Islamic Inspire :: Quranic Verse

Islamic Inspire :: Quranic Verse Peace be upon you... I have created this page to spread the knowledge about Islam...

সেদিন শাওন খুব ভেঙে পড়েছিল। একটার পর একটা সমস্যা আসছিল জীবনে। চাকরি নেই, পকেটে টাকা নেই, কাছের মানুষগুলোও যেন ধীরে ধীরে ...
18/08/2026

সেদিন শাওন খুব ভেঙে পড়েছিল। একটার পর একটা সমস্যা আসছিল জীবনে। চাকরি নেই, পকেটে টাকা নেই, কাছের মানুষগুলোও যেন ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছিল। রাতে ঘুমানোর আগে জায়নামাজে বসে শুধু বলল,
“আল্লাহ, আমি আর পারছি না। আপনি একটু আমার দিকে তাকান…”
কথাটা বলেই অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল সে।
কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটল না।
পরদিনও তার সমস্যা একই রকম ছিল।

কিন্তু কয়েকদিন পর সে বুঝতে পারল, তার ভেতরে একটা জিনিস বদলে গেছে। আগে বিপদ এলে শাওন ভাবতো, “আমার সাথে এমন কেন হচ্ছে?”

এখন ভাবে, “হয়তো আল্লাহ আমাকে এমন কিছু থেকে বাঁচাচ্ছেন, যেটা আমি এখনো বুঝতে পারছি না।”

একদিন সত্যিই তার জীবনের একটা বড় দরজা খুলে গেল।

তখন সে বুঝলো— কখনো কখনো আল্লাহ আমাদের চাওয়া জিনিসটা সঙ্গে সঙ্গে দেন না। কারণ তিনি জানেন, কখন দিতে হবে। আর কখনো যে দরজাটা আমরা বন্ধ হয়ে গেছে ভাবি, সেটাই আসলে আমাদের জন্য অন্য একটা ভালো দরজার দিকে যাওয়ার পথ।

তাই আজ যদি আপনার জীবনটাও একটু এলোমেলো মনে হয়, যদি দোয়া কবুল হচ্ছে না মনে হয়,
তাহলে হাল ছেড়ে দেবেন না। হয়তো আপনার দোয়ার উত্তর আসছে। শুধু আপনার সময় অনুযায়ী নয়, আল্লাহর সময় অনুযায়ী। 🤍

“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।”
— সূরা আশ-শারহ ৯৪:৬

আপনার জীবনে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পরে বুঝেছেন—আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন? 🤍

 #অনুগল্প_২: একবার আটকাকসেদিন লোকটার সঙ্গে আমার দেখা হওয়ার কথা ছিল না।আসলে আমি ওই রাস্তা দিয়েই যাওয়ার কথা ছিল না।কিন্তু ...
12/08/2026

#অনুগল্প_২: একবার আটকাক

সেদিন লোকটার সঙ্গে আমার দেখা হওয়ার কথা ছিল না।

আসলে আমি ওই রাস্তা দিয়েই যাওয়ার কথা ছিল না।

কিন্তু কিছু কিছু দিন আছে, যেদিন আমরা কোথায় যাব সেটা ঠিক করি, আর জীবন ঠিক করে আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে।

বিকেলটা অদ্ভুত রকমের গরম ছিল। বাসটা মাঝরাস্তায় নষ্ট হয়ে গেল। সবাই নেমে যে যার মতো হাঁটা শুরু করল। আমিও হাঁটতে হাঁটতে একটা ছোট্ট চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে গেলাম।

দোকানটা খুব সাধারণ।

টিনের চাল, সামনে তিনটা বেঞ্চ, একটা পুরোনো ফ্রিজ আর চায়ের কাপে চামচ নাড়ার টুংটাং শব্দ।

আমি এক কাপ চা চাইলাম।

দোকানদার চা বানাতে বানাতে হঠাৎ বলল,

“ভাই, আজকে চিনি কম দেব?”

আমি একটু অবাক হয়ে তাকালাম।

“আপনি জানলেন কীভাবে আমি কম চিনি খাই?”

লোকটা হেসে বলল,

“আগেও তো খেয়েছেন।”

আমি চারপাশে তাকালাম।

“আমি?”

“জি।”

“কবে?”

