানি না। তবে আমরা সবসময় মনে করি, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত। আমি যখন ক্ষমতায় ছিলাম, তখন আমার পিতা যে পররাষ্ট্রনীতি দিয়ে গিয়েছিলেন, সেটিই অনুসরণ করেছি- সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়। আমি যখন ক্ষমতায় ছিলাম, তখন বাংলাদেশের সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল। আমরা প্রতিটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলাম। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতি, দারিদ্র্য বিমোচন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধুনিক বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করা, যাতে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
আমি জানতাম, বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব না দিলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না। গ্রামের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লে শিল্পায়নও হবে না। আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর, তবে আমি শিল্পায়নও করতে চেয়েছিলাম।

প্রশ্ন:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আপনার সর্বশেষ বৈঠকে তিস্তা নদীর উন্নয়নে ভারতের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। এখন আমরা দেখছি, বিএনপি সরকার এই প্রকল্পে চীনের সঙ্গে কাজ করছে, যা ভারতে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে এবং ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মত কী?

উত্তর:
আমি শুধু বলতে পারি, আমি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াটে নিয়ে গিয়েছিলাম এবং প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছিলাম। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট পণ্য কিনতে হয়, কিন্তু বাংলাদেশের কাছে এখন সেগুলো কেনার অর্থ নেই। মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। আমাদের ছয়টি সার কারখানার মধ্যে পাঁচটি গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে আছে। তারা সার সরবরাহ করতে পারছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের সময়ের মতো ব্যাপক সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচিও তাদের নেই। তারা টীকা কেনেনি এবং হাজার হাজার শিশু হামে মারা গেছে। শিল্পকারখানাগুলোকে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চলতি মূলধনও তারা দিতে পারছে না। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিমান কেনার পেছনে এত অর্থ ব্যয়ের কারণ কী? আমারও একই প্রশ্ন। তবে এই প্রশ্ন বিএনপি সরকারকেও করা উচিত। তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে আমরা ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। বর্তমান সরকার কী করছে, সে বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।

প্রশ্ন:
আপনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশকে ‘আরেকটি পাকিস্তানে’ পরিণত হওয়ার বিষয়ে এবং বিভিন্ন উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের কারণে নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে আপনি কি বিস্তারিত বলবেন?

উত্তর:
জয় যা বলেছে, তা কোনো আবেগপ্রসূত বক্তব্য ছিল না। বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এটি ছিল একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। ‘আরেকটি পাকিস্তান’ বলতে কোনো দেশের সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়নি। এর অর্থ হলো উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং দুর্বল হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বিপজ্জনক সমন্বয়। বাংলাদেশকে সেই দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে এবং এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্যই বিপজ্জনক। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদা বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। স্থানীয় তদন্তেও একই ধরনের আশঙ্কার কথা উঠে আসছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে কেরানীগঞ্জ থেকে সাভার পর্যন্ত একাধিক ঘটনার সঙ্গে একই উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের যোগসূত্রের কথা বলা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রেসার কুকার বোমা, পাইপ বোমা, গ্রেনেড, বিস্ফোরক সামগ্রী, অস্ত্র এবং নব্য-জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ-এর (নিও-জেএমবি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে এসেছে। যখন আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা ও দেশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত একই দিকে ইঙ্গিত করে, তখন কোনো দায়িত্বশীল সরকার এই হুমকি অস্বীকার করতে পারে না।
ধর্মীয় উন্মত্ত জনতার সহিংসতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার, দরগাহ, ভাস্কর্য, সাংস্কৃতিক স্থাপনা ও ধর্মনিরপেক্ষ প্রতীকগুলো হামলার শিকার হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতাও দুর্বল করা হচ্ছে। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিটের মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলো ভেঙে দেয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। যখন জঙ্গিদের ছেড়ে দেয়া হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তাদের হয়রানি বা নিপীড়নের শিকার হতে হয়, তখন এর ফল দাঁড়ায় জাতীয় নিরাপত্তায় এক ধরনের শূন্যতা।
উগ্রবাদী নেটওয়ার্কগুলো যদি বাংলাদেশে আবারও নিরাপদ পরিবেশ পেয়ে যায়, তাহলে এর প্রভাব ভারত, মিয়ানমার, বঙ্গোপসাগর, আঞ্চলিক বাণিজ্য, অভিবাসন, সামুদ্রিক যোগাযোগপথ, কূটনৈতিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা পর্যন্ত পেঁৗঁছাবে। তাই জয়ের সতর্কবার্তাটি শুধু রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।

