06/09/2026
ভাত থেকে নেহারি—ঢাকার খাবারে লুকিয়ে আছে এক শহরের ইতিহাস!
ঢাকার গল্প শুধু ইট-পাথর, পুরনো ভবন আর সরু গলির গল্প নয়। ঢাকার গল্প আছে তার খাবারের গন্ধেও!
একসময় ঢাকাবাসীর সকাল শুরু হতো ভাত দিয়ে। সঙ্গে থাকত মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, আম, কলা কিংবা গুড়। সাধারণ মানুষের নাশতায় ছিল চিড়া-গুড়, চিড়া-কলা, মুড়ি কিংবা বাকরখানি।
আর পুরান ঢাকার গরম সকাল?
অলিগলিতে মিলত ঠান্ডা মাঠা—শরীর-মন জুড়িয়ে দেওয়ার এক পুরনো সঙ্গী।
উনিশ শতকে ঢাকার নাশতায় যোগ হলো চা-বিস্কুটের নতুন সংস্কৃতি। লাঠি, কুলিচা, নানখাতাই আর টোস্ট বিস্কুট তখন বেশ জনপ্রিয়। এরপর ধীরে ধীরে রুটি ও পাউরুটিও ঢুকে পড়ে ঢাকাবাসীর দৈনন্দিন জীবনে।
চকবাজার ও আশপাশের খাবারের দোকানগুলো জনপ্রিয় হওয়ার পর তো নাশতার জগতেই যেন বিপ্লব!
পুরি, লুচি, মোহনভোগ, তন্দুরি রুটি, নেহারি, পরোটা-বুন্দিয়া, হালুয়া, তেহারি, বিরিয়ানি— সকালের খাবারেই জমে উঠত একেকটি ভোজ!
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গম আমদানির পর রুটি-পরোটার জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে। চিনি পরোটা, আলু পরোটা, ডাল পরোটা আর ঘি পরোটা হয়ে ওঠে ঢাকার চেনা স্বাদ।
আর রাতের খাবার ছিল পরিবারের মিলনমেলা। সবাই একসঙ্গে বসে খেতেন, আর খাবার হয়ে উঠত ভালোবাসা ও আন্তরিকতার অংশ।
খাবারের শেষে থাকত মিষ্টির আয়োজন—লাবড়ি, পাতখিসসা আর মালাই। এমনকি পুরনো ঢাকার কারও কারও কাছে সামান্য ভাতের সঙ্গে মালাই মিশিয়ে খাওয়াও ছিল এক বিশেষ রসনা!
সময় বদলেছে। ঢাকার খাবারের তালিকাও বদলেছে। কিন্তু মাঠা, বাকরখানি, নেহারি, পরোটা আর মালাইয়ের স্মৃতি আজও পুরান ঢাকার বাতাসে মিশে আছে।
কারণ, খাবার শুধু ক্ষুধা মেটায় না—খাবার একটি শহরের স্মৃতি বহন করে।
আর ঢাকার খাবারের প্রতিটি স্বাদ যেন বলে—
‘এই শহরের ইতিহাস শুধু পড়া যায় না, স্বাদও নেওয়া যায়!’
আপনার কাছে পুরান ঢাকার সবচেয়ে স্মরণীয় খাবার কোনটি?
👇 কমেন্টে জানান।