লোকটা এবার আর হাসল না।

“মনে নেই?”

আমি মাথা নাড়লাম।

সে চায়ের কাপটা এগিয়ে দিল।

“মনে থাকার কথাও না।”

কথাটা অদ্ভুত লাগল।

কিন্তু আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না।

চা খেতে খেতে খেয়াল করলাম, দোকানের একপাশে একটা পুরোনো দেয়ালঘড়ি ঝুলছে। ঘড়িটা বন্ধ।

সময় দেখাচ্ছে ৫টা ১৭।

আমি বললাম,

“ঘড়িটা নষ্ট?”

দোকানদার বলল,

“না। ইচ্ছা করেই বন্ধ রেখেছি।”

“কেন?”

সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

“ওই সময়টার কথা মনে রাখতে চাই না।”

আমি হেসে বললাম,

“ঘড়ি বন্ধ রাখলে তো সময়টা ভুলে যাওয়া যায় না।”

লোকটা আমার দিকে তাকাল।

“সব সময় ভুলে যাওয়ার জন্য হয় না।”

কথাটা শুনে আর হাসতে পারলাম না।

আমি চা শেষ করে উঠে পড়লাম।

যাওয়ার সময় দোকানদার বলল,

“আগামী বৃহস্পতিবার আসবেন।”

আমি বললাম,

“কেন?”

“তখন বলব।”

“কী বলবেন?”

লোকটা শুধু বলল,

“আপনি কেন এখানে এসেছিলেন।”

আমি আর দাঁড়ালাম না।

সেদিনের পর কয়েকদিন বিষয়টা মাথায় ছিল।

তারপর ভুলেও গেলাম।

কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে অদ্ভুত একটা ব্যাপার হলো।

আমি নিজের অজান্তেই ওই রাস্তার দিকে হাঁটা শুরু করলাম।

কেন যাচ্ছি, জানি না।

চায়ের দোকানে গিয়ে দেখি দোকান বন্ধ।

শাটারের ওপর একটা কাগজ লাগানো।

আমি কাগজটা খুলে পড়লাম।

মাত্র এক লাইন।

“আজ আর আসবেন না। কাল আসবেন।”

আমি বিরক্ত হয়ে চলে এলাম।

পরদিন আবার গেলাম।

দোকান খোলা।

দোকানদার আমাকে দেখে বলল,

“এসেছেন?”

আমি বললাম,

“হ্যাঁ। এবার বলুন।”

সে চা বানাতে শুরু করল।

তারপর খুব স্বাভাবিকভাবে বলল,

“আপনি গত মাসে এখানে বসে প্রায় দুই ঘণ্টা ছিলেন।”

আমি হেসে বললাম,

“আমি তো প্রথমবার এসেছি।”

“জানি।”

“তাহলে?”

সে কাপটা আমার সামনে রেখে বলল,

“আপনি গত মাসে এসেছিলেন আপনার স্ত্রীকে নিয়ে।”

আমার হাত থেমে গেল।

কারণ আমার স্ত্রী সেদিন আমার সঙ্গে ছিল না।

সে তিন মাস ধরে আমার সঙ্গে কথা বলছিল না।

আমাদের মধ্যে সম্পর্কটা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল।

আমি ধীরে ধীরে বললাম,

“আপনি কীভাবে জানেন?”

লোকটা বলল,

“কারণ সেদিন আপনাদের ঝগড়া হয়েছিল।”

আমার বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল।

“আপনি কী শুনেছিলেন?”

সে মাথা নিচু করল।

“সবটা না।”

“তাহলে?”

“শুধু শেষ কথাটা।”

আমি চুপ করে রইলাম।

লোকটা বলল,

“আপনার স্ত্রী বলেছিল, ‘তুমি যদি সত্যিই আমাকে ভালোবাসো, তাহলে আজ আমার সঙ্গে বাড়ি ফিরবে না।’”

আমি চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালাম।

“আপনি এসব আমাকে কেন বলছেন?”

সে শান্তভাবে বলল,

“কারণ আপনি সেদিন বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন।”

আমি তাকিয়ে রইলাম।

“আর উনি?”

“উনি যাননি।”

“কোথায় ছিলেন?”

লোকটা এবার প্রথমবারের মতো আমার চোখের দিকে তাকাল।

“এই দোকানেই।”

আমার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল।

“কতক্ষণ?”