প্রশ্ন:
ভারতে আপনি কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন? বাংলাদেশের কোন বিষয়টি আপনার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে?

উত্তর:
যেকোনো রাজনৈতিক নেতার জন্য নিজের জনগণের কাছ থেকে দূরে থাকা সবচেয়ে কঠিন বিষয়। নির্বাসন আমার জীবনে নতুন কিছু নয়, কিন্তু জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা কখনো সহজ হয় না। আমি ভারতে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে অবস্থান করছি এবং এর জন্য ভারত সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমার মন পড়ে আছে বাংলাদেশে। আমি প্রতিদিন বাংলাদেশের পরিস্থিতির খোঁজ রাখি। আমাদের নেতা-কর্মীদের অবস্থা, নিপীড়নের শিকার পরিবারগুলো, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং তরুণদের হতাশার বিষয়গুলো সম্পর্কে আমি নিয়মিত খোঁজ রাখি। আমার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে বাংলাদেশের মানুষকে- তাদের মুখ, ভাষা, সরল বিশ্বাস এবং গ্রামবাংলার মাটিকে। আমি সেই বাংলাদেশকে মিস করি, যে বাংলাদেশ ভয় নয়, আশা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, যেভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিপীড়ন ও নির্যাতন করা হচ্ছে, তাদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হচ্ছে তা শুরু হয়েছিল (অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান) মুহাম্মদ ইউনূসের সময়ে। এমন কোনো দিন নেই, যেদিন মানুষ হত্যা করা হচ্ছে না। রংপুরের ঘটনাই ধরুন। সেখানে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। বগুড়া শহরে আমাদের যুব শাখার একজন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিটি দিন এবং রাতে হত্যাকাণ্ড চলছে। আমাদের লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করছে অথবা গ্রেপ্তার করছে। তারা বাড়িঘরে প্রবেশ করছে। সেখানে নারী পুরুষকে অপমান করছে। প্রহার করছে। প্রবীণদের হয়রান করছে। এই পরিস্থিতিতে আমি বুঝতে পারি না কিভাবে প্রত্যর্পণ একটি শর্ত হতে পারে।
আমি তো আমার নিজের দেশে ফিরবো। বুঝতে পারি না কেন তাতে আপত্তি জানানো হচ্ছে। তারা প্রত্যর্পণ চুক্তি নিয়ে কথা বলছে। আমি নিজের ইচ্ছায় আমার দেশে ফিরতে চাই। আমি ফিরবো। আমি কি সারাজীবন বিদেশে কাটাতে পারি? দেশে, আমার লোকজনের কাছে আমাকে ফিরতে হবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখনই, যখন গণতন্ত্র ধ্বংস হয়। উগ্রপন্থিদের উত্থান হয়। সংখ্যালঘুরা অনিরাপদ বোধ করেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

আমি পঁচিশ বছর ধরে কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। চিঠি, পার্সেল, কাগজপত্র, নোটিশ, সব পৌঁছে দিই। আগে চিঠি বেশি আসতো। এখন আসে ব...
30/08/2026

আমি পঁচিশ বছর ধরে কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। চিঠি, পার্সেল, কাগজপত্র, নোটিশ, সব পৌঁছে দিই। আগে চিঠি বেশি আসতো। এখন আসে ব্যাংকের কাগজ, চাকরির কাগজ, আদালতের নোটিশ, অনলাইন অর্ডারের বাক্স।

