17/09/2026
তলে দৃষ্টি দাও?
*************
মাফ করবেন গল্পটি কেউ ঋণাত্মকভাবে নিবেন না। চাইলে এর গভীরতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন। রান্নাঘরে বউ চুলায় রান্না করছে। সঙ্গে লাউ কাটছে। এদিকে লাউ কাটছে তো কাটছেই, তরকারি যে জ্বাল দিতে দিতে পুড়ে যাচ্ছে সেদিকে বউএর কোনো খেয়াল নেই। শাশুড়ি পাশেই বসা।
বউকে ধমক দিয়ে সে বলে- বউ লাউ কাটো বেশ ভালো, তলে দৃষ্টি দাও? অর্থাৎ লাউ কাটছো ঠিক আছে কিন্তু তলে তো দৃষ্টি দিচ্ছো না! গভীর দৃষ্টি তো দিচ্ছো না! লাউ কাটছো তো কাটছো এদিকে যে চুলায় জ্বাল দিতে দিতে তরকারি পুড়ে যাচ্ছে সেদিকে তো খেয়াল রাখছো না! বউ এদিকে তলে দৃষ্টি দেয়া বলতে বুঝেছে অন্য কিছু। নিচের কাপড় হয়তো পড়ে গেছে, তাই সে কাপড় ঠিক করার জন্য নিচের দিকে তাকায়!
পরিতাপের বিষয় আজকাল মুসলিম জাতি তলে দৃষ্টি দিতে অক্ষম। গভীরভাবে কোনো কিছু অনুভব না করেই কাজ করে ফেলে। দূরদর্শী হবার যোগ্যতা হারিয়েছে তারা। মহান আল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেছেন তোমরা ইহুদিদের বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। মহানবী (স)ও নিষেধ করেছেন। কিন্তু তারপরও সৌদির ঘোমটাওয়ালারা ইহুদিদের ভাই, বন্ধু এমনকি পিতার চেয়েও আপন করে নিচ্ছে। ই*স*রায়েলের কুটচাল যদি বিশ্বের মুসলমানগণ ধরতে অক্ষম হয় তবে তারা সারাজীবন মার খেয়েই যাবে, মার দিতে আর পারবে না। বর্তমানে বিশ্বের মুসলিমদের আবেগ টলমল করছে। কোনো কিছুর গভীরতা উপলব্ধি করতে পারছে না।
নির্যাতিত, নিপীড়িত ফালাস্তিনের পক্ষে যখন ই*রান, হু*থিরা দাঁড়িয়ে আধিপত্যবাদীদের কুপোকাত করার অতি নিকটবর্তী ঠিক তখনই ই*সরায়েল ও তার সৌদির ঘোমটাওয়ালা দোস্ত অন্য চাল চালছে। মক্কায় এ্যা*টাক করে নাম দিচ্ছে হুথির। নাম দিবে ইরানের। লাভ? লাভ হচ্ছে সারাবিশ্বের টলমল করা আবেগগুলো কাজে লাগাবে। আবেগী সমর্থন আদায় করে বছরের পর বছর ধরে নির্যাতিত, নিপীড়িত হুতিদের ওপর আ*ক্রমণ করে তাদের শেষ করে দেবে।
মহানবী (স) এর আদর্শ নিয়ে চলা, নিপীড়িত ফালাস্তিনের পক্ষে থাকা হুথিরা মক্কায় হা*মলা করবে এগুলো ই*সরায়েল আর তার ঘোমটাওয়ালা দোস্ত বোঝাতে সক্ষম হবে তাদেরই যারা মাথামোটা মুসলিম ; সচেতন মুসলিমদের নয়।
সিফফিনের যুদ্ধের কথা স্মরণ করুন যুদ্ধের একপর্যায়ে হযরত আলী (রা.)-এর বাহিনী যখন জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখন পরাজয় এড়াতে হযরত আমর ইবনুল আস (রা.) মুয়াবিয়া (রা.)-কে এই বুদ্ধি দেন। তাঁরা বর্শার মাথায় কুরআন উঁচিয়ে ধরেন এবং চিৎকার করে বলতে থাকেন, "আসুন, আমাদের এবং আপনাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব (কুরআন) ফয়সালা করুক"।
