17/07/2024
হে বিশ্ব মুসলিম জাতি জাগ্রত হও
১০ই মহরম (আশুরা) সম্পর্কে কিছু মিথ্যা হাদিস/অপপ্রচার যা বর্তমানেও বহুল প্রচলিত:
সর্বপ্রথম আমাদের মনে রাখা উচিৎ, রাসুল (সাঃ) জীবিত থাকাকালীন খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জীকার প্রচলন ছিল এবং তখন খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জীকা অনুযায়ী দিন-তারিখের হিসেব রাখা হতো।
খলিফা হযরত ওমর ক্ষমতায় থাকাকালীন আরবি বর্ষপঞ্জীকা চালু করেন এবং এর দিন তারিখ শুরু হয় আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-এঁর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের দিন থেকে। আরবি বর্ষপঞ্জীকা চন্দ্র নির্ভর এবং যার এক বছর ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন বিশিষ্ট ১২টি চান্দ্র মাস নিয়ে গঠিত।
"১০ই মহরম" নিয়ে যে ভুল এবং অবাস্তব ঘটনা বা তথ্যগুলো আজও প্রচার করা হয়ে থাকে--
১। ১০ই মহরম দুনিয়া, আকাশ-জমিন, পাহাড়-পর্বত সব কিছু সৃষ্টি হয়েছে!
#যুক্তিখন্ডনঃ ১০ই মহরম যদি দুনিয়া সৃষ্টি হয়ে থাকে তাহলে ১০ মহরমের আগের ৯ দিন কোথায় গেল? যেহেতু তখনও দুনিয়াই সৃষ্টি হয়নি-- তাহলে দুনিয়া সৃষ্টির আগেই মাস বা দিন হয় কিভাবে এবং ঐ ৯/১০ দিনের হিসাব কে, কিভাবে এবং কিসের প্রয়োজনে রেখেছিল? যেহেতু চন্দ্র অনুসারে আরবি মাসের গণনা হয়ে থাকে, তাহলে যখন সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ, নক্ষত্র, আকাশ, জমীন কিছুই সৃষ্টি হয়নি তখন এই মাসের গণনা হলো কিভাবে?
২। ১০ই মহরম আদমকে (আঃ) সৃষ্টি করা হয়েছে,
১০ই মহরম আদম-হাওয়ার (আঃ) বেহেস্তে মিলন হয়েছে,
১০ই মহরম আদম-হাওয়া (আঃ) বেহেস্ত থেকে বহিস্কৃত হয়েছে
১০ই মহররম আদম-হাওয়ার (আঃ) পাপ মোচন হয়ে পুনঃরায় মিলন ঘটেছে--
এবং আল্লাহ আদম (আ.)-এঁর তওবা কবুল করেছিলেন ইত্যাদি!
#যুক্তিখন্ডনঃ ১০ই মহরম আদম-হাওয়াকে (আঃ) নিয়ে এতকিছু ঘটল, এসবের (দিন-তারিখ) হিসাবটা কে রাখলো আর এর ইতিহাসইবা কে লিপিবদ্ধ করল? যখন সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ, নক্ষত্র, আকাশ, জমীন কিছুই সৃষ্টি হয়নি তখন আরবি (মহরম) মাসের গণনা হলো কিভাবে? ১০ই মহরমের দিন আদমকে (আঃ) নিয়ে উক্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর দিন-তারিখের হিসাব নিকাশ কার মাধ্যমে সংরক্ষিত হলো?
৩। ১০ই মহরমের দিন মহাপ্লাবন থেকে মুক্ত হয়ে হযরত নুহ (আঃ)-এঁর নৌকা 'যুদি' পর্বতে ভীড়ে!
৪। ১০ই মহরমের দিন নমরুদের অগ্নি থেকে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) মুক্ত হন!
৫। ১০ই মহরমের দিন ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন!
৬। ১০ই মহরমের দিন ফেরাউনের কবল থেকে হযরত মুসা (আঃ) ও তাঁর অনুসারীবৃন্দ মুক্ত হন এবং ফেরাউন ও তার দলবল নীলনদে ডুবে ধ্বংস হয়ে যায়! ইত্যাদি! ইত্যাদি!!
