Bastob News BD

Bastob News BD Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Bastob News BD, News & Media Website, Dhaka.

28/10/2021

একশটি কবিরা গুনাহ
অনুবাদ ও গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্সে সেন্টার, সৌদি আরব
▬▬▬◄❖►▬▬▬
🌀 কবিরা গুনাহ কাকে বলে?

কবিরা গুনাহ বলা হয় ঐ সকল বড় বড় পাপকর্ম সমূহকে যেগুলোতে নিন্মোক্ত কোন একটি বিষয় পাওয়া যাবে:
◉ যে সকল গুনাহের ব্যাপারে ইসলামি শরিয়তে জাহান্নামের শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
◉ যে সকল গুনাহের ব্যাপারে দুনিয়াতে নির্ধারিত দণ্ড প্রয়োগের কথা রয়েছে।
◉ যে সকল গুনাহের ব্যাপারে বলা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা রাগ করেন।
◉ যে সকল কাজে আল্লাহ তায়ালা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ফেরেশতা মণ্ডলী লানত দেন।
◉ যে কাজের ব্যাপারে বলা হয়েছে, যে এমনটি করবে সে মুসলমানদের দলভুক্ত নয়।
◉ কিংবা যে কাজের ব্যাপারে আল্লাহ ও রাসূলের সাথে সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
◉ সে সব বিষয়কে মুনাফেকির আলামত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
◉ যে কাজে ‘দ্বীন নাই’, ‘ঈমান নাই’ ইত্যাদি বলা হয়েছে।
◉ অথবা যে কাজকে আল্লাহ তায়ালা সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয় করা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

🌀 কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকার মর্যাদা:

১. মহান আল্লাহ বলেন:
إِن تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلًا كَرِيمًا
"যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের (ছাট) গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করাব।” (সূরা নিসা: ৩১)
২. রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:
الصلوات الخمس . والجمعة إلى الجمعة . ورمضان إلى رمضان . مكفرات ما بينهن
إذا اجتنب الكبائر
“পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং এক রমাযান থেকে আরেক রমাযান এতদুভয়ের মাঝে সংঘটিত সমস্ত পাপ রাশির জন্য কাফফারা স্বরূপ যায় যদি কবিরা গুনাহ সমূহ থেকে বেঁচে থাকা যায়।” (মুসলিম)

🌀 একশটি কবিরা গুনাহ (বড় পাপ):

নিম্নে একশটি কবিরা গুনাহ (বড় পাপ) তুলে ধরা হল:
1. আল্লাহর সাথে শিরক করা
2. নামায পরিত্যাগ কর
3. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া
4. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা
5. পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা
6. যাদু-টোনা করা
7. এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা
8. জিহাদের ময়দান থেকে থেকে পলায়ন
9. সতী-সাধ্বী মু‘মিন নারীর প্রতি অপবাদ
10. রোযা না রাখা
11. যাকাত আদায় না করা
12. ক্ষমতা থাকা সত্যেও হজ্জ আদায় না করা
13. যাদুর বৈধতায় বিশ্বাস করা
14. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া
15. অহংকার করা
16. চুগলখোরি করা (ঝগড়া লাগানোর উদ্দেশ্যে একজনের কথা আরেকজনের নিকট লাগোনো)
17. আত্মহত্যা করা
18. আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করা
19. অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ ভক্ষণ করা
20. উপকার করে খোটা দান করা

21. মাদক বা নেশা দ্রব্য গ্রহণ করা।
22. মদ প্রস্তুত ও প্রচারে অংশ গ্রহণ করা।
23. জুয়া খেলা।
24. তকদির (ভাগ্য) অস্বীকার করা।
25. অদৃশ্যের খবর জানার দাবী করা।
26. গণকের কাছে ধর্না দেয়া বা গণকের কাছে অদৃশ্যের খবর জানতে চাওয়া।
27. পেশাব থেকে পবিত্র না থাকা।
28. রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নামে মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করা।
29. মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করা।
30. মিথ্যা কথা বলা।
31. মিথ্যা কসম খাওয়া।
32. মিথ্যা কসমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করা।
33. জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।
34. সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া।
35. মানুষের গোপন কথা চুপিসারে শোনার চেষ্টা করা।
36. হিল্লা তথা চুক্তি ভিত্তিক বিয়ে করা।
37. যার জন্যে হিলা করা হয়।
38. মানুষের বংশ মর্যাদায় আঘাত হানা।
39. মৃতের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করা।
40. মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা।

