23/09/2026
মা কখনো নিজের জন্য বাঁচেননি ।আমাদের ভালো রাখার চিন্তাতেই যেন তাঁর পুরো জীবনটা কেটে গেছে। নিজের কত শখ ছিল, কত ইচ্ছে ছিল, কত স্বপ্ন ছিল সংসারের দায়িত্ব আর আমাদের মানুষ করার ব্যস্ততায় সেসব কখন যে হারিয়ে গেল, মা নিজেও হয়তো মনে রাখেননি।
আমাদের পরিবার ছিল অনেক বড়। ঘরভরা মানুষ, অসংখ্য দায়িত্ব, ব্যস্ততা ,সবকিছুর মাঝেও মায়ের মুখে কখনো কোনো অভিযোগ শুনিনি কাউকে নিয়ে । অথচ মায়েরও তো ছোট ছোট কিছু শখ ছিল। নখে মেহেদি দেওয়া ছিল তাঁর খুব প্রিয়। মেহেদির রং একটু হালকা হলেই আবার দিয়ে নিতেন। হাঁটু ছোঁয়া লম্বা চুল ছিল, ধবধবে ফর্সা মুখ হাত ছিল আজ মাঝে মাঝে ভাবি, সেই মানুষটা কোথায় হারিয়ে গেল? তাঁর সেই চুল, সাজগোজের শখ, সেই নিজের জন্য একটু সময় সবকিছু কোথায় যেন হারিয়ে গেছে সংসারের ভিড়ে সবার জন্য । এসব ভাবলেই বুকটা ভার হয়ে আসে, চোখে পানি চলে আসে। 😭
মাঝে মাঝে মনে হয়, আম্মু নিজের ওপরই সবচেয়ে বেশি জুলুম করে ফেলেছেন। আমাদের সুখের জন্য নিজের কত সুখ ,শখ ছেড়ে দিয়েছেন, অথচ বিনিময়ে জীবনে হয়তো কিছুই চাননি কারো থেকে সুনাম ছাড়া,,, ছোট থেকে দেখতাম ২০,২৫ আইটেম রান্না করতেন যেই আসুক। আমার মা শুধুমাত্র সবার খুশির জন্য করতো!!!এখন মানুষটা রান্না করতে কষ্ট লাগে, শরীরের চামড়া কুচকে গেছে, এখন শরীর খারাপ হয়ে যায় 💔
নিজের কষ্টগুলো হাসির আড়ালে লুকিয়ে রেখে আমাদের হাসিটাকেই নিজের সুখ মনে করেছেন।
শুধু মা নন, আব্বুও নিজের কত শখ-আহ্লাদ, ইচ্ছা আর আরাম আমাদের জন্য বিসর্জন দিয়েছেন। তাঁরা কখনো বলেননি।আমাদের জন্য তোমরা কী করলে?” বরং সারাজীবন ভেবেছেন আমাদের সন্তানদের জন্য আর কী করা যায়?
আজ পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, বাবা-মা আমাদের জন্য কত কিছুই না করেছেন। আর বিনিময়ে আমরা তাঁদের দিতে পেরেছি কতটুকু? হয়তো অনেক সময় তাঁদের কষ্টই দিয়েছি, দুঃখই দিয়েছি ,অজান্তে, কখনো বুঝে, কখনো না বুঝে। 😅💔
বাবা-মায়ের ভালোবাসার কাছে পৃথিবীর সবকিছুই সত্যিই ছোট। তাঁদের ত্যাগের ঋণ কোনোদিন শোধ করার মতো নয়। শুধু একটাই আফসোস তাঁরা আমাদের জন্য নিজেদের জীবনটা দিয়ে দিলেন, অথচ আমরা তাঁদের জন্য সেই জীবনটার সামান্য আনন্দও ফিরিয়ে দিতে পারলাম না।
আল্লাহ আমার মা-বাবাকে সুস্থ, শান্তি ও দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন। তাঁদের মুখের হাসিটুকু যেন আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া হয়। ❤️