20/11/2025
তাজমহল
#পর্ব_১০
প্রিমা_ফারনাজ_চৌধুরী
মেহেদী পাতা তোলা শেষে উঠোনে অনেকগুলো চেয়ার বসানো হলো।
সবার জন্য চা নাশতার ব্যবস্থা করেছেন শাহিদা বেগম। শারমিলা আর শাবরিন ফ্লাক্স থেকে চা ঢেলে বিস্কুট, নিমকি, মুচমুচে মিষ্টি খাজা, সাগর কলা, আর চানাচুর বাড়িয়ে দিচ্ছে সবার দিকে।
শাইনা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিল সব। চা খেতে গল্প গুজব করা চাচীদের একজন বলল,
"ও শানু তাজদার তোকে কি কি কিনে দিয়েছে আমাদের দেখাবিনা?"
শারমিলা, শাবরিন একসাথে শাইনার দিকে তাকালো তখুনি। শাইনা চুপ দেখে শাহিদা বেগম বললেন,"পরলে তখন দেখতে পাবে। কাল ওর গায়ে হলুদ ছোঁয়াবো। তোমরাও এসো।"
দাদীমা এসে ব্যস্ত গলায় বললেন,"খুরশিদের মাকে চা দে। ও লতিফের বউ এইদিকে আসো। তোমারে না বলছি শানুর বিয়ার আগ পর্যন্ত বাড়িতে থাকবা। কাজকাম আগায় দিবা।"
লতিফের বউ বলল,"চাচী আমাকে তো বড় জেঠি আগে ঠিক করে রাখছে।"
দাদীমা মুখ ঝামটা দিয়ে বললেন,"সবখানে টাকার জোর দেখাবে। আমাদের বাড়িতে কাজকাম কি কম? সব লোক নিজে দখল করে রাখছে।"
শাইনা ফিসফিসিয়ে বলল,"কথাগুলো ঘরের ভেতরে বলো। সবার সামনে বলছো কেন আশ্চর্য! সবাই গিয়ে ওই বাড়ির মানুষের কানে তুলে দেবে। কখন কোথায় কোন কথা বলতে হবে এখনো জানেনা। এদিকে সারাক্ষণ আমাকে জ্ঞান দেয়।"
দাদীমা তার দিকে ফিরলেন।
"শ্বশুরবাড়ির হয়ে কথা বলা শুরু করেছিস এখন থেকে?"
শাইনা হতাশ হলো। সে বলে একটা তারা বোঝে আরেকটা। আর কোনো কথা না বলে সে চলে গেল।
মেহমান আসা শুরু করছে। বাড়ির এককোণ ভর্তি হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। শাহিদা বেগমকে বড় পাতিলে ভাত আর মাছ মাংস বসাতে হচ্ছে। আশরাফের বউ তেমন কাজকাম করতে পারছেনা। বাচ্চার মা। পানি ঘাটলে কখন না জানি ঠান্ডা লেগে যায়। শাহিদা বেগমের কাছে তার নাতির সুস্থতা আগে। যাদের কাজে রাখা হয়েছে তারা কাজচোর। শারমিলা আর শাবরিনকে খাটতে হচ্ছে। শাইনাও গায়ে হাওয়া লাগিয়ে বেড়াতে পারছেনা। এত কাজ বেড়ে গিয়েছে হুট করে। কাটো, রাঁধো, খাও আবার ধোও। সে কাজ দেখে বসে থাকতেও পারছেনা।
সকাল আটটার দিকে মুন্নীর মা এসেছে শাইনাদের বাড়িতে। শিলপাটায় মেহেদী বাটা শুরু করেছে। তার হাত লাল টকটকে হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। মেহেদী পাতাগুলোতে ভীষণ রঙ ধরে।