“রাত ১১টা ৪০ পর্যন্ত।”

আমি কোনো কথা বলতে পারলাম না।

তারপর লোকটা পকেট থেকে একটা ছোট্ট কাগজ বের করে আমার হাতে দিল।

“উনি যাওয়ার আগে এটা রেখে গিয়েছিলেন।”

কাগজটা খুললাম।

স্ত্রীর হাতের লেখা।

মাত্র একটা বাক্য—

“ও যদি কখনো ফিরে আসে, তাকে বলবেন—আমি রাগ করে চলে যাইনি। আমি চেয়েছিলাম, ও একবার আমাকে আটকাক।”

আমি অনেকক্ষণ কাগজটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম।

তারপর দোকানদার বলল,

“আজও কি দেরি হয়ে গেছে?”

আমি মাথা তুললাম।

সে চায়ের কেটলি নামিয়ে বলল,

“কিছু মানুষ চলে গেলে তাদের ফেরানো যায় না।”

একটু থেমে বলল,

“কিন্তু কিছু মানুষ শুধু অপেক্ষা করে—আপনি সত্যিই তাদের খুঁজবেন কি না।”

আমি সেদিন চা না খেয়েই বের হয়ে গেলাম।

সোজা বাড়ি না গিয়ে একটা পুরোনো ঠিকানায় গেলাম।

তিন মাস আগে যে মানুষটাকে আমি অহংকার করে বলেছিলাম,

“যেতে চাইলে যাও।”

সেদিন প্রথমবার বুঝলাম—

কিছু কথা রাগের মাথায় বলা যায়।

কিন্তু জীবন সেগুলোকে রাগ হিসেবে নেয় না।

জীবন অনেক সময় শেষ সিদ্ধান্ত হিসেবে নিয়ে নেয়।

 #অনুগল্প_১: শেষ ট্রেনের তৃতীয় কামরারাত ১১টা ৪৭ মিনিট।স্টেশনে তখন আর কেউ নেই বললেই চলে। শেষ ট্রেনটা আসতে এখনও তেরো মিনিট...
12/08/2026

#অনুগল্প_১: শেষ ট্রেনের তৃতীয় কামরা

রাত ১১টা ৪৭ মিনিট।

স্টেশনে তখন আর কেউ নেই বললেই চলে। শেষ ট্রেনটা আসতে এখনও তেরো মিনিট বাকি।

রাহাত বেঞ্চে বসে ছিল। হাতে একটা পুরোনো বাদামি খাম। খামটার ওপর শুধু লেখা—

“যেদিন তুমি সত্যিটা জানতে চাইবে, সেদিন খুলবে।”

চিঠিটা তাকে দিয়েছিল তার বাবা।

বাবা মারা যাওয়ার আজ ঠিক সাত বছর।

অদ্ভুত ব্যাপার হলো, মৃত্যুর আগে বাবা তাকে কখনো কোনো চিঠি লিখতেন না। কথা বলার মানুষ ছিলেন তিনি। চিঠি নয়।

তবু মৃত্যুর তিন দিন পর, বাবার আলমারি গোছাতে গিয়ে রাহাত খামটা পেয়েছিল।

সেদিন খুলতে পারেনি।

তার মনে হয়েছিল, কিছু সত্যি না জানাই ভালো।

আজ কেন যেন মনে হলো, সময় হয়ে গেছে।

রাহাত খামটা খুলল।

ভেতরে মাত্র একটা কাগজ।

“রাহাত,

তুই ছোটবেলায় আমাকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলি, মানুষ কেন মিথ্যা বলে?

আমি বলেছিলাম, মানুষ ভয় পেলে মিথ্যা বলে।

উত্তরটা পুরোপুরি সত্যি ছিল না।

মানুষ শুধু ভয় পেলে মিথ্যা বলে না। কখনো কখনো ভালোবাসা থেকেও মিথ্যা বলে।

তোর মায়ের ব্যাপারে আমি তোকে যে গল্পটা বলেছি, সেটা মিথ্যা।

তোর মা আমাদের ছেড়ে চলে যায়নি।

আমি তাকে যেতে দিয়েছিলাম।

কারণ সে থাকতে চেয়েছিল।

আর আমি চেয়েছিলাম, তুই যেন আমাকে ঘৃণা না করিস।”

