13/01/2024
জানুয়ারি ১২, ২০২৪
বিএনপির প্রেস ব্রিফিং —
সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। আজকের প্রেস ব্রিফিংয়ে আপনাদের সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।
সাংবাদিক বন্ধুরা,
বাংলাদেশে রাজনীতির ইতিহাসে ডামি প্রার্থী, ডামি ভোটার, ডামি এজেন্ট, ডামি পর্যবেক্ষক, ডামি ফলাফল, ডামি এমপি, ডামি শপথের মধ্যদিয়ে গতকাল ওয়ান ইলেভেনের কৃষ্ণতম দিবসে একদলীয় ফ্যাসিবাদের হুংকারে আরেকটি কৃষ্ণতম মেকি সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভূয়া ভোট শেষ হতে না হতেই শেখ হাসিনা নিশিরাতের সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই গেজেট জারী, তড়িঘড়ি শপথ ও নজিরবিহীন দ্রুততায় সরকার গঠনের ঘটনা প্রমাণ করে এক অজানা ভীতি—আতংক ঘিরে ধরেছে তাকে। সমস্ত কিছু অবৈধ—ভূয়া—আর জালিয়াতির আবর্তে তাসের ঘরের ওপর সিংহাসন পাতলে এমন নির্ঘূম অনিশ্চয়তা আতংকে জীবন পতিত হয়। দেশের জনগন এবং গনতান্ত্রিক বিশ্ব নির্বাচন তো প্রত্যাখ্যান করেছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে জনগন ডামি নির্বাচন বর্জন করে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর সাথে জড়িত প্রক্রিয়া, ব্যক্তি, ফলাফল, শপথ, সংসদ, সরকার সবকিছুই প্রত্যাখ্যাত। অগ্রহণযোগ্য।
৭ জানুয়ারী তথাকথিত নির্বাচনটি ছিল গণতন্ত্রকামী জনগণের আন্দোলনের পক্ষে এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ডামি নির্বাচন বর্জনের পক্ষে একটি সুস্পষ্ট গণরায়। এই ডামি সরকার ওয়ান ইলেভেনের ধারাবাহিকতা মাত্র। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়াপীন এই দিনে গভীর ষড়যন্ত্রের নীলনকশার মাধ্যমে দেশটাকে প্রভুদের করদ রাজ্যে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো, তারই ধারাবাহকতায় আবারও সেই একই দিনে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করলো ডামি ভোটের অসাংবিধানিক, প্রভুদের আজ্ঞাবাহী হাসিনার সরকার। দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র তারা সফল করলো। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব—গণতন্ত্রের বিনিময়ে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশালের দ্বিতীয় সংস্করণ চাল করলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ—ডামী লীগ—আমরা আর মামুরা মিলে দেশে ঘোষনা ছাড়াই একদলীয় সংসদীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করলেন অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদেশী পত্র পত্রিকা মিডিয়া এবং রাজনীতি বিশ্লেষকরা সোচ্চার কন্ঠে বলছে, বাংলাদেশে একতরফা একদলীয় ডামী নির্বাচনের মাধ্যমে একদলীয় রাষ্ট্র কায়েম করেছেন শেখ হাসিনা। এটা বাকশাল ২.০। শেখ হাসিনার এই বাকশালীয় ডামী তাসের ঘর জনগন চূর্ণ করে দেয়ার প্রস্ততি নিচ্ছে।
বন্ধুরা/
নির্বাচনের দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনের দিবানিদ্রায় থাকা পাতানো ডামি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আওয়ামী লীগ—ডামী আর তাদের ডামী শরীকদের মধ্যেই শুরু হয়েছে গৃহদাহ। গত বুধবার শেখ হাসিনা গতবার রাতে ভোট হওয়ার স্বীকারোক্তি দিয়ে “এবার দিনের ভোট রাতে হয়েছে বলার ক্ষমতা নেই” বলে তাদের দলের অভ্যন্তরীন বিবাদ—গৃহদাহ নিরসন করতে চাইলেও ব্যর্থ হচ্ছেন। আওয়ামী লীগের পরাজিত নেতারাই শেখ হাসিনাকে অবৈধ ভোটের প্রধানমন্ত্রী উপাধি দিচ্ছেন। এবার