Sumaiya Hasan

Sumaiya Hasan Stay tuned for regular Islamic, ideological and educational videos.

আলো শুধু পথ দেখায় না, কোথায় পথ নেই সেটাও দেখায়, কোথায় খাদ—সেটাও দেখায়। একজন হেদায়াতপ্রাপ্ত নেতা সেই আলোর মতোই। যিনি মানু...
13/09/2026

আলো শুধু পথ দেখায় না, কোথায় পথ নেই সেটাও দেখায়, কোথায় খাদ—সেটাও দেখায়। একজন হেদায়াতপ্রাপ্ত নেতা সেই আলোর মতোই। যিনি মানুষকে সত্যের পথ দেখান, আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের পথ দেখান, জীবনের প্রকৃত সার্থকতা কোন পথে—সেটাও দেখান।

হেযবুত তওহীদের মাননীয় ইমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম সেই আলো, যা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন; সেই নূর, যা আল্লাহ প্রেরণ করেছেন। যার সান্নিধ্যে অন্তর আলোকিত হওয়ার পথ খুঁজে পায়। কলুষিত অন্তর শুদ্ধতার পথে ফিরে আসে, স্থবির চেতনা জেগে ওঠে এবং জীবন কর্মমুখর হয়ে ওঠে।

গতকাল কুষ্টিয়ায় হেযবুত তওহীদের জনসভা শেষে মাননীয় ইমামের সংস্পর্শে যাওয়ার সুযোগ লাভ করে হানজালা, আমার ছেলে। মুহূর্তটি যতটা স্মরণীয়, তার চেয়েও বেশি তা জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য পূরণের প্রেরণা ও পথনির্দেশের। কারণ তাঁর কথাগুলো ছিল আল্লাহর পথের দিকে আহ্বান।

মানুষকে কেন সৃষ্টি করা হয়েছে, সৃষ্টির উদ্দেশ্য পূরণে কী করণীয়—তা আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসুল ও মহামানবদের মাধ্যমে জানিয়েছেন যুগোপযোগী ভাষা ও জীবন্ত আচরণের মাধ্যমে। মাননীয় ইমাম সেই চিরন্তন সত্যের দিকেই আমাদের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য কোনো একটি সময়ের জন্য নয়; এটি মানুষের চিরন্তন পরিচয়, সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং জীবনের প্রকৃত পথের কথা বলে।

08/09/2026

যে সুখী।

ছেলেকে নিয়ে আজ প্রচারকার্যে বের হয়েছিলাম। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যখন কথা বলছিলাম, তখন ছেলে মনোযোগ দিয়...
23/08/2026

ছেলেকে নিয়ে আজ প্রচারকার্যে বের হয়েছিলাম। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যখন কথা বলছিলাম, তখন ছেলে মনোযোগ দিয়ে আমাদের কথা শুনছিল। কখনো আমার দিকে, আবার কখনো শিক্ষার্থীদের দিকে তাকাচ্ছিল। মুহূর্তটি ছিল অসাধারণ।

একজন মায়ের সবচেয়ে বড় সফলতা ও সুখ তখনই আসে, যখন সন্তান নিজের জীবন ও সম্পদ ব্যয় করে সৃষ্টির কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে, আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে উৎসর্গ করে। আমার ছেলে আজ সেই যাত্রা শুরু করল।

সে অন্য বাচ্চাদের মতো কান্না করে না, বাহানা করে না; বরং বেশ স্থির ও চিন্তাশীল। রাসুল (সা.)-এর জীবনীতে পড়েছিলাম, তিনি কীভাবে ছোটবেলা থেকেই বিশেষ গুণাবলির অধিকারী হয়ে বেড়ে উঠেছিলেন। আল্লাহ যখন কাউকে পছন্দ করেন, তখন ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে বিশেষ কিছু গুণ প্রকাশ পেতে থাকে বলা হয়।

হানজালা ইলন মাস্ক, ল্যারি পেজ, ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা ভ্লাদিমির পুতিন না হোক। বরং সে হোক একজন সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ ও মানবকল্যাণে নিবেদিত মানুষ; আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে উৎসর্গকারী একজন মুজাহিদ, একজন সৈনিক। এর চেয়ে উত্তম আর কী-ই বা হতে পারে! মা হিসেবে এটাই আমার চাওয়া, ইচ্ছা ও স্বপ্ন।

হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘ঝংকার’ নিয়ে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে প্রচারকার্যে বের হয়েছিলাম আমি, আমা...
23/08/2026

হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘ঝংকার’ নিয়ে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে প্রচারকার্যে বের হয়েছিলাম আমি, আমার ছেলে হানজালা ও সহযোদ্ধারা। ‘ঝংকার’ ছাত্র ফোরামের একটি পুস্তিকা, যেখানে একটি মহান আদর্শ তুলে ধরা হয়েছে।

আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার অর্থ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা, বিদ্যুৎ চমকানোর অর্থ বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা। অনুরূপভাবে, মানুষের চারিত্রিক অধঃপতন পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাঙ্গনে আদর্শিক শিক্ষার অভাবকে স্পষ্ট করে। সেই সঙ্গে, সব জায়গা থেকে নেতিবাচক শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টিও এতে প্রতিফলিত হয়।

পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাঙ্গন থেকে একটি মানবশিশু নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা লাভ করবে। সে সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও মানবতার কল্যাণকামী হয়ে গড়ে উঠবে। কিন্তু যখন এর বিপরীত চিত্র দৃশ্যমান হয়, তখন বুঝে নিতে হয়—গলদটি শুধু ব্যক্তির মধ্যে নয়, বরং চারপাশের শিক্ষাব্যবস্থায়ও বিদ্যমান।

এমতাবস্থায় একটি উত্তম আদর্শ অত্যাবশ্যক। ছাত্র ফোরাম সেই আদর্শ নিয়েই আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। যে আদর্শ মানুষকে পরিশুদ্ধ করতে সমর্থ, যে আদর্শ মানুষকে নিজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়, সমাজের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত—তা বুঝতে শেখায় এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্কের পরিচয় করিয়ে দেয়।

21/08/2026

আলেম হয়ে থাকলে উত্তর দিন।

কওমি আলেমদের ১২টি প্রশ্নের উত্তর১. আল্লাহ যখন ঘোষণা করেছেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম” (স...
18/08/2026

কওমি আলেমদের ১২টি প্রশ্নের উত্তর
১. আল্লাহ যখন ঘোষণা করেছেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম” (সূরা মায়েদা: ৩), তাহলে চৌদ্দশ বছর পরে পন্নী ও সেলিমকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে “আসল ইসলাম” প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন কেন হলো?

