27/08/2026
হুমায়ূন আহমেদ আমাদের নিয়ে ভূতবিলাসের বারান্দায় এসে বসলেন। রুমগুলোর সাজসজ্জা এখনো পূর্ণতা পায় নি। চিকিৎসা শেষে নিউইয়র্ক থেকে ফিরে এসে তিনি তাঁর বন্ধুদের নিয়ে প্রথম রাত্রিযাপন করবেন এখানে।
শুরু হলো ভূতবিলাসের বারান্দায় বসে আড্ডা। আলমগীর রহমান কাউকে না বলে একাই ফিরে গেলেন ঢাকায়। কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টি হয়ে যাওয়ায় গরমের তীব্রতা নেই। আকাশে জোছনা নেই। তবুও চারদিকটা যেন উজ্জ্বল হয়ে আছে। হুমায়ূন আহমেদ শাওন ভাবিকে অনুরোধ করলেন তাঁর লেখা একটি গান গেয়ে শোনাতে। ভাবি গান শুরু করলেন খালি গলায়। প্রথমেই গাইলেন—
যদি মন কাঁদে/ তুমি চলে এসো এক বরষায়/ এসো ঝরঝর বৃষ্টিতে/ঝড়ো হাওয়া দৃষ্টিতে/ এসো কোমল-শ্যামল ছায়...
সবাই মনোযোগ দিয়ে গান শুনছেন। একটার পর একটা অনুরোধ। গান হচ্ছে। মাঝে মাঝে ঝিঁঝিপোকার শব্দ। দূরে কোথাও জোনাকির আলো জ্বলছে। বেশ ক’টি গানের পর হমায়ূন আহমেদ অনুরোধ করলেন তাঁর প্রিয় ‘মৃত্যুসংগীত’ গাইতে। শাওন ভাবি কিছুতেই এই গান গাইবেন না। আনন্দময় এই রাত্রিটাকে বিষণ্ন করে তুলতে চান না তিনি। তবুও তাকে গাইতে হলো—
মরিলে কান্দিস না আমার দায় রে, জাদুধন,/ মরিলে কান্দিস না আমার দায়/সূরা ইয়াসিন পাঠ করিও বসিয়া কাছায়/ আমার প্রাণ যাওয়ার বেলায়/ বিদায়কালে পড়ি না যেন শয়তানের ধোঁকায়/ রে জাদুধন...
বিষণ্ন সুর একটা তীব্র হাহাকার তুলে ভেসে গেল দূর বহু দূরে, শাল-গজারির গহিন অরণ্যে। রাত্রির গভীর নিস্তব্ধতার ভেতর দিয়ে আকাশ আর গাছেরা তাদের ফোঁটা ফোঁটা অশ্র“তে সিক্ত করে চলেছে ধরণীর বুক। আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। আমরা গেস্ট হাউজে ফিরে আসছি। কারও মুখে কোনো শব্দ নেই। বিষণ্নতা এসে ভর করেছে। কে জানত এটাই হবে নিজের তৈরি নন্দন-কাননে হুমায়ূন আহমেদের শেষ রাত!
ছবি: প্রথম ছবিটি আমার তোলা। অন্য দুটি তুলেছিলেন নাসীর আলী মামুন, ফটোজিয়াম।