যে নির্বাচনের নামে ভোট ডাকাতি হয়েছে তা নিজেরাই সংবাদ সম্মেলন করে তুলে ধরছেন। এতোদিন দেশের সমস্ত জনগন বলেছে, আমরা বলেছি। আর এখন তারা নিজেরাই গত তিনটি নির্বাচনে ভোট ডাকাতির সমস্ত প্রক্রিয়ার কথা বলছেন। সংসদে বিদ্যূৎ বিক্রি করা এক গানের শিল্পী বলেছেন, মৃত মানুষ বিদেশে আছে তাদের ভোটও দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী ও দলটির প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ বলেছেন,নির্বাচনে অলৌকিক শক্তি কাজ করায় ভোটে কারচুপি হয়েছে। একচেটিয়া ভোট ডাকাতি হয়েছে। বরগুনা—১ আসনের আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেছেন, ভোটের ফল একহাতে তৈরি করা হয়েছে। একজন বলেছেন, গনভবন থেকে ফলাফল এসেছে। পরাজিত কুইন্সপার্টির এক নেতা বলেছেন, শেখ হাসিনা তামাশার নাটক করেছেন। তার ক্ষমতায় থাকার লিপ্সা পূর্ন করতে আমাদের সিঁড়ি বানিয়ে এখন ছুড়ে ফেলেছে। কাকে কত টাকা দিয়ে নির্বাচনে নেয়া হয়েছে তা প্রকাশ্যে হিসাব দিচ্ছেন পরাজিত প্রার্থীরা।
থলের বিড়াল সব বেরুচ্ছে। সব অপকর্মের খবর ফাঁস করছে। এতো দিন বাংলাদেশ তথা বিএনপি বলেছে শেখ হাসিনা ভোট ডাকাত আর এখন আওয়ামী লীগের লোকজনই বলছে "শেখ হাসিনা ভোট চোর, শেখ হাসিনা ভোট ডাকাত"!
সংগ্রামী বন্ধুরা,
বাংলাদেশের জনগণের গণতন্ত্রের আকাঙ্খার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। প্রতারণার মাধ্যমে শেখ হাসিনার উপহার দেয়া দিবানিদ্রায় থাকা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ভেজাল নির্বাচন ও কন্ঠরোধের গণতন্ত্র তারা প্রত্যাখান করেছে। বিরোধীদের সমালোচনার ওপর সরকারের বুলডোজার চালানোর ঘটনা সর্বজনবিদিত। এই প্রতারণার ডামি নির্বাচনকে কেউ স্বীকৃতি দেয়নি। অচিরেই এই সরকার চোরাবালিতে হারিয়ে যাবে। কারণ এরা অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য নিপীড়ণের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে বিশ^মানবতার শত্রু হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এদের নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচার ও উৎপীড়ণের কাহিনী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। যেহেতু জনসমর্থনহীন সরকার জবাবদিহিতার ধার ধারে না, সেহেতু আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিনকে দিন বেপরোয়া ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এরা এমন একটি দুর্নীতির সংস্কৃতি তৈরী করেছে, যার মাধ্যমে তারা কল্পস্বর্গ বানিয়ে আনন্দে আত্মহারা। আর এদিকে সাধারণ মানুষ ক্ষুধা, দারিদ্র আর অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।
সারাদেশে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশ বাহিনী কতৃর্ক হামলা, মামলা ও
গ্রেফতারের বিবরণ ঃ
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ—প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম দীর্ঘদিন যাবৎ কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে অসুস্থ অবস্থায় কাতরাচ্ছে। কিন্তু কারাকতৃর্পক্ষ কোন সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করছে না। আমি গুরুতর অসুস্থ কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের সুচিকিৎসার জোর দাবী জানাচ্ছি। অন্যথায় শামীমুর রহমান শামীমের কিছু হলে সরকারকেই এর দায় বহন করতে হবে।
গ্রেফতার ঃ