​আমার নাম কামাল। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, হাজারীবাগ, এই এলাকাগুলোতে আমার রুট। প্রতিদিন একটা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ঘুরি। বৃষ্টি হলে ভিজি। রোদ হলে পুড়ি। শীত হলে কাঁপি। কাজটা ভালো লাগে না। তবু ছাড়িনি।

​আমাদের অফিসে একটা নিয়ম আছে। ঠিকানা ভুল হলে তিনবার চেষ্টা করতে হয়। তারপর লেখা হয়-

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

​এই তিনটা শব্দ আমি জীবনে অসংখ্যবার লিখেছি। কিন্তু একদিন একটা খামের উপর এই তিনটা শব্দ লিখতে গিয়ে আমার হাত থেমে গিয়েছিল। খামের উপর লেখা ছিল-

প্রেরক: আবদুল হালিম
প্রাপক: রাশেদ হালিম
বাড়ি: ১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা।
নিচে ছোট করে লেখা-
জরুরি। ব্যক্তিগত।

অর্থাৎ, আবদুল হালিম নামে এক বয়স্ক বাবা তাঁর ছেলে রাশেদ হালিমের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু মজার বিষয় হলো, প্রেরক ও প্রাপক দুজনেরই ঠিকানা একই দেয়া-
১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা। মানে বাবা তাঁর নিজের বাড়ির ঠিকানাতেই ছেলের নামে চিঠি পোস্ট করেছেন!

​আমি ঠিকানায় গিয়ে দেখি, ১৭/বি বলে কোনো বাড়িই নেই।
১৭ আছে।
১৭/এ আছে।
১৭/সি আছে।
কিন্তু ১৭/বি নেই।

পাশের দোকানের লোককে জিজ্ঞেস করলাম। ​লোকটা বললো, "আগে ছিল।"
"এখন?"
"ভেঙে ফ্ল্যাট হইছে।"
"হালিম সাহেব?"
লোকটা কাঁধ ঝাঁকালো, "চিনি না।"

​আমি পাশের চায়ের দোকানে গেলাম। ​চা-ওয়ালা বললো, "আবদুল হালিম নামে একজন ছিল।"
"কোথায় গেছে?"
"মারা গেছে।"
"কবে?"
"অনেক বছর।"

​আমি অফিসে ফিরে খামটা "প্রাপককে পাওয়া যায়নি" লিখে জমা দিতে পারতাম। দিইনি। ​পরদিন আবার গেলাম। ১৭ নম্বর বাড়ির পুরোনো দারোয়ানকে পেলাম। বয়স অনেক। নাম গফুর। আমি খামের নামটা বলতেই লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

​"আপনি আবদুল হালিম সাহেবের ছেলের লোক?"
"না। কুরিয়ার।''
লোকটা বললো, "আবদুল হালিম সাহেব তো নাই।"
​আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তার ছেলে কোথায়?"
"বিদেশে।"
"কোন দেশে?"
"কানাডা।"
"যোগাযোগ নেই?"
"না।"

আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কেন?"
লোকটা বললো, "বাপ ছেলের ঝামেলা।"

​এই কথাটা বাংলাদেশের মানুষের খুব প্রিয়। সবকিছুর ব্যাখ্যা এক কথায় হয়ে যায়, "ঝামেলা ছিল।"

​আমি বললাম, "কী ঝামেলা?"
লোকটা বললো, "সেইটা আমি জানি না।"
তারপর একটু থেমে বললো, "তবে শেষের দিকে আবদুল হালিম সাহেব প্রতিদিন বিকেলে গেটের সামনে বসে থাকতেন।"
"কেন?"
"ছেলের জন্য।"
"ছেলে আসতো?"
"না।"

​আমি চুপ করে গেলাম।

​কানাডায় ছেলেটার নাম ছিল রাশেদ হালিম। ফেসবুকে খুঁজলাম। পেলাম না। লিংকডইনে পেলাম একজনকে। নাম মিলে যায়। ঢাকায় জন্ম। কানাডায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। বয়সও মিলে। আমি তার প্রোফাইলের ছবি দেখলাম। একজন হাসিখুশি মানুষ। বউ। দুইটা বাচ্চা। বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি। ক্যাপশনে লেখা-

"Home is where your people are."