#যুক্তিখন্ডনঃ দুনিয়ার এত বড় বড় ঘটনা সব এই ১০ই মহরমের দিন সংঘটিত হলো? উল্লেখিত ঘটনাগুলির সময়ে আরবি মাসের গণনা হলো কিভাবে এবং ১০ই মহরমের দিন-তারিখের এত হিসাব-নিকাশ কার মাধ্যমে সংরক্ষিত হলো?
★ ১০ই মহরম এর দিন– আপনাদের আদম (আঃ)-এঁর কথা মনে পড়ে কিন্তু ইমাম হোসাইন (আঃ)-এঁর কথা কি মনে পড়ে না? আপনাদের নুহ (আঃ) -এঁর নৌকা 'যুদি' পর্বতে ভীড়ার কথা মনে পড়ে কিন্তু ছয় মাসের শিশু আলী আসগর (আঃ)-এঁর কথা কি মনে পড়ে না? রাসুল (সাঃ)-এঁর পরিবারের সদস্যদের অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে তা-কি মনে পড়ে না? রাসুল (সাঃ)-এঁর পরিবারের নারী সদস্যদের ইজ্জতহানী করা হয়েছে তাঁদের কথা কি মনে পড়ে না? ভন্ডামি আর মূর্খতার একটা সীমা থাকা উচিত। কি বলবেন সেদিন যেদিন রাসুল (সা:) আপনাদের জিজ্ঞাসা করবেন, "তোমাদের কাছে আমার আহলে বাইতকে (পরিবারকে) রেখে গিয়েছিলাম, তোমরা তাঁদের সাথে কি আচরণ করেছ?" কালেমা পড়েন নবীর কিন্তু নবীর পরিবারের প্রতি প্রেম নেই! নামাযে নবী ও নবীর পরিবারের প্রতি দুরুদ পেশ করেন কিন্তু অন্তরে নবী ও নবী পরিবারের প্রতি কোনো মহব্বত নেই! হায় আফসোস!
★ সত্য এই যে উল্লেখিত ঘটনাগুলির সময়ে না কোন বর্ষপঞ্জী ছিল--- আর না কোন হিসাব-নিকাশ লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। রাসুল (সাঃ) জীবিত থাকাকালীন খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জীকার প্রচলন ছিল তখন বর্তমান আরবি বর্ষপঞ্জীকার নাম-গন্ধ ছিল না। আরবি বর্ষপঞ্জীকা চালু হয় ২য় খলিফার সময় থেকে। এ থেকে প্রমাণ হয় যে উক্ত ঘটনার হাদিসগুলো ছিল জাল-হাদিস, যা কারবালার পরে রাজশক্তি যুক্ত করেছে।
★ ১০ই মহরমের দিনটিতে-- উপরোক্ত কোন ঘটনাই সংঘটিত হয়নি। তাহলে এতসবের প্রচলন কেন? আসলে শুধুমাত্র মাওলা ইমাম হোসাইন (আঃ)-এঁর কারবালার ঘটনাকে ম্লান করার জন্য নরপিশাচ, নরকের কীট, মরদুদ এজিদ (লানত) তখন এইসব জাল-হাদিসের প্রচলন করেছিল। যাতে ১০ই মহরমের দিন কেউ মাওলা হোসাইনকে (আঃ) স্মরণ করতে না পারে। ১০ই মহরমের দিন মাওলা ইমাম হোসাইন (আঃ) এবং তাঁর পরিবারের প্রতি নরপিশাচ এজিদ (লানত) এবং তার বাহিনী যেসব অন্যায় অপকর্ম করেছে তা যেন মানুষের মাঝে বিস্তার করতে না পারে সেই জন্য উপরোক্ত মিথ্য ঘটনাগুলোকে হাদিসে (জাল-হাদিস) যুক্ত করা হয়।
★ ১০ই মহরম শুধুমাত্র মোহাম্মদী-ইসলামকে রক্ষা করতে, সত্য-ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে মাওলা ইমাম হোসাইন (আঃ) এবং তাঁর পরিবার যে আত্মত্যাগ করেছেন এবং তাঁর পরিবার এবং সঙ্গী-সাথীগণ যেভাবে নিজেদের জীবন কোরবানী করেছেন তার জন্যই বিখ্যাত এবং ঐতিহাসিক।
আমরা হযরত ইব্রাহীম (আ:)-এঁর পুত্র-- হযরত ইসমাইল (আ:)-এঁর কোরবানির দিনকে স্মরণ করে রাখার জন্য গোটা বিশ্ব-মুসলিম-সমাজ যতটুকু গুরুত্ব দিয়ে ঈদ-উল-আযহা পালন করি-- ততটুকু গুরুত্ব কি মহানবী (সাঃ)-এঁর পরিবারের জন্য দিয়েছি বা এই মহরম মাসে ততটুকু গুরুত্ব সহকারে স্মরণ করেছি?
