14/09/2026
💔 “আমার একটাই দুঃখ, ইকরা আমাকে ভুল বুঝেছে… আর আমি ওকে বোঝাতে পারিনি।”
আমার মা ইকরাকে ভীষণ ভালোবাসতো। ইকরার ১৫ বছরের সংসার জীবনে কখনোই আমার মায়ের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়নি। আমার মায়ের নিজের কোনো মেয়ে ছিল না, তাই ইকরাই ছিল আমার মায়ের মেয়ে। নিজের মেয়ের মতো করেই তাকে ভালোবাসতো।
আপনারা আমার মাকে নিয়ে অনেক অপমানজনক কথা বলেছেন, কিন্তু আমি কিছুই বলিনি। অন্যায় যদি করে থাকি, আমি করেছি—আমার মা নয়। 😭
সেদিন ইকরাকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার সময় আমি মাকে যেতে নিষেধ করেছিলাম। কারণ আমি চাইনি আমার ছেলে রিজিক ইকরাকে ওই অবস্থায় দেখে ভয় পাক। তাই ফোন করে মাকে বলেছিলাম, যেন রিজিককে নিয়ে হাসপাতালে না যায়।
ইকরার সঙ্গে ১৫ বছরের জীবনে কত দেশ-বিদেশ ঘুরেছি, কত স্মৃতি জমেছে আমাদের। এখন পুরনো ছবিগুলো দেখি আর চোখের পানি ফেলি। করার কিছুই নেই…
শুধু একটা আফসোস বুকের ভেতর প্রতিনিয়ত কুরে কুরে খায়—ইকরা আমাকে ভুল বুঝেছিল। আর আমারও ভুল ছিল, আমি তাকে ঠিকভাবে বোঝাতে পারিনি। সেদিন রাগের মাথায় যদি দুটো কথা না বলতাম, হয়তো আজ আমাকে এই দিন দেখতে হতো না। 😭
দিন যত যাচ্ছে, ততই যেন ভেতরটা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ইকরার জন্য মনের ভেতর কেমন একটা হাহাকার করে। এই কষ্টটা আসলে কোনো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
আজ পবিত্র শুক্রবার। অথচ প্রতি শুক্রবারে ইকরা থাকতো। জুমার নামাজের আগে আমাকে আর রিজিককে গোসল করতে পাঠিয়ে আমাদের পায়জামা-পাঞ্জাবি গুছিয়ে রাখতো। নামাজ পড়ে ফিরে সবাই একসঙ্গে টেবিলে বসতাম। ইকরার হাতের মজার মজার খাবার… ❤️🩹
ইকরার রান্না বরাবরই আমার ভীষণ পছন্দের ছিল। শুটিং সেটেও যখন আমার জন্য খাবার পাঠাতো, সবাই খেয়ে বলতো—“ইকরার হাতে যেন জাদু আছে!”
আজ সেই মানুষটা নেই। আছে শুধু তার রান্নার স্মৃতি, তার ছবি, তার রেখে যাওয়া অসংখ্য মুহূর্ত। 😭
তবুও ইকরা আমাকে জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ উপহার দিয়ে গেছে—আমার রিজিক, আমার সোনা পাখি। ❤️
পুরনো অ্যালবামের ছবিগুলো খুললে এখনো বিশ্বাস হয় না ইকরা আমাদের মাঝে নেই। মনে হয়, হয়তো কোথাও বেড়াতে গেছে… আবার একদিন দরজা খুলে ফিরে আসবে। 😭💔
আপনাদের কাছে একটা প্রশ্ন—প্রিয় মানুষকে হারানোর এই শূন্যতা নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকা যায়? কী করলে ইকরাকে একটু কম মনে পড়বে? কেউ জানলে দয়া করে কমেন্টে বলবেন। 🙏