20/09/2026
একটা আইফোন!! একটু সঠিক প্যারেন্টিং!!
বাচ্চাটার নিখোঁজ হওয়ার নিউজের শিরোনাম দেখলাম। দেখেই মনে হচ্ছিল, 'মনেহয়না বাচ্চাটাকে আর পাওয়া যাবে', মানে জীবিত আর কি। কারন হাজার হলেও এটা তো বাংলাদেশ!!
তবে এইটা নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছিনা, বলতে চাচ্ছি আরেকটা বিষয় নিয়ে সেটা হলো, শিরোনামে যখন দেখলাম, মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ!! তখনই একটু হিসাব-নিকাশ করছিলাম আর কি, কিরকম হতে পারে সিনারিওটা। ভেবে দেখলাম, মায়ের আইফোন নিয়ে ছেলে কখনও এমনি এমনি বের হয়ে যায়না। মায়ের পারমিশন আছে বলেই পেরেছে। মায়ের মোবাইল হাতে নেয়ার সাহস সব বাচ্চার থাকেনা বা থাকার কথা না, কারন মোবাইল একটা পারসোনাল জিনিস, যেমন বাবার ওয়ালেট আর মায়ের ভ্যানিটি ব্যাগ।
এখন কথা হলো, এই ম্যানার টা বাংলাদেশের কতজন মা-বাবা শিখায়???
এরপর বাচ্চাটার মৃত্যুর খবর পেলাম। মনে হলো আমার কলিজাটাই জ্বলে পুরে যাচ্ছে!!! বাবা-মায়ের জন্য এই ব্যাথা চিরন্তন ব্যাথা, অপূরনীয়!!
এরপর সিসিটিভি ফুটেজ দেখলাম, অপ্রতিম কোন একটা ছেলের সাথে হ্যান্ডশেক করছে, সাবলিল ভাবে হেঁটে যাচ্ছে। ১৩ বছরের বাচ্চা হলেও তার মধ্যে বেশ ম্যাচিয়র এটিটিউড, বাবার মুখে শুনলাম সে বন্ধুদের সাথে নামাজ পড়তে যায়, বাসায় এসে খায়। তার মা বলছে, পুরো এলাকা প্রতিমের চেনা। তার মানে ১৩ বছরের বাচ্চা হলেও বাবা- মা তাকে যথেষ্ট ফ্রিডম দিয়েছে। আমি যথেষ্ট সাধুবাদ জানাই এই ধরনের প্যারেন্টিং এর। বাচ্চাকে ছয় মাস বয়স থেকে যেমন নিজের হাতে খাওয়া শিখানো উচিত। তেমনি স্কুলে যাওয়া শুরু করলেই নিজের কাজ নিজে করা থেকে শুরু করে নিজে নিজে স্কুলে যাওয়া আসাও শিখানো উচিত। কিন্তু সেটার একটা বাউন্ডারি সেট করাও জরুরী।
যেহেতু অপ্রতিমের বাবা-মা দুইজনই ওয়ার্কিং ম্যান এন্ড ওম্যান বাচ্চাকে তাদের সময় দেয়ার মত এত সময় নেই তাই তারা বাচ্চাকে স্বাধীনভাবে, সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। কিন্তু সমস্যা আসলে ওইটাই, আইফোন!!!
আমার চারিদিকে তাকালেই আমি দেখতে পাই ৮০% বাবা-মা ই তাদের বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখতে এবং নিজেদের মত নিজেরা সময় কাটাতে মোবাইল/ডিভাইস দিয়ে দেন। বেশীরভাগ বাচ্চাই ডিভাইস আসক্ত। এমনকি এইসব বাবা-মায়ের ধারনা তাদের বাচ্চাদের ডিভাইস দেয়াটাই বেস্ট প্যারেন্টিং কারন বাচ্চা আধুনিক যুগের তাই আধুনিকতার থেকে যেন বাচ্চা পিছিয়ে না পড়ে তাই ডিভাইস ব্যবহারই জরুরী। নিজেদের মোবাইল তো তারা বাচ্চার হাতে দেয়ই এমনকি বাচ্চার জন্য তারা ডেডিকেটেড ডিভাইসের ব্যবস্থা করে। জন্মদিনে বাচ্চাকে ডিভাইস উপহার দেয়।
অপ্রতিম ও এমনই একটা উচ্চশিক্ষিত ,ম্যাচিয়র পরিবারেরই সন্তান যেখানে তার হাতে আইফোন তুলে দেয়া হয়েছিল তাকে স্মার্ট করে গড়ে তোলার জন্য, হয়তো তার বাবা-মা এই পথ টাই সহজ এবং ফলপ্রসু মনে করেছিলেন। কিন্তু আদৌ কি ডিভাইস তাকে স্মার্ট করেছে?? সে কি বন্ধু আর হ'ত্যা'কারীর মধ্যে পার্থক্য করতে পেরেছে?? সে কি আইফোনের সঠিক ব্যবহার করতে পেরেছে?? নাকি এই আইফোনই শেষ পর্যন্ত তার জীবন কেড়ে নিয়েছে??
একটা ১৩বছরের বাচ্চার এইসব জানা বা বুঝার কথাও না। কিন্তু আজকাল বাবা-মা রাই বাচ্চাদের নিষ্পাপ শৈশব কেড়ে নিচ্ছে হাতে ডিভাইস তুলে দিয়ে। বাচ্চাকে ওভার স্মার্ট বানানোর ধান্দায় তারা বেসিক শিক্ষাও দিচ্ছেনা, তাদের ধারনা AI এর যুগ বাচ্চা সব এমনি ই শিখে যাবে।
সমাজে কিছু ঘটনা ঘটে অন্যদের জন্য উদাহরণ সরূপ। অপ্রতিমের ঘটনাটিও তেমনই একটি ঘটনা যেখান থেকে বাবা-মায়ের শিখা উচিত কখন লাগাম টানতে হবে, কোথায় গিয়ে থামতে হবে তথা থামাতে হবে।
অপ্রতিম আর ফিরে আসবেনা, কিন্তু প্রতিটা ঘরে এখনো ডিভাইস/ মোবাইল আসক্ত বাচ্চা রয়ে গেছে যারা আমাদের ভবিষ্যৎ!!
বাচ্চাকে আধুনিক বানানোর আগে মানুষ বানান!