উত্তর:
প্রথমেই আপনাকে বলতে চাই, আপনার শব্দচয়নে অভদ্রতা প্রকাশ পাচ্ছে কেন? কোনো কিছু জানার থাকলে তা ভদ্রতার সঙ্গে জিজ্ঞেস করতে হয়।

হ্যাঁ, অবশ্যই আল্লাহ তাঁর দীনকে পূর্ণাঙ্গ করেছেন—এতে কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহর রাসুল (সা.) সেই পূর্ণাঙ্গ দীনকে জাজিরাতুল আরবে এবং পরবর্তীতে তাঁর সাহাবিরা অর্ধ পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠাও করেছিলেন। এতেও কোনো সন্দেহ নেই। তাঁরা আল্লাহর দেওয়া পূর্ণাঙ্গ দীন প্রতিষ্ঠা করে আরবের আইয়ামে জাহেলিয়াতের সমাজকে পরিবর্তন করে ন্যায়, সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আল্লাহর দেওয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছিল।

কথা হচ্ছে—সেই পূর্ণাঙ্গ দীন এখনো কি প্রতিষ্ঠিত আছে? উত্তর হলো, নেই। আমরা আল্লাহর হুকুম মোতাবেক নামাজ, রোজার মতো বহু ব্যক্তিগত আমল করছি, এটি সত্য। কিন্তু রাষ্ট্রীয় জীবনে কি আল্লাহর হুকুম চলছে? চলছে না। আদালতে কি কোরআনের আইন দ্বারা বিচার-ফয়সালা হয়? হয় না। এখানে চলছে ব্রিটিশ ‘ল’—মানুষের তৈরি আইন। অথচ আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, “যারা আল্লাহর বিধান দ্বারা বিচার-ফয়সালা করে না, তারা কাফের” (সূরা মায়েদাহ: ৪৪)।

আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কি আল্লাহর হুকুমভিত্তিক, জাকাতভিত্তিক? না। আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সুদভিত্তিক। পুরো দুনিয়ার অর্থনৈতিক কাঠামোই সুদের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এমন কোনো লেনদেন নেই, যার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সুদ যুক্ত নেই। পথের ধুলো-বালি থেকে শুরু করে মসজিদের ইটটির সঙ্গেও সুদের লেনদেন যুক্ত। অথচ সুদকে আল্লাহ হারাম করেছেন। আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, “যারা ঈমান এনেছ, পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর” (সূরা বাকারা: ২০৮)। এখন আপনিই বলেন, আল্লাহর দেওয়া পূর্ণাঙ্গ দীন রাষ্ট্রে কায়েম না থাকলে পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ করা সম্ভব? চাইলেই কি আল্লাহর সব হুকুম মানা সম্ভব?

আল্লাহ বলেন, “তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ মানো এবং কিছু অংশ অস্বীকার কর? তাহলে তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে, তাদের একমাত্র প্রতিফল দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ও অপমান এবং কিয়ামতের দিন তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে কঠিনতম শাস্তির দিকে” (সূরা বাকারা: ৮৫)। আল্লাহর হুকুমকে অস্বীকার করা কুফর। আর কিছু মানা ও কিছু না মানা হলো আল্লাহর বিধানের প্রতি অবাধ্যতা। আল্লাহ বলেছেন, তিনি ইচ্ছা করলে সব ধরনের পাপ ক্ষমা করতে পারেন; কিন্তু শিরক ক্ষমা করেন না (সূরা নিসা: ৪৮)।

আমরা হেযবুত তওহীদ আল্লাহর দেওয়া সেই পূর্ণাঙ্গ দীনকে আল্লাহর জমিনে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়ে কাজ করছি। আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের জীবন-সম্পদ উৎসর্গ করার অঙ্গীকার নিয়েই আমরা নেমেছি। সকল ফেরকা-মাজহাব ও দল-মতের মানুষকে আমরা এই কাজে সামিল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
---

২. পন্নী ও সেলিম কীভাবে এই বিশেষ নেতৃত্ব বা কর্তৃত্ব লাভ করলেন? এর দলিল কী?

উত্তর:
আপনাদের প্রশ্নের ভাষায় সভ্যতা ও ভদ্রতার খুবই অভাব। আপনি কি জানেন, ইমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী কে ছিলেন? তিনি ছিলেন এই উপমহাদেশের প্রখ্যাত জমিদার পন্নী পরিবারের উত্তরসূরি। তাঁর পূর্বপুরুষরা আরব থেকে বেরিয়ে ইসলামের পতাকা নিয়ে এই উপমহাদেশে আসেন এবং ইসলামের দাওয়াত প্রচার করেন। তাঁর পূর্বপুরুষরা স্বাধীন বাংলার সুলতান ছিলেন। সুলতানি যুগে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী তাঁরাই এই অঞ্চল শাসন করেছেন।

তাঁদের পারিবারিক সুনাম ও খ্যাতি ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। পড়তে হবে ভাই। তাঁর এলাকায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখুন, তিনি কেমন ব্যক্তিত্ববান ও মানবতাবাদী মানুষ ছিলেন। মাননীয় ইমামুয্যামান ছিলেন আধ্যাত্মিক ও মানবিক চরিত্রে বলীয়ান এক মহান পুরুষ। তাঁর ঘটনাবহুল ৮৬ বছরের জীবনে একটি মিথ্যা বলা বা অপরাধ সংঘটনের দৃষ্টান্ত নেই। তাঁর চরিত্রের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল তাঁর নিরহংকার ব্যক্তিত্ব। তিনি অভিজাত পরিবারের সন্তান হয়েও সারা জীবন সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাটিয়েছেন।

তিনি ছিলেন সংগ্রামী চরিত্রের মানুষ। তরুণ বয়সেই তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি যোগ দেন আল্লামা এনায়েত উল্লাহ খান আল-মাশরেকী প্রতিষ্ঠিত ‘খাকসার’ আন্দোলনে। ছাত্রজীবনেই তিনি পূর্ববাংলার কমান্ডারের পদ লাভ করেন। দুঃসাহসী কর্মকাণ্ড ও সহজাত নেতৃত্বের গুণে মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি ‘সালার-এ-খাস হিন্দ’ মনোনীত হন।