ওই বাড়ির মেহেদী বেটে এসে এখন এই বাড়ির মেহেদী বাটছে মুন্নীর মা। যদিও বাটা মেহেদী বর কনে কেউ হাতে দেবেনা। মেহেদী অনুষ্ঠানে শুধু একফোঁটা মেহেদী কপালে ছোঁয়ানো হয় মায়ের হাতে। আবার পরে মুছে নেয় রঙ বসার আগে। বাটা মেহেদীগুলো অন্যরা হাতে লাগিয়ে নেয়।
দাদীমা কাঁচা হলুদ তুলে এনেছে তার ক্ষেত থেকে। মুন্নীর মাকে বলল,
"এগুলোও বেটে দিস তো।"
মুন্নীর মা বলল,"হলুদ তো বিকেলে দরকার হবে।"
"তুই আবার পাটায় বসবি নাকি? পাটা ভালো ধুয়ে হলুদগুলোও বেটে রাখ।"
"আচ্ছা রেখে দাও চাচী।"
শাইনা রান্নাঘরের এককোণায় বসে পান্তা ভাত খাচ্ছে। আর সবার কাজ দেখছে। গরুর মাংস কয়েকবার জ্বাল দেয়ার পর রসালো হয়ে এসেছে। সেগুলো দিয়ে মেখে পান্তা ভাত খেতে ভালো লাগছে তার। শাহিদা বেগম একটা শুকনো মরিচ তেলে ভেজে দিয়েছেন মুচমুচে করে। শাইনা ওটা লবণ দিয়ে ভাতে মেখে নিয়েছে। এত এত তেলে ভাজা নাশতা, আর মিষ্টান্ন দেখে হঠাৎ করে তার পান্তা খেতে ইচ্ছে করছিল। অন্য খাবার মুখেও উঠছেনা। একদম খেতে ইচ্ছে করছেনা।
মুন্নীর মা তাকে পান্তা ভাত খেতে দেখে বলল,"ওমা বউমানুষ পান্তা ভাত খায় কেন সকাল সকাল?"
শাহিদা বেগম তাকে ইশারায় চুপ থাকতে বললো। যা ইচ্ছে করুক ওই মেয়ে। উদ্ভট উদ্ভট কাজ করে যাচ্ছে কাল থেকে।
শাইনা পানিতে ডুবে থাকা ভাতগুলো আঙুল দ্বারা টেনে নিয়ে মুখে তুললো।
তারপর বাসনে থাকা পান্তা ভাতের পানিগুলো সুরুত সুরুত করে শব্দ করে খেতে খেতে বাইরে বেরিয়ে এল।
শেষপাতে থাকা কিছু ভাত কাকদের উদ্দেশ্য ছিটিয়ে দিয়ে বাসনটা নিয়ে সোজা পুকুর ঘাটে নেমে এল সে। সাবানদানী সেখানে রাখা ছিল। সাবান দিয়ে বাসন আর হাত ধুয়ে নিল। ভেজা হাত দিয়ে ঠোঁট মুছে নিতেই দেখলো ওই বাড়ির পাকা সিঁড়ি ঘাটের উপরে রঙিন টিনের চাউনির নীচে আড্ডা ও বিশ্রামের জন্য যে আরামঘাট বাঁধা। তার গায়ে হেলান দিয়ে কেউ একজন বসে আছে। আরামঘাটে পিঠ এলিয়ে বসে, এক হাতে পেছনে ঠেস দিয়ে রেখেছে ঘাটের পাথুরে গায়ে।
শাইনা শুধু ঘাড়, মাথা আর ওইহাতটা দেখতে পাচ্ছে যেটা ঘাটের পাথুরে গায়ে ঠেস দিয়ে রাখা। মাথায় গোবরের মতো কিছু একটা লেপে দেওয়া।
দাদীমা বড় সাইজের একটা বোল নিয়ে পুকুরের ঘাট বেয়ে নামছে। শাইনা তা দেখে ছুটে গেল। ঝাড়ি মেরে বলল,
"আছাড় খেলে তোমার কোমর আস্ত থাকবে?"