​আমি অনেকক্ষণ ঐ কথাটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হোম ইজ হোয়্যার ইয়োর পিপল আর। মানুষ কত সহজে ইংরেজিতে এমন কথা লিখে ফেলে। নিজের ভাষায় বলতে গেলে বুক কাঁপে।

​আমি তাকে মেসেজ পাঠালাম, "আপনার নামে একটা চিঠি এসেছে।"

কোনো উত্তর নেই।

দুই দিন পর উত্তর এলো, "Who are you?"
আমি বললাম, "আমি কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। আপনার বাবা একটা চিঠি পোস্ট করেছে।"
সে লিখলো, "My father died years ago."
আমি বললাম, "চিঠিটা আপনার জন্যই।"

অনেকক্ষণ কোনো উত্তর নেই।
তারপর লিখলো, "Don't contact me again."

​আমি চুপ করে গেলাম। চিঠিটা আমার ড্রয়ারে রয়ে গেল।
তারপর এক সপ্তাহ। দুই সপ্তাহ। এক মাস। আমি চিঠিটা অফিসে জমা দিইনি।

​একদিন সন্ধ্যায় রাশেদের কাছ থেকে মেসেজ এলো, "What does the letter say?"
আমি বললাম, "আমি খুলি নাই।"
সে আবার লিখলো, "Can you send me a picture?"

​আমি খামের ছবি পাঠালাম।
সে অনেকক্ষণ কোনো উত্তর দিলো না।

তারপর লিখলো, "That's my father's handwriting."
আমি বললাম, "আপনি চিঠিটা চান?"
অনেকক্ষণ পর উত্তর এলো, "Yes."
আমি বললাম, "ঠিকানা দেন।"

​সে ঠিকানা দিল। সেদিনই আমি চিঠিটা পাঠিয়ে দিলাম। কাজ শেষ। ভাবলাম, এবার আমার দায়িত্ব শেষ। তিন দিন পর একটা ফোন এলো। বিদেশি নম্বর। আমি ধরলাম। ওপাশ থেকে একটা পুরুষের গলা।

​"আপনি কামাল?"
"জি।"
"আমি রাশেদ।"
"জি।"
"চিঠিটা পেয়েছি।"

​আমি চুপ করে থাকলাম।

​সে বললো, "আপনি কি জানেন, আমার বাবা মারা যাওয়ার আগে শেষবার আমাকে কী বলেছিলেন?"
"না।"
"বলেছিলেন, তুই যদি কোনোদিন ফিরে আসিস, আমার কাছে আসিস না।"

আমি কিছু বললাম না।

সে বললো, "আমি আর ফিরিনি।"

​তারপর দীর্ঘ নীরবতা।

​"চিঠিতে কী ছিল জানেন?"
"না।"

সে হাসলো।

তারপর বললো, "আমার বাবা কখনো কাউকে চিঠি লিখতেন না।"

আমি অবাক হলাম।

বললাম, "কিন্তু এটা তো আপনার বাবার হাতের লেখা।"
"হ্যাঁ।"
"তাহলে?"
"তিনি লিখেছিলেন। কিন্তু পাঠাননি।"

আমি বুঝলাম না।

রাশেদ বললো, "চিঠিটা তিনি নিজের আলমারিতে রেখে গিয়েছিলেন।"
"কীভাবে পোস্ট হলো?"
"তার বাড়ি বিক্রি করার পর নতুন মালিক পুরোনো আলমারির কাগজপত্রের মধ্যে খামটা পেয়েছিলেন। হয়তো ভেবেছেন পোস্ট করা হয়নি, তাই দয়ায় পড়ে ডাকবাক্সে ফেলে দিয়েছেন।"
আমি বললাম, "চিঠিতে কী ছিল?"
রাশেদ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "একটা মাত্র বাক্য।"
"কী?"