41. কোন মুসলিমকে গালি দেয়া অথবা তার সাথে মারামারিতে লিপ্ত হওয়া।
42. খেলার ছলে কোন প্রাণীকে নিক্ষেপ যোগ্য অস্ত্রের লক্ষ্য বস্তু বানানো।
43. কোন অপরাধীকে আশ্রয় দান করা।
44. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু জবেহ করা।
45. ওজনে কম দেয়া।
46. ঝগড়া-বিবাদে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা।
47. ইসলামি আইনানুসারে বিচার বা শাসনকার্য পরিচালনা না করা।
48. জমিনের সীমানা পরিবর্তন করা বা পরের জমি জবর দখল করা।
49. গিবত তথা অসাক্ষাতে কারো দোষ চর্চা করা।
50. দাঁত চিকন করা।
51. সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে মুখমণ্ডলের চুল তুলে ফেলা বা চুল উঠিয়ে ভ্রু চিকন করা (ভ্রু প্লাগ করা)
52. মাথায় অতিরিক্ত/ চুল সংযোগ করা (পরচুলা ব্যবহার করা)
53. পুরুষের নারী বেশ ধারণ করা।
54. নারীর পুরুষ বেশ ধারণ করা।
55. বিপরীত লিঙ্গের প্রতি কামনার দৃষ্টিতে তাকানো।
56. কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা।
57. পথিককে নিজের কাছে অতিরিক্ত পানি থাকার পরেও না দেয়া।
58. পুরুষের গোড়ালির নিচে ঝুলিয়ে পোশাক পরিধান করা।
59. মুসলিম শাসকের সাথে কৃত বয়াত বা আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করা।
60. ডাকাতি করা।

61. চুরি করা।
62. সুদ লেন-দেন করা, সুদ লেখা বা তাতে সাক্ষী থাকা।
63. ঘুষ লেন-দেন করা।
64. গনিমত (জিহাদের মাধ্যমে কাফেরদের নিকট থেকে প্রাপ্ত সম্পদ) বণ্টনের পূর্বে আত্মসাৎ করা।
65. স্ত্রীর পায়ু পথে যৌন ক্রিয়া করা।
66. জুলুম-অত্যাচার করা।
67. অস্ত্র দ্বারা ভয় দেখানো বা তা দ্বারা কাউকে ইঙ্গিত করা।
68. প্রতারণা বা ঠগবাজী করা।
69. রিয়া বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সৎ আমল করা।
70. স্বর্ণ বা রৌপ্যের তৈরি পাত্র ব্যবহার করা।
71. পুরুষের রেশমি পোশাক এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য পরিধান করা।
72. সাহাবিদেরকে গালি দেয়া।
73. নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে গমন করা।
74. মনিবের নিকট থেকে কৃতদাসের পলায়ন।
75. ভ্রান্ত মতবাদ জাহেলি রীতিনীতি অথবা বিদআতের প্রতি আহবান করা।
76. পবিত্র মক্কা ও মদিনায় কোন অপকর্ম বা দুষ্কৃতি করা।
77. কোন দুষ্কৃতিকারীকে প্রশ্রয় দেয়া।
78. আল্লাহর ব্যাপারে অনধিকার চর্চা করা।
79. বিনা প্রয়োজনে তালাক চাওয়া।
80. যে নারীর প্রতি তার স্বামী অসন্তুষ্ট।

81. স্বামীর অবাধ্য হওয়া।
82. স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর অবদান অস্বীকার করা।
83. স্বামী-স্ত্রীর মিলনের কথা জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
84. স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিবাদ সৃষ্টি করা।
85. বেশী বেশী অভিশাপ দেয়া।
86. বিশ্বাসঘাতকতা করা।
87. অঙ্গীকার পূরণ না করা।
88. আমানতের খিয়ানত করা।
89. শরীরে উল্কি অঙ্কন করা বা ট্যাটু করা।
90. ঋণ পরিশোধ না করা।
91. বদ মেজাজি ও এমন অহংকারী যে উপদেশ গ্রহণ করে না।
92. তাবিজ-কবজ, রিং, সুতা ইত্যাদি ঝুলানো।
93. পরীক্ষায় নকল করা।
94. ভেজাল পণ্য বিক্রয় করা।
95. ইচ্ছাকৃত ভাবে জেনে শুনে অন্যায় বিচার করা।
96. আল্লাহ বিধান ব্যতিরেকে বিচার-ফয়সালা করা।
97. পার্থিব উদ্দেশ্যে দীনী ইলম (দীনের জ্ঞান) অর্জন করা।
98. কোন ইলম (দীনের জ্ঞান) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জানা সত্যেও তা গোপন করা।
99. নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা।
100. আল্লাহর রাস্তায় বাধা দেয়া।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সকল প্রকার গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন এবং কু প্রবৃত্তি ও শয়তানের প্ররোচনায় কোন গুনাহ করে ফেললে আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমীন।

সগীরা গুনাহ, ভয়াবহতা এবং কতিপয় উদাহরণ
▬▬▬◄❖►▬▬▬
প্রশ্ন: সগীরা বা ছোট গুনাহ কাকে বলে? এর ভয়াবহতা কতটুকু? সচরাচর মানুষ যে সব সগীরা গুনাহ করে সেগুলো কি কি? কিছু উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিলে উপকৃত হবো আশা করি।

উত্তর :

নিম্নে সগীরা বা ছোট গুনাহের পরিচয়, এর ভয়াবহতা এবং কতিপয় উদাহরণ তুলে ধরা হল:

🌀 সগীরা (ছোট) গুনাহ কাকে বলে?