পেছন পেছন শাহিদা বেগম বেরিয়ে এলেন। বিরক্ত হয়ে বললেন,"তোর দাদী ইচ্ছে করে করতেছে এইসব। আমাকে কাজ করে দিতে গিয়ে কাজ বাড়াবে আরও। কথা শোনেনা আমার।'
শাইনা বোলটা নিয়ে নিল। সেখানে বাসনকোসন, চামচ, আর চায়ের কাপ। বেসিনে ধোয়ার চাইতে পুকুরে ধোয়ামোছার কাজ করতে বেশি ভালোবাসে দাদীমা। পুরোনো অভ্যাস রয়ে গেছে।
দাদীমা কোমরে হাত রেখে দাঁড়ালেন। বললেন,
"তোমার কাজ বেশি তাই একটু...
শাইনা শাহিদা বেগমকে বলল," আমি ধুয়ে দিচ্ছি।"
শাহিদা বেগম হঠাৎ ওই বাড়ির ঘাটের দিকে তাকালো। মিনমিন করে জিজ্ঞেস করলো,
"আম্মা দেখেন তো, ওটা জামাই না?"
দাদীমা চোখ সরু করে তাকালেন। বললেন,"সেটাই তো মনে হচ্ছে।"
শাহিদা বেগম ছটফটিয়ে উঠে শাইনাকে বলল,"তুই উঠে যা। আমাকে দে। আমি ধুয়ে নিই।"
শাইনা কপাল কুঁচকে ফেলতেই শাহিদা বেগম আস্তে করে বললেন,"জামাই বসে আছে দেখলাম।"
তাতে কি? জামাই বাঘ না ভাল্লুক? তাকে কাজ করতে দেখলে কাঁদতে বসবে? যতসব উদ্ভট কথাবার্তা তাদের।
শাইনা মাকে কিছু বলতে যাচ্ছিল তখুনি দাদীমা ডেকে উঠলেন,
"লন্ডনওয়ালা নাকি?"
তাজদার সিদ্দিকী ধীরেধীরে ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো। দাদীমা হেসে ফেলে বললেন,
"নাতজামাই দেখি মাথায় মেহেদী দিয়ে বসে আছে।"
তাজদার দাদীমাকে কি জবাব দিল কে জানে? শাইনা বাসনকোসন টাংটুং শব্দ করে ধুয়ে দ্রুত চলে এল ঘরে। ইচ্ছে করে কিছু শুনলো না।
দাদীমা তার পেছন পেছন ঘরে এসে বলল,
"মুন্নীর মা কপালে ছোঁয়ার জন্য একফোঁটা রেখে দিয়ে বাকিসব মেহেদী ওর মাথায় লাগিয়ে দাও। বউ জামাই দুজনের মাথা খুব গরম হয়ে আছে। মেহেদী দিয়ে ঠান্ডা হোক।"
শাইনা বলল,"আমার মাথা যথেষ্ট ঠান্ডা আছে। তুমি দাও।"
"দেখতেই পাচ্ছি কত ঠান্ডা আছে।"
শাইনা বলল,"আমি মাথায় মেহেদী দেব না। দেখে মনে হয় মেহেদী না গোবর দিয়ে রাখা।"
দাদীমা তাকে চেপে ধরে পিঁড়িতে বসিয়ে মাথার তালুর উপর ঠাস করে একমুঠো মেহেদী লাগিয়ে দিল। যদিও শাইনার ইচ্ছে ছিল না কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে মাথায় এত শান্তি লাগলো মাথায় তা বলার বাইরে। সে আর কোনো তর্ক করলো না। চুপ করে বসে রইলো। মেহেদী লাগানোর সময় কপালে গালে লেগে গিয়েছে। শাহিদা বেগম বললেন,
"তাড়াতাড়ি ধুয়ে নে।"
শাইনা পুকুরপাড়ে ছুটলো। ঘাটে নেমে এসে কপাল আর গাল থেকে মেহেদী ধুয়ে ফেলতেই আবারও পুকুরপাড় জুড়ে হাঁটতে থাকা গোবরওয়ালার দেখা। তাজদার টিস্যু দিয়ে কান মুছতে মুছতে হঠাৎ এদিকে তাকালো। সম্ভবত মেহেদীর রস গড়িয়ে কান বেয়ে পড়ছে বলে সে ঘনঘন কান মুছছে রঙ না বসার জন্য। বাড়ির বারান্দা, ছাদ যেখানে যেখানে রোদের দেখা মিলে সব ভরে আছে মেহমানে। তাই বাড়ির পেছনে চলে এসেছে সে। দাদীমা এসে তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল,
