04/09/2026
বাবা ও স্বামীর সম্পত্তিতে হিন্দূ নারীর অধিকার পরিহার্য
কালের বিবর্তনে এবং বাস্তবতার নিরীখে বাবা-মা ও স্বামী, ক্ষেত্রবিশেষে শ্বশুরের সম্পত্তির ওপরও হিন্দু নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এর পক্ষে জনমত বাড়তেও শুরু করেছে।
কিন্তু বিদ্যমান আইনে নারীদের সেই সুযোগ নেই। এজন্য হিন্দু উত্তরাধিকার আইন সংশোধন করাও জরুরি হয়ে পড়েছে।
ছেলে যদি বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়, তাহলে একই বাবার ঔরসজাত মেয়ে কেনো হবে না?
একবার ভেবে দেখুন তো- একটি মেয়ের বিয়ের পর তাঁর স্বামীর যদি অকালমৃত্যু হয় অথবা স্বামী যদি কোনো কারণে তাকে ত্যাগ করে তাহলে ওই অকালবিধবা মেয়েটি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
এছাড়া বিদ্যমান আইনে বাবা বেঁচে থাকতে ছেলের মৃত্যু হলে ওই সম্পত্তির ওপর তার মৃত ছেলের বৌ ও নাতি-নাতনির কোনো অধিকার নেই। তাহলে অকালবিধবা মেয়েটি এবং তার সন্তানদের (যদি সন্তান থাকে) নিয়ে কোথায় ঠাঁই নেবে?
আবার যেহেতু স্বামীর মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন শুধু তার ছেলেরা। যদি ছেলেরা তাদের মাকে ভরণপোষণ না দেন, চিকিৎসা না করান, সে ক্ষেত্রে বৃদ্ধ বয়সে ওই ভদ্র মহিলা কার কাছে গিয়ে আশ্রয় নেবেন।
বলাবাহুল্য যে, শতবর্ষজুড়ে নারীদের এমন দুর্ভোগ দুর্দশা চলে আসছে। তবে সেগুলোর সিংহভাগই রয়ে যেত সবার অগোচরে।
তবে অবাধ তথ্য প্রবাহের এই যুগে এখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের বদৌলতে অজস্র মা, বোন ও মেয়ে সন্তানের এমন করুণ কাহিনী সবার দৃষ্টিগোচর হচ্ছে।
তাই সামগ্রিক বিবেচনায় হিন্দু উত্তরাধিকার আইন সংশোধন করে বাবা-মা, স্বামী ও ক্ষেত্রবিশেষে শ্বশুরের সম্পত্তির ওপর নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
**তবে বিয়ের আগে-পরে অথবা বিয়ের সময় কোনো মেয়ে ধর্মান্তরিত হলে তিনি সংশোধিত আইনের সুযোগ পাবেন না।**