IRB TV

IRB TV Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from IRB TV, House: D3, Road:05, Niketon, Dhaka.

We go beyond the headlines with fact-based analysis, historical context, and strategic insights into international relations, geopolitics, security, foreign policy, and global affairs.

ঢাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা নাকি এক "পঙ্গপাল" সংকট?ঢাকার রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিকশাকে "পঙ্গপাল"-এর সাথে তুলনা করাটা অত্য...
02/09/2026

ঢাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা নাকি এক "পঙ্গপাল" সংকট?

ঢাকার রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিকশাকে "পঙ্গপাল"-এর সাথে তুলনা করাটা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও নিখুঁত চিত্র। ঠিক পঙ্গপালের ঝাঁকের মতোই, এগুলো যেন হঠাৎ করেই কোথা থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে চলে আসে, পুরো রাস্তা দখল করে নেয় এবং এমন এক বিশৃঙ্খল উপায়ে চলাচল করে যা পুরো শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা, পরিবেশ এবং সামাজিক শান্তিকে ধ্বংস করছে।

১. ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা ও বেপরোয়া গতি

অনিয়ন্ত্রিত ঝাঁক: এগুলোর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। তৈরি করা এবং চালানো সস্তা হওয়ায়, প্রতিদিন হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা গলিমুখ দিয়ে মূল সড়কে নেমে আসছে এবং পুরো ট্রাফিক নিয়মব্যবস্থাকে অচল করে দিচ্ছে।

বেপরোয়া গতি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব: ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল রিকশা ধীরগতির হলেও, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। এর হালকা বডি এবং দুর্বল ব্রেকিং সিস্টেমের কারণে প্রায়ই মারাত্মক ও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।

উল্টো পথে চলা: যানজট এড়াতে এই রিকশাচালকরা প্রায়ই রাস্তার উল্টো পাশ দিয়ে (রং সাইড) যাতায়াত করেন। সামনের দিক থেকে আসা গাড়ির ফাঁকফোকর দিয়ে তাদের এই বিপজ্জনকভাবে চলাচলের কারণে পথচারীদের রাস্তা পার হওয়া আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২. অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার ও অর্থনৈতিক ক্ষতি

অবৈধ চার্জিং গ্যারেজ: ঢাকা শহরজুড়ে হাজার হাজার অবৈধ গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। এগুলো বাইপাস মিটার অথবা সরাসরি মেইন পাওয়ার লাইন থেকে তার টেনে (হুকিং করে) সারারাত ধরে শত শত রিকশা চার্জ করে।

গ্রিড ওভারলোড ও লোডশেডিং: একটি ব্যাটারি রিকশা চার্জ করতে প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে। সম্মিলিতভাবে এগুলো প্রতিদিন শত শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অপচয় করছে, যার কোনো বিল সরকারি কোষাগারে জমা হয় না। এটি বৈধ গ্রাহক ও শিল্পকারখানায় লোডশেডিংয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।

রাজস্ব ক্ষতি ও দুর্নীতি: বিদ্যুৎ চুরির কারণে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অথচ স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারী এই অবৈধ ব্যবসা থেকে লাভবান হচ্ছে।

৩. পরিবেশগত বিপর্যয়

লিড-অ্যাসিড ব্যাটারির বিষাক্ততা: এই রিকশাগুলোতে সাধারণত সস্তা ও নিম্নমানের লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। এগুলোর মেয়াদ দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং এগুলো যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হয়। পরে লোকাল আবাসিক এলাকায় অবৈধ কারখানায় এগুলো রিসাইকেল করার সময় বিষাক্ত সিসা ও অ্যাসিড মাটি এবং ভূগর্ভস্থ পানিতে মিশে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটায়।

পরোক্ষ কার্বন নির্গমন: ব্যাটারি রিকশাকে "গ্রীন বা পরিবেশবান্ধব" দাবি করা হলেও, এগুলো চার্জ করতে যে বিদ্যুৎ লাগে তার সিংহভাগই আসে কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। ফলে পরোক্ষভাবে এটি দেশের কার্বন নির্গমন বাড়িয়ে দিচ্ছে।

৪. সামাজিক অপরাধ ( ছিনতাই ও ইভটিজিং)

ছিনতাইয়ের নিরাপদ বাহন: কোনো লাইসেন্স বা নম্বর প্লেট না থাকায় অপরাধীদের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয়। সরু গলিতে যেখানে পুলিশের গাড়ি ঢুকতে পারে না, সেখানে এই রিকশাগুলো দ্রুত গতি বাড়িয়ে পথচারী বা সাধারণ রিকশার যাত্রীদের মোবাইল, ব্যাগ বা সোনার চেইন ছিনতাই করে মুহূর্তের মধ্যে পালিয়ে যেতে পারে।