▪শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ বলেন: এ মাসআলায় (সগীরা বা ছোট গুনাহের পরিচয়ের ব্যাপারে ) ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত কথাটি সবচেয়ে সঠিক। এটি আবু উবাইদ ও ইমাম আহমদ প্রমুখ উল্লেখ করেছেন। আর তা হল:
أن الصغيرة ما دون الحدين: حد الدنيا وحد الآخرة
“সগীরা বা ছোট পাপ বলা হয় ঐ পাপকে, যা দুনিয়ার দণ্ড ও আখিরাতের দণ্ড (অবধারিত হয় এমন পাপ) থেকে নিম্ন পর্যায়ের।"

[অর্থাৎ ছোট গুনাহ বলতে বুঝায়, যে সকল অপরাধের ক্ষেত্রে দুনিয়ায় আইনগত দণ্ড বিধি নেই (যেমন, হাত কাটা, পাথর মেরে মৃত্যু দণ্ড দেয়া, বেত্রাঘাত করা ইত্যাদি) অনুরূপভাবে আখিরাতেও নির্ধারিত কোনো দণ্ড বা শাস্তির কথা বলা হয় নি। যেমন: কবরের আযাব, জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ ইত্যাদি]

▪আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল উসাইমীন রহ. বলেন:

الكبائر هي ما رتب عليه عقوبة خاصة بمعنى أنها ليست مقتصرة على مجرد النهي أو التحريم، بل لا بد من عقوبة خاصة مثل أن يقال من فعل هذا فليس بمؤمن، أو فليس منا، أو ما أشبه ذلك، هذه هي الكبائر، والصغائر هي المحرمات التي ليس عليها عقوبة. انتهى
"কবীরা বা বড় গুনাহ বলা ঐ সকল গুনাহকে যেগুলোর ব্যাপারে বিশেষ কোনো শাস্তি আরোপের বিধান রয়েছে। অর্থাৎ যেগুলো শুধু নিষেধ বা হারামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং তাতে অবশ্যই বিশেষ শাস্তি রয়েছে। যেমন: যে এ কাজ করবে সে ইমানদার নয় অথবা সে আমাদের দলভুক্ত নয় ইত্যাদি। এগুলো হল কাবীরা গুনাহ। আর সগীরা বা ছোট গুনাহ হল ঐ সকল হারাম কাজ যেগুলোর জন্য শাস্তি নাই।"

সুতরাং আলেমদের বক্তব্যের আলোকে আমরা বলতে পারি, যে সকল গুনাহ কবীরা পর্যায়ের নয় সেগুলোই সগীরা গুনাহ। তাহলে সগীরা গুনাহ সম্পর্কে জানতে হলে আগে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে জানতে হবে।

▪কোনো কোনো আলেম বলেন: "যে সব গুনাহ তওবা ছাড়া মাফ হয় না সেগুলো কবীরা গুনাহ আর যে সব গুনাহ তওবা ছাড়া বিভিন্ন প্রকার নেক আমলের দ্বারা মাফ হয় সেগুলো সগীরা গুনাহ।"

🌀 সগীরা বা ছোট গুনাহের ভয়াবহতা:

➤ হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« إِيَّاكُمْ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ فَإِنَّمَا مَثَلُ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ كَقَوْمٍ نَزَلُوا فِي بَطْنِ وَادٍ، فَجَاءَ ذَا بِعُودٍ، وَجَاءَ ذَا بِعُودٍ حَتَّى أَنْضَجُوا خُبْزَتَهُمْ، وَإِنَّ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ مَتَى يُؤْخَذْ بِهَا صَاحِبُهَا تُهْلِكْهُ».
‘সাবধান! গুনাহকে তুচ্ছ মনে করার ব্যাপারে সর্তক হও। কেননা গুনাহকে তুচ্ছ মনে করার উদাহরণ হল:
একদল লোক কোন এক পাহাড়ের উপত্যকায় যাত্রা বিরতি করলো। এরপর সেখানে কেউ একটা কাঠি নিয়ে এলো, আরেকজন আরেকটা কাঠি নিয়ে এলো।তারপর তারা (এই ছোট ছোট কাঠিগুলো জমা করে সেগুলো দ্বারা) রুটি পাকালো।
ঠিক তদ্রূপ যে সব গুনাহকে তুচ্ছ ভাবা হয় সেগুলোই এতে লিপ্ত ব্যক্তিদেরকে ধ্বংস করে ফেলবে।“ [মুসনাদ আহমাদ ৫/৩৩১। সহীহুল জামে‘, নাসিরুদ্দিন আলবানী, আল মাকতাবুল ইসলামী, ৩য় প্রকাশ, হাদিস নং: ২৬৮৬।]
➤ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
إِيَّاكُمْ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ ، فَإِنَّهُنَّ يَجْتَمِعْنَ عَلَى الرَّجُلِ حَتَّى يُهْلِكْنَهُ
“তোমারা ছোট গুনাহ থেকেও দূরে থাকবে। কেননা, এগুলো জমা হয়ে মানুষকে ধ্বংস করে ছাড়ে।” (সহীহুল জামে লিল আলবানী, হা/২৬৮৭-সহীহ)