তিনি একজন সফল রাজনীতিবিদও ছিলেন। ১৯৬৩ সালে তিনি টাঙ্গাইল-বাসাইল নির্বাচনী আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। আওয়ামী লীগ, মুসলিম লীগসহ বিরোধী মোট ছয়জন প্রার্থীকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীই এত কম ভোট পান যে তাঁদের সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

শুধু তাই নয়, তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন। কাজী নজরুল ইসলামের চিকিৎসক হিসেবেও তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

ছোটবেলা থেকেই মুসলিম জাতির বর্তমান করুণ অবস্থা তাঁকে ভীষণভাবে ভাবাত ও ব্যথিত করত। তিনি কোরআন, হাদিস ও ইতিহাস নিয়ে ব্যাপক পড়াশোনা ও গবেষণা করতেন। তিনি দেখলেন, মুসলিমরা একসময় বিশ্বের সেরা জাতি ছিল। তারা ছিল ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সামরিক শক্তিতে তারা ছিল বিশ্বের শীর্ষে।

মুসলিমদের এই সাফল্যের উৎস কী ছিল? পরবর্তীতে মুসলিম জাতির পতন ও পরাজয়ের কারণ কী? কোথায় পথ হারাল তারা? আর এই গভীর সংকট থেকে মুসলিমদের পুনরায় উজ্জীবিত করার উপায় কী? এসব প্রশ্নের জবাব তিনি খুঁজতেন। আল্লাহর কাছে নিরালায় প্রার্থনা করতেন, জানতে চাইতেন। অনেক অধ্যবসায়ের পর, তাঁর বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি তাঁর প্রশ্নগুলোর উত্তর লাভ করেন। তাঁর মতে, আল্লাহ তাঁকে সেই জ্ঞান দান করেন।

তিনি মনে করতেন, মুসলিম জাতি যেদিন থেকে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অর্থাৎ জিহাদ ত্যাগ করেছে, সেদিন থেকেই এই জাতির দুর্দশার শুরু। এরপর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে, ঐক্যহীন হয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে দিন দিন দুর্বল জাতিতে পরিণত হয়। পরে পুরো মুসলিম বিশ্ব ব্রিটিশ খ্রিস্টানদের দ্বারা পরাজিত হলে আল্লাহর জীবনব্যবস্থার পরিবর্তে ব্রিটিশদের তৈরি ব্যবস্থা মেনে নিতে বাধ্য হয়। জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আল্লাহর আইন-বিধানের চর্চা বাদ দিয়ে ব্রিটিশদের তৈরি ব্যবস্থার চর্চা শুরু করায় জাতির চূড়ান্ত পরাজয় নিশ্চিত হয়—এমনটাই ছিল তাঁর বিশ্লেষণ।

এই বিষয়গুলো মানবজাতিকে বোঝানোর জন্য এবং তওহীদের ওপর, কালেমার অঙ্গীকারের ওপর জাতিকে পুনরায় ফিরিয়ে এনে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে তিনি একটি আন্দোলন গড়ে তোলেন, যার নাম ‘হেযবুত তওহীদ’। পরবর্তীতে তাঁর প্রয়াণের পর জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম এই আন্দোলনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। আমরা বিশ্বাস করি, ইমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী যে ডাক দিয়েছেন, সেই ডাকে প্রত্যেক মুসলিমের সাড়া দেওয়া উচিত। আমরা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছি। আপনাদেরও আহ্বান করছি। আপনার পছন্দ না হলে সাড়া দেবেন না; আপনি আপনার মতো থাকুন।
---

৩. যদি হাদিস গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের রাকাত সংখ্যা, যাকাতের পরিমাণ ও হজের পদ্ধতি কোথা থেকে নির্ধারণ করবেন?

উত্তর:
হাদিসে আছে, “কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তা-ই (যাচাই না করে) বর্ণনা করে” (সহিহ মুসলিম)। আপনারা যে হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে কিছুই জানেন না, ন্যূনতম ধারণাও নেই, তার প্রমাণ এই প্রশ্নটি। আমাদের একটি বই আপনারা পড়েননি, একটি হ্যান্ডবিলও পড়েননি। যদি পড়ে থাকেন, তাহলে হয় আপনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি, নয়তো আমাদের বক্তব্য সম্পর্কে ভুল ধারণা নিয়ে প্রশ্ন করছেন।

কারণ আমাদের প্রত্যেকটি লিফলেট, ছোট-বড় বই, প্রকাশনা ও আর্টিকেলে অসংখ্য হাদিসের রেফারেন্স তুলে ধরা হয়। আপনি ধরে নিয়েছেন আমরা হাদিস মানি না—এটি সত্য হতে পারে না। অথবা আপনারা আমাদের সম্পর্কে না জেনে অভিযোগ করছেন। আপনাদের একটি হাদিস মনে করিয়ে দিই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে অপমান করার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপ করবে বা অপবাদ দেবে, মহান আল্লাহ তাকে জাহান্নামের সেতুর ওপর আটকে রাখবেন; যতক্ষণ না সে তার কৃতকর্মের উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করে বা ক্ষতিপূরণ দেয়” (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৮৩)।

আমরা আল্লাহকে বিশ্বাস করি, রাসুলকে বিশ্বাস করি। কোরআন মানি। কোরআনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কোরআনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়—এমন হাদিস ও প্রসিদ্ধ ইতিহাস আমরা গ্রহণ করি এবং সেগুলোর আলোকে পথ চলার চেষ্টা করি। এরপর থেকে দয়া করে অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে যাচাই না করে কাউকে দোষারোপ করতে আসবেন না।
---

৪. আপনারা যে বলেন, চৌদ্দশ বছর ধরে ইসলাম বিকৃত ছিল, এর নির্ভরযোগ্য উৎস কী?