ইভটিজিং ও নারী হয়রানি: কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই ছাড়া যে কেউ দৈনিক ভাড়ায় এই রিকশা চালাতে পারে। ফলে অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর বা বখাটে যুবক এই পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। তারা প্রায়ই আবাসিক এলাকায় স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের পিছু নেয় এবং ইভটিজিং বা আপত্তিকর মন্তব্য করে।

কোনো জবাবদিহিতা নেই: এই রিকশাগুলোর কোনো ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্স প্লেট নেই। ফলে কোনো চালক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বা কোনো অপরাধ (যেমন ছিনতাই বা হয়রানি) করে পালিয়ে গেলে ভুক্তভোগী বা পুলিশের পক্ষে তাকে খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

উপসংহার
কর্তৃপক্ষ বারবার এসব রিকশা উচ্ছেদ, নিষেধাজ্ঞা এবং লোহালক্কড় হিসেবে ধ্বংস করার চেষ্টা করলেও এগুলো আবার রাস্তায় ফিরে আসছে। কারণ, লাখ লাখ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য এটি একটি সস্তা ও দ্রুতগতির যোগাযোগ মাধ্যম এবং হাজার হাজার চালকের জীবিকার একমাত্র উৎস। তবে শহরের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে যাত্রী নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং চালকদের পুনর্বাসনের মধ্যে একটি কঠোর ও সুনির্দিষ্ট ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

জাতিসংঘের এক বাক্য, ভারতের ‘জঙ্গি কার্ড’: লক্ষ্য কি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব?[একটি বাক্যের আড়ালে বড় খেলা]জাতিসংঘের ত্রিশ প...
14/08/2026

জাতিসংঘের এক বাক্য, ভারতের ‘জঙ্গি কার্ড’: লক্ষ্য কি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব?

[একটি বাক্যের আড়ালে বড় খেলা]
জাতিসংঘের ত্রিশ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে নিয়ে লেখা হয়েছে মাত্র একটি বাক্য।
সেখানে কোনো জঙ্গি আস্তানার ঠিকানা নেই।� কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নেই।� নেই অস্ত্র, অর্থায়ন কিংবা সক্রিয় নেটওয়ার্কের প্রমাণ।
শুধু বলা হয়েছে—বাংলাদেশকে ব্যবহার করে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা AQIS সেল গঠনের চেষ্টা করতে পারে—এমন “কিছু উদ্বেগ” রয়েছে।
কিন্তু এই অনির্দিষ্ট উদ্বেগই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় গণমাধ্যমে হয়ে গেল—বাংলাদেশে আল-কায়েদার উত্থান।
প্রশ্ন হলো—এটি কি সত্যিই বাংলাদেশের জন্য জঙ্গিবাদের সতর্কতা?
নাকি জাতিসংঘের একটি অস্পষ্ট বাক্যকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে আরও বড় একটি ভূ-রাজনৈতিক অভিযান?
যার চূড়ান্ত লক্ষ্য—বাংলাদেশকে দুর্বল, অনিরাপদ এবং আন্তর্জাতিকভাবে সন্দেহভাজন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

[রিপোর্টে কী আছে, আর কী নেই]
জাতিসংঘের ৩৮তম পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের ১০১ নম্বর অনুচ্ছেদে AQIS সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, সংগঠনটি বড় কাঠামোর পরিবর্তে ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেলের মাধ্যমে আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
এরপর দিল্লির লালকেল্লায় ২০২৫ সালের হামলার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশকে নিয়ে মাত্র একটি আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এটি জাতিসংঘের নিজস্ব ফরেনসিক তদন্ত নয়।
প্রতিবেদনটি মূলত বিভিন্ন সদস্যরাষ্ট্রের সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্য ও মূল্যায়নের সমন্বয়। অথচ বাংলাদেশ-সংক্রান্ত তথ্যটি কোন রাষ্ট্র দিয়েছে, কী প্রমাণ দিয়েছে এবং সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না—রিপোর্টে তার কিছুই বলা হয়নি।
আর এখানেই সন্দেহের শুরু।
কারণ দিল্লির হামলার তদন্ত করেছে ভারত। সেই হামলার অভিযোগ এবং বাংলাদেশে সেল গঠনের আশঙ্কা রাখা হয়েছে একই অনুচ্ছেদে।
ভারতই এই তথ্য দিয়েছে—এমন প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। কিন্তু ভারত এই মূল্যায়নের সম্ভাব্য উৎস কি না—সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই।