➤ বিজ্ঞ আলিমগণ বলেছেন: ছোট গুনাহকে যদি কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে বারবার করে বা তুচ্ছ মনে করে করে তখন তা আর ছোট থাকে না বরং তা বড় গুনাহে পরিণত হয়।
যেমন: ইমাম নওবী রহ. সহীহ মুসলিম এর ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন:
رُوِيَ عَنْ عُمَر وَابْن عَبَّاس وَغَيْرهمَا رَضِيَ اللَّه عَنْهُمْ : لا كَبِيرَة مَعَ اِسْتِغْفَارٍ ، وَلا صَغِيرَة مَعَ إِصْرَار
مَعْنَاهُ : أَنَّ الْكَبِيرَة تُمْحَى بِالاسْتِغْفَارِ , وَالصَّغِيرَة تَصِير كَبِيرَة بِالإِصْرَارِ اهـ
উমর রা. এবং ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত আছে। তারা বলেছেন: ইস্তিগফার তথা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা হলে কোনো কবীরা (বড়) গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না আর কোনো গুনাহ বারবার করা হলে তা আর সগীরা (ছোট) থাকে না।"
এ কথার অর্থ হল: বড় গুনাহ ইস্তিগফার (আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা) এর মাধ্যমে মুছে যায় আর ছোট গুনাহ বারবার করার মাধ্যমে বড় গুনাহে পরিণত হয়।"

➤ ছোট গুনাহগুলোকে তুচ্ছ মনে না করা আল্লাহর নির্দেশনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَن يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّـهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ عِندَ رَبِّهِ
“আর কেউ আল্লাহর সম্মানযোগ্য বিধানাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে পালনকর্তার নিকট তা তার জন্যে উত্তম।” (সূরা হজ্জ: ৩০)

➤ কবি বলেন: (আরবি কবিতা)
خل الذنوب صغيــــــرها
وكبيـرها فهو التـــــقى
واصنع كمـــــــاش فوق أرض
الشــــوك يحذر ما يرى
لا تحــــقرن صغيـــــرة
إن الجبـــال من الحــصى
সরল অর্থ:
ছোট -বড় সকল পাপকর্ম পরিত্যাগ কর।
এরই নাম ‘আল্লাহ ভীতি’।
আর পথ চল ঠিক সেভাবে যেভাবে একজন মানুষ
কণ্টকময় রাস্তা দিয়ে সর্তকতার সাথে পথ চলে।
ছোট বলে কোন পাপকেই তুচ্ছ মনে করো না।
কেননা, বড় বড় পাহাড়গুলো (এত বিশাল আকার ধারণ করেছে)
ছোট-ছোট নুড়ি পাথর দ্বারাই।

🌀 সগীরা বা ছোট গুনাহের কতিপয় উদাহরণ:

সগীরা বা ছোটগুনাহের সীমা-সংখ্যা নাই। তবুও নিম্নে বহুল প্রচলিত কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরা হল:

🔰নামাযরত অবস্থায় এদিক ওদিকে দৃষ্টিপাত করা।
🔰নামায অবস্থায় কাপড়, দাড়ি, বা শরীরের কোন অঙ্গ নিয়ে খেলা করা।
🔰জুমার ২য় আযানের সময় বেচাকেনা করা।
🔰কোন ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাবের উপর তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অন্যজন প্রস্তাব করা।
🔰বেচাকেনার ক্ষেত্রে কেউ দরদাম করছে এমতাবস্থায় তার শেষ হওয়ার আগে আরেকজন এসে দরদাম শুরু করা।
🔰কোন পর নারীর দিকে দৃষ্টিপাত করা।
🔰 স্ত্রীকে এক বৈঠকে একাধিক তালাক দেয়া।
🔰 ঋতু চলাকালীন সময়ে তালাক দেয়া।
🔰 অতিরিক্ত ঝগড়া-ঝাটি করা।
🔰 গীবত শুনে চুপ থাকা।
🔰 পাপাচারী লোকদের সাথে ( সংশোধন ও দাওয়াত দেয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া) উঠবস করা।
🔰 খোলা স্থানে কিবলার দিকে মুখ করে বা কেবলাকে পেছনে করে পেশাব-পায়খানা করা।
🔰 বিনা প্রয়োজনে উপকার হীন কথাবার্তা বলা ইত্যাদি।

পাপ ছোট না বড় সে দিকে না তাকিয়ে আমাদের উচিৎ সব ধরণের পাপাচার থেকে বিরত থাকার সর্বাত্বক চেষ্টা করা। তারপরও শয়তানের কুমন্ত্রণা ও কু প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো পাপাচার করে ফেললে তৎক্ষণাৎ অনুতপ্ত হৃদয়ে সেই ক্ষমাশীল দয়াময় প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা আবশ্যক। তাহলে তিনি ক্ষমা করবেন বলে আশা করা যায়।
পরিশেষে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই জনৈক মনিষীর চমৎকার একটি বাণী:
لا تَنْظُرْ إِلَى صِغَرِ الْخَطِيئَةِ ، وَلَكِنِ انْظُرْ إِلَى عَظَمَةِ مَنْ تَعْصِي
"পাপের ক্ষুদ্রতার দিকে না তাকিয়ে যার অবাধ্যতা করছ তার বিশালত্বের দিকে তাকাও।"
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ছোট-বড় সকল প্রকার গুনাহ থেকে বেঁচার তাওফিক দান করুন এবং জেনে-নাজেনে যে সকল গুনাহ করে ফেলি সেগুলো ক্ষমা করুন। আমীন।

▬▬▬◄❖►▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল, সৌদি আরব
fb id: AbdullaahilHadi