আমার নবি মুহাম্মদ (সা:)-এঁর দৈহিত্র মাওলা ইমাম হোসাইন (আ:) এবং তাঁর পরিবারগণ যে ইসলামের জন্য জীবন কোরবানী এবং আত্মত্যাগ করলেন, তাঁদের আজ কতটুকু স্বরন করছি?
কতটা নির্লজ্জ আর বোকা জাতি হলে মানুষ মহরম মাসে জন্মদিন, বিয়ে, আনন্দ-অনুষ্ঠান করতে পারে! এনারা কি সত্যিই মুসলমান? যারা এহেন কর্মকাণ্ড করছেন আপনারা কিভাবে রাসুল (সাঃ)-এঁর কাছে মুখ দেখাবেন? হায় আফসোস!
★ "কারবালাতে আমি যা দেখেছি, তা যদি কেউ দেখতো তবে সে হাসি কি তা ভুলে যেতো!"
---ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ)।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেন:
"হে আমার হাবীব আপনি বলুন, আমি আমার নবুয়াতের বিনিময়ে তোমাদের কাছে আমার পরিবার পরিজনগনের (আহলে বাইত) সৌহার্দ্য ছাড়া অন্য কোন প্রতিদান চাই না"।
---(সুরাঃ শুরা, আয়াতঃ ২৩)।
মহানবী (সাঃ) বলেছেন,
"হোসাইন আমার থেকে এবং আমি হোসাইন থেকে। আল্লাহ্ তাদেরই বন্ধু, যারা হোসাইন হতে বন্ধুত্ব কামনা করে। আর যারা হোসাইনের শত্রু, আল্লাহ্ তাদের শত্রু হবেন।"
---(সহীহ তিরমিযী, খঃ-২, পৃষ্ঠাঃ-৩০৮। কানুজুল উম্মাল, খঃ-৮, পৃষ্ঠাঃ-১০৮।)
হযরত আবুযার গিফারী রাদ্বিআল্লাহু তায়ালা আনহু পবিত্র কাবা ঘরের দরজা ধরে বলেন, আমি প্রিয় নবী (সঃ)-কে বলতে শুনেছি-
“জেনে রাখো! নিশ্চয় তোমাদের মাঝে আমার আহলে বাইত হচ্ছে নূহের তরীর ন্যায়। যে ব্যক্তি তাতে আরোহণ করবে সে নাজাত পাবে আর যে ঐ তরী থেকে দূরে থাকবে, সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।”
---(সূত্রঃ কউকাবে দুররী, পৃঃ নং -১৯৯।)
নবী (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন যে,
"আহলে বাইত এর আগে যাওয়ার চেষ্টা করোনা তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাঁদের থেকে সরে যেয়ো না তাহলে দুঃখ কষ্ট তোমাদের চির সাথী হয়ে যাবে। তাঁদেরকে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করোনা, তাঁরা তোমাদের থেকে বেশী জ্ঞানী।"
----(সুত্রঃ তাফসীরে দূররে মানসুর, খঃ-২, পৃঃ-৬০। কানজুল উম্মাল, খঃ-১, পৃঃ-১৬৮। আল তাবরানি, পৃঃ-৩৪২।)
"লোভ আর ভোগ চাহে যারা, নাই তাদের ধর্ম জাতি,
তাদের শুধু এক নাম আছে, রাক্ষস বলে খ্যাতি!
হউক হিন্দু, হউক ক্রিশ্চান, হোক সে মুসলমান,
ক্ষমা নাই তার, যে আনে তাঁহার দুনিয়ায় অকল্যাণ!"
----কাজী নজরুল।
Speak against the oppression, whether it cost you your life and follow the footstep of Imam Hussain (A.S).
"Everyday is Ashura and every place is Karbala."