11/09/2026
সরকার গঠনের পর এপ্রিলের ৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী একটা এক্সপেরিমেন্ট করেছিলেন এলজিআরডি মিনিস্ট্রি থেকে। অফিস টাইম ঠিক ৯টার পূর্বে প্রতিমন্ত্রীকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মূল গেইটে পাঠালেন।
পরীক্ষা করার জন্য কত শতাংশ কর্মকর্তা এক্সাক্টলি অফিস আওরের আগেই আসেন, এবং কত শতাংশ লেট করে প্লাস কতক্ষণ লেটে আসে তার একটা তালিকা তৈরি করতে।
সেদিন এক্সপেরিমেন্টে দেখা গেল অফিস টাইম আধাঘন্টা পার হয়ে গেলেও, প্রায় ৩২ শতাংশ কর্মকর্তা অফিসে এসে উপস্থিত হতে পারেননি। সবার ডেটাবেইস তৈরি করে নিয়ে গেলেন জমা দিতে পিএম অফিসে।
মন্ত্রী যতই গোপনে অফিসে হাজির হোন না কেন, নিশ্চয়ই কোনো-না-কোনোভাবে সবাই খবর পেয়ে যাওয়ারই কথা। এক কলিগ আরেক কলিগকে জানিয়ে দেবেনই।
এরপরও সেদিন ৩২ শতাংশ কর্মকর্তা লেইট করে ঢুকেছেন অফিসে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। যদি আধাঘন্টা, একঘন্টা বা দেড় ঘন্টা লেইট করে অফিসে ঢুকেন সরকারি কর্মকর্তারা, তাহলে প্রয়োজনীয় ফাইলটাইল রেডি করে কাজ শুরু করে থাকেন কখন, চিন্তা করেন!
এটা শুধুমাত্র একটি মন্ত্রণালয়েরই চিত্র নয়, একদম প্রতিটি মন্ত্রণালয়, এমনকি সরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কমন চিত্র।
এর আগে আরেকদিন ভূমি প্রতিমন্ত্রী হুটহাট করে ঠিক ৯টা বাজে নারায়ণগঞ্জের ভূমি অফিসে হাজির। গিয়ে দেখলেন অফিসে তালা মারা।
সাহেবজাদা কর্মকর্তা এসেছেন ঘন্টাখানেক পরে। প্রতিমন্ত্রী তাকে শাসিয়ে রেগুলার ওয়ার্কের খাতা দেখাতে বললেন।
সে বারবার এটেন্ডেন্স খাতা দেখাচ্ছে। শেষে ধরা পড়ে গত ১ মাসেও কোনো কাজ হয়নি। কর্মকর্তা কেবল এলেন আর গেলেন!
আমি সেদিন প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এটা লিখেছিলাম, সত্যিকারভাবে পরিবর্তন আনতে হলে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে জনবান্ধন ও সেবামূলক কর্মক্ষেত্রে পরিণত করতে, এভাবে হুটহাট একদিন একেক অফিসে না গিয়ে সব প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটালাইজেশন করেন৷
ধীরে ধীরে সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিয়ে আসেন।
এবং সচিবালয় অফিস থেকে যেন সব এক্সসেবল হয়, সেই ব্যবস্থা করেন।
একজন কর্মকর্তা বছরে ঠিক সর্বোচ্চ কতদিন দেরি করতে পারবেন, তা জানান দিয়ে দেন। ঘুষ বন্ধ ইফেক্টিভ পদক্ষেপ নেন।
তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট ও প্রমোশন-ডিমোশনের রূপরেখা তৈরি করেন, দেখবেন অল্প দিনে দেশে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনসেবায় প্রতিযোগিতা চলছে।
আজকের দিনে খুশীর সংবাদ হলো প্রধানমন্ত্রী সেই পথেই হাঁটছেন। নিজের অফিস দিয়ে শুরু করেছেন অনলাইনের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি।
এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সবকিছু এক্সেসেবল করার প্রক্রিয়াও চলছে।
আগামী দিনে পলিটিশিয়ানদের পাশাপাশি সরকারি চাকরি করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনও কঠিন হয়ে যাবে।
অপেক্ষা করেন, তারেক রহমান সেটা করেই ছাড়বেন!