06/07/2021
28/05/2021
26/05/2021

ছবিটি দেখুন এবং ভালোভাবে খেয়াল করুন ছবিটির শিরোনামে বলা আছে এটা না কি পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান লোকদের গ্রুপের ফটো।
ছবিটি দেখে হয়ত সবাই বলবেই ঠিকই তো এখানে সবাই বড় বড় বিজ্ঞানী আবার এদের মধ্যে ২৯ জনের মধ্যে ২৮ জনই নোবেল বিজয়ী তাহলে তো ঠিকই এরা তো সবাই বুদ্ধিমানই।
"হ্যা,এরা বুদ্ধিমান কারণ পৃথিবীর উন্নয়ন সাধনে এদের হাত আছে এইভাবে যদি ভাবা যায় তাহলে এরা বুদ্ধিমান।

কিন্তু আমার একটা প্রশ্ন বুদ্ধিমানের এই সংজ্ঞা টা কে দিলো?
আর কীসের ভিত্তিতে আমরা এই সংজ্ঞা টা মানব?আমি 'আমরা' বললাম অর্থ্যাৎ আমরা মুসলিমরা কিসের ভিত্তিতে এই বুদ্ধিমান সংজ্ঞাটা জাজ করব?

যদি আপনি মুসলিম হন তাহলে আপনি বা আমি জাজ করব ইসলাম দিয়ে বুদ্ধিমান সংজ্ঞাটা কে কিন্তু আপনি যদি মডারেট মুসলিম হন তাহলে বলবেন সব বিষয়ে ইসলাম কে টানেন কেন?আসলে মডারেট বলে কিছু হয় না ওটাকে মুনাফিকই ধরা যায় যায় হোক।

যেহেতু আমি একজন মুসলিম তাহলে আমি সবকিছু ইসলাম দিয়ে জাজ করব কারণ ইসলাম একটা পরিপূর্ণজীবন বিধান।ইসলাম ছাড়া কোনো কিছু সম্ভব না।
আর ইসলামের দৃষ্টিতে নিম্নোক্ত ছবির দলটি পৃথিবীর সবথেকে বোকাদের ছবি।
" হ্যা,I repeat সব থেকে বোকাদের ছবি কারণ আল্লাহ তায়ালা বুদ্ধিমানের সংজ্ঞা বহুবার বলেছে কিন্তু আমাদের তো কুরআনের অর্থ পড়ার টাইম নায় আমরা কই থেকে জানব।

আল্লাহ তো বহুবার বলেছে বুদ্ধিমানের সংজ্ঞাটা তাহলে একটা রেফারেন্স দিই না হলে তো আমি মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হবো!

"যারা মনোযোগ সহকারে কথা শোনে এবং যা উত্তম তার অনুসরণ করে। ওরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেন এবং ওরাই বুদ্ধিমান"। [সুরা যুমার-১৮]

খেয়াল করুন সৎপথে পরিচালিত করেন এর পরেই আল্লাহ বলেছেন এবং ওরাই বুদ্ধিমান।
এবার বুঝলেন বুদ্ধিমান টা কে?

আপনি আমি যতই বুদ্ধিমানের কাজ করি যদি আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহয় বলে আমরা বোকা তাহলে আমরা কীভাবে বুদ্ধিমান হই?
আমাকে বলুন কীভাবে হই?

কারণ যে বুদ্ধিমান সে আগে আল্লাহর প্রতি ইমান আনবে তার আগে ওই কখনো বুদ্ধিমান হতে পারবে না।বুদ্ধিমান হওয়ার সর্বনিম্ন গ্রেড এটা যে আগে আল্লাহর প্রতি ইমান আনতে হবে।

আপনি যদি মনেপ্রাণে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাকেন তাহলে এদের সবাইকে বুদ্ধিমান ভাববেন না।

" হ্যা,উনারা পৃথিবীতে অনেক উন্নতি সাধন করেছে কিন্তু আল্লাহ পৃথিবীকে তুচ্ছ বলেছে তুচ্ছ আর আখিরাত কে বলেছেন শ্রেষ্ঠ তাই আখিরাত যেহেতু শ্রেষ্ঠ সেহেতু এরা সবথেকে বোকায় আর এরা আমার,আপনার এবং যেকোনো সাধারণ মুসলমানের থেকেও বোকা আর এটার প্রমাণ তো আমি দিয়েই দিলাম।

কিন্তু এখন কোনো বাচ্চা জন্মগ্রহণ করলেই মা বাবা আগেই বলবে আমার ছেলেকে আমি আইনস্টাইন বানাবো আমার ছেলেকে আমি নিউটন বানাবো....সক্রেটিস বানাবো ইত্যাদি, ইত্যাদি।

কিন্তু কেউ এটা বলেনা আমার সন্তানকে আমি রাসুলুল্লাহ সাঃ আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শে আদর্শিত করব।হায়!আফসোস।

তাহলে ওই জাতি পশ্চিমাদেরকে অনুসরণ করবে না কেন?

