21/08/2026
টঙ্গীবাড়ীতে চন্দ্রপাড়া অনুসারীদের জন্য পৃথক কবরস্থান, মুসলিম ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ভিটিমালধা গ্রামের কালীবাড়ি রোড এলাকায় চন্দ্রপাড়া পীরের অনুসারীদের জন্য পৃথক কবরস্থান ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২২ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ওই কবরস্থানে মূলত ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চন্দ্রপাড়া এলাকার নির্দিষ্ট পীরের অনুসারীদেরই দাফন করা হয়। অন্য মুসলমানদের সেখানে দাফনের সুযোগ দেওয়া হয় না বলেও স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন।
ভিটিমালধা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, “এই কবরস্থানটি চন্দ্রপাড়া পীরের অনুসারীদের জন্য নির্ধারিত। তার অনুসারী ছাড়া অন্য কাউকে এখানে দাফন করা হয় না।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৩ সালে চন্দ্রপাড়া পীরের অনুসারী স্থানীয় বাসিন্দা সামাদ বেপারী ও নুরুল ইসলাম বেপারী জমি কিনে সেখানে কবরস্থান প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন। বর্তমানে ওই জায়গায় চন্দ্রপাড়া অনুসারীদের মৃত ব্যক্তিদের দাফন করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের কয়েকজনের ভাষ্য, শুধু কবরস্থান নয়, চন্দ্রপাড়া অনুসারীদের একটি অংশ পৃথকভাবে জুমার নামাজ আদায় করেন। এ নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে বলে তারা জানান।
পৃথক কবরস্থান ব্যবহারের বিষয়টি মুসলমানদের পারস্পরিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন আলেম মনে করেন, মত, তরিকা বা কোনো পীরের অনুসারী হওয়ার কারণে মুসলিম সমাজে সামাজিক বিভাজন তৈরি হওয়া উচিত নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় আলেম বলেন, “মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ঐক্য অটুট রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কবরস্থান নিয়ে এমন কোনো ব্যবস্থা থাকলে, যা সমাজে বিভাজনের ধারণা তৈরি করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আলেম, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বসে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের মতে, ধর্মীয় মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে মৃত্যুর পর দাফনকে কেন্দ্র করে একই সমাজের মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব তৈরি হওয়া কাম্য নয়। তারা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন, আলেম সমাজ ও সংশ্লিষ্টদের সুস্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেছেন।
তবে চন্দ্রপাড়া অনুসারীদের পক্ষ থেকে পৃথক কবরস্থান প্রতিষ্ঠার কারণ, ব্যবস্থাপনা, দাফনের নীতিমালা এবং অন্য মুসলমানদের সেখানে দাফনের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজন আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন। তাদের মতে, বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।