উত্তর:
দেখুন, আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন এসেছিলেন, তখন আরবে অন্ধকার যুগ প্রতিষ্ঠিত ছিল। সেই সমাজে জীবন্ত কন্যাশিশুকে কবর দেওয়া হতো, দাসদের কোনো অধিকার ছিল না, মানুষের মধ্যে সভ্যতার অভাব ছিল, ডাকাতি ছিল পেশা, অশান্তি, অনিরাপত্তা ও অরাজকতা চলত। গোত্রে গোত্রে মারামারি-কাটাকাটি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। আমরা যাকে আইয়ামে জাহেলিয়াত বলি, সেটিই ছিল সেই যুগের চিত্র।

সেই সমাজে এসে আল্লাহর রাসুল (সা.) দীর্ঘ ২৩ বছর সংগ্রাম করার পর এমন একটি সভ্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেখানে মানুষ দরজা খুলে ঘুমাত, নারীরা স্বর্ণালংকার পরিহিত অবস্থায় মাইলের পর মাইল একা রাতের বেলা নিরাপদে চলাফেরা করত—এমন বর্ণনাও ইতিহাসে পাওয়া যায়। অর্থনৈতিক বৈষম্য কমে এসেছিল, সম্পদের প্রাচুর্য দেখা দিয়েছিল, এমনকি দান করার মতো লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। যে সমাজের মানুষ আগে চুরি, ডাকাতি, ব্যভিচারসহ নানা অপরাধে লিপ্ত ছিল, পরবর্তীতে সেই সমাজে দীর্ঘ সময় আদালতে কোনো বিচার না আসার কথাও বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ এই জাতি সভ্যতা, সাহসিকতা ও নেতৃত্বে বিশ্বসেরা হয়ে উঠেছিল।

সেই সেরা জাতির আজকের অবস্থা কী? মুসলিম বিশ্ব আজ বিভক্ত ও নানা সংকটে জর্জরিত। কোটি কোটি মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে, যার বড় একটি অংশ মুসলিম। একের পর এক মুসলিম রাষ্ট্র যুদ্ধ ও সংঘাতে ধ্বংস হয়েছে। মুসলিম নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বসনিয়ায় মুসলিমদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন হয়েছে। ফিলিস্তিনে দীর্ঘদিন ধরে একটি জনগোষ্ঠী নির্যাতনের শিকার। মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক মুসলিম বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

আর আমরা আছি শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব নিয়ে। কে কাকে কাফের প্রমাণ করতে পারে, সেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। একে অন্যের দাড়ির আকার মাপছি। ইরাক ধ্বংস হয়েছে, সুন্নি-শিয়া বিভাজন সেখানে বড় ভূমিকা রেখেছে। ইরানের ওপর আঘাতের সময়ও আঞ্চলিক বিভাজন ও দ্বন্দ্ব দেখা গেছে। আজও আরবের বিপুল অর্থে কেনা অস্ত্র ইয়েমেনের মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এতগুলো কথা কেন বললাম? বললাম, যেন পার্থক্যটা ধরতে পারেন। সেই সমাজ কেমন ছিল, সেই জাতি কেমন ছিল এবং আমাদের বর্তমান অবস্থা কী—তা বিবেচনা করুন। বিশ্বের সেরা জাতি আজ দুর্বল ও বিভক্ত। ঐক্যবদ্ধ এক জাতি বহু রাষ্ট্রে বিভক্ত। জাতির কোনো একক কর্তৃপক্ষ বা নেতা নেই। এ অবস্থায় যারা প্রশ্ন করেন, ইসলাম বিকৃত হয়েছে—এর নির্ভরযোগ্য উৎস কী, তাঁদের নিজেদের বর্তমান বাস্তবতার দিকেও তাকানো উচিত।

আমরা নামাজ পড়ছি, রোজা রাখছি, ইবাদত-বন্দেগি করছি; কিন্তু ইসলামের ফলে যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেই শান্তি আছে কি? সেই নিরাপত্তা আছে কি? নেই। আমাদের বিশ্বাস, ইসলামের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই মুসলিম জাতির এই করুণ পরিণতি হয়েছে। আল্লাহর রাসুলের প্রতিষ্ঠিত সেই পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা অনুসরণের ফলেই তখন শান্তি, নিরাপত্তা, ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

আমরা এটাই বলছি—আল্লাহর রাসুল (সা.) যে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আল্লাহ যে পূর্ণাঙ্গ দীন আমাদের দিয়েছেন, সেটি পূর্ণাঙ্গ রূপে সমাজে আবার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই দিকেই আমরা সবাইকে আহ্বান করছি। প্রয়োজন মনে করলে আমাদের সঙ্গে শামিল হন, আর না হলে উৎস খুঁজতে থাকুন।
---

৫. আলেমরা দ্বীনের খেদমত করে অর্থ গ্রহণ করলে যদি “ধর্মব্যবসায়ী” হয়, তাহলে আপনাদের বই, পত্রিকা ও প্রকাশনা বিক্রি করে অর্থ নেওয়াকে কী বলা হবে?

উত্তর:
প্রথম কথা হচ্ছে—হেযবুত তওহীদের কোনো সদস্য দীনের কাজ করে টাকা নেয় না। তারা হারাম খায় না। কারণ আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) এর বিনিময়ে দীনের কাজ করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন—এমনটাই আমাদের বিশ্বাস।

আমরা হেযবুত তওহীদের সদস্যরা নিজেদের জীবন-সম্পদ কোরবান করে আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করছি। নিজেদের সর্বস্ব ত্যাগ করে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি। আমরা আমাদের আয়ের একটি অংশ নিয়মিত এই কাজে ব্যয় করছি। পাশাপাশি কাজ করতে গিয়ে কেউ কেউ জমি-জমা, ধন-সম্পদ, স্বর্ণালংকার বিক্রি করে প্রায় নিঃস্ব অবস্থায়ও পৌঁছেছেন।

ইসলামের প্রকৃত আদর্শ প্রচার করতে আমরা লক্ষ লক্ষ ছোট-বড় সভা, সেমিনার, আলোচনা সভা ও জনসভা করেছি। এসবের খরচ আমাদের আন্দোলনের সদস্যরাই বহন করেন। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ১০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে আমরা এতে অংশগ্রহণ করি।

বিভিন্ন বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও লিফলেট প্রকাশের মাধ্যমেও আমরা এই আদর্শ প্রচার করছি। লক্ষ লক্ষ হ্যান্ডবিল বিনামূল্যে মানুষের হাতে পৌঁছে দিচ্ছি। তবে বই, পত্রিকা ও ম্যাগাজিনের মতো ব্যয়বহুল প্রকাশনার ক্ষেত্রে আমরা মূলত মুদ্রণ খরচটুকু নেওয়ার চেষ্টা করি। কারণ এত ব্যয় বহন করার সামর্থ্য সবসময় আমাদের থাকে না।