"আমি ভুল করেছিলাম।"

আমি বললাম, "এইটুকু?"
"হ্যাঁ।"
"আর কিছু?"
"না।"

আমি বললাম, "তাহলে আপনি কাঁদছেন কেন?"
রাশেদ কান্না থামিয়ে বললো, "আমি ভেবেছিলাম, বাবারা কখনো ভুল করে না।"

​আমি জানি না কেন, কথাটা শুনে আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়লো। আমার বাবা ছিলেন রাগী মানুষ। আমি ছোটবেলায় একবার স্কুল থেকে পালিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। বাবা জানতে পেরে আমাকে এমন মেরেছিলেন যে তিনদিন স্কুলে যেতে পারিনি। তারপর আমি ঠিক করেছিলাম, কোনোদিন বাবার সঙ্গে কথা বলবো না।

দুদিন পরই বাবা মারা গেলেন। আমার রাগটা রয়ে গেল। বাবা রইলেন না। মানুষের রাগেরও একটা সমস্যা আছে। যার ওপর রাগ করা হয়, সে না থাকলেও রাগটা থেকে যায়। তারপর একদিন সেই রাগের কোনো ঠিকানা থাকে না।

​রাশেদ বলল, "কামাল ভাই?"
"জি?''
"আপনি কি একটা কাজ করবেন?"
"কী?"
"আমার বাবার কবরটা খুঁজে দিতে পারবেন?"
আমি বললাম, "পারবো।"
"কেন জানি না, আমি যেতে চাই।"
"আসবেন?"
"হ্যাঁ।"

​তিন মাস পর রাশেদ ঢাকায় এলো। আমি তাকে বিমানবন্দর থেকে নিতে যাইনি। কিন্তু সে নিজেই আমাকে ফোন করলে।

​"কামাল ভাই, আমি ঢাকায়।"
"কোথায়?"
"পুরোনো বাসার সামনে।"

​আমি গেলাম। সে গাড়ি থেকে নামলো। আমি প্রথমে চিনতেই পারিনি। ছবির চেয়ে মানুষ বাস্তবে অন্যরকম।

​সে আমাকে দেখে বললো, "আপনিই কামাল?"
"জি।"

​সে হাত বাড়ালো। আমি হাত ধরলাম। তার হাত কাঁপছিল। আমরা একসঙ্গে কবরস্থানে গেলাম। তার বাবার কবর খুঁজে পেলাম। রাশেদ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বসে পড়লো।

কোনো দোয়া পড়লো না। কিছু বললো না। শুধু মাটির উপর হাত রাখলো।

​অনেকক্ষণ পর বললো, "বাবা, আমি এসেছি।"

​আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

​সে আবার বললো, "তুমি বলেছিলে, আসিস না।''

চুপ

''আমি আসিনি।''

চুপ

''তুমি ভুল করেছিলে।"

চুপ

"আমিও ভুল করেছিলাম বাবা।"

​আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। দূরে সরে গেলাম।
মানুষের কিছু কথার সাক্ষী হওয়া উচিত না। কিছু কথা মৃত মানুষের আর জীবিত মানুষের মাঝেই থাকা ভালো।

​ফেরার সময় রাশেদ আমাকে বললো, "কামাল ভাই, আপনি না থাকলে আমি আসতাম না।"
আমি বললাম, "আমি তো শুধু চিঠি পৌঁছাইছি।"
সে বললো, "না।"
"তাহলে?"
"আপনি আমার কাছে একটা ঠিকানা পৌঁছে দিয়েছেন।"
আমি হেসে বললাম, "কবরের ঠিকানা?"
সে মাথা নাড়লো, "না।"
"তাহলে?"
সে বললো, "বাবার কাছে যাওয়ার ঠিকানা।"