আমি এটা বলছিনা যে দুনিয়াদারি বাদ দিয়ে দিতে হবে দুনিয়াদারি করতে হবে কিন্তু কখনো আখিরাতের থেকে বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া যাবে না কারণ আমাদের সৃষ্টিকর্তা,রিযিকদাতা আল্লাহ তায়ালার কাছে দুনিয়ার মূল্য একেবারেই কম আর আখিরাতের মূল্য বেশি আর সেই হিসেবেই এরা বুদ্ধিমান না।

এরা বোকা,নির্বোধ।

||এরা কী বুদ্ধিমান?||

~ নাভিদ আহমেদ

02/04/2021

~ আমি কবর বলছি...
আখিরাতের প্রথম মঞ্জিল তো আমিই‼️
অধিকাংশ মানুষই জীবনভর আমার কথা একদমই স্মরণ করেনা। আমার সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে এরা প্রচন্ড রকমের গাফেল।

কিন্তু আমি যে এক ধ্রুব সত্য!
কিংবা বলতে পারো এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা।

আজ নয়ত কাল আমার সাথে মোলাকাত করতেই হবে, এড়ানোর সুযোগ নেই।
শুনেছি দুনিয়ায় একটা ঘর সাজাতে মানুষ বিরাট আয়োজন করে। সারাজীবনের অর্থ, শ্রম, শক্তি, মেধা- সবকিছু খরচ করে ঘর বানায়, অথচ কয়দিনই বা সেই ঘরে থাকতে পারে?
শেষমেষ আমার ভেতরই তাদের প্রত্যাবর্তন।
শত শত মানুষের আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠে আমার বুক।
মানুষ যে কেন কবরের জীবনটা নিয়ে সতর্ক হয়না!

পুনরূত্থান পর্যন্ত কত লম্বা একটা সময় এই ঘরটায় থাকতে হবে, অথচ কি ভয়ানক নোংরা, বিদঘুটে আর বিপদসংকুল করে রাখে! সত্যিই, কতই না হতভাগা এরা!
চাইলেই আমাকে নিজেদের জন্য মনোরম করে সাজিয়ে নেয়া যায়। কিন্তু দুনিয়াতে বুঁদ হয়ে আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে- এই ইয়াকীনটাই হারিয়ে ফেলে।
কত অর্থ আর আহলকে আমার দ্বারপ্রান্তে এসে ফিরে যেতে দেখি! মানুষটা হয়ত এই দুয়ের পিছনেই জীবনটা বিলিয়ে দিয়েছে, অথচ এরাই তাকে রেখে চলে যায়!

আর অধিকাংশ বান্দা ঈমান আমল না নিয়েই ফিরে আসে।
অথচ, সেটাই সবচেয়ে বেশি দরকার ছিলো আমার অন্ধকার বুকে সুন্দর ও সম্মানজনক নিবাসের জন্য!
হ্যাঁ, ঈমান-আমলের মাপকাঠির ভিত্তিতেই আল্লাহ আমাকে আদেশ করেন যে ঐ লাশের সাথে আমাকে কেমন আচরণ করতে হবে। এর আগে মুনকার-নাকীর নামে দুজন ভয়ানক ফেরেশতা এসে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ করেন।
আমার অনুমান খুব ভুল না হলে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব দুনিয়ার বুকে ফাঁস হয়ে গেছে অনেক আগেই।
রব কে, দ্বীন কী, আর নবী কে- এই তিনটা বিষয়ে প্রশ্ন হয়।
খুবই মৌলিক বিষয়, তবুও কত মানুষ উত্তর দিতে পারেনা! নির্বাক চেয়ে থাকে। বড়ই আশ্চর্য লাগে তখন!
তোকে আমি কি দিয়ে আপ্যায়ন করব রে হতভাগা! কি করে এসেছিস সারাজীবন!
যাই হোক, ‘আবেগ’ জিনিসটা আমাকে মানায়না।
কিন্তু ৬০/৭০ বছর হায়াত পেয়েও নিজের রবকে, দ্বীনকে আর নবীকে চেনেনা- প্রতিদিনই এমন হাজার হাজার হতভাগার সাথে নতুন করে সাক্ষাৎ হয়।

এমন কতজনকে মানুষ আমার বুকে রেখে যায়, যার ঈমান-আমলের খাতা প্রায় শূন্য। কিন্তু কবরে নামানোর সময় অনেক আয়োজন করে ‘বিসমিল্লাহি ওয়া ‘আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ’; পড়া হয়। হিসাব নিকাশের পর বুঝতে পারি, মানুষটা আসলে সারাজীবন মিল্লাতে রাসূলকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই এসেছে। নইলে ঈমান-আমলের এমন বেহাল দশা হবে কেন?
আমার কারো জন্যই কিছু করার থাকেনা। কারণ আমি কেবলই আমার রবের হুকুমের দাস।
তাঁরই আদেশে নাফরমান বান্দাদের উপর নেমে আসে ৫ ক্যাটাগরির ভয়াবহ আযাব, যার উদ্বোধনটা আমাকে দিয়েই করানো হয়। আল্লাহর হুকুম পাওয়া মাত্র মাইয়্যেতকে এমনভাবে সংকীর্ণ করতে শুরু করি যে, তাদের এক পাঁজরের হাড় অপর পাঁজরে গিয়ে ঠেকে!