১০টি বই বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যায়, তা দিয়ে আরও ১০টি বই ছাপানো হয়, যাতে আরও ১০ জনের কাছে আদর্শটি পৌঁছে দেওয়া যায়। আবার ১০টি বই বিক্রি করতে গিয়েও দেখা যায়, আমাদের পকেট থেকে ১০০ টাকা গাড়িভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ হয়ে যাচ্ছে। সেটিও আমরা নিজেদের পকেট থেকেই বহন করি।আমরা এই কাজের জন্য যেমন নিজেদের মূল্যবান সময় ব্যয় করি, তেমনি অর্থও ব্যয় করছি। এর বিনিময় আমরা পরকালে আল্লাহর কাছ থেকে আশা করি।

আপনার কাছে প্রশ্ন হলো—আমাদের প্রকাশনার মুদ্রণ খরচ নেওয়ার সঙ্গে দীনের কাজ করে পারিশ্রমিক নেওয়া, নামাজ পড়িয়ে, ওয়াজ করে, মিলাদ পড়িয়ে, জানাজা পড়িয়ে বা কোরআন খতম করে অর্থ নেওয়াকে একইভাবে তুলনা করলেন কীভাবে?

আমরা যে মূল্যবান সময় আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করছি, তার বিনিময়ে তো আপনার কাছে টাকা চাইনি। আমরা যে আপনাদের কাছে দীনের দাওয়াত নিয়ে যাই, সেটার বিনিময়ও চাইনি। আমাদের যারা আর্টিকেল লেখেন, তাঁদের কাছ থেকেও আমরা দীনের দাওয়াতের বিনিময় দাবি করি না। এসবের বিনিময়ে কেউ কোনো সদস্যকে ১০০ কোটি টাকা দিলেও সে নেবে না—কারণ আমাদের দৃষ্টিতে তখন সেটি দীনের কাজের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ হবে। এই যে কোটি কোটি কোরআন, হাদিস ও তাফসিরের বই বিক্রি হয়—এগুলো কি ধর্মব্যবসা? নিশ্চয়ই নয়। তাহলে আমাদের প্রকাশনার মুদ্রণ খরচ নেওয়াকে কীভাবে ধর্মব্যবসার সঙ্গে তুলনা করেন?
---

৬. রাসুল দাড়ি রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাহলে কোন দলিলের ভিত্তিতে দাড়ি কাটা, ছাঁটা বা সেফ করা বৈধ মনে করেন?

উত্তর:
দাড়ি রাখা সুন্নাহ—এ নিয়ে হেযবুত তওহীদের কখনো আপত্তি নেই। কিন্তু এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ অনেক সুন্নাহ রয়েছে। অথচ দাড়িকে এমনভাবে প্রচার করা হয় যে, মনে হয় যেন রাসুল (সা.) দাড়ি প্রতিষ্ঠা করার জন্যই দুনিয়ায় এসেছিলেন। ইতিহাস বলে, তৎকালীন সময়ে প্রায় সবাই দাড়ি রাখত। মুমিনরা যেমন রাখত, তেমনি কাফেররাও দাড়ি রাখত। আবু জাহেল, আবু সুফিয়ান, আবু লাহাব, উতবা, শায়বাহ—তাঁদেরও দাড়ি ছিল। তাঁদের পোশাকও একই ধরনের ছিল। কারণ সেটিই ছিল তৎকালীন আরবের প্রচলিত পোশাক।

আমাদের বক্তব্য হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাওয়াত ও সংগ্রামের মূল বিষয় ছিল আল্লাহর তওহীদের প্রতিষ্ঠা এবং আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সমাজ গঠন। কিন্তু পরবর্তীতে অপেক্ষাকৃত সহজ ব্যক্তিগত সুন্নাহকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মূল দায়িত্বকে আড়াল করা হয়েছে—এটাই আমাদের আপত্তি। ভাই, আপনি দাড়ি রাখুন। দাড়ি রাখতে আপনাকে কেউ নিষেধ করেনি। হেযবুত তওহীদের বহু সদস্যও দাড়ি রাখেন। কিন্তু বিষয়টি এমন নয় যে, কেউ দাড়ি না রাখলে সে ইসলামের কথা বলতে পারবে না। প্রধান সুন্নাহ ও ব্যক্তিগত সুন্নাহর পার্থক্য বোঝা দরকার। আগে মূল দায়িত্বের দিকে আসুন।

একটি হাদিস উল্লেখ করছি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আমি তো একজন মানুষ। আমি যখন তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে কোনো নির্দেশ দিই, তখন তা গ্রহণ করো। আর যখন আমার ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে কোনো কথা বলি, তখন আমি তো একজন মানুষ মাত্র” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৬১)। অর্থাৎ ব্যক্তিগত কোনো অভ্যাস বা অনভ্যাস তিনি কারও ওপর জোর করে চাপিয়ে দেননি—এমনটাই হাদিসটির বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। যেখানে রাসুল (সা.) জোর প্রয়োগ করেননি, সেখানে আমরা কে যে অন্যের ওপর জোর খাটাব?
---

৭. পন্নী ও সেলিমের অনুসরণ বা বায়াত না করলে কেউ কাফের হবে—এ কথা কোরআন বা সহিহ হাদিসের কোথায় আছে?

উত্তর:
এই কথা আপনি কোথায় পেয়েছেন, আগে সেটা বলেন। উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো ইসলামের শিক্ষা নয়। এসব প্রশ্ন না করে হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে সত্যিই জানার ইচ্ছা থাকলে যৌক্তিক প্রশ্ন করুন। আমরা যে কথা বলিনি, সেটি আমাদের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।
---

৮. মক্কা-মদিনার আলেম, আল-আজহার, চার মাজহাবের ইমাম ও শত শত বছরের উলামায়ে উম্মাহ সবাই ভুল, আর শুধু আপনারাই সঠিক—এর প্রমাণ কী?