রাহাতের হাত কাঁপতে শুরু করল।

তার মা সম্পর্কে সে সারাজীবন একটা গল্পই শুনেছে।

মা নাকি তাকে ছেড়ে অন্য একজনের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন।

ছোটবেলায় সে মাকে ঘৃণা করত।

বড় হওয়ার পর ঘৃণাটা ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।

তারপর একসময় সে মাকে ভুলেই গিয়েছিল।

চিঠির শেষ লাইনে লেখা—

“তোর মা এখনও বেঁচে আছে।

শেষ ট্রেনের তৃতীয় কামরায় বসে থাকবে।

তুই যদি সত্যিটা জানতে চাস, আজ রাতে তার সঙ্গে দেখা করিস।

আর যদি না চাস, চিঠিটা এখানেই ছিঁড়ে ফেলিস।”

রাহাত মাথা তুলে তাকাল।

স্টেশনের ডিজিটাল ঘড়িতে তখন ১১টা ৫৪।

শেষ ট্রেন আসতে ছয় মিনিট।

তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা শব্দ হচ্ছিল।

মানুষ জীবনে কিছু কিছু সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তি দিয়ে।

আর কিছু সিদ্ধান্ত নেয় এমন এক জায়গা থেকে, যেখানে যুক্তির কোনো অধিকার নেই।

রাহাত উঠে দাঁড়াল।

---

ট্রেনটা ঠিক ১২টা ১ মিনিটে ঢুকল।

তৃতীয় কামরা প্রায় ফাঁকা।

রাহাত দরজার পাশে দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকাল।

একজন বৃদ্ধ জানালার পাশে বসে ছিলেন।

একজন তরুণী বই পড়ছিল।

আর একদম শেষ সিটে একজন বৃদ্ধা।

সাদা শাড়ি।

চোখে চশমা।

হাতে একটা ছোট কাপড়ের ব্যাগ।

রাহাতের পা থেমে গেল।

বৃদ্ধা তাকালেন।

কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ করে রইল।

তারপর বৃদ্ধা খুব শান্ত গলায় বললেন,

“তুই রাহাত?”

এই একটা প্রশ্নের মধ্যে সাতাশ বছরের অপেক্ষা ছিল।

রাহাত বসে পড়ল।

“আপনি আমার মা?”

মহিলাটি হাসলেন।

“তুই আমাকে কী নামে ডাকবি, সেটা আমি জানি না। তাই উত্তরটা তোর কাছেই থাক।”

রাহাতের চোখ জ্বালা করতে লাগল।

সে কোনোদিন কাঁদতে শেখেনি।

তার বাবা তাকে শিখিয়েছিলেন, পুরুষ মানুষ কাঁদে না।

কিন্তু সেদিন সে বুঝল, কিছু কান্না চোখ দিয়ে আসে না।

কিছু কান্না মানুষের পুরো শৈশবটাকে ভিজিয়ে দেয়।

রাহাত ধীরে ধীরে বলল,

“আপনি আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন কেন?”

মহিলাটি জানালার বাইরে তাকালেন।

“আমি যাইনি।”

“তাহলে?”

“তোর বাবা আমাকে যেতে বলেছিল।”

রাহাত চুপ।

“কেন?”

মহিলাটি কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললেন,

“কারণ তোর বাবা জানত, আমি অসুস্থ। খুব বেশি দিন বাঁচব না।”

রাহাতের বুকটা ধক করে উঠল।

“কী?”

“ডাক্তার বলেছিল, আমার হাতে হয়তো দুই বছর আছে। তোর বয়স তখন চার।”

“তাহলে আমাকে বলেননি কেন?”

“কারণ তোর বাবা বলেছিল, তুই যেন আমাকে হারানোর ভয় নিয়ে বড় না হোস।”

রাহাত ফিসফিস করে বলল,

“কিন্তু আমি তো আপনাকে ঘৃণা করে বড় হয়েছি।”

মহিলাটি এবার তার দিকে তাকালেন।

“জানি।”

“আপনি জানতেন?”

“তোর বাবা প্রতি বছর আমাকে তোর ছবি পাঠাত।”

রাহাতের চোখ থেকে এবার সত্যিই পানি পড়ল।

“আপনি কখনো আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি?”

