13/07/2024
আল মাহমুদের জন্মদিন
-----------------------------------
'মৌলবাদের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট নয়, গোলমেলে,...' - গতকাল স্বর্গগত কবি আল মাহমুদের ৮৮ তম জন্মদিনে, পশ্চিমবঙ্গেরই এক লিটিল ম্যাগাজিন ও তজ্জাত প্রকাশনীর কর্ণধার শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের গোড়াতেই এই অভক্তির কর্দম ঢেলে দিয়েছেন। তবে কথা হচ্ছে, অধুনা উভয়বঙ্গেই, অর্থাৎ এখনকার বাংলা ভাষায় 'মৌলবাদ' 'মৌলবাদী' শব্দদ্বয় ভিন্নার্থে ব্যবহার হয়, অপপ্রয়োগ হয়ে থাকে। জগতে মৌলিক বিষয় ও মৌলিক বস্তু সকল সম্পর্কে অনেকেরই সাধনা এবং নানা কাজ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা মৌলিক বস্তু সমূহ নিয়ে গবেষণা করেন। বিজ্ঞানীরা তাই, আলবৎ, মৌলবাদী। কবিদের কাম্য মৌলিকত্ব, সুতরাং, হ্যাঁ, সৎ, কীর্তিমান কবিসকল, সারা দুনিয়ায় মৌলবাদী। পরধর্মের প্রতি বিদ্বেষ, হিংসা প্রকাশ করে যারা, তাদের আমরা ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক ইত্যাদি বলব। অযথা তাদের মৌলবাদীর সম্মান জানাব কেন?
আমাদের আদরের সম্পাদক কাম প্রকাশকটি সেই অর্থে আল মাহমুদকে মৌলবাদী বলে দেগে দেননি। তিনি আল মাহমুদকে 'গোলমেলে' বলেছেন। কিন্তু আল মাহমুদ কি সত্যিই ওইরকম সাম্প্রদায়িক, ধর্মান্ধ ছিলেন? না, কখনই নয়।
চীনাপন্থী কমিউনিস্ট আল মাহমুদ জীবনে একটি বয়সে এসে ধর্মপ্রাণ মানুষ হয়ে গিয়েছিলেন। ইসলামে আস্থাপ্রকাশ করেছিলেন। অমনি সাহিত্যিক ঈর্ষা হিংস্র হয়ে উঠেছিল। আল মাহমুদকে কোণঠাসা করার চক্রান্ত ঘনিয়ে উঠেছিল। আমি বছরের পর বছর ঢাকায় আল মাহমুদের ওই নিগ্রহ দেখেছি। 'গণতান্ত্রিক মহল' আল মাহমুদকে বয়কট করেছিল। 'গণতান্ত্রিক' প্রকাশকরা ছাপত না আল মাহমুদের বই। প্রয়াত আল মাহমুদের কবর ঢাকায় দেওয়া যায়নি। শবাধার বহনে কবি লেখকরা কেউ আসেননি। কেবল কানাডা থেকে আসা সাইফুল্লাহ দুলাল তখন ছিল ঢাকায়, ল্যাংটার নেই বাটপারের ভয়, সে ছিল শববহনে। ঢাকায় একের পর এক গোরস্থানে ঘুরে শেষে আল মাহমুদের গ্রামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাসের তীরে তাঁকে গোর দেওয়া হয়।
তা, বাংলাদেশের ওই 'গণতান্ত্রিক মহলের' ইন্ডিয়ান এজেন্টরা পশ্চিমবঙ্গে আছে।
~Mridul Dasgupta