উত্তর:
প্রথম কথা হচ্ছে—আমরা তো কাউকে ভুল বলিনি। আপনারা যে বক্তব্য আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে চান, সেটি আমাদের বক্তব্য নয়। আমরা কাউকে ছোট করি না। অমুক মাজহাব মানি, তমুক মাজহাব মানি না—এ ধরনের বিভাজনও আমরা চাই না। আর কে ভুল, কে সঠিক—তা শুধু দাবি দিয়ে নির্ধারিত হয় না; বাস্তব ফলাফলও বিবেচনা করতে হয়।

যদি আজকের মুসলিম জাতি খোলাফায়ে রাশেদিনের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকত, মানুষ যদি নিরাপদে চলাফেরা করতে পারত, সমাজে যদি ব্যাপক দুর্নীতি ও অন্যায় না থাকত, রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে যদি আল্লাহর দেওয়া বিধান প্রতিষ্ঠিত থাকত, তাহলে তো কোনো প্রশ্নই থাকত না। তখন মক্কা-মদিনার আলেম হোক, আল-আজহারের আলেম হোক কিংবা অন্য কোনো আলেম—কারও কাজ বা কথা নিয়ে আমাদের আপত্তি থাকত না।

আপত্তি হলো এই জায়গায়—অনেকে ব্যক্তিগতভাবে আমল-আখলাক করছেন, ইবাদত করছেন; কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) উম্মতের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করে গেছেন, সেটি ভুলে গেছেন—এমনটাই আমাদের অভিযোগ। আল্লাহর দেওয়া পূর্ণাঙ্গ দীন প্রতিষ্ঠার কাজ থেকে সরে গিয়ে সবাই ব্যক্তিগত আমলে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে—আমাদের বিশ্লেষণ এটাই।

এ কারণেই মুসলিম জাতির আজ এই করুণ পরিণতি। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি আজ দুর্বল ও বিভক্ত। বিভিন্ন জাতি ও রাষ্ট্রের সংঘাতের মধ্যে মুসলিমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের একটি। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লাহর নির্দেশ ও রাসুল (সা.)-এর দেওয়া দায়িত্ব অনুযায়ী আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার কাজে এগিয়ে যাওয়া—এটাই আমাদের আহ্বান। কে ভুল, কে সঠিক—এসব নিয়ে অনন্ত বিতর্কে না থেকে সকল মাজহাব, ফেরকা ও দল-উপদলের মানুষকে আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
---

৯. ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইবাদত পূর্ণ হয় না—এ দাবির দলিল কী? রাসুল (সা.) তো মক্কায় ১৩ বছর রাষ্ট্র ছাড়াই ছিলেন।

উত্তর:
এ কথা আমরা কোথায় বলেছি, তার দলিল আগে দিন। আমরা বলেছি, আল্লাহর আদেশ-নির্দেশ মুমিনদের জন্য। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে আদেশ, নির্দেশ ও নিষেধ মুমিনদের উদ্দেশ্যে করেছেন।

কোরআন খুললেই দেখতে পাবেন—আল্লাহ বলেছেন, “হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সালাত ফরজ করা হলো”; “হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হলো, যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর”; “হে মুমিনগণ, তোমাদের জন্য এটা হারাম করা হলো”; “হে মুমিনগণ, তোমরা এটা করো, ওটা করো না।” অর্থাৎ আল্লাহর সব আদেশ-নিষেধ, উপদেশ ও নির্দেশ মুমিনদের জন্য।

আল্লাহর দৃষ্টিতে মানুষ মূলত দুই প্রকার—মুমিন ও কাফের (সূরা তাগাবুন: ২)। এখন আসুন, কোরআন থেকে জেনে নিই মুমিন কারা। আল্লাহ সূরা হুজুরাতের ১৫ নম্বর আয়াতে বলেন, “মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান এনেছে, তারপর সন্দেহ পোষণ করেনি এবং নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে সংগ্রাম করেছে। তারাই সত্যনিষ্ঠ।”

তাহলে কাফের কারা? আল্লাহ বলেন, “আর যারা আল্লাহ যা নাজিল করেছেন, সে অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করে না, তারাই কাফের” (সূরা মায়িদাহ: ৪৪)। আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজে কি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা হয়? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহর সংজ্ঞা অনুযায়ী আমাদের পরিচয় কী? আর ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা ছাড়া আপনি-আমি চাইলেই কি কোরআনের আইন দ্বারা রাষ্ট্রীয় বিচার-ফয়সালা করতে পারব? সম্ভব নয়।

তাই জাতীয় ও সামষ্টিক জীবনে আল্লাহর সব হুকুম-আহকাম মানার জন্য আমাদের মতে প্রয়োজন এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে আল্লাহর বিধান কার্যকর হবে। এটাই রাসুল (সা.)-এর জীবনের মক্কা ও মদিনার পর্যায় থেকে আমরা বুঝি। তিনি মক্কা জীবনে তওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন। মদিনায় গিয়ে যখন একটি রাষ্ট্রকাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আল্লাহর বিধান প্রয়োগের সুযোগ পেলেন।

আমরা এই কথাটিই বলেছি। আমরা হেযবুত তওহীদ আল্লাহর দেওয়া হুকুম অনুযায়ী নামাজ, রোজার মতো ব্যক্তিগত ইবাদত যেমন করছি, তেমনি আল্লাহর হুকুমের ভিত্তিতে রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যও কাজ করছি। “ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইবাদত পূর্ণ হয় না”—এমন কথা আমরা কোথাও বলিনি। বরং আমরা বলেছি, এই মুহূর্তে আল্লাহর হুকুমের ভিত্তিতে তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আমাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
---

১০. যদি প্রচলিত ইসলাম ইহুদিদের তৈরি হয়, তাহলে কি এটাই দাঁড়ায় না যে চৌদ্দশ বছর ধরে আল্লাহ তাঁর দ্বীন সংরক্ষণ করতে পারেননি?