এটি দেখার পর হযরত আলী (রা.)-এর বাহিনীর একটি বড় অংশ আবেগী হয়ে পড়ে এবং যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানায়। হযরত আলী (রা.) তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে, এটি একটি যুদ্ধের কৌশল বা চাল, কিন্তু সৈন্যরা তাঁর কথা শোনেনি। কেউ কেউ বর্ণনা করেন বর্শার অগ্রভাগে কুরআন ছিলো না। যুদ্ধক্ষেত্রে কুরআন আসবে কোথা থেকে। এটা ছিলো মুয়াবিয়াদের চাল।
১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ই*সরায়েল নিজেই তাদের সবচেয়ে বড় মিত্র আমেরিকার একটি জাহাজে হা*মলা চালিয়েছিল।
১৯৬৭ সালের ৮ জুন, যুদ্ধ চলাকালীন ভূমধ্যসাগরে সিনাই উপদ্বীপের উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর গোয়েন্দা জাহাজ ইউএসএস লিবার্টি (USS Liberty)-র ওপর ই*সরায়েলি বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনী একযোগে এই ভয়াবহ হা*মলা চালায়।
ইস*রায়েলি যুদ্ধবিমান ও টর্পেডো বোটের এই হা*মলায় ৩৪ জন মার্কিন নাবিক ও কর্মকর্তা নি*হত হয় এবং ১৭১ জনেরও বেশি মানুষ আ*হত হয়।
এই হামলার উদ্দেশ্য কী ছিলো বলুন তো? উদ্দেশ্য ছিলো আরব বিশ্বের নাম দেয়া। যেনো আমেরিকা যুদ্ধে জড়িয়ে প্রবলভাবে আরব দেশগুলোর ওপর হা*মলা করে।
টুইনটাওয়ারে হা*মলা চালানোর সক্ষমতা কি বিন লাদেনের ছিলো? নাকি নাটক তৈরি করে মুসলিম বিশ্বে হামলার অজুহাত সৃষ্টি করেছিলো আ*মেরিকা!
কারবালা পরবর্তী ইয়াজিদ বাহিনী মক্কার আশেপাশের পাহাড়ে (যেমন জাবালে আবু কুবাইস) মিনজানিক (পাথর ও অগ্নি-গোলা ছোঁড়ার প্রাচীন যন্ত্র) স্থাপন করে। তারা পবিত্র কাবার ভেতরে অবস্থান নেওয়া জুবায়ের বাহিনীর ওপর লক্ষ্য করে অবিরাম পাথর ও জ্বলন্ত অগ্নি-গোলা নিক্ষেপ করতে থাকে।এই আক্রমণের ফলে পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ ও কাঠের কাঠামোতে আগুন ধরে যায় এবং কাবাঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি কাবাঘরে স্থাপিত পবিত্র 'হাজরে আসওয়াদ' বা কালো পাথরটিও অতিরিক্ত উত্তাপে ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে সৌদির ঘোমটাওয়ালা নেতা*নিয়াহুর দোস্তের মাঝে ইয়াজিদের ছোঁয়া লেগেছে। সে আরবের মতো পবিত্র ভূমিতে অর্ধনগ্ন গায়িকাদের দ্বারা কনসার্ট করায়। রাজপুত্রদের বন্দী করে। খাশোগিকে হ*ত্যা করে। মেয়েদের অর্ধনগ্ন করে বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ায়। ই*হুদিদের স্বার্থ রক্ষায় সে প্রাণপণ চেষ্টা চালায়। সর্বোপরি পবিত্রভূমি রক্ষা করতে সে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা না করে ভরসা করে মার্কিন সেনাদের ওপর।
যেই পবিত্র ভূমিতে আমার প্রিয় নবীর (স) পদার্পন হয়েছিলো সেই পবিত্র ভূমিতে অপবিত্র মার্কিন ঘাটি!
পরিশেষে বলবো মুসলিম বিশ্বের উচিৎ তলে দৃষ্টি দিয়ে পদক্ষেপ নেয়া। ভেবে চিন্তে কাজ করা। নে*তানিয়াহু ও তার ঘোমটাওয়ালা দোস্তের ফাঁদে পা না দেয়া।
মহান রবের দরবারে ফরিয়াদ 🤲 - হে মহান রব, আপনি আমাদের মাঝে খালিদ বিন ওয়ালিদ, সালাউদ্দিন আয়্যুবি, সাইফুদ্দিন কুতুজ, সুলতান ফাতিহদের মতো প্রবল সাহসী বীর তৈরি করে দিন। 🤲