মহিলাটি মাথা নাড়লেন।

“এসেছিলাম।”

“কখন?”

“তোর স্কুলের প্রথম দিন। তুই নীল ব্যাগ নিয়ে বাবার হাত ধরে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলি।”

রাহাত স্থির হয়ে গেল।

“আমি দূর থেকে দেখেছিলাম। তুই আমাকে দেখিসনি।”

“তারপর?”

“তারপর তোর জন্মদিনে। তারপর তুই যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলি।”

মহিলাটি একটু হাসলেন।

“আর আজ।”

রাহাত জানালার বাইরে তাকাল।

অন্ধকার শহর পিছনে ছুটে যাচ্ছে।

তার মনে হলো, মানুষের জীবন আসলে কত অদ্ভুত।

আমরা যাদের সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করি, কখনো কখনো তাদের গল্পের অর্ধেকও জানি না।

কিছু মানুষ আমাদের ছেড়ে যায় না।

আমরা শুধু তাদের চলে যাওয়ার একটা গল্প বানিয়ে নিই।

“আপনি এখন কোথায় থাকেন?”

মহিলাটি বললেন,

“এই শহরেই।”

“আমার সঙ্গে থাকবেন?”

মহিলাটি মৃদু হাসলেন।

“এখন আর থাকা সম্ভব নয়।”

রাহাত বুঝতে পারল না।

তারপর মহিলা ধীরে ধীরে বললেন,

“আমার হাতে আর সময় নেই।”

রাহাত তার হাতটা ধরে ফেলল।

হাতটা বরফের মতো ঠান্ডা।

“কতদিন?”

মহিলাটি উত্তর দিলেন না।

শুধু বললেন,

“একটা কথা মনে রাখিস।”

“কী?”

“কাউকে ঘৃণা করার আগে তার গল্পটা শুনে নিস।”

ট্রেন তখন ধীরে ধীরে পরের স্টেশনে ঢুকছে।

রাহাত হঠাৎ খেয়াল করল, বৃদ্ধার হাতে একটা পুরোনো ঘড়ি।

ঘড়িটা তার বাবার।

“এটা আপনার কাছে কেন?”

মহিলাটি ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে বললেন,

“তোর বাবা আমাকে দিয়েছিল।”

“কবে?”

“আজ থেকে সাত বছর আগে।”

রাহাতের নিঃশ্বাস আটকে গেল।

“বাবা মারা যাওয়ার আগে?”

“হ্যাঁ।”

“আপনার সঙ্গে দেখা হয়েছিল?”

“হ্যাঁ।”

“তাহলে আমাকে কিছু বলেননি কেন?”

মহিলাটি মৃদু হেসে বললেন,

“তোর বাবা আমাকে একটা কথা বলেছিল।”

“কী?”

“বলেছিল, ‘রাহাত যখন সত্যিটা জানার মতো বড় হবে, তখন চিঠিটা ওর হাতে দিস।’”

রাহাত ধীরে ধীরে বুঝতে পারল।

তার বাবা জানতেন।

মা জানতেন।

শুধু সে জানত না।

এত বছর ধরে সে যেটাকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা মনে করেছে, সেটা আসলে ছিল দুজন মানুষের অসম্ভব রকমের ভালোবাসার একটা ভুল পদ্ধতি।

ট্রেন থামল।

মহিলাটি উঠে দাঁড়ালেন।

“আমি নামব।”

রাহাত তার হাত শক্ত করে ধরল।

“আবার দেখা হবে?”

মহিলাটি কিছু বললেন না।

শুধু মাথায় হাত রেখে বললেন,

“এবার থেকে নিজের জীবনে কাউকে ভালোবাসলে, তার জন্য সিদ্ধান্ত নিস না। তার সঙ্গে কথা বলিস।”

দরজা বন্ধ হয়ে গেল।

ট্রেন আবার চলতে শুরু করল।

রাহাত জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দেখল, সাদা শাড়ির মানুষটি ধীরে ধীরে অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে।

তার হাতে তখনও বাবার চিঠি।

চিঠির একেবারে নিচে, যা সে এতক্ষণ খেয়াল করেনি, আরও একটা লাইন লেখা ছিল—

“কিছু সত্যি মানুষকে ভেঙে দেয় না, বরং তাদের পুরোনো জীবনটা শেষ করে দেয়।”

সেদিন রাতেই রাহাত প্রথমবার বাবাকে ক্ষমা করেছিল।

আর তার মাকে?