উত্তর:
“প্রচলিত ইসলাম ইহুদিদের তৈরি”—এ কথা আমরা বলিনি। তবে আমাদের বক্তব্য হলো, ইউরোপীয় খ্রিস্টানরা যখন মুসলিম সাম্রাজ্যের বড় অংশ দখল করে নেয়, তখন তারা ইসলাম শিক্ষার নামে বিভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে এবং মুসলিমদের মূল দায়িত্ব থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে। আমাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য ছিল মুসলিমরা যেন ইসলামের মূল উদ্দেশ্য—দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম—থেকে সরে গিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং বিভিন্ন মাসলা-মাসায়েল নিয়ে তর্ক-বাহাসে লিপ্ত হয়ে অনৈক্যে জর্জরিত হয়।

আমাদের মতে, এ প্রক্রিয়া সফলও হয়েছে। পৃথিবীর মুসলিম জাতির বর্তমান অবস্থার দিকে তাকালে তার কিছু চিত্র দেখা যায়। এই প্রক্রিয়ায় খ্রিস্টানদের পাশাপাশি ইহুদিদেরও ভূমিকা ছিল—এমন দাবিও আমাদের বক্তব্যে রয়েছে।

আপনি প্রয়োজনে কলকাতায় ব্রিটিশদের তৈরি আলিয়া মাদ্রাসার ইতিহাস পড়তে পারেন। পাশাপাশি ‘এক ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি’ বইটিও পড়ার অনুরোধ রইল। তাহলে মুসলিমদের আল্লাহর দেওয়া দায়িত্ব থেকে সরাতে কী ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল—এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য বুঝতে পারবেন।

যাই হোক, আপনি যে প্রশ্নটি করেছেন—প্রচলিত ইসলাম যদি ইহুদিদের তৈরি হয়, তাহলে আল্লাহ কি তাঁর দীন সংরক্ষণ করতে পারেননি?

প্রথম কথা হলো—আল্লাহর দেওয়া পূর্ণাঙ্গ দীন সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ নিজেই নিয়েছেন। এটি কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

দ্বিতীয় কথা হলো—দীন মানে কী, সেটি আগে বুঝতে হবে। দীন মানে জীবনব্যবস্থা। কোরআন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। পুরো মানবজাতি কীভাবে চলবে, তার নীতিমালা আল্লাহ এখানে দিয়েছেন। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, আইন-আদালত, অর্থনীতি, শিক্ষা ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নীতিমালা কোরআনে রয়েছে—এটাই আমাদের বক্তব্য।

আপনার আদালত যদি ব্রিটিশদের তৈরি আইনে চলে, অর্থনীতি যদি সুদভিত্তিক কাঠামোর ওপর পরিচালিত হয়, তারপরও কি বলবেন যে দীন পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত আছে?
ঘরে বসে কোরআনের আইন মুখস্থ করলেই দীন প্রতিষ্ঠা হয় না। কোরআন তিলাওয়াত করা অবশ্যই ইবাদত, কিন্তু শুধু তিলাওয়াতের মাধ্যমে একটি জীবনব্যবস্থা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয় না। আল্লাহর কাজ দীন সংরক্ষণ করা। মুমিন হিসেবে আমাদের কাজ সেই দীনকে সমাজে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা। প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে শান্তি, ন্যায়, সুবিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা সেই কাজটিই করছি।
---

১১. ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল ও শত শত বছরের আলেমরা সবাই ভুল, আর আধুনিক যুগে এসে শুধু একটি দলই সঠিক—এ দাবির ভিত্তি কী?

উত্তর:
কে ভুল, কে সঠিক—এই ধরনের বিষয় নিয়ে আমাদের কোনো দাবি নেই। আমরা এসব বলি না। আপনারা জোর করে আমাদের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করলেই তা সত্য হয়ে যাবে না। আমরা অনৈক্য চাই না। আমরা চাই, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আল্লাহর দীন পুরো পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হোক।

বোঝার চেষ্টা করুন—আমরা মনে করি, রাসুল (সা.) দিয়ে যাওয়া দায়িত্ব থেকে মুসলিমরা সরে যাওয়ার ফলেই আজকের দুর্দশা সৃষ্টি হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, “আর তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না” (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)।

এই নির্দেশ সবার জন্য। কিন্তু আমরা তা যথাযথভাবে মানতে পারিনি। শিয়া-সুন্নি বিভাজন, পারস্পরিক বিরোধ ও সংঘাতে মুসলিমরা দুর্বল হয়েছে। আকিদাগত বা আদর্শগত পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেগুলো নিয়ে অনন্ত বিরোধে না থেকে ইসলামের স্বার্থে, আল্লাহর দীনের স্বার্থে একটি বৃহত্তর উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আমরা আল্লাহর নির্দেশিত ঐক্যের পথেই হাঁটতে চাই এবং সকলকে সেই ঐক্যের পথে আসার আহ্বান জানাই।
---

১২. কিয়ামতের দিন যদি আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, “রাসূল ﷺ, সাহাবায়ে কেরাম ও উম্মাহর মূলধারাকে ছেড়ে তোমরা নতুন একটি দল কেন অনুসরণ করলে?”—তখন কী উত্তর দেবেন?

উত্তর:
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই হাদিসটি নিশ্চয়ই পড়েছেন। তিনি বলেছেন, “বনি ইসরাইলরা বাহাত্তর ফেরকায় বিভক্ত হয়েছিল, আমার উম্মাহ তিয়াত্তর ফেরকায় বিভক্ত হবে। এর একটি ভাগ ছাড়া বাকি সবই আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে।” সাহাবারা প্রশ্ন করলেন, “ইয়া রাসুলাল্লাহ! সেই একমাত্র জান্নাতি ফেরকা কোনটি?” তিনি জবাব দিলেন, “যার ওপর আমি ও আমার সাহাবিরা আছি” (জামে আত-তিরমিজি, হাদিস: ২৬৪১)।

আল্লাহর রাসুলের (সা.) সময়ে এত দল-উপদল ছিল না, এত মাজহাব-ফেরকাও ছিল না। কারণ তখন সবাই একটি নেতৃত্বের অধীনে ছিল। রাসুল (সা.)-এর ওফাতের পর তাঁর সাহাবিরা কয়েক দশকের মধ্যেই অর্ধ পৃথিবীতে ইসলামের বিস্তার ঘটিয়েছিলেন।

এরপর দুর্ভাগ্যজনকভাবে জাতি দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম থেকে সরে গিয়ে রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রবেশ করে—এমনটাই আমাদের ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ। সংগ্রামী চেতনা বাদ দিয়ে ভোগ-বিলাসে মত্ত হলো। এরপর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে অনৈক্যে লিপ্ত হয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ল। এক পর্যায়ে মুসলিম বিশ্বের বড় অংশ খ্রিস্টান শক্তির অধীন হয়ে পড়ল এবং দীর্ঘ সময় তাদের প্রভাব ও শাসনের মধ্যে থাকল।

এখন মুসলিম জাতি বহু রাষ্ট্রে বিভক্ত। ফেরকা-মাজহাবগতভাবে আমরা খণ্ড-বিখণ্ড। শত শত ইসলামি ও রাজনৈতিক দল রয়েছে। আমরা মনে করি, মূলধারা থেকে বিচ্যুত হওয়ার ফলেই মুসলিম জাতির এই অবস্থা হয়েছে।

আপনাদের কাছে এটাই কি মূলধারা—অনৈক্য? দুর্বলতা? নির্যাতন? বিভক্তি? অশান্তি? মানুষের তৈরি আইন দ্বারা পরিচালিত হওয়া?

