10/08/2026
বিলুপ্তির পথে জমিদার রাজেশ্বর রায়ের কাছারিবাড়ি
১৮১৭ সালে বরিশালকে পৃথক করে দেওয়ানী শাসন প্রসারের জন্য স্থাপন করা হয় চারটি মুন্সেফী চৌকি। বাউফল চৌকি স্থানান্তর করা হয় লাউকাঠীতে।
১৮৭১ সালে পটুয়াখালীকে উন্নীত করা হয় মহকুমায়। জমিদার হৃদয় শংকরের পুত্র কালিকা প্রসাদ রায়ের নামানুসারে লাউকাঠীর দক্ষিণ পাড়ের গ্রামের নামকরণ করা হয় কালিকাপুর। এখানে গড়ে ওঠে পটুয়াখালী শহর। এ সময়কালে কলসকাঠীর জমিদার বরদাকান্ত রায় চৌধুরীর পুত্র বিশ্বেশ্বর রায় চৌধুরী পটুয়াখালী মহকুমার অধীন কালিকাপুর কিসমতের বন্দ্যোপাধ্যায় মুদাফা তালুক খরিদ করেন বাংলা ১২৯৬ সনে।
এই অঞ্চলের সর্বশেষ জমিদাররা ছিলেন বিশ্বেশ্বর রায় চৌধুরীর চার পুত্র রাজেশ্বর, রত্নেশ্বর, সিদ্ধেশ্বর, অমরেশ্বর ও ব্রজকান্ত রায় চৌধুরীর তিন পুত্র সুরেন্দ্র, নরেন্দ্র ও মনিন্দ্র। জমিদার রাজেশ্বর রায় চৌধুরী প্রবল প্রতাপের সঙ্গে পটুয়াখালীর শেষ জমিদারি পরিচালনা করেন। পটুয়াখালীতে নির্মাণ করা হয় কাছারি বাড়ি এবং পূজা-অর্চনার জন্য স্থাপন করেন পাষানময়ী কালীবাড়ি। জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পর তাদের অনেকে সম্পত্তি ফেলে রেখে যান ভারতে। তাদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি গণ্য করা হয় পরিত্যক্ত ও অনাবাসী সম্পত্তি হিসেবে। কিছু সম্পত্তি আবার ১ নম্বর সরকারি খাস খতিয়ানেও দেখানো হয়। পাকিস্তান আমলে জমিদার রাজেশ্বর রায় চৌধুরীর পরিত্যক্ত এই কাছারিবাড়িতে স্থাপিত হয় সদর তহশিল অফিস।
- পটুয়াখালী সদর