07/03/2025
আমাদের দেশের বেশিরভাগ অভিভাবকদের আশা হলো, তাদের সন্তান বড় চাকরি করবে। চাকরি করা দোষের কিছু নয়, কিন্তু চাকরি যখন অভিশাপের মতো হয়ে দাঁড়ায়, তখন চাকরি খোঁজাটাও যেন বিলাসিতা হয়ে ওঠে। দেশের যুবক-যুবতীরাও যেন প্রোডাক্টিভ কিছু করার চিন্তা করাই ভুলে গেছে। জীবনে চাকরিই যেন একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন একটা অসুস্থ ধ্যানধারণায় আমরা আটকে আছি। নিজেরা জীবনে কোনো প্রোডাক্টিভ কাজ করতে গেলেই শত বাধার সম্মুখীন হতে হয়। আমার মনে হয়, এই সমস্যাটা এমনিতেই হয়নি। ব্রিটিশদের ২০০ বছরের গোলামির কারণেই আমরা আজ জাতিগতভাবে পিছিয়ে আছি। কিন্তু এখন যদি এই ভেবে বসে থাকি যে আমরা পিছিয়ে, তাহলে সারা জীবন পিছিয়েই থাকতে হবে। আমাদের এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের চিন্তা হলো, তাদের সন্তান, ভাই, বোনরা অনেকগুলো সার্টিফিকেট অর্জন করবে এবং একটা চাকরি করবে। কেন জানি না, এটাই যেন সমগ্র জীবনের মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু শুধু সার্টিফিকেট আর চাকরি দিয়ে কি জীবন সফল হয়? আমাদের চিন্তার জগতকে আরও প্রসারিত করতে হবে।
দেশে বুয়েট, ডুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠান থাকলেও আমরা দেখি না কেন দিন কিছু একটা আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। অথচ মানিকগঞ্জের অজপাড়া গাঁয়ের একজন ইলেকট্রিশিয়ান প্লেন বানিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, যা দেশের ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানীরাও করতে পারেনি। প্রশ্ন হলো, আমরা পারবই বা কীভাবে? যেখানে সৃজনশীলতার কোনো মূল্য নেই, সেখানে সৃজনশীল কিছু করার চিন্তা করাটা যেন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমাদের এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের নতুন প্রজন্মকে শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের দিকে না ঠেলে, তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে উৎসাহিত করতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক মূল্যবোধে পরিবর্তন আনতে হবে। তবেই আমরা এগিয়ে যেতে পারব, নইলে এই পিছিয়ে থাকার চক্র থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়।
আমরা যদি আজই সচেতন না হই, তবে আগামী প্রজন্মও এই পিছিয়ে থাকার অভিশাপ বয়ে বেড়াবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য কাজ করি। আমরা নিজেরা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শুধু চাকরির জন্য তৈরি না করে, তাদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলি। তবেই আমরা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারব।
✍️ Engineer. Imam Hossain