​আমি কিছু বললাম না। অফিসে গিয়ে আমার ছেলেকে ফোন করলাম। সে ধরলো না। আবার করলাম। ধরলো।

​বললো, "কী হয়েছে?"
আমি বললাম, "কিছু না।"
"তাহলে ফোন করছো কেন?"
আমি বললাম, "তুই কেমন আছিস?"
সে বললো, "ভালো।"
আমি বললাম, "তোর সঙ্গে আমার কোনোদিন খুব বেশি রাগারাগি হয়েছে?"
ওপাশে সে হাসলো, "আপনার তো প্রতিদিনই রাগারাগি হয়।"
আমি বললাম, "আমি যদি কোনোদিন ভুল করে থাকি?"

সে চুপ করে গেল।

আমি বললাম, "তাহলে আমাকে বলিস।"
"কেন?"
"যাতে আমি ঠিক করতে পারি।"
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "আব্বা, আপনি ঠিক আছেন তো?''
"হ্যাঁ।"
"কিছু খাইছেন?"
"না।"
"খেয়ে ঘুমান।"

​ফোন কেটে গেল।

​আমি অনেকক্ষণ ফোনটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তারপর ড্রয়ার খুললাম। রাশেদের বাবার চিঠির একটা ফটোকপি সেখানে রেখেছিলাম। মাত্র এক লাইন।

''আমি ভুল করেছিলাম।''

আমি কাগজটা হাতে নিয়ে ভাবলাম, মানুষ পৃথিবীতে কত কিছু লিখে। উপন্যাস। কবিতা। ইতিহাস। আইন। প্রেমপত্র। ক্ষমাপত্র। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে কঠিন চিঠিটা সম্ভবত এই তিনটা শব্দের, আমি ভুল করেছিলাম। এই তিনটা শব্দ বলতে একজন বাবার পঁচাত্তর বছর লাগে। একজন ছেলের ত্রিশ বছর। কখনো কখনো পুরো একটা জীবন।

​পরদিন অফিসে গিয়ে টেবিলে এক পুরোনো পার্সেল পড়ে থাকতে দেখলাম। প্রাপক মৃত, প্রেরকের খোঁজ নেই। ফেরত যাওয়ার অপেক্ষায় ধুলো জমছে খামের উপর। আমি কিছুক্ষণ সেটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে হলো, পৃথিবীতে কত অভিমান, কত অসম্পূর্ণ কথা এভাবেই কোনো না কোনো টেবিলে ঠিকানাহীন হয়ে জমা পড়ে থাকে।

​অফিসে ভালো লাগলো না। আমি বাড়ি ফিরে এলাম।

আমার ছেলে তখন ঘরে বসে ফোন দেখছিল। আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম। সে তাকালো।

আমি বললাম, "তোর সাথে আমার একটা কথা ছিল।"
সে অবাক হয়ে বললো, "কী কথা?"

আমি ড্রয়ার থেকে রাশেদের বাবার চিঠির ফটোকপিটা বের করে তার সামনে রাখলাম।

সে খামটার দিকে, তারপর আমার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।
তারপর হঠাৎ উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

অনেক বছর পর। খুব অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু যথেষ্ট। আমি তার পিঠে হাত রাখলাম। কিছু বললাম না। আমার মনে হলো, সেদিন যদি রাশেদের বাবার চিঠিটা পৌঁছে না দিতাম, তাহলে হয়তো আমার ছেলেকে আমি এই কথাগুলো কোনোদিন বলতাম না।

​আমি এখনও কুরিয়ারে কাজ করি। এখনও ভুল ঠিকানার পার্সেল আসে। এখনো অফিসে তিনটা শব্দ লেখা হয়,

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

​কিন্তু আমি আর আগের মতো সহজে লিখতে পারি না। কারণ আমি জানি, কখনো কখনো মানুষ ঠিকানায় থাকে না। অভিমানে থাকে। দূরত্বে থাকে। ভুল বোঝাবুঝিতে থাকে। কখনো বিদেশে থাকে। কখনো কবরের নিচে। আর কখনো, একই বাড়িতে থেকেও একটা দরজার ওপাশে থাকে। তাই কোনো চিঠি হাতে নিয়ে যদি মনে হয়, "লোকটা তো নেই।" আমি একটু অপেক্ষা করি। কারণ ঠিকানাটা ভুল হতে পারে। কিন্তু চিঠিটা নয়। চিঠি সাধারণত ঠিক মানুষটার কাছেই যেতে চায়। শুধু পৌঁছাতে কখনো কখনো একজন কামালের দরকার হয়!

