03/09/2026
আজ সৃজিতের তিন বছর পূর্ণ হলো। 💛🧿
আজ শুধু আমার ছেলের তিন বছর পূর্ণ হয়নি, আজ আমাদের বাবা-মা হিসেবে পথচলারও তিন বছর পূর্ণ হলো।
এই তিন বছরের জার্নিটা দেখতে দেখতে কেমন করে কেটে গেল, সত্যি বলতে আমি নিজেও বুঝতে পারিনি। কিন্তু এই পথটা কখনোই খুব সহজ ছিল না। শুধু আমাদের জন্য নয়, পৃথিবীর প্রত্যেকটা নতুন বাবা-মায়ের জন্যই একটা সন্তানকে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করার সময়টা অনেক চ্যালেঞ্জিং।
আর সত্যি বলতে, এই জার্নিতে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় একজন মাকে। তার শরীর, তার ঘুম, তার সময়, তার জীবন—সবকিছুই যেন হঠাৎ করে বদলে যায়। একজন মায়ের মাতৃত্বের জার্নিটা কতটা সুন্দর এবং সহজ হবে, তার অনেকটাই নির্ভর করে তার পাশে একজন সাপোর্টিভ মানুষ আছে কি না তার ওপর।
আর আমি সত্যিই ভাগ্যবান, কারণ আমার পাশে এমন একজন মানুষ আছে।🧿🧿
সৃজিতের বাবা 🥹🩷🧿
সৃজিত জন্মানোর পর থেকে আজ পর্যন্ত এমন একটা দিনও মনে পড়ে না, যেদিন আমাকে মনে হয়েছে—এই সন্তান শুধু আমার দায়িত্ব। কখনোই সে আমাকে এমন অনুভব করতে দেয়নি।
সৃজিত যখন আরো একটু ছোট ছিল, সারারাত ঘুমাতো না। সারারাত জেগে থাকার পর ভোরের দিকে যখন ওর খিদে পেত, তখন আমার চোখে ঘুম থাকতো ভীষণ। অনেক সময় আমি ঘুমিয়ে পড়তাম, আর ওর বাবা চুপচাপ ঘুম থেকে উঠে ছেলেকে খাইয়ে দিতো। আমাকে একবারও ডাকতো না। কারণ সে জানতো, আমি সারারাত জেগেছি এবং আমারও একটু ঘুম দরকার।🥹
সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি পরে বুঝেছি, আমার ছেলে খেয়ে আবার ঘুমিয়েও গেছে—আর আমাকে একবারও ডাক দেওয়া হয়নি।
ছেলেকে খাওয়ানো, খেলানো, দেখাশোনা করা—সবকিছুতেই সে আমাকে সমানভাবে সাহায্য করেছে।
মজার ব্যাপার হলো, আজও আমি সৃজিতের নখ কাটতে পারি না! এই দায়িত্বটা পুরোপুরি তার বাবার। 😄
আমি কোনো কাজে বাইরে গেলে সৃজিত তার বাবার কাছেই থাকে। কখনো কোনো কাজ নিয়ে আমাকে শুনতে হয়নি—ছেলে তো তোমার, তোমার দায়িত্ব।বরং আমাদের সন্তানের দায়িত্বটা সে সবসময় আমাদের দুজনের দায়িত্ব হিসেবেই দেখেছে।
আজও প্রতিদিন সৃজিতকে স্নান করিয়ে দেয় তার বাবা। কোথাও প্রোগ্রামে যাওয়ার সময় ছেলেকে রেডি করানোর দায়িত্বও অনেক সময় তার বাবার।
আর হয়তো এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই আমার মাতৃত্বের জার্নিটাকে এত সুন্দর করে দিয়েছে।
বাচ্চা হওয়ার পর আমি কখনো নিজেকে আটকে পড়া মনে করিনি। নিজের কোনো কিছু করতে পারবো না, কোথাও যেতে পারবো না বা আমার জীবন শুধু একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে—এমন অনুভূতি কখনো হয়নি।
আর তার সবচেয়ে বড় কারণ এই মানুষটা।
সে শুধু সৃজিতের বাবা নয়, আমার মাতৃত্বের পথচলার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট সিস্টেম।🩷🧿🌸🙏🏻
আজ যখন আমাদের ছেলে তিন বছরে পা দিল, তখন মনে হলো—আমরাও তো বাবা-মা হিসেবে তিন বছর পার করে ফেললাম!
এই তিন বছরে আমরা অনেক কিছু শিখেছি, অনেক ভুল করেছি, অনেক নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি, অনেক রাত জেগেছি, অনেক ক্লান্ত হয়েছি। আবার এই তিন বছরেই আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে মূল্যবান এবং সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোও পেয়েছি।😊🧿
সবার আগে ভগবানকে ধন্যবাদ জানাই, আমাকে এমন একজন জীবনসঙ্গী দেওয়ার জন্য।
আর সৃজিতের বাবাকে ধন্যবাদ—আমার পাশে সবসময় এভাবে থাকার জন্য এবং আমাদের সন্তানকে মানুষ করার এই জার্নিটাকে দুজনের জার্নি বানানোর জন্য।
আমাদের ছোট্ট পরিবারটার জন্য সবাই আশীর্বাদ করবেন। যেন আমরা দুজন সবসময় এভাবেই একে অপরের পাশে থেকে আমাদের ছেলেকে ভালো মানুষ হিসেবে বড় করে তুলতে পারি।
শুভ তিন বছর আমাদের বাবা-মা হওয়ার।
আর শুভ জন্মদিন আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়—আমাদের সৃজিত🩷
আমার টুনু পাখি🩷🌸🥰
゚