10/01/2026
এক কীর্তিমান পুরুষের নাম বাঙ্গাল আবু সঈদ।
প্রথম বাঙ্গাল আবুসঈদ (১৯১৫-১৯৮৬)
ও বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলের ভেতর অবিভক্ত বাংলার বৃহত্তর যশোর জেলার নড়াইলে তাঁর জন্ম। কর্মজীবনে অনেকগুলো পেশায় তিনি নিজেকে জড়িয়েছিলেন, কিন্তু স্থিত হতে পারেননি, কেননা তাঁর রক্তে ছিল দেশপ্রেম, চেতনায় সমাজ, অনুভবে সাহিত্য। রাজনীতি ও সাহিত্যের দ্বিমুখী টানে তিনি কখনো কখনো জীবনের দ্বিধাময় পর্ব পার করলেও বারংবার ফিরে আসেন সাহিত্য রচনায়, অসি ফেলে তুলে নেন মসি। এক জীবনে প্রায় একশ গ্রন্থ রচনা প্রমাণ করে কী বিপুল সৃষ্টিশীল ও প্রতিভাবান ছিলেন ক্ষণজন্মা মানুষটি। তিনি একাধারে কবি, গীতিকার, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, রম্যরচনাকারী শিশুসাহিত্যিক। এই বহুমাত্রিক সৃজন ও মননশীল মানুষটি আজীবন ছিলেন বঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষের পক্ষে, শোষণ, নির্যাতনের বিরুদ্ধে। এই মানবতাবাদী চেতনাই তাঁর সৃষ্টিশোলতার মৌল উপাদান। রাজনীতিতে সক্রিয় মানুষটি দেশবিভাগের প্রাক্কালে এ. কে. ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ঘণিষ্ঠ সংস্পর্শে আসেন। সোহরাওয়ার্দী তাঁকে 'বাঙ্গাল' উপাধিতে ভূষিত করেন। শেষজীবনে তিনি মাওলানা ভাসানীর অনুরাগী ছিলেন এতটাই যে নিজের নামের সাথে 'ভাসানী' যোগ করেন। আজীবন সমাজসেবায় ব্যাপৃত রেখে গড়ে তোলেন বেশ কয়েকটি সংগঠন। সাহিত্য যে সমাজ ও রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, সাহিত্যিক নন চিলেকোঠার সেপাই, তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ বাঙ্গাল আবু সঈদের জীবন। এক বিপুল কর্মময় জীবন তিনি পার করেছেন অধ্যবসায়, কর্মনিষ্ঠা, সততা ও দেশপ্রেম নিয়ে। তদুপরি বাঙ্গাল আবু সঈদের প্রধান আদর্শ ছিলো দিন দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য ধ্যান ও সাধনা-মানবিক গুণাবলিসঞ্জাত সৃজনপ্রাথর্য নিহিতার্থক সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে শুভবোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করে গেছেন সারাজীবন।