10/09/2026
আশুলিয়ায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ড্রেন কেটে অবৈধ সংযোগ, সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টা।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রধান ড্রেনেজ পাইপ কেটে অবৈধভাবে বর্জ্য পানির সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার তথ্য ও ভিডিওচিত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্রের হামলা ও বাধার মুখে পড়েছেন পাঁচ গণমাধ্যমকর্মী। এ সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে আশুলিয়ার জামগড়া ছয়তলা এলাকার রূপায়ণ সিটির গেটসংলগ্ন ৫৯৮ নম্বর পিলারের কাছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামগড়া এলাকার বাড়ির মালিক মো. আলমগীর ও ব্যবসায়ী মো. বিপ্লবের নেতৃত্বে কয়েকজন শ্রমিক ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রধান পানি নিষ্কাশন লাইন কেটে বর্জ্য পানির সংযোগ দেওয়ার কাজ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আবাসিক ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য পানি সরাসরি প্রকল্পের সরকারি ড্রেনে ফেলার জন্য এ সংযোগ দেওয়া হচ্ছিল।
বিষয়টি জানতে পেরে ফেস দ্য পিপল-এর প্রতিনিধিসহ পাঁচজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিওচিত্র ধারণ করেন।
খবর পেয়ে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কনসালটেন্ট ও সাইট ইঞ্জিনিয়ার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজটি পরিদর্শন করেন। তারা সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পের ড্রেন কেটে এভাবে বর্জ্য পানির সংযোগ দেওয়ার কোনো অনুমোদন নেই এবং এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ অবৈধ। তাদের মতে, প্রকল্পের মূল ড্রেনেজ ব্যবস্থায় এ ধরনের অননুমোদিত সংযোগ ভবিষ্যতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
পরে সাংবাদিকরা কাজটির সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না জানতে চাইলে আলমগীর ও বিপ্লব ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে একদল লোক সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে হামলার চেষ্টা চালায় এবং তাদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এগিয়ে এসে সাংবাদিকদের সহায়তা করেন। পরে গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের সরঞ্জাম উদ্ধার করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পাঁচ গণমাধ্যমকর্মী বাদী হয়ে মো. বিপ্লব, মো. আলমগীর এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে অভিযুক্ত করে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টা ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। সাংবাদিক নেতারা বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরা গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব। সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া, হামলার চেষ্টা কিংবা তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।