"মিয়া বিবির মাথা গরম। কইতে লাগে শরম। গরম মাথার মিয়াবিবির দিল খুবই নরম।"
তাজদার সিদ্দিকী হয়তো হাসছিল শ্লোকটা শুনে। শাইনা তাকায়নি তাই দেখতে পায়নি।
_____________________
গায়ে হলুদটা একদম গ্রাম্য স্টাইলে করবে এরূপ পরিকল্পনা করেছে তারা। কোনো আধুনিকতার ছোঁয়া থাকবে না। উঠোনে করার কথা ছিল। কিন্তু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের লোকজন এসে কাজ শুরু করে দেওয়ায় আর সম্ভব হয়নি। তাজদার বলেছে ওদের কাজ ওদের করতে দিতে। তারা চাইলে ছাদে আয়োজন করতে পারে।
কিন্তু শাইনা বেঁকে বসলো। সে বলে দিল ওই বাড়ির ছাদে গায়ে হলুদ করবেনা সে। তার এখনো আকদের রাতটার কথা মনে আছে।
তার কথা শুনে শেষমেশ তাদের ছাদে করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাদের ছাদে আরও কাজ বাকি ছিল। সেসব ছাড়াও সিমেন্টের বস্তা জমিয়ে রাখা, শুকনো কাঠখড়, পাতার বস্তা, কাপড় শুকনোর রশি। সব পরিষ্কার করে বন্দোবস্ত করে নিয়েছে তৌসিফ, তাশফিন আর শাওন। লাইটিংও সেট করেছে তারা।
ফটোশুট হবে তাই নিচে অনেক বড় একটা পাটি বিছিয়ে তার উপর সাদা ধবধবে একটা কাপড় বিছিয়ে দেয়া হ'য়েছে। তারউপর গাঁদাফুলের পাঁপড়ি।
শাইনার পেছনে একটু উপরে করে একটা চিকন রশি টানা হয়েছে লম্বা করে। তার সাথে ঝুলিয়ে দেয়া হ'য়েছে সুঁতোয় গাঁথা গাঁদাফুল। সেগুলি বাতাসে দুলছে। তাজা গাঁদাফুল হওয়ায় ঘ্রাণটাও কড়া। একটা গোলগাল হ্যান্ডহেল্ড প্রপসে লেখা,"তাজ-শাইনার গায়ে হলুদ।"
কাঁচা হলুদ রঙের একটা সাদামাটা সুতি শাড়ি পরানো হয়েছে শাইনাকে। শাড়িটায় গ্রাম্য গ্রাম্য ভাব আছে।
শাইনা নিজের মতো করে হালকা করে সেজেছে।
হলুদ লাগালে ভারী সাজ নষ্ট হয়ে জঘন্য দেখাবে।
তাকে ছাদে নিয়ে আসার পর তাসনুভা এসে তার হাতে আর মাথায় গাঁদাফুলের মালা, গাজরা পরিয়ে দিল। তারপর হালকা করে মেকআপ করিয়ে দিয়ে বলল,"তৌসিফ ভাই ক্যামেরা নাও। আগে শুট। তারপর বাকি রিচুয়াল।"
সে নিজেও হলুদ শাড়ি পরেছে। তিতলি, তাসনীম সবাই পরেছে। এমনকি বাড়ির ছোটবড় সব মেয়েরাই হলুদ শাড়ি পরেছে। ছেলেরা বিশেষ কিছু পরেনি। তাদের ড্রেসকোড শুধু মেহেদী অনুষ্ঠানের জন্য।
গোটা বাড়ির ছেলেমেয়েরা এসে জটলা পাকিয়েছে ছাদে। চারপাশে হৈচৈ, কোলাহল, বাচ্চাদের ছোটাছুটি। তন্মধ্যে তৌসিফ শাওন আর তাজদার সিদ্দিকীর পরিচিত প্রফেশনাল ফটোগ্রাফাররা ছবি তুলছে। সবাই হাতে অল্প অল্প করে হলুদ নিয়ে শাইনার গালে, কপালে ছোয়াঁলো। তাদের সবার হলুদ মাখা হাত শাইনার চারপাশে ঘিরে রেখে অনেক ছবি তোলা হলো। গান বাজছে...