এ এমন এক চাপ! যার যন্ত্রণা লোকটাকে দুনিয়ার সমস্ত সুন্দরতম আলিঙ্গনের মুহূর্তগুলো ভুলিয়ে দিতে বাধ্য!
আল্লাহর জমিনে থেকেছে, আল্লাহর খেয়েছে, আল্লাহর নিয়ামত ভোগ করেছে; অথচ তাঁরই অবাধ্যতা করে গেছে সারাজীবন! তাওবা করারও প্রয়োজন মনে করেনি। আহারে! কোথায় এখন তোর অহংকার?
বাকি শাস্তিগুলোরও নীরব প্রত্যক্ষদর্শী আমি। একে একে তাকে জাহান্নামের পোশাক ও বিছানা দেয়া হয়; এরপর জাহান্নামের দিক থেকে একটা দরজা খুলে দেওয়া হয়। সবশেষে দুই ফেরেশতার পক্ষ থেকে এমন এক হাতুড়ি দিয়ে অনবরত আঘাত করা হতে থাকে, যেই হাতুড়ির এক আঘাত বিশাল পাথরের পাহাড় চূর্ণবিচূর্ণ করে ধুলায় পরিণত করতে পারে!
এভাবে, মুহূর্তেই মাইয়্যেতের জীবনটা হয়ে ওঠে এক পশলা জাহান্নাম! পুনরুত্থান পর্যন্ত এভাবেই পাপাচারীরা আমার বুকে শুয়ে পঞ্চমূখী শাস্তি ভোগ করতেই থাকে।
আমার ধারণা, আজাবপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের চিৎকার মানুষ একদমই শুনতে পায়না। নইলে এত মানুষ অপ্রস্তুত হয়ে কবরে আসতো না কোনোভাবেই।
যাহোক, ব্যর্থদের গল্প আজ থাক। সফলদের গল্প বলি এবার। ..
কিছু বান্দা ঈমান আর আমল নিয়েই আসে। এদের প্রশান্ত ও নূরানী চেহারা দেখেই মনে হয় এরা ঠিক উত্তর দিতে পারবে। সুন্দরভাবে উত্তর দেয়ার পরে ওই দুই ফেরেশতা সফলতার নেপথ্য কারণ জানতে চায়। জবাব শুনেই নিশ্চিন্তে বলে দেয়া যায়, আখিরাতের পড়াশুনাটা বেশ ভালোভাবেই করে এসেছে।
আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা এমন ব্যক্তিদের নগদ পাঁচ ধরণের পুরস্কার দিবেন।