[আশঙ্কা থেকে কীভাবে তৈরি হলো ‘সত্য’]
জাতিসংঘ বলেছে—“কিছু উদ্বেগ রয়েছে।”
ভারতীয় গণমাধ্যম বলেছে—জাতিসংঘ বাংলাদেশে আল-কায়েদার বিস্তার নিশ্চিত করেছে।
দুই বক্তব্য এক নয়।
“হতে পারে” থেকে “হচ্ছে”—এই ছোট পরিবর্তনই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশল।
প্রথমে একটি অনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে প্রবেশ করে।
এরপর জাতিসংঘের নাম ব্যবহার করে সেটিকে বিশ্বাসযোগ্যতা দেওয়া হয়।
তারপর রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যম একই বক্তব্য বারবার প্রচার করে।
শেষে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমও উৎস পরীক্ষা না করে সেই ন্যারেটিভ নিজেদের জনগণের সামনে তুলে ধরে।
ফলে কোনো প্রমাণ ছাড়াই সাধারণ মানুষের মনে প্রতিষ্ঠিত হয়—বাংলাদেশে ভয়াবহ জঙ্গি নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে।
আর আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে—বাংলাদেশ কি আবার উগ্রবাদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে?

[বাস্তব তথ্য কী বলছে]
২০২৬ সালের বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে।
এই সূচক অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে নথিভুক্ত সন্ত্রাসী হামলা আগের বছরের তুলনায় শতভাগ কমেছে। বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত স্কোরও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এখন পর্যন্ত দেশে AQIS-এর সক্রিয় সাংগঠনিক কাঠামোর অস্তিত্ব নিশ্চিত করেনি।
এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশে কোনো উগ্রবাদী ঝুঁকি নেই।
অনলাইন উগ্রবাদ, বিচ্ছিন্ন অনুসারী কিংবা বিদেশি মতাদর্শে অনুপ্রাণিত ব্যক্তির ঝুঁকি অবশ্যই রয়েছে। রাষ্ট্রকে সেগুলো কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
কিন্তু সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং প্রমাণিত সক্রিয় নেটওয়ার্ক—এক বিষয় নয়।
বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে চিত্রিত করার জন্য এই দুইয়ের পার্থক্য ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলা হচ্ছে কি না—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

[ভারতের গভীর ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ]
শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে ভারতের সবচেয়ে বড় সংকট শুধু একটি মিত্র সরকার হারানো নয়।
দিল্লি হারিয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর দীর্ঘদিনের বিশেষ প্রভাব।
বর্তমান বাংলাদেশ যদি নিজস্ব জাতীয় স্বার্থে ভারত, চীন, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে—তাহলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একক আধিপত্য দুর্বল হবে।
এ কারণেই বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কিংবা নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে ভারতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে সন্দেহজনক হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল দেখা যাচ্ছে।
এর সম্ভাব্য লক্ষ্য কয়েকটি।
প্রথমত, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা দুর্বল করা।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তান বা চীনের যেকোনো যোগাযোগকে জঙ্গিবাদ কিংবা ভারতবিরোধী নিরাপত্তা হুমকির সঙ্গে যুক্ত করা।
তৃতীয়ত, সীমান্তে ভারতীয় সামরিকীকরণ ও নজরদারি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তৈরি করা।
চতুর্থত, পশ্চিমা দেশগুলোর সামনে বাংলাদেশকে এমন রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করা—যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অর্থাৎ বাংলাদেশকে শুধু প্রতিবেশী নয়—ভারতের নিরাপত্তা-নির্ভর একটি অধস্তন রাষ্ট্রে পরিণত রাখাই হতে পারে এই ন্যারেটিভের গভীর উদ্দেশ্য।

