Golpo Tone

Golpo Tone হৃদয়ে কবি, আবেগে শব্দ বুনেন। জীবনের ছন্দের সাথে নৃত্য করা শ্লোক। ভাষার সৌন্দর্য এবং প্রকাশের শক্তিতে

13/03/2026
মহুয়া লেখিকা_আনিকা_আফরিনপর্ব ২ তিন বছরের মাথায়, আল্লাহর রহমতে আমার গর্ভে সন্তান আসে।তখন শারীরিক নি/র্যা/ত/ন, বন্ধ করে ...
23/02/2026

মহুয়া
লেখিকা_আনিকা_আফরিন
পর্ব ২

তিন বছরের মাথায়, আল্লাহর রহমতে আমার গর্ভে সন্তান আসে।
তখন শারীরিক নি/র্যা/ত/ন, বন্ধ করে শুরু হয় মানসিক নি/র্যা/ত/ন...
প্রতিদিন বাইরের মেয়ে নিয়ে আসে, আমার ঘরে, আমার বিছানায় রঙ্গ নিলয় মেতে ওঠে।
একদিন বাধা দেওয়ার কারণে। উনি এবং উনার সঙ্গে আনা মেয়েগুলো। আমাকে ভীষণ মারধর করে। আমার গ/র্ভে পা/ড়া দিয়ে আমার ছয় মাসের সন্তানটাকে ন/ষ্ট করে দেয়।

সেদিনের মরে যেতাম। জানিনা কেন ..?
আল্লাহতালা আমাকে বাঁচিয়ে রাখলেন।
যত দিন যায় তত বাড়ির ভিতরে বে/শ্যা/পানা বাড়তে থাকে।
আর বারতে থাকে আমার উপর নি/র্যা/ত/ন

আর একটা কথা জানিস কি..?

আমার ছোট জায়ের সাথে ওনার দীর্ঘদিনের। প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
ছোট দেবোর একদিন দেখতে পেয়ে বাধা দেওয়ায়।
উনাকে মেরে ঘরের ভিতরে মাটি চাপা দিয়ে দিয়েছে।
আর আজকে ওরা বিয়ে করে আমাকে তাড়িয়েছে।
আমি অনেক চেষ্টা করেও সংসারটা টিকিয়ে রাখতে পারিনি,

কথাগুলো শুনে মহুয়ার চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা নোনা পানি ঝরে পড়ল।

—তুই কাঁদছিস কেন পাগলি...? আমার কপালটাই খারাপ...
—কবিরকে মরতে হবে আপা... অমানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নেই।
—তুই এসবে জড়াস না মহুয়া... ওরা খুব ভয়ংকর মানুষ।
—মহুয়া ভয় পায় না আপ...
—না মহুয়া...
—হ্যাঁ আপা... সময়ের সাথে দেখতে পাবে...
আমি আসছি আপা।
—মহুয়া... এই মহুয়া...
মহুয়া কথার না শুনেই বেরিয়ে গেল।

"প্রায় সন্ধানে নিমে এসেছে"

মল্লিকা এসেছে, মহুয়া আগুন দৃষ্টি নিয়ে অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।
মল্লিকা মহুয়া কে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল: সখি ডাকছো আমারে...
—হ্যাঁ...
—ক্যান..?
—তোর শ্যামরে নৌকা নিয়ে ঘাটে থাকতে বলবি, বের হব রাত্রে ।
—আচ্ছা, কিন্তু কই যাবি..?
—বাজারে...
—আচ্ছা... আমি যাই তাহলে।
—আচ্ছা যা...
—কখন বের হইবে...
—অন্ধকার নামে...

"রাতের খাবার শেষ"
অন্দর একদম নিরব।
সদর দরজার বাইরে করা পাহারা।
তাই ছাদের গাছ বে নামতে হবে।

মহুয়া শরীরে বোরখার সাথে একটা নিকাব বেধে নিল।
সঙ্গে ধারালো একটা চাপাতি।

কালিন্দির ঘাটে, মল্লিকা ও তার শ্যাম প্রেম আলাপ করছে।
তখনই ঘাটে উপস্থিত হলো মহুয়া।
—আইছো সই..? ব ও তাড়াতাড়ি..

