04/08/2026
ডক্টর ইউনূসের সময় সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ঠিকঠাক। গ্যাস, বিদ্যুৎ মানানসই। সবাই খুশি।
হঠাৎ রোজার ঈদ আসল। ঈদের দিন কিছু লোকজন বলল, স্যার ৫ বছর চাই, স্যার ৫ বছর চাই৷
এইটাই কাল হয়ে দাঁড়াল। বিএনপি ধরে নিল ইউনূস ইলেকশন দিবে না। সাথে কিছু ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিক কানপড়া দিল।
ব্যাস। ইন্টেরিম রিমেম্বার, ইলেকশন ইন ডিসেম্বর কইয়া লাফাই উঠল দল। আর তারপর থেকে শুরু হলো প্রতিদিন রাস্তায় আন্দোলন। তাও এক-দুইটা না। দিনেই ৪/৫ টা করে!
তথ্য বলছে বছরে ১৬০০+ মেজর প্রটেস্ট হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ব্যাকড কয়টা ছিল? হাজার, বারশো তো হবেই!
হাসিনা ৯১ সালে ঘোষণা দিয়ে বেগম জিয়ার সরকারকে তটস্থ করে তুলেছিল। প্রায় প্রতি মাসে কোনো না কোনো ইস্যুতে আন্দোলন করত। বিএনপি সেইসব বিষয়কে ছাড়িয়ে গেছে দিনে ৪/৫ টা করে আন্দোলন করে!
যাই হোক। টেবিল ঘুরে যেতে লাগল। এর মধ্যে ডক্টর ইউনূস আবার একজনকে তার জায়গা থেকে বাদ দিতে গেল। পারল তো নায়ই, উল্টো পুরো একটা পক্ষের সমর্থন হারাল। সহযোগিতার বদলে অসহযোগিতা শুরু হল!
একদিকে বিএনপির অসহযোগিতা আর আন্দোলন, আরেক দিনে অন্য এক বিশাল পক্ষের থেকে কোনোরকম সহযোগিতা না পাওয়া, সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হল।
তখন শুরু হল ন্যারেটিভ। আমাদের নির্বাচিত সরকার চাই। সব সমস্যার সমাধান নতুন সরকার! গণঅভ্যুত্থান করে এত মানুষের জীবনের বিনিময়ে পাওয়া সরকারে আস্থা নেই!
বিএনপিকে বিশ্বাস করানো হয়েছিল ইউনূস নির্বাচন দিবে না। কিন্তু হল কী? ইউনূস প্রথমে এসেই যে ডেডলাইন দিছিল, বায়বীয়, সেই ডেডলাইনের অন্তত ৪ মাস আগে ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচন দিয়ে চলে গেল!
এরপর কী হইল?
সব সমস্যার একমাত্র সমাধান নির্বাচন হল। একটা নির্বাচিত সরকার আসল বিএনপির। ৬ মাস গেল।
১. গ্যাসের দাম বাড়ল দফায় দফায়। এখন গ্যাসই নেই।
২. ভূতূড়ে বিদ্যুৎ বিল পাচ্ছে মানুষ। সাথে লোডশেডিং তো আছেই।
৩. বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ জ্বালানির অভাবে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন তলানিতে।
৪. নতুন বিদেশী বিনিয়োগে অনীহা। পুরাতনরা ছেড়ে দে মা কাইন্দা বাঁচি অবস্থা।
৫. নতুন কর্মসংস্থান তৈরি তো দূর কি বাত, রূপরেখাও আসেনি!
৬. নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম লাগামহীন। কাচা মরিচ ৩৫০ টাকা কেজি!
আর সবথেকে বড় বিষয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। ইন্টেরিমের সময়ে তাও বলা যেত, অভিযোগ করা যেত, প্রতিকার পাওয়া যেত। এখন মগের মুল্লুক। চারিদিকে চাঁদাবাজি, দখলদারি আর জোর যার মুল্লুক তার অবস্থা।
কিন্তু আমার প্রিয় নেতা, জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বর্তমান এমপি ও এলজিআরডি মন্ত্রী, বলেছিলেন যে নির্বাচন দিলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে! উল্টো সব সমস্যা কয়েক গুণ বেড়েছে! অন্তত এখন পর্যন্ত।
যাই হোক। ডক্টর ইউনূসকে ধন্যবাদ খাদের কিনারায় থাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া একটা দেশের দায়িত্ব নিয়ে দেশের সবথেকে বড় দুইটা শক্তির অসহযোগিতার মধ্য দিয়েও দেড় বছর এত ভালোভাবে দেশ চালানোর জন্য।