05/03/2026
নৈতিকতার দেউলিয়া: যখন সম্পর্ক হয় প্রতারণার হাতিয়ার
বর্তমান সমাজে সম্পর্কের পবিত্রতা যেন এক ঠাট্টায় পরিণত হয়েছে। বিশ্বাস আর ভালোবাসার জায়গা দখল করে নিয়েছে সস্তা আবেগ, লালসা আর লোভ। আমরা কি আসলেই আধুনিক হচ্ছি, নাকি মানুষ হিসেবে পচে যাচ্ছি? নিচের তিনটি চিত্র আমাদের সমাজের সেই অন্ধকার দিকগুলোকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
১. বিশ্বাসের অমর্যাদা: ঘর ভাঙার খেলা
প্রথমত, সেই সব নারীদের কথা—যারা ঘর আর সংসারের মায়া কাটিয়ে মিথ্যে মোহের টানে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। স্বামী এবং সন্তানদের আস্থার সুযোগ নিয়ে যখন কোনো স্ত্রী অন্য কারো হাত ধরেন, তখন তিনি শুধু একটি মানুষকে ঠকায় না, বরং একটি গোটা পরিবারের ভিত্তি উপড়ে ফেলেন। সম্পর্কের তিক্ততা থাকলে বিচ্ছেদ সম্মানজনক পথ হতে পারে, কিন্তু ‘পরকীয়া’ কোনো সমাধান নয়; এটি একটি আজন্মের প্রতারণা।
২. জহির আলভি সিনড্রোম: যখন রক্ষকই ভক্ষক
দ্বিতীয়ত, পুরুষদের চারিত্রিক স্খলন। বাংলাদেশে সম্প্রতি জহির আলভি কেস আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, কীভাবে বিয়ের মতো পবিত্র বন্ধনে থেকেও পুরুষরা পর্দার আড়ালে অন্য নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। নিজের স্ত্রীকে ঘরে বসিয়ে রেখে বাইরে প্রেমের নাটক সাজানো কোনো বীরত্ব নয়, বরং এটি মানসিক অসুস্থতা এবং চরম কাপুরুষতা। এই ধরণের আচরণ শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজের প্রতি এক ধরণের বিষাক্ত সংকেত পাঠায়।
৩. সংঘবদ্ধ প্রতারণা: সম্পর্কের নামে ‘ব্যবসা’
সবচেয়ে ভয়াবহ হলো তৃতীয় পরিস্থিতিটি। যখন স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তান মিলে একটি ‘প্রতারণার চক্র’ গড়ে তোলে। স্বামী জানেন তার স্ত্রী পরকীয়ায় লিপ্ত, কিন্তু তিনি বাধা দেন না কারণ সেখান থেকে ‘টাকা’ আসছে। সন্তানরা সব জেনেও চুপ থাকছে কারণ তাদের পকেট ভারী হচ্ছে।
এটি আর সংসার থাকে না, এটি একটি ক্রাইম সিন্ডিকেট।
পরকীয়াকে ব্যবহার করে অন্যের পকেট কাটা বা কোনো তৃতীয় ব্যক্তিকে সর্বস্বান্ত করা চরম ধিক্কারজনক।
টাকা উপার্জনের জন্য নিজের স্ত্রীর সম্ভ্রম বা সম্পর্কের মর্যাদা বিক্রি করা কোনো সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না।