মহুয়া উঠে বসে বললো: মাঝি নৌকা ছাড়ো,
—আমি কিন্তু মাঝি নই আপা, তোমার লাইগা নৌকা বাই...
— আচ্ছা নৌকা ছাড়ো আর মাঝি বলবো না....
—শ্যামা মৃদু হেসে নৌকা বাইতে শুরু করল...
—সঙ্গে গাইছে গ্রামীণ ভাটিয়ালি গান....
শ্যামার কন্ঠ বেশ সুন্দর,, চারিদিকে নিস্তব্ধতা। ও নৌকার পালের শব্দে। গানটা বেশ সুন্দর লাগছে।

কিছুক্ষণের মধ্যে নৌকা ঘাটে এসে থামল, এখন পাড়ি দিতে হবে জঙ্গলের একটা পথ। দুই দিকে ঘন জঙ্গল। মাঝখান দিয়ে, এঁকে বেঁকে গেছে বাজারের পথ।
নদীর ঘাট থেকে বাজার। বেশ অনেকখানি পথ হাটতে হবে।

—তোমরা এখানেই থেকো আমি তাড়াতাড়ি ফিরব...
—না সই...তোকে একা যেতে দিতে পারি না... আমাকেও সাথে নিয়ে চল...
—আচ্ছা তাড়াতাড়ি চল.. রাত বেশি গভীর হয়ে যাচ্ছে...

মল্লিকা ও মহুয়া, বাজারের একটা সোনার দোকানে গেল।
—চাচা তৈরি করা জিনিস আছে সোনার রুপার।
—হ্যাঁ আছে আম্মা... তোমরা ব ও আমি বাক্সটা বের কইরা আনি...

কিছুক্ষণ পর বয়স্ক লোকটা একটা বাক্স এনে বললেন: এইহান থাইকা দেহো আম্মা কোনটা পছন্দ হয়..

মহুয়া দুইটা সোনার আংটি, ও একটা রুপোর ছুরি নিলো।
চুরিটা মল্লিকের হাতে পরিয়ে দিল।
— এইটা তোর সইয়ের স্মৃতি.. নিজের কাছে রাখ...
—মল্লিকা মৃদু হেসে সম্মতি জানালো...
অতঃপর আংটি দুইটা প্যাকেট করে নিল।
রাত একটু বেশি গভীর হয়েছে।
চারিদিকের কুয়াশা। রাত্রি আরও বেশি অন্ধকার করে তুলেছে।
—মল্লিকার হারিকেনের আলো টা একটু বাড়িয়ে দে...
পথ বেশি অন্ধকার।
—দিচ্ছি সই... দেইখা পা ফেলাইও। জঙ্গলের রাস্তা পোকামাকড় বাইর হইবে।
_—আচ্ছা চল তাড়াতাড়ি.... আম্মা আবার টের পাবে।

কিছুটা দূরে আরও একটা আলো দেখা যাচ্ছে।
মনে হচ্ছে কোন পুরুষ,
আরো কিছুটা এগিয়ে যেতেই পরিষ্কার হলো।
দুইজন পুরুষ একটা মেয়েকে গভীর জঙ্গলের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

—মল্লিকা, হ্যারিকেনের আলো কমা...

একটা বড় গাছের নিচে মল্লিকা কে আড়াল করে। মহুয়া বসিয়ে দিয়ে বলল: চুপচাপ এখানেই বসে থাক কোন শব্দ যেন না হয়...
—কিন্তু তুই কই যাবি সই...
—মেয়েটাকে বাঁচাতে হবে...