তাকে ক্ষমা করার প্রয়োজনই ছিল না।

কারণ সে কোনোদিন অপরাধী ছিল না।

অপরাধটা ছিল শুধু একটাই—

দুজন মানুষ ভালোবাসাকে এত বেশি রক্ষা করতে চেয়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত সত্যিটাকেই লুকিয়ে ফেলেছিল।

11/08/2026

🌿 রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।” 🤍

— সহিহ আল-বুখারি, হাদিস: 6018; সহিহ মুসলিম, হাদিস: 47

সব কথা বলার প্রয়োজন নেই।
সব কথার উত্তর দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।

কখনো কখনো চুপ থাকাটাই সবচেয়ে সুন্দর জবাব। 🌸

আজ কাউকে কষ্ট দেওয়ার মতো একটা কথা বলার আগে একবার থেমে যাই।
হয়তো আমাদের একটা কথাই কারও পুরো দিনটা খারাপ করে দিতে পারে।

আপনি কি মনে করেন, জীবনে নীরব থাকা শেখা যতটা জরুরি, কথা বলা শেখাও কি ততটাই জরুরি? 💭

#আজকেরহাদিস #হাদিস #ইসলামিকরিমাইন্ডার

11/08/2026

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে-ই, যে তার চরিত্রে সর্বোত্তম।” ❤️

— সহিহ আল-বুখারি, হাদিস: 6035

কত কিছু অর্জন করাই তো জীবনের লক্ষ্য বানাই আমরা টাকা, সম্মান, ভালো চাকরি, সুন্দর জীবন।

কিন্তু একজন মানুষের আসল সৌন্দর্য তার চরিত্রে।
কারও সাথে কেমন ব্যবহার করি, ক্ষমা করতে পারি কি না, আর কেউ না দেখলেও ভালো থাকতে পারি কি না, সেখানেই আসল পরীক্ষা। 🤍

আজ নিজের কাছে একটা প্রশ্ন করি
“আমার চরিত্র কি আমাকে সত্যিই একজন ভালো মানুষ বানাচ্ছে?”

🌸 আল্লাহ আমাদের সুন্দর চরিত্রের অধিকারী করুন। আমিন।

#আজকেরহাদিস #হাদিস #ইসলামিকপোস্ট

11/08/2026

How are you everyone?
সবাই কেমন আছেন?

শয়*তান থেকে বেঁচে থাকার দশ আমল। জুমুআর খুৎবার সারনির্যাস। ১. ইখলাস। (সূরা সোয়াদ, ৮২)২. খাবারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা। (স...
11/08/2026

শয়*তান থেকে বেঁচে থাকার দশ আমল।
জুমুআর খুৎবার সারনির্যাস।

১. ইখলাস। (সূরা সোয়াদ, ৮২)

২. খাবারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা।
(সহিহ মুসলিম, ২০১৮)

৩.ঘরে প্রবেশের সময় বিসমিল্লাহ বলা।
(সহিহ মুসলিম, ২০১৮)

৪. ওয়াশরুমে প্রবেশের আগে দুয়া পড়া।
(সহিহ বুখারী, ৪৫১১)

৫. ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দুয়া পড়া।
(আবু দাউদ, ৫০৯৫)

৬. নামাজের সফের মধ্যখানে ফাঁকা বন্ধ করে দাড়ানো। (আবু দাউদ, ৬৬৫)

৭. হাই ওঠলে হাত দ্বারা মুখ বন্ধ করা।
(সহিহ বুখারী, ৬২২৬)

৮. সন্ধ্যার সময় ঘরের দরজা জানালা বন্ধ রাখা ও বাচ্চাদের আটকে রাখা। (সহিহ বুখারী, ৫১৪৮)

৯. একবার / দশবার / একশো বার পড়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইন কাদীর।
(সহিহ বুখারী, ৬৪৩)

১০. সবসময় আল্লাহর আশ্রয় কামনা করা।
(সূরা আরাফ, ২০০)

লেখা : আব্দুল্লাহ আল মনসুর (হাফি.)

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamic Inspire :: Quranic Verse posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Islamic Inspire :: Quranic Verse:

Shortcuts

Share