16/08/2026
অস্ট্রেলিয়ার মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে মাঠে হারানো কতোটা কঠিন?
শ্রীলঙ্কার দলে জয়াসুরিয়া,সাঙ্গাকারা, দিলশান, জয়বার্ধনে, মুরালিধরন, মালিঙ্গা, ম্যাথুয়েসদের মতো রথী-মহারথীরা খেলেছে। শ্রীলঙ্কা এখন পর্যন্ত কোনো দিন-ই অস্ট্রেলিয়ান মাটিতে টেস্ট জিততে পারে নি৷
পাকিস্তানকে বলা হয় পেসারদের স্বর্গ। অস্ট্রেলিয়ার রুক্ষ, বাউন্সি উইকেটে তাদের ডমিনেট করার কথা অথচ গত ৩০ বছরে পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়াতে টেস্ট জিতে নি।
আর ইংল্যান্ড? অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী, যারা নিয়মিত অ্যাশেজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় যায়। তবুও গত ১৫ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের টেস্ট জয় এসেছে মাত্র একবার।
ভারতের মতো ক্রিকেটের পরাশক্তির অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাঠে ১৭টা টেস্ট খেলার পর জিততে পেরেছিলো। ঐতিহাসিক সিরিজ জিতেছে ২০১৮-১৯ সিজনে৷ মধ্যেখানে কেটে ৭১ বছর।
এবার আসুন বাংলাদেশের কথায়। বাংলাদেশ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়াতে খেলার সুযোগ পেয়েছে। ২০০৩ অস্ট্রেলিয়ায় মাত্র দুইটা টেস্ট খেলেছে, এই ম্যাচ নিয়ে ৩নং টেস্ট খেললো।
নিন্দুকেরা বলতেই পারেন বাংলাদেশের এই জেতাটা ফ্লুক। এটা কোনো ফ্লুক নয়। টেস্ট ক্রিকেটে একটা ভালো সেশন, শুধুমাত্র একটা অসাধারণ স্পেল দিয়েই ম্যাচ জেতা যায় না। টেস্ট অন্য দুইটা ফরম্যাটের মতো না যে একটা কয়েক ওভারের ক্যামিওতে আপনি ম্যাচ জিতে যাবেন। টেস্টে প্রথম দিন থেকে প্রতিটি সেশন, প্রতিটি ঘণ্টা, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজেদেরকে প্রমাণ করতে হয়।
আর বাংলাদেশ ঠিক সেটাই করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ দিন ধরে প্রত্যেকটা সেশন বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে লড়েছে, বোলিংয়ে আধিপত্য করেছে, ফিল্ডিংয়ে চাপ তৈরি করেছে এবং সবচেয়ে বড় কথা মানসিকভাবে অস্ট্রেলিয়াকে ছাপিয়ে গেছে।
আজকের এই টেস্ট জয় আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য একটি মাইলফলক।এতোদিন যেটা ছিলো আমাদের অসম্ভাব্য স্বপ্ন, আজ সেটা বাস্তব।
পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, সাব্বাশ বাংলাদেশ।