World Muslim مجتمع

World Muslim مجتمع I'm blessed to be born a Muslim. I love Allah because he's the most forgiving, the most loving, the most caring. He made me and I love him and Islam for that.
(2)

একটু গভীরভাবে ভেবে দেখেছেন কি? আজকের যুগে সামান্য বিনোদন বা অন্ধ মোহ যদি আমাদের বিবেক ও অন্তরকে এভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলতে ...
13/07/2026

একটু গভীরভাবে ভেবে দেখেছেন কি? আজকের যুগে সামান্য বিনোদন বা অন্ধ মোহ যদি আমাদের বিবেক ও অন্তরকে এভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে, তবে শেষ জামানার দাজ্জালের ফিতনা কতটা ভয়াবহ হবে? নিজের ঈমান ও আমল নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এখনই!"

লজ্জা করে না?
30/06/2026

লজ্জা করে না?

পড়ুন আমাদের ইতিহাসের এমন এক বীর সাহাবীর ঘটনা। যার আত্মত্যাগ আমাদের শিক্ষা। যার জীবন আমাদের জন্য শিক্ষা। এই মহান বীর সাহা...
20/06/2026

পড়ুন আমাদের ইতিহাসের এমন এক বীর সাহাবীর ঘটনা। যার আত্মত্যাগ আমাদের শিক্ষা। যার জীবন আমাদের জন্য শিক্ষা। এই মহান বীর সাহাবীর নাম মুসআব ইবনে উমাইর (রাঃ)। মুসআব (রাঃ) ঈমান ছিল এমন এক চূড়ায়, ইসলামের জন্য তার বিসর্জন ছিল এমন এক উচ্চতায়, যে উচ্চতার সমাপ্তি হয়েছে জান্নাতে। মুসআব ইবনে উমাইর (রাঃ) জীবন যেন আমাদের জন্য স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি। পড়ুন এই মানুষটিকে যিনি ইসলামের পতাকা উচিয়ে ধরে রেখেছিলেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। জান দিয়েছে কিন্তু পতাকা মাটিতে পড়তে দেয়নি। জানুন তাকে এবং ধারণ করুন।
*
মুসআব ইবনে উমাইর (রাঃ) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম বিষ্ময়কর ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন মক্কার সব থেকে ধনী পরিবারের সন্তান। তার মা খুননাস বিনতে মালিক ছিলেন তখনকার মক্কার অত্যন্ত ধনী এবং প্রভাবশালী মহিলা। উমাইর (রাঃ) এর জীবন ছিল বিলাসী এক জীবন। আরবের সব থেকে দামী কাপড়ের পোশাক, সব থেকে দামী সুগন্ধী দিয়ে নিজেকে মাখিয়ে রাখতেন। মুসআব (রাঃ) এর আভিজাত্যে এতই ছিল যে মক্কার লোকেরা তাকে দেখে অবাক হয়ে যেত, বলতো এমন সুসজ্জিত যুবক মক্কায় আর নেই।

মুসআব এর বিলাসী জীবন আরো সহজ ভাবে বুঝতে বর্তমানে কোনো ধনী আরব শেখের পুত্রদের দেখলেও কিছুটা আন্দাজ করা যায়।
*
এরই মাঝেই একদিন মুসআব ইবনে উমাইর শুনলেন আল্লাহর রাসুল ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছেন। নবীজির কথা শুনার জন্য তিনি গেলেন ইসলামের প্রথম অফিস বা মারকায দারুল আরকামে। সেখানে গিয়ে তিনি শুনলেন নবীজির মুখে আল্লাহর বানী। এবং মুগ্ধ হয়ে গেলেন আল্লাহর বানী শুনে। মুগ্ধ হয়ে গেলেন আল্লাহর রাসুলের ইসলামের কথা শুনে। এরপর তিনি কবুল করলেন ইসলাম। মুসআব ইবনে উমাইর ছিলেন সাবেকিন সাহাবী। একদম প্রথম দিকের ইসলাম কবুলকারী।
*
মুসআব ইবনে উমাইর এর ইসলাম গ্রহণের কথা তার পরিবার জেনে গেল। শোনা মাত্রই তার কাফের পরিবার মুসআব এর ধর্মের বিরুধীতা শুরু করলেন। কঠিন বিরুধীতা। তার প্রভাবশালী মা মুসআব (রাঃ) এর প্রতি এতই ক্ষুব্ধ হোন যে ছেলে মুসআবের উপর শুরু করলেন নির্যাতন।

মুসআবকে ঘরে বন্দি করে রাখা হলো যেন নবীজির সাথে মিশতে এবং ইসলামের কথা শুনতে না পারে। তার উপর শুরু হলো মানসিক অত্যাচার যেন সে ইসলাম ত্যাগ করে। প্রথমে তার মা ইমোশনাল অত্যাচার শুরু করলেন। যখন দেখল মুসআব (রাঃ) এতে কাবু হচ্ছে না। এরপর তার পোশাক, খাবার, আর্থিক সুবিধা সব বন্ধ করে দিলেন। যখন এসবও কাজ হয়নি তখন মুসআবকে পারিবারিক, সামাজিক সব কিছু থেকে বিচ্ছন্ন করে দিলেন।

কিন্তু এত কিছুর পরেও মুসআব ইবনে উমাইর (রাঃ) আল্লাহ এবং তার রাসুল, দ্বীন ইসলামের প্রতি ছিল অটুট এবং অবিচল। কোনো নির্যাতনই তাকে ইসলাম থেকে এক সুঁতা সরাতে পারিনি। বিভ্রান্ত করতে পারেনি। এরপর তিনি তার রাজকীয় জীবন ছেড়ে আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করলেন।
*
বেশ কিছুদিন পর আল্লাহর রাসুল মুসআব ইবনে উমাইর(রাঃ)-কে মদিনায় পাঠালেন দাঈ এবং শিক্ষক হিসাবে। তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম দাঈ বা শিক্ষক বা আলেম বা স্কলারদের অন্যতম। তার দাওয়াতি কার্যক্রমে হু হু করে বেড়ে যেতে লাগল মদিনায় মুসলিমের সংখ্যা। ইসলাম গ্রহণ করা ব্যক্তিদের শিখাতে লাগলেন