বলেই বোরকার নিচ থেকে বাড়ি থেকে আনা চাপাতিটা বের করল মহুয়া।
জঙ্গলের দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোর পিছনে দাঁড়িয়ে চুপি চুপি অনুসরণ করতে থাকে লোক দুটোকে।
চারিদিকে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ আসছে।
অন্ধকার রাতে, ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

লোক গুলো এতক্ষণে জঙ্গলের অনেকটা মাঝখানে চলে এসেছে।
সামনে চোখ করতে দেখা গেল। মাটির তৈরি একটা কুটির।

সেখানে আরও পাঁচজন পুরুষ নেশা দ্রব্য গ্রহণ করে। জ্ঞানশূন্য হয়ে টলছে।

কুটিরের ভেতরে আরো কিছু মেয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

মহুয়া হঠাৎ গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে। একটা পুরুষের ঘাড়ের পিছন থেকে চাপাতি চালায়।

এক আঘাতেই। লোকটার মাথা ঘাট থেকে আলাদা হয়ে যায়।
পাশের লোকটা কিছু বুঝে ওঠার আগেই কপালে ভারী আঘাতের কারণে। মাটিতে লুকিয়ে পড়ে। মহুয়া আরেকটা আঘাত করে। মনে হচ্ছে প্রাণ ত্যাগ করেছে।

মেয়েটার চোখে কালো কাপড় বাধা। তাই এখনো কিছু বোঝেনি কি হয়েছে এখানে।

কিছু একটা শব্দ পেয়ে। কুটিরের সামনে মাদুর বিছিয়ে বসে থাকা। নেশাদ্রব্য গ্রহণ করা মানুষগুলো। টলতে টলতে এগিয়ে আসে। তাদের প্রত্যেকের ঘর থেকে মাথা আলাদা করেছে মহুয়া।
কালো বোরকাটা রক্তে ভিজে গেছে।

নেশা আসক্ত থাকার কারণে। তাদের মারতে বেশি কষ্ট হয়নি। মহুয়ার।

জঙ্গলের সবুজ ঘাস গুলো লাল রং ধারণ করেছে। আর একপাশে পড়ে আছে মাথা, আর এক পাশে দেহ,

মহুয়া মৃত্যু দেহগুলো উপর দিয়ে পার হয়ে। মেয়েটিকে নিয়ে গেল। কুটিরের দিকে।

মেয়েগুলোর চোখ হাতের বাঁধন খুলে দিল। এরপর কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে রইল।
মেয়েগুলো সবাই ছুটে এসে মহুয়াকে জড়িয়ে ধরে কৃতজ্ঞতা জানালো।

—তোমাদের সকলের বাড়ি কই...?
কেউ জানানোর শহরে, কেউ পাশের গ্রামে।
—তোমরা এসো আমার সাথে...

বেরিয়ে যাওয়ার আগে, কুটিরের কোনে রাখা একটা দল চোখের উপর চোখ পরল মহুয়ার।
জলচৌকি উপরে রাখা হাত ঘড়ি, এবং কাপড়, জলচৌকি নিচে রাখা, নাগড়া জুতা উপরে চোখ যেতে। কপাল কুচ কে এলো।
এগুলো আমজাদ সওদাগরের কাপড়। ও প্রতিদিনের ব্যবহৃত জিনিস।

বাপকে তার কোন কালেই পছন্দ না,
আর না পেয়েছে কখনো বাপের ভালোবাসা।
তার বাপ যে এসবের সাথে জড়িত তা বোঝার বাকি রইল না।
এটা বিশ্বাসযোগ্য। এই লোকের দ্বারা এসব সম্ভব। কপালে ভাঁজ নিয়ে মেয়েদেরকে নিয়ে বেরিয়ে গেল মহুয়া।

মহুয়া
লেখিকা_আনিকা_আফরিন

সালটা ১৯৯৬, প্রথম জানুয়ারি,,,চারিদিকে এখনো ভোরের আলো ফোটেনি।  গাছের পাতাগুলো অন্ধকারে ছেয়ে আছে। চারিদিকে নীরবতা কাটিয়...
14/02/2026

সালটা ১৯৯৬, প্রথম জানুয়ারি,,,
চারিদিকে এখনো ভোরের আলো ফোটেনি।
গাছের পাতাগুলো অন্ধকারে ছেয়ে আছে।
চারিদিকে নীরবতা কাটিয়ে, দূর থেকে ভেসে আসছে ।
কারো মরা কান্নার আওয়াজ,,,