যথারীতি এবারও প্রথমটার সাথে আমি সরাসরি জড়িত। এরকম সম্মানী বান্দাদের থাকার সুব্যবস্থার জন্য আমাকে চাপ না দিয়ে অনেকদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে যাওয়ার আদেশ দেয়া হয় এবং আমি অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করি। এরপর আমার অন্ধকার বুককে বান্দার জন্য আলোকিত করে দেয়া হয়। আলোকিত বান্দা, আলোকিত তাঁর কবর- সত্যিই আল্লাহর বিচারই সর্বশ্রেষ্ঠ!
এরপর বান্দাকে জান্নাতের লেবাসে সাজিয়ে তাঁর জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দেওয়া হয় আর জান্নাতের দিকে একটা দরজা খুলে দেওয়া হয়। মোটমাট জান্নাত না হলেও ‘জান্নাতের আগে এক পশলা জান্নাতের অনুভূতি’ বললে খুব একটা ভুল হয়না!
এভাবে পুনরূত্থান দিবস পর্যন্ত আমার বুকেই পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকবে আল্লাহর সম্মানিত নেককার বান্দাগণ।
আমিও তাঁদেরকে পেলে গর্বিত হই।
তোমরা অনেকেই এখনো জীবিত আছ, এখনো মাটির ওপরে ঘুরাঘুরি করতে পারছ-
মনে রেখো, আজ নয়ত কাল আমার কাছে আসতেই হবে। এই দুই শ্রেণীর বান্দার ঈমান-আমল বিশ্লেষণ করে মোটাদাগে যা বুঝেছি, বারযাখী এই জীবনটাকে এক টুকরা জান্নাতের বাগানে পরিণত করতে কিছু করণীয় ও বর্জনীয় রয়েছে। হয়ত তোমরা অনেকেই জানো, তবুও আরেকবার সতর্ক করে দিচ্ছি, যদি কারো উপকারে আসে!
করণীয়ঃ
১। সবার আগে বিশুদ্ধ ঈমান নিয়ে আসতে হবে। এটার বিকল্প একদমই নেই। কত পাহাড়সম আমলওয়ালা মানুষ আসে, বিশুদ্ধ ঈমান আনতে না পারার কারণে আমার আযাব থেকে রক্ষা পায়না।
২। প্রতিরাতে সুরা মূলক পাঠ করতে হবে। এটাকে খুব কাজে দিতে দেখেছি।
৩। নিয়মিত কবরের আযাব থেকে পরিত্রাণের দুয়া করাও অনেক কার্যকর।
৪। সহিহ শুদ্ধ যিকিরগুলো দিয়ে মুখটাকে সবসময় ব্যস্ত রাখা মানুষগুলোকেও সফল হতে দেখেছি।
৫। দান-সাদাকার কথা না বললেই নয়; বিশেষ করে সাদকায়ে জারিয়া যে কত বড় পাথেয় হতে পারে, এটা বুঝানো সত্যিই অসম্ভব। সবাইকেই অন্তত একটা হলেও সাদাকায়ে জারিয়া চালু রেখে আসার চেষ্টা করতে নসীহা করছি।
৬। এছাড়াও মাইয়্যেতের প্রতি আল্লাহর আচরণ থেকে ফরজ নামাযের পর নিয়মিত আয়াতুল কুরসী, আউয়াল ওয়াক্তে বিশুদ্ধভাবে সালাত আদায়, অযুর পরে কালেমায়ে শাহাদাত, আযানের জবাব- ইত্যাদি জান্নাতের নিকটবর্তী আমলগুলোও পরোক্ষভাবে বেশ সহায়ক বলে মনে হয়েছে।
বর্জনীয়ঃ
১। কোনোভাবেই শিরকযুক্ত ও ত্রুটিপূর্ণ ঈমান নিয়ে আসা যাবেনা; এটা কবরের আযাবের প্রধান কারণ। যে ঈমানটা ঠিকমত বিশুদ্ধ করে আনতে পারবেনা, ওয়াল্লাহি! তার সব শেষ হয়ে যাবে। হুঁশিয়ার করে দিলাম! ঈমানটা ঠিক না করে আমার কাছে এসো না! চিরস্থায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে!
২। কবীরা গুনাহ করার পর তাওবাবিহীন অবস্থায় মারা যাওয়া হতভাগাদের কবরে প্রচুর শাস্তি হয়। মানুষ গুনাহ করবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সে যখন গুনাহর পরে তওবার ব্যাপারে উদাসীন থাকে, এটা তার জন্য ভয়াবহ বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল। যতই গুনাহ করে থাকো, মাফ চাও। কিন্তু অহংকার করে যদি মাফই না চাও, গুনাহকে গুনাহই মনে না করো; তবে আমার চাপে পিষ্ট হবার জন্য তৈরি হয়ে এসো, কেমন?
.
৩। গীবত ও চোগলখুরি- এই দুইটা স্বভাবের কারণে অনেক আমলওয়ালা ব্যক্তিও ধরা খেয়ে যায়। এই দুইটা ছাড়া সম্ভবত আসলেই কঠিন। কিন্তু কবরের আযাব ভোগ করার চেয়ে সোজা, এটুকু গ্যারান্টি দিতেই পারি।
৪। পেশাবের ছিটা থেকে বাঁচার ব্যাপারে অনেকেই গাফেল। এই অশুচি কাজটা থেকেও বেঁচে থাকতে হবে।
৫। অন্যের হক নষ্ট করার কারণে অনেকের কড়া শাস্তি হতে দেখেছি।
৬। আরেকটা বিষয় সেভাবে জোর দিয়ে বলা হয়নি, তো বলেই ফেলি। বান্দাকে যখন কবরে প্রশ্নোত্তরের পর্বের জন্য জাগিয়ে তোলা হয়, তখন আমার ভেতরের পরিবেশটা এমনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়, যেন আসরের ওয়াক্ত প্রায় শেষ হয়ে আসছে।
বস্তুতঃ এটা কবরে বান্দার জন্য একটা মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা। যারা সত্যিকারের সালাত আদায়কারী বান্দা, উঠার পর তাঁদের কাছে মনে হয়, একটু যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলো আর এর ফাঁকে আসরের ওয়াক্ত প্রায় শেষ! সবকিছু ভুলে এরা আসরের সালাতটা পড়ার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে।
কিন্তু সাথে সাথে ফেরেশতারা এই মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায় তাঁদের সফলতার সুসংবাদ জানিয়ে দেন যে, বারযাখী জীবনে আর সালাতের প্রয়োজন নেই, এই তৈরি করা সিচুয়েশনটা আসলে একটা পরীক্ষা ছিলো মাত্র।
কিন্তু সালাতের সাথে যাদের নিয়মিত সম্পর্কই নেই, তারা এই পরীক্ষায় পাশ করা দূরের কথা, এটা যে পরীক্ষা- তাও ধরতে পারবেনা। সালাত এভাবেই ঈমান আর কুফরের পার্থক্য করে দেয়।
সুতরাং, যারা কবরের প্রশ্নোত্তর পর্ব সহজে পাশ করতে চাও, কোনোভাবেই সালাতের ব্যাপারে গাফেলতি করো না।
এই-ই মোটামুটি বলার ছিলো তোমাদের প্রতি। প্রত্যেকের সাথেই আমার দেখা হবে। আমার পরে আরো স্টেশন আছে। তবে, আমার ধাপটা যারা সুন্দরভাবে উতরে যাবে, তাঁদের জন্য বাকি ধাপগুলোও সহজ হয়ে যাবে বলে আশা করি।
আমি হুকুমের গোলাম। তোমাদের ভয়ানক চাপ দিয়ে গুঁড়াগুঁড়া করে ফেলার আদেশ পেলে আমার কিছুই করার থাকেনা।

শুধু এটুকুই বলবো, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না নিয়ে কেউ এসো না, কেমন? বিশ্বাস করো, কবরের চাপ এমন ভয়াবহ এক যন্ত্রণা- সহ্য করতে পারবেনা।

তাই, আজ থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করো, যেন পুনরূত্থান অব্দি আমার বুকে ফুলের বাগান বানিয়ে আরামে ঘুমাতে পারো।
ঈমানদারদের জন্য শুভকামনা। তোমাদেরকে সুন্দরভাবে বরণ করার অপেক্ষায় ...

'আমি কবর বলছি'
লেখাঃ Rubayat E Raihan
Page: Quranic Arabic Learning - Rubayat E Raihan
_______

Address

Dhaka
7300

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bastob News BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share