29/06/2026
ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড কে ঘিরে নতুন আইনি জটিলতা: আপিলে বাড়ছে অনিশ্চয়তা, দ্রুত কার্যক্রম চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করলেন ড. রফিকুল আমিন
Matinversee নিউজ ডেস্ক
সময়ই মানুষের প্রকৃত অবস্থান ও উদ্দেশ্য প্রকাশ করে। অনেক সময় মুখের কথার চেয়ে কাজই একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় বহন করে। ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংকটের মধ্যে লাখো ক্রেতা-পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীরা একটি স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের একমাত্র প্রত্যাশা—প্রতিষ্ঠানটি যেন স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয় এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের পর বর্তমান বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে আপিল দায়ের হওয়ায় ডেসটিনিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ডেসটিনির চলমান কার্যক্রমকে ঘিরে আপিল দায়েরের ঘটনায় আশরাফুল আমিনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। ডেসটিনির ক্রেতা-পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, বর্তমান বোর্ডের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আপিল করার ফলে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা লাখো ক্রেতা-পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত ছিল।
এদিকে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. রফিকুল আমিন এক ভিডিও বক্তব্যে দাবি করেন, আদালত মূল রায় স্থগিত (স্টে) করেননি; বরং বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, বর্তমান বোর্ডের কার্যক্রম আইনগতভাবে বন্ধ হয়ে যায়নি এবং বোর্ড সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ড. রফিকুল আমিনের মতে, যদি আপিলের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ ক্রেতা-পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীরা, যারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিনিয়োগের সুফল এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পুনরায় চালুর অপেক্ষায় রয়েছেন।
ভিডিও বক্তব্যে তিনি বর্তমান বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব অডিট সম্পন্ন করা, এজিএম আয়োজন করা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ করা এবং ব্যবসা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত এবং এ জন্য কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা প্রত্যাশা করেন না।
ড. রফিকুল আমিন আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যথাসময়ে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করা গেলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ডেসটিনির ব্যবসা পুনরায় চালু করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ক্রেতা-পরিবেশকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান এবং বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির জন্য আরও বড় পরিসরে আধুনিক অফিস এবং কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি তার কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। তার দাবি, তিনি যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে চান।
একটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ ব্যক্তিগত মতপার্থক্য বা নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের চেয়ে অনেক বড়। ডেসটিনির সঙ্গে জড়িত অসংখ্য পরিবার, ক্রেতা-পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীর আশা-আকাঙ্ক্ষা এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই যে কোনো পদক্ষেপ, যা কার্যক্রমকে বিলম্বিত বা জটিল করে তোলে, তা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আইনের শাসনের প্রতি সম্মান রেখে প্রত্যাশা করা যায়, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সকল জটিলতার অবসান হবে। যদি কোনো পক্ষের কার্যক্রমের কারণে প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্টদের ক্ষতি হয়েছে বলে আদালত বা আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়াই ন্যায়বিচারের দাবি।
লাখো মানুষের প্রত্যাশা একটাই—ডেসটিনির ভবিষ্যৎ যেন ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং ক্রেতা-পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে যায়। সত্য প্রতিষ্ঠিত হোক, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক এবং সকলের জন্য একটি ইতিবাচক সমাধান আসুক।
— Matinversee নিউজ ডেস্ক