"গায়ে হলুদ পায়ে আলতা,
হাতে মেন্দি দিয়া।
বিয়ের সাজন সাজাও কন্যারে
সুন্দোরো করিয়া..... সখি লো।"
শাইনা এতক্ষণ চুপচাপ বসেছিল। কে যেন তাজদারের নাম নিল সাথে সাথে শাইনা শাওনকে বলল,"হয়েছে আমাকে যেতে দাও এবার। আমার গাল চুলকাচ্ছে হলুদ লেগে।"
শাওন বলল,"চুপ করে বসে থাক। তাজ ভাই আসবে।"
তাজদার তাদের বাড়ির ছাদ থেকে দাঁড়িয়ে সমস্তটা দেখছিল। শাইনাদের দোতলা বাড়ির ছাদের সমস্তটা দেখা যায় তাদের ছাদ থেকে।
বড়রাও এসে একে একে শাইনাকে হলুদ ছোঁয়ালো। রওশনআরা এসে দেখে গেলেন। শাইনাকে দেখে মনে হচ্ছে নব্বই দশকের কোনো বধূ যে গাঁদাফুল দিয়ে সেজে বসে আছে মন খারাপ করে। রওশনআরা তার গালে একটু হলুদ ছোঁয়াল। গান বাজছে,
"গতরে হলুদো লাগাইয়া,
কন্যারে সাজাও বধূরো সাজে মিলিয়া।
আতরো গোলাপো লাগাইয়া,
কন্যারে সাজাও বধূরো সাজে মিলিয়া"
শেষমেশ বরের আগমন হতেই ছাদজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই হৈ-হুল্লোড় করে উঠলো। তাজদার সিদ্দিকীর গায়ে বটল গ্রীন কালার পাঞ্জাবি।
সে পা রাখামাত্রই গানের সুর পাল্টে গিয়ে হঠাৎ গোটা ছাদ কেঁপে উঠলো। উদ্ভট গানের সুর কানে এল শাইনার।
"বাপের বড় পোলা ভাইজান বিয়া করতাছে।
আজকে ভাইয়ের গায়ে হলুদ।
কালকে বিয়া যে।
ডিজে গান বাজতেছে।
সখী, কনে নাচতেছে।"
এত বিশ্রী সুর! শাইনার এত রাগ লাগলো। তাজদারও কপাল কুঁচকে ফেলেছে। এইসব কেমন গান? তৌসিফ আর শাওনরা সবাই আরও দাঁত খেলিয়ে হাসছে। গানের তালে তালে মাথা দোলাচ্ছে।
"এই গান বন্ধ...
সবাই চমকে গেল। বর কনে একসাথে চেঁচিয়ে উঠেছে। তাজদার সিদ্দিকী শাইনার দিকে তাকালো। শাইনাও তার দিকে তাকালো। তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে নিল। তাজদার সিদ্দিকী সুর পাল্টে বলল,"গানটা খারাপ না। ভলিউম বাড়িয়ে দে।"
ভলিউম বাড়িয়ে দেয়া হলো। শাইনা তাজ্জব বনে গেল। এই লোকটার নাম তাজদার না হয়ে গাদ্দার হওয়া উচিত ছিল।
চলমান.......
কপি©