15/08/2026
মা আর সন্তানের কেমিস্ট্রি কেন এতো মাধুর্যময়? বিজ্ঞান কিছু কিছু উত্তর দিচ্ছে। সব উত্তর পাওয়া না গেলেও যেটুকু উত্তর পাওয়া গেছে সেগুলো বিস্ময়কর।
গর্ভাবস্থায় শিশুর কিছু কোষ প্লাসেন্টা বা নাড়ি পেরিয়ে মায়ের শরীরে ঢুকে পড়ে। এবং থেকে যায়। সন্তান জন্মের পর, বড় হওয়ার পর, ঘর ছেড়ে যাওয়ার পর, বিদেশে চলে যাওয়ার পরেও, দশক পার হয়ে যাওয়ার পরেও মায়ের রক্তে, মায়ের হৃদপিণ্ডে, এমনকি মায়ের মস্তিষ্কেও সন্তানের সেই কোষ থাকে। বিজ্ঞানের নাম মাইক্রোকাইমেরিজম।
তার মানে, আমাদের সবার শরীরের কিছু অংশ মায়ের ভিতরে বাস করে, কখনো ছেড়ে আসেনা।
এই কোষগুলো কী করে? শুধু বসে থাকে? না থাকেনা। মায়ের শরীরের রক্ষায়, আক্রমণ প্রতিরোধে ভুমিকা রাখে। মায়ের শরীরে ইনজুরি হলে সেই কোষগুলো মায়ের শরীরের আক্রান্ত অংশগুলোকে সারিয়ে তোলার জন্য ঝাপিয়ে পড়ে। শরীরে ক্যান্সার বাসা বাধতে চাইলে এগিয়ে আসে সেই শিশুর কোষগুলো প্রতিরোধ করতে। মায়ের রক্তশুন্যতা হলে, রক্ত তৈরিতে হাত লাগায়। তার মানে আপনি অলক্ষ্যে আপনার মা কে রক্ষা করে যাচ্ছেন বীরপুরুষ ছড়ার খোকার মতো।
"তুমি বললে, ‘যাস নে খোকা ওরে,’
আমি বলি, ‘দেখো-নাচুপ করে।’
ছুটিয়ে ঘোড়া গেলেম তাদের মাঝে,
কী ভয়ানক লড়াই হল মা যে
শুনে তোমার গায়ে দেবে কাঁটা।
কত লোক যে পালিয়ে গেল ভয়ে,
কত লোকের মাথা পড়ল কাটা।।
এত লোকের সঙ্গে লড়াই ক’রে,
ভাবছ খোকা গেলই বুঝি মরে।
আমি তখন রক্ত মেখে ঘেমে
বলছি এসে, ‘লড়াই গেছে থেমে,’
তুমি শুনে পালকি থেকে নেমে
চুমো খেয়ে নিচ্ছ আমায় কোলে
বলছ, ‘ভাগ্যে খোকা সঙ্গে ছিল’
কী দুর্দশাই হত তা না হলে!"
আক্ষরিক অর্থেই মায়ের শরীর রক্ষায় শিশুর কোষগুলো যুদ্ধ করে। মায়ের মস্তিষ্কে যেই কোষগুলো থাকে তারা কোন ভুমিকা রাখে কিনা এখনো জানা যায়নি। আমার অনুমান পাওয়া যাবে৷ তাছাড়া সন্তানের অমঙ্গলে মায়ের বুক কেন কেপে ওঠে প্রথমেই হাজার হাজার মাইল দূরে থাকলেও?
মাতৃত্ব কোন অপশন না। মাতৃত্ব নারীত্বের পুর্ণতা। সন্তান নারীকে পুর্ণ করে। তাকে রক্ষা করে বায়োলজিকালি।
বিধাতার এই দুনিয়ায় আর কতো রহস্য আছে কে জানে?