ঢাকা জেলাধীন সাভার থানার অন্তর্গত বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিন মেম্বারসহ কয়েকজন নেতাকমীর্কে গত ১০ জানুয়ারি গ্রেফতার করে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর উত্তরের শাহআলী থানা বিএনপির সদস্য আব্দুল মালেক মাস্টারকে গত পরশুদিন রাত ৮ ঘটিকার সময় গ্রেফতার করে শাহআলী থানা পুলিশ।
সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খান জামালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নেত্রকোনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফুল আলম সবুজ ও কেন্দুয়া উপজেলা শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি মোঃ শাহীন মিয়াসহ বেশকয়েকজন নেতাকমীর্কে গ্রেফতার করে পলিশ।
বরগুনা জেলা ছাত্রদলের সহ—সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান রাজ্জাককে গত পরশুদিন গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
খুলনা মহানগর জাসাসের আহবায়ক নুর ইসলাম বাচ্চুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
হামলা, মামলা ও আহত ঃ
রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ সাদ্দাম হোসেন, মোহনপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ মাসুদ রানা ও জাহানাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আকরামসহ বেশকয়েকজন নেতাকমীর্র নামে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ।
নেত্রকোনা জেলাধীন সান্দিকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান ও সাধারণ সম্পাদক রুকন ভূঁইয়াসহ মোট ৭৯ জন নেতাকমীর্র নামে একটি ট্রাক পোড়ানোর মিথ্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন আড়াইহাজার থানা যুবদল নেতা বাকির মোল্লার উপর স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
এপর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যনুযায়ী গত ৪৮ ঘন্টায় সারাদেশে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের
মোট গ্রেফতার : ২৫ জনের অধীক নেতাকমীর্।
মোট মামলা : ০৩ টি
মোট আসামী : ২১৬ জনের অধীক নেতাকমীর্ (এজাহার নামীয়সহ অজ্ঞাত)
মোট আহত : ১০ জনের অধীক নেতাকমীর্।
এপর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যনুযায়ী গত ১৫ নভেম্বর ২০২৩ তারিখ নির্বাচনী একতরফা তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত—
মোট গ্রেফতার : ১৩৪৮৯ জনের অধীক নেতাকমীর্।
মোট মামলা : ৫০৪ টি
মোট আসামী : ৫২৬৯৩ জনের অধীক নেতাকমীর্ (এজাহার নামীয়সহ অজ্ঞাত)
মোট আহত : ২০৭৭ জনের অধীক নেতাকমীর্।
মোট মৃত্যু : ১৫ জন
২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে মহাসমাবেশের ৪/৫ দিন পূর্ব থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত মোট
গ্রেফতার : ২৫৫০৪ জনের অধীন নেতাকমীর্
মোট মামলা : ৭৭৫ টির অধিক
মোট আহত : ৪৩০০ জনের অধিক নেতাকমীর্
মৃত্যু : ২৮ জন (সাংবাদিক ১ জন)
গত ২৮ ও ২৯ জুলাই ২০২৩ তারিখ হতে অদ্যাবধি বিএনপি’র কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারাদেশের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ঃ—
মোট গ্রেফতার : ২৭৪৮৫ জন
মোট মামলা : ১১৭৫ টির অধিক
মোট আসামী : ১০৫০৭৫ জন
মোট আহত : ৯৭০৪ জনের অধীক নেতাকমীর্
মোট মৃত্যু : ২৮ জন (সাংবাদিক ০১ জন)
মিথ্যা মামলায় সাজা : মোট ৮৪ টি মামলায়ঃ ৯ জনের মৃত্যুদন্ডাদেশ ও প্রায় ১২৯৪ জনের
অধিক নেতাকমীর্কে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।