এখন আমি যদি আপনাদের বলি, “আসুন, আমরা সবাই দল-মত, ফেরকা-মাজহাব ও সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হই এবং আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা মানবজীবনে প্রতিষ্ঠা করি”—তখন আপনারা যদি বলেন, “মূলধারাকে ছেড়ে তোমরা নতুন দলের অনুসরণ কেন করছ?”, তাহলে আল্লাহ আপনাদের কী প্রশ্ন করবেন এবং আপনারা তখন কী উত্তর দেবেন?

আমরা তো আল্লাহর কাছে বলতে পারব—
“আল্লাহ! আমরা সবাইকে ঐক্যের ডাক দিয়েছি। সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে তওহীদের ছায়াতলে আসতে বলেছি। আপনার দেওয়া পূর্ণাঙ্গ দীন সমগ্র পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে আহ্বান করেছি। আপনার চাওয়া অনুযায়ী নিজেদের জীবন-সম্পদ দিয়ে আপনার দীনের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি।”

আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের এই কথাই বলতে পারব। আপনারা কী করেছেন—আল্লাহ আপনাদের প্রশ্ন করলে কী উত্তর দেবেন, সেটিও ভেবে দেখুন। আমাদের নিয়ে চিন্তা করে আপনাদের ঘুম নষ্ট করার প্রয়োজন নেই; বরং প্রত্যেকেরই নিজের দায়িত্ব ও নিজের জবাবদিহি নিয়ে ভাবা উচিত।

18/08/2026

প্রশ্ন করুন।

16/08/2026
গোধূলির নরম আলো। চারপাশে শান্ত পরিবেশ। তার মাঝেই মা ও ছেলের ছোট ছোট খুনসুটি। একটু পর পর ছেলের হাসি, “বা বা” বলে ডাকা, না...
14/08/2026

গোধূলির নরম আলো। চারপাশে শান্ত পরিবেশ। তার মাঝেই মা ও ছেলের ছোট ছোট খুনসুটি। একটু পর পর ছেলের হাসি, “বা বা” বলে ডাকা, নানা রকম শব্দ করা, মায়ের হাত ছুঁয়ে দেখা—সব মিলিয়ে মুহূর্তগুলো ছিল খুব সাধারণ, অথচ অদ্ভুত সুন্দর। আশপাশে কোনো শব্দ হলেই সে থেমে সেদিকে তাকাচ্ছিল; যেন পৃথিবীর প্রতিটি শব্দ তার কাছে নতুন কোনো সংবাদ।

ছেলের এই মনোযোগ আমাকে ভাবায়। আমরা বড় হতে হতে পৃথিবীকে জানার আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। অথচ একটি শিশু জানে, শেখার প্রথম শর্ত হলো মন দিয়ে শোনা। সে শব্দ শোনে, মুখ দেখে, স্পর্শ অনুভব করে, তারপর ধীরে ধীরে পৃথিবীর অর্থ বুঝতে শেখে। জীবনও আসলে এমনই—যে মানুষ শুনতে জানে, সে-ই একদিন বুঝতে শেখে।

আর এই শেখার প্রথম জায়গাটি কোনো বিদ্যালয় নয়; মায়ের সান্নিধ্য। একটি শিশুর কাছে মায়ের আচরণই প্রথম দর্শন, প্রথম নীতি, প্রথম পৃথিবী। মা তাকে শুধু কথা বলা শেখান না; ধৈর্য, মমতা, নিরাপত্তা ও মানুষের প্রতি আস্থা—এসবও শেখান তাঁর প্রতিদিনের আচরণের মাধ্যমে।

তাই সন্তানের সঙ্গে কাটানো ছোট মুহূর্তগুলোকে কখনো তুচ্ছ ভাবা উচিত নয়। একটি শিশুর সঙ্গে মন দিয়ে কথা বলা, তার অদ্ভুত শব্দে হাসা, তার প্রশ্নের দিকে তাকানো—এসবই তার ভেতরে তৈরি করে আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি। শৈশবের অভিজ্ঞতাই অনেক সময় ভবিষ্যৎ চরিত্রের নীরব স্থপতি হয়ে থাকে।

শেষ পর্যন্ত জীবন আমাদের বড় বড় অর্জনের হিসাবই দেয় না; মনে করিয়ে দেয়, আমরা কাদের হৃদয়ে কী রেখে গেছি। তাই সন্তানের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান উত্তরাধিকার সম্পদ নয়—একটি নিরাপদ শৈশব, মনোযোগী মা-বাবা এবং ভালোবাসায় ভরা কিছু স্মৃতি।

হয়তো আজকের এই গোধূলি একদিন হারিয়ে যাবে। কিন্তু মায়ের কোলে বসে পৃথিবীকে প্রথমবার মন দিয়ে শোনা এই ছেলে বড় হয়ে যখন মানুষ হবে, তখন তার চরিত্রের কোথাও না কোথাও এই বিকেলটি বেঁচে থাকবে। কারণ মানুষের ভবিষ্যৎ অনেক সময় তৈরি হয় এমন কিছু সাধারণ মুহূর্তে, যেগুলো ঘটার সময় আমরা তাদের অসাধারণত্ব বুঝতে পারি না।

যারা গালাগালি করেন তারা মুমিন আছেন কিনা বিবেচনা করবেন।
13/08/2026

যারা গালাগালি করেন তারা মুমিন আছেন কিনা বিবেচনা করবেন।

Address

Dhaka
2030

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sumaiya Hasan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Sumaiya Hasan:

Shortcuts

Share