[অজিত দোভালের নীতি ও ভারতের দ্বিমুখী আচরণ]
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের বহুল আলোচিত “প্রতিরক্ষামূলক আক্রমণ” নীতির মূল কথা হলো—প্রতিপক্ষের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ব্যবহার করে তাকে চাপে রাখা।
পাকিস্তানকে উদ্দেশ করে দোভাল একসময় বলেছিলেন—একটি মুম্বাই হামলার বিনিময়ে পাকিস্তান বেলুচিস্তান হারাতে পারে।
এই বক্তব্য প্রমাণ করে না যে ভারত প্রতিটি আঞ্চলিক জঙ্গিগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
কিন্তু এটি অবশ্যই দেখায়—অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংকটকে ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ধারণা ভারতের নিরাপত্তা চিন্তায় উপস্থিত।
তালেবান প্রশ্নেও একই বাস্তববাদ দেখা যায়।
একসময় ভারত তালেবানকে চরম উগ্রবাদী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অথচ পাকিস্তানের সঙ্গে তালেবান সরকারের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর ভারত এখন সেই সরকারের সঙ্গে বৈঠক, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়াচ্ছে।
অর্থাৎ ভারতের কাছে নীতি স্থায়ী নয়—স্বার্থই স্থায়ী।
আজ যে গোষ্ঠী ভারতের শত্রু, আগামীকাল পাকিস্তান বা চীনের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে সেই গোষ্ঠীর সরকারের সঙ্গেই দিল্লি সম্পর্ক গড়তে পারে।
তাই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের অভিযোগও শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়—এটি ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন।

[বাংলাদেশের ভেতরের বিপজ্জনক ফাঁদ]
এই ন্যারেটিভের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো—এটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে আবার রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সাবেক সরকারের সময় জঙ্গিবিরোধী অভিযানের আড়ালে বিরোধী মত দমন, গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এখন জাতিসংঘের এই অস্পষ্ট সতর্কতার অজুহাতে যদি আবার প্রমাণহীন গ্রেপ্তার, সাজানো অভিযান কিংবা রাজনৈতিক দমন শুরু হয়—তাহলে ভারতীয় ন্যারেটিভই জয়ী হবে।
অন্যদিকে, ভারত জড়িত সন্দেহে যদি বাংলাদেশ বাস্তব উগ্রবাদী ঝুঁকিও সম্পূর্ণ অস্বীকার করে—সেটিও হবে ভয়াবহ ভুল।
বাংলাদেশকে এই দুই ফাঁদই এড়িয়ে চলতে হবে।
জঙ্গিবাদ দমন করতে হবে প্রমাণ, আইনের শাসন এবং পেশাদার গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে—রাজনৈতিক নাটকের মাধ্যমে নয়।

[সার্বভৌম বাংলাদেশের করণীয়]
বাংলাদেশ কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপনিবেশ নয়।
বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা নির্ধারণ করবে ঢাকা—নয়াদিল্লি নয়।
প্রথমে জাতিসংঘের কাছে জানতে হবে—বাংলাদেশ-সংক্রান্ত আশঙ্কার উৎস কী এবং এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কোথায়।
দিল্লির হামলার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো যোগাযোগ থাকলে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই তথ্য দিতে হবে।
বাংলাদেশের নিজস্ব গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকে স্বাধীন তদন্ত চালিয়ে তার একটি প্রকাশযোগ্য মূল্যায়ন জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
একই সঙ্গে ভারতীয় গণমাধ্যমের পরিকল্পিত বিভ্রান্তি মোকাবিলায় শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় তথ্য-যাচাই ও কৌশলগত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
কারণ সার্বভৌমত্ব শুধু সীমান্ত রক্ষা নয়।
সার্বভৌমত্ব মানে—নিজের রাষ্ট্র সম্পর্কে সত্য নির্ধারণের ক্ষমতাও নিজের হাতে রাখা।

[CONCLUSION]
বাংলাদেশে AQIS-এর সংগঠিত উপস্থিতি এখনো প্রমাণিত নয়।
কিন্তু জাতিসংঘের একটি প্রমাণহীন আশঙ্কাকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে ঘিরে বড় নিরাপত্তা ন্যারেটিভ তৈরি হওয়ার লক্ষণ স্পষ্ট।
ভারত এই তথ্যের মূল উৎস কি না—তার প্রমাণ এখনো নেই।
তবে এই প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা কার—সেই উত্তর বুঝতে খুব বেশি গোয়েন্দা বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয় না।
বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদ থেকে যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনি জঙ্গিবাদের ভয় দেখিয়ে পরিচালিত বিদেশি প্রভাব থেকেও রক্ষা করতে হবে।
কারণ এই রাষ্ট্র কারও উপগ্রহ নয়।
এই রাষ্ট্র সতেরো কোটি বাংলাদেশির।
আর বাংলাদেশের নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি ও ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে—বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে।
কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক নির্দেশে নয়।

এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হতে চলেছেন আমাদের মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী লাখো ভাইবোন। জ্বালানি সংকট, রেমিটেন্সে ধস আর প্রাণ...
14/08/2026

এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হতে চলেছেন আমাদের মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী লাখো ভাইবোন। জ্বালানি সংকট, রেমিটেন্সে ধস আর প্রাণহানির ঝুঁকি — বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যার প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী।
#প্রবাসী_বাংলাদেশী

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু—চীনা অর্থায়নে বাংলাদেশের এই দুই মেগা প্রকল্প কি এবার বাস্তব হতে যাচ্ছে?প্রধানমন্...
14/08/2026

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু—চীনা অর্থায়নে বাংলাদেশের এই দুই মেগা প্রকল্প কি এবার বাস্তব হতে যাচ্ছে?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর বাংলাদেশের অবকাঠামো, সড়ক, রেল ও বন্দর ঘিরে প্রায় ২০টি মেগা প্রকল্প নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া করিডোরে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, যমুনার ওপর নতুন সেতু, বহুলেন মহাসড়ক, ডুয়েল গেজ রেললাইন এবং গভীর সমুদ্রবন্দর—সব মিলিয়ে বদলে যেতে পারে দেশের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক মানচিত্র।

কিন্তু এসব প্রকল্পে চীনা অর্থায়ন কতটা নিশ্চিত? বাংলাদেশের এই কৌশলগত উদ্যোগ ভারত–চীন আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলতে পারে?

তিস্তা মাস্টার প্ল্যান কি উত্তরবঙ্গের ভাগ্য বদলে দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ–ভারত–চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি করবে?প্রধা...
14/08/2026

তিস্তা মাস্টার প্ল্যান কি উত্তরবঙ্গের ভাগ্য বদলে দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ–ভারত–চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি করবে?
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, পুনরুদ্ধার এবং যৌথ সমীক্ষায় সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে ঢাকা ও বেইজিং। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় রয়েছে নদী খনন ও প্রশিক্ষণ, শক্তিশালী তীররক্ষা ব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সড়ক নির্মাণ, ভূমি পুনরুদ্ধার এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা।
কিন্তু ভারতের কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোরের কাছে চীনা প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সহযোগিতা কেন দিল্লির গভীর নজরে? দীর্ঘদিনের তিস্তার পানি বণ্টন সংকটের মধ্যে এই প্রকল্প কি বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা ও দর-কষাকষির শক্তি বাড়িয়ে দেবে?

চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর কি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আঞ্চলিক যোগাযোগের মানচিত্র বদলে দিতে পারে?প্রধানমন্ত্রী ত...
13/08/2026

চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর কি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আঞ্চলিক যোগাযোগের মানচিত্র বদলে দিতে পারে?
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বেইজিং বৈঠকে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশকে চীনের সঙ্গে যুক্ত করার একটি অর্থনৈতিক করিডর প্রস্তাব করেছে বেইজিং। সম্ভাব্য এই বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থায় সড়ক, রেল, বন্দর ও লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক যুক্ত হলে কমতে পারে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয়।
চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশ, রপ্তানি বৃদ্ধি, আঞ্চলিক ট্রানজিট এবং দেশের বন্দরগুলোর সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে এটি হতে পারে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক সুযোগ। তবে মিয়ানমারের চলমান সংঘাত, নিরাপত্তা, অর্থায়ন এবং রাজনৈতিক সমন্বয় করিডরটি বাস্তবায়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ।

"মাঠ ছাড়া যাবে না"—জুলাই সনদ নিয়ে তীব্র বার্তা | Nasiruddin Patwary #জুলাই_সনদ                    #বাংলাদেশ
04/08/2026

"মাঠ ছাড়া যাবে না"—জুলাই সনদ নিয়ে তীব্র বার্তা | Nasiruddin Patwary
#জুলাই_সনদ #বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগ, বিচার ও জাতীয় ঐক্য নিয়ে নাহিদ ইসলামের কঠোর বার্তা Nahid Islam
04/08/2026

আওয়ামী লীগ, বিচার ও জাতীয় ঐক্য নিয়ে নাহিদ ইসলামের কঠোর বার্তা Nahid Islam

বাংলাদেশ কি কিনছে ২৪টি J-10CE? দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ!
02/08/2026

বাংলাদেশ কি কিনছে ২৪টি J-10CE? দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ!


রংপুর থেকে গঙ্গা! ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন সংকট? | Water Diplomacy Explained | INDIA BANGLADESH                      ...
02/08/2026

রংপুর থেকে গঙ্গা! ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন সংকট? | Water Diplomacy Explained | INDIA BANGLADESH

Address

House: D3, Road:05, Niketon
Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when IRB TV posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to IRB TV:

Shortcuts

Share