Sohel R Rana

উন্নয়ন বনাম বাঁধনের বয়ফ্রেন্ড! 😄কোনো এক অজানা কারণে ধরেই নিলাম—গ্যাস পেতে সময় লাগবে, বিদ্যুৎ পেতে অপেক্ষা করতে হবে। বেশু...
18/08/2026

উন্নয়ন বনাম বাঁধনের বয়ফ্রেন্ড! 😄

কোনো এক অজানা কারণে ধরেই নিলাম—গ্যাস পেতে সময় লাগবে, বিদ্যুৎ পেতে অপেক্ষা করতে হবে। বেশুমার উন্নয়নের সাথে চলতে গেলে জনগণ একটু ধৈর্য ধরতেই পারে!

কিন্তু প্রশ্ন হলো—তাই বলে বাঁধনও কি বয়ফ্রেন্ড পাবে না? 😄

গ্যাস নেই—বললেন সংকট।
বিদ্যুৎ নেই—বললেন ঘাটতি।
রাস্তার কাজ শেষ হয়নি—বললেন উন্নয়ন চলমান।
কিন্তু বাঁধনের বয়ফ্রেন্ডও যদি না থাকে, তাহলে এটাকে কী বলে মেনে নেব—উন্নতি, অবনতি, নাকি ব্যক্তিগত খাতে ভয়াবহ মন্দা?

দেশের বড় বড় সূচকের হিসাব পরে হবে। আগে বাঁধনের প্রেমের সূচকটা একটু দেখা দরকার! কারণ জনগণ লোডশেডিং সহ্য করতে পারে, গ্যাসের জন্য অপেক্ষাও করতে পারে—কিন্তু বাঁধনের জীবনেও যদি কোনো ‘সংযোগ’ না আসে, তাহলে উন্নয়নের গল্পটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? 😂

অতএব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন—
গ্যাস-বিদ্যুতের পাশাপাশি বাঁধনের বয়ফ্রেন্ড সংকটকেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করা হোক!

নইলে একদিন বাঁধনই সংবাদ সম্মেলন করে প্রশ্ন করবে—
“দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বুঝলাম, কিন্তু আমি যাচ্ছি কোন দিকে?” 😎

পৃথিবীতে সময়৫ বার থেমে গিয়েছিল১) হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যখন মেরাজে গিয়েছিলেন তখন পৃথিবীর সময় থেমে গিয়েছিল।২) হযরত বেলাল (রা...
16/08/2026

পৃথিবীতে সময়
৫ বার থেমে গিয়েছিল

১) হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যখন মেরাজে গিয়েছিলেন তখন পৃথিবীর সময় থেমে গিয়েছিল।

২) হযরত বেলাল (রাঃ) যখন ফজরের আযান দেননি তখন বলা হয় যে সময় যেন না আগায়।

৩) হযরত আলী (রাঃ)-এর নামাজ কাজা হয়ে যাচ্ছিল তখন সময় থেমে গিয়েছিল।

৪) বিবি ফাতেমা (রাঃ) কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন তখন মাথা থেকে ওড়না সরে গেলে বলা হয় সময় থেমে গিয়েছিল।

৫) হযরত ইউসা (আঃ) এক যুদ্ধে বিজয় হওয়ার জন্য তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলে সূর্য কিছু সময়ের জন্য থেমে যায়।

Address

Dhaka
1215

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Amader Kagoj posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Amader Kagoj:

Shortcuts

Share

Category