05/09/2026
পৃথিবীতে হয়ত আসলে কিছু ভালো মানুষ আছে বলেই এখনো কেয়ামত হইনি। এই বয়স্কলোকের বাড়ি শরিয়তপুর। অনেক দিন ধরেই লিভারের জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে হবে বলে, তার ছেলে তাকে হসপিটালে ফেলে রেখে চলে যায়। কিছুদিন পরে হসপিটাল ও লোকটাকে বের করে দেয়। তার কোন গার্ডিয়ার নেই আর এই ঢাকা শহরে। সে এই বয়সে বিল্ডিং এ লেবার এর কাজ করতেছিল যাতে চিকিৎসার টাকা জমাতে পারে। ২ দিন কাজ করে, ইট টেনে ১৪০০ টাকা কামাইসে। তার মোট লাগে ৪২০০ টাকা নাকি পিজি হাসপাতালে এন্ডোস্কপি করাতে। সে ভিক্ষাও পছন্দ করেনা। কারো সাহায্য ও তার লাগবেনা। সে এখানেই রাস্তাই পড়ে থাকবে। যখন ভাল লাগবে তখন আবার কাজে গিয়ে ইট টেনে, বাকি টাকা জোগাড় করবে।
এই রকম লোক ও আছে এখন ও এই বয়সে ভিক্ষা না করে, নিজে মরে মরে হলেও টাকা কামিয়ে নাকি চিকিৎসা করাবে৷ তার যে অবস্থা দেখলাম, উনি রাস্তাই আর কিছুক্ষন পড়ে থাকলে যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। উনাকে সবাই বুঝিয়ে, আশ পাশের মানুষজন, পাশের বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়া, পথচারী, সবাই উনার অই চিকিৎসার টাকা যতটুকু লাগে তা স্পটে টাকা উঠিয়ে হাসপাতালে পৌছানো ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
পয়েন্ট হইতেছে:
১) যে ছেলে তার বাবাকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যায় আর ভুলেই যায় যে তার কোন বাপ আছে, যে কিনা রাস্তা ঘাটে পড়ে মরে থাকতে পারে। এরকম ছেলেদের আইনেই আওতাই আনা উচিত আর সামাজিক সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে বয়স্কদের সুরক্ষিত করা উচিৎ।
২) অই লোক থানাই গিয়েছিল, তাকে সেখানেও সাহায্য করা হইনি। বের করে দেয়া হয়েছে। চাইলে মানবিক দিক থেকে বিবেচনাই তারা এই লোকের অন্তত নুন্যতম প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা করে দিতে পারত তবে করেনাই। কারন, তারা এই লোকের থেকে কোন টাকা পাবেনা।
৩) অন্তত এখন ও কিছু ভাল মানুষ আছেন যারা উনাকে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করেছেন তার মধ্যে বেশির ভাগই দেখেছি নিম্ন আয়ের মানুষ ❤️। বস্তি বাসী, পথচারী এমন। আসলে এই দেশে কোন আইনেই শাষন নেই। কিছু ভাল মানুষের উসিলাই আল্লাহ সুবনাহু তায়ালা এই দেশ চালাই নিয়ে যাচ্ছে। অন্তত তাই মনে হচ্ছে। যাদের অনেক আছে তার কিছু করেনা, আর যাদের কিছুই নেই দেয়ার মত করার মত তাদের অনেক বড় মন আছে। আজকে বস্তির লোকজনের থেকে সেই রকম কিছু দেখলাম। অথচ, আমরা নিজের জীবন নিয়ে এত ব্যস্ত, মানবিক দিকটাই আর খেয়ার রাখিনা। আশ পাশের কি অবস্তা।