—গিন্নিমা আপনি হুনছেন...? করিমের মাইয়াডারে কেডা জানি..?মাইরা বটতলায় ফেলায় রেখে গেছে...
মাথায় মনে হয় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেছে। মাথাটা পুরো থেতলে গেছে। দেইখা চেনার উপায় নাই।

করিমডার তিন কুলে আর কেউ নাই। একটা মাইয়া ছিল। তাও তো কারা জানি কাইরা নিল।
করিমডা খুব ভাঙ্গে পড়ছে।
কি যে শুরু হইল গেরামটাতে। আল্লাহ মালুম,,
আল্লাহর গজব পড়ুক। ওই জানোয়ারদের উপর।

হাজেরা সওদাগর,,
রুটি বেলতে বেলতে বললেন: আল্লাহ মেয়েটাকে জান্নাতবাসী করুক... গ্রাম টাকে জানোয়ারদের হাত থেকে রক্ষা করুন... জানিনা আর কতদিন এসব মেনে চলতে হবে....

রান্না ঘরের দরজা ধরে দাঁড়িয়ে। প্রতিটা কথা শুনছে মহুয়া।
প্রতিটা কথার ধ্বনি কানে আসতে। বুকের ভেতরটা যেন মুছরে উঠছে তার।
— আম্মা...
—কি হয়েছে...?
—আমি মেয়েটাকে দেখতে যেতে চাই আম্মা...
—না... তোকে যেতে হবে না....
—আমি মুখ ঢেকে যাব... কেউ আমাকে দেখবে না আম্মা...
—আমাকে রাগাস না মহুয়া.... ঘরে গিয়ে ঘরের কাজগুলো গুছিয়ে ফ্যাল...
মহুয়ার কথা বলবে না মন খারাপ করে নিজের ঘরে চলে গেল।

ঘরে থাকা ক্যালেন্ডারে চোখ পড়তেই। মনে পড়লো আজকে বড় আপার জন্মদিন।

তাই ছোট ভাই শিহাবকে ডাকে।
শিহাব এই শিহাব ,,শিহাব। কইরে আপা ডাকি শুনে যা।

মহুয়ার সৎ মা জানালেন: শিহাব খেতে গেছে সবজি আনার জন্য... তারে ক্যান ডাকো মহুয়া...

—ও বাড়ি ফিরলে আমার কাছে পাঠাইও ছোট আম্মা.. ওর সাথে দরকার আছে....

জাহারা হলেন মহুয়ার সৎ মা। তার যখন দুই থেকে তিন বছর বয়স। হাজেরা সওদাগর। কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায়। আমজাদ সওদাগর দ্বিতীয় বিয়ে করে।
বড় বোন যাহারা কে মেনে নিতে না পারলে। মহুয়া ও বকুল মেনে নিয়েছে নিজের মা হিসেবে। যাহারা তাদের নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসে।

ছোট থেকে আদর ভালোবাসা দিয়ে বড় করে তুলেছে। মায়ের মত মমতা দিয়ে এসেছেন। ছোট বোন বকুলের ১৩ বছর বয়স। মহুয়া ষোল বছর বয়সে কিশোরী।

বড় বোনের বিয়ে হয়েছে আরো কয়েক বছর আগে।

ছোট ভাই শিহাব। ১৪ বছর বয়স,, যাহারা সন্তান শিহাব।

—আপা আমারে ডাকছো...?
—হ্যাঁ...
—কিছু কইবা..?
—হ্যাঁ ..
—কি করতে হইবে.. আমারে একবার খালি কও.. আমি এখনই কইরা দিমু...
— মল্লিকা কে গিয়ে বলবি আপা ডেকেছে..
—আচ্ছা আপা আমি এহনই যাইতাছি..
—আর শোন.. শুদ্ধ ভাষায় কথা বলার অভ্যাস কর...
— জ্বী আপা...
— আচ্ছা তাড়াতাড়ি আসতে বলিস।
— আমি যাই তাহলে আপা...

মহুয়া জানালার পাশে দাঁড়িয়ে কাঠের জানালাটা খুলে দিল।
বাইরের মিষ্টি রোদের ঝিলিক এসে পরলো তার ফর্সা মুখে।
ছোট্ট মাথায় হাজাররকম প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে।
কে বা কারা, এমন খুনখারাবিতে মেতে উঠেছে।

আর শুধু কিশোরী মেয়েদের কেন..? মেয়েদের সাথে তাদের কিসের শত্রুতা...?

তখনই পিছন থেকে বেশি এলো বকুলের কণ্ঠস্বর:— আপা তুমি কিছু শুনছো...?
—হ্যাঁরে বকুল... সকালে আমেনা খালার কাছে শুনছি...
—গ্রামটাতে যেগুলো কি শুরু হইলো আপা...
—হ্যাঁরে বকুল.. তুই সেখানে গিয়েছিলি নাকি..?
—হ্যাঁ.. পুলিশ এসেছে... তদন্ত করছে,,
—কি মনে হয়..? আসামি বের হবে ...?
—আমি জানিনা আপা... গত বছরও তো কত মেয়ের লাশ পাওয়া গেল। কই একটা আসামি তো বের হলো না। এবার আর নতুন কি...?
এবারও যে হবে না তা খুব ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছে...
জানিনা আর কত কিশোরী এই ঘটনা স্বীকার হবে,,

আম্মা তোমারে খেতে ডাকছে। খেতে চলো,,,

—তুই যা আমি আসতেছি....
—তাড়াতাড়ি এসো আপা...
বলেই বকুল খাওয়ার ঘরের এল,
বকুলকে একা আসতে দেখে হাজারা সওদাগার বলে উঠলেন: বকুল তুই একা আসলি যে.. মহুয়া কই..?
—আপা আসতেছে আম্মা...
—আচ্ছা তুই মাদুর পেতে বোস আমি ভাত দেই...

মহুয়ায় এসে মাদুর বিছিয়ে বসতে বসতে বলল: —আম্ম তোমার একটা কথা কই...?
—বল ...
—বড় আপা কবে আসবে আম্মা.. কতদিন হয়ে গেল বড় আপা এই বাড়িতে আসে না...
হাজরা সওদাগর প্লেটে খাবার দিতে দিতে বললেন : আসার জন্য খবর পাঠাবো। তুই এখন খেয়ে নে,

কিছুক্ষণ আগেই বকুল খাওয়া দাওয়া করে। আঙ্গিনার রোদে একটা পাঠাচ্ছি আর নিয়ে বসেছে। বাড়ির গেটে কারো কড়া পরছে।

তাই বকুল উঠে গেল সদর দরজা খোলার জন্য।
দরজা খুলতে এই চোখ গুলো বড় বড় হয়ে গেলো।
চিৎকার দিয়ে বলল: আম্মা, বড় আপা,,,
ওর চিৎকার শুনে, হাজরা সওদাগর তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে এলেন।
পিছু পিছু মহুয়া ও ভাতের প্লেট হাতে নিয়ে বেরিয়ে এলো।
সামনে থাকা মানুষটির দিকে চোখ করতেই। হাত থেকে ভাতের প্লেটটা পড়ে গেল মহুয়ার।

মোহিনী ছুটে এসে। মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলো।

—আম্মা তোমার মেয়ে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সংসারটা টিকিয়ে রাখতে পারেনি আম্মা...
উনি আমাকে কোনদিন ভালোবাসিনি আম্মা,,,
উনি আমাকে ছেড়ে দিয়েছে...
আমার পেটে বাচ্চাটাকে বাবা ডাকতেছে বঞ্চিত করেছে আম্মা,,,
তোমার মেয়ে সংসার করতে পারেনি আম্মা,,,

মোহিনীর পুরো শরীরে মাটির লাগানো। চুলগুলো এলোমেল। মনে হচ্ছে চুল ধরে কেউ মাটিতে। ছেচরা দিয়েছে।
শরীরে অসংখ্য মাইরের দাক।

ডান হাতটা গরম তেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এতে হাজেরা সওদাগরের, কোন প্রতিক্রিয়ে দেখা গেল না। খুব স্বাভাবিক ও শান্ত কন্ঠে বলল: ঘরে গিয়ে গোসল করে কাপড় পরিবর্তন করে নে মোহিনী...

বকুল মোহিনের হাত ধরে বলল; চলো আপা আমি তোমারে উপরে নিয়ে যাই...

—না বকুল... ওকে একা যেতে দে...
মেয়ে মানুষের ভেঙ্গে পড়তে নেই,,
আঘাত পেয়ে পাথরের মত চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেতে হয় না। নিজেকে লোহার মতো তৈরি কর।
তে ভেঙ্গে নাই। আগুনে পুড়িয়ে যেন। নতুন কিছু তৈরি হয়।
আমার মেয়েদের কে যেন। আঘাত পেয়ে কখনো ভেঙ্গে যেতে না দেখি। যেখান থেকে আঘাতের শেষ। এখান থেকেই নিজেকে আর নতুন করে তৈরি করার চেষ্টা করবে।

মহুয়া এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মায়ের দিকে।—আম্মা আসলে কি দিয়ে তৈরি..?
কোনদিন কারো কাছে কষ্ট প্রকাশ করতে দেখলাম না...
বড় কঠোর মনের মানুষ আম্মা...
তা না হলে আপার এমন অবস্থা দেখে। কিভাবে স্বাভাবিক থাকতে পারে।

চারিদিকে বিকেলের আভাস নেমে এসেছে। শীতকালীন দিন। তাই চারিদিকে আবছা কুয়াশাও মিশে আছে।
মোহিনী ঘরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলে যাচ্ছে।
—আপা তুমি কাঁদছো কেন...? আম্মা কি বলল শুননি..? ভেঙ্গে পড়না আপা...? তোমার সন্তানকে নিয়ে ভাবো.. কেদোনা আপা...
—আমি সহ্য করতে পারছি না রে মহুয়া... ওই বাড়িতে থাকার আমি অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারলাম নারে মহুয়া... শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলাম। কষ্টগুলো মনের ভেতর চেপে রাখতে পারছি না।

—তুই শুনবি আমি পাঁচটা বছর কিভাবে কাটিয়েছি...?

,—হ্যাঁ আপা আমি শুনতে চাই..

—যখন আমি নতুন বিয়ে হয়ে ওই বাড়িতে গেলাম। একটা বছর খুব ভালো কেটেছে, হয়েছিল আমার মত সুখী হয়ত পৃথিবীতে আর কেউ নেই।

একটা বছর যেতেই শুরু হলো আমার উপর নির্যাতন।
কারণটা কি ছিল জানস মহুয়া, আমার বাচ্চা হচ্ছিল না বলে...

এই নিয়ে প্রতিদিন নিয়ম করে। আমার শরীর রক্তাক্ত করতো।
আমি কাউকে বলিনি...

বিয়ের তিন বছরের মাথায়,, আল্লাহতালার রহমতে। আমার গর্ভে সন্তান আসে।

মহুয়া...
লেখিকা_আনিকা_আফরিন
#পর্ব ০১...

প্রথম পর্ব, কেমন হয়েছে অবশ্যই জানাবেন। নেক্সট পর্ব চাইলে। কমেন্ট করুন.. এবং ফলো করুন উপন্যাস প্রেমির আড্ডা

13/02/2026

নেতা সাহেব।

কে কোন জেলা থেকে দিয়েছো। আমি ঢাকা।
12/02/2026

কে কোন জেলা থেকে দিয়েছো। আমি ঢাকা।

11/02/2026

#আমি_পদ্মজা #পদ্মজা

09/02/2026

পদ্মজা যখন লিখনসার শুটিং দেখে

#আমি_পদ্মজা #পদ্মজা

09/02/2026

আবির ভাইকে কে কে ভোট দিবেন হাত তুলুন।
,
,
,
,
,
,
,
,
,


#অমৃত্যু_ভালোবাসি_তোকে

08/02/2026

🥺🥺

08/02/2026

লিখন সার সাথে পদ্মজার প্রথম দেখা

#পদ্মজা #আমি_পদ্মজা

08/02/2026

পদ্মজা

#পদ্মজা

07/02/2026

ভেবে দেখলাম আমি কারো আপন হতে পারিনি

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Golpo Tone posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Golpo Tone:

Shortcuts

Share