02/10/2026
দ্য গডফাদার ট্রিলজি এখন নেটফ্লিক্সে।
আমার খুব, খুব পছন্দের একটা বই দ্য গডফাদার। সেবা থেকে প্রকাশিত এই বইয়ের অনুবাদ আমি কত বার যে পড়েছি, তার কোনো হিসাব নেই। সংখ্যাটা ১০০+ হবে, এর কম না। ক্লাস এইটে প্রথম পড়েছিলাম, এর অনেক পরে এসে ইংরেজিটা পড়েছি। কিন্তু সেবার অনুবাদের যে স্বাদ, কোনো অংশে মূল ইংরেজি থেকে কম না।
ডন ভিটো কর্লিয়নির একটা ডায়ালগ আমার এখনো মনে আছে মোটামুটি। ডনের ছেলে মাইকেল পলাতক, খুনের আসামী। ডন শত্রুদের সঙ্গে রফা করেছেন, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছেন। এরপর বলছেন–
'তবু একটি কথা বাকি থেকে যায়। সেটা না বললেই নয়। কুসংস্কারে বিশ্বাস করি আমি, জানি ওটা একটা হাস্যকর দুর্বলতা, তবু কথাটা স্বীকার করতে হচ্ছে।
যদি আমার ছেলের কোনো আকস্মিক, অশুভ দুর্ঘটনা ঘটে; যদি কোন পুলিশ অফিসারের পিস্তল থেকে আচমকা গুলি ছুটে ওর গায়ে লাগে; যদি নিজের সেলে নিজের গলায় দড়ি দেয় ও; যদি নতুন সাক্ষী ওর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবার জন্যে দেখা দেয়; স্রেফ কুসংস্কারের বশে মনে হবে আমার, এখানকার কারও কারও মনে আমার ওপর বিদ্বেষ রয়ে গেছে বলেই অমনটি হলো।
আরেকটু বলি। আমার ছেলের মাথায় যদি বাজ পড়ে, তা হলেও হয়তো এখানকার কাউকে কাউকে দায়ী করব আমি। যদি ওর প্লেন সমুদ্রে পড়ে, ওর জাহাজ যদি ঢেউয়ের নিচে তলিয়ে যায়, ওর যদি কোনো মারাত্মক জ্বর হয়, ওর গাড়ি যদি ট্রেনের সাথে ধাক্কা খায়–এমনি আমার কুসংস্কার যে আমি মনে করব এখানকার কারও না কারও, অশুভ ইচ্ছার জন্যেই অমন হয়েছে। ভদ্রমহোদয়গণ, সেই অশুভ ইচ্ছাকে, সেই দুর্ভাগ্যকে কখনও ক্ষমা করতে পারব না আমি। শুধু এটা বাদ দিলে, আমার নাতি-নাতনিদের আত্মার দিব্যি, আজ যে শান্তি স্থাপন করলাম এই শান্তি আমি কখনও ভাঙব না।'
এই কথাগুলো, এবং এরকম আরও অনেক কিছু ছড়িয়ে আছে বইটার পাতায় পাতায়। যাঁরা পড়েননি, পড়ে নিতে পারেন।
মুভিগুলো গল্পটাকে আরও বাড়িয়েছে, সেটা একটা তৃপ্তিকর ব্যাপার। মার্লন ব্র্যান্ডোর ডন কর্লিয়নির পোট্রেয়াল অবিশ্বাস্য বাস্তব, আল পাচিনো মাইকেলের চরিত্র দুর্দান্ত–তবু বই তো বই-ই। একজন সাধারণ মানুষের ডন হয়ে ওঠা, রোমান সম্রাটের মতো করে দাঁড়িয়ে থাকা–এসব মুভিতে তুলে আনা সম্ভব না। তারপরেও মুভিগুলো যতটা ধরেছে, অসাধারণ বললেও কম বলা হয়।
যাঁরা দেখেননি, আগ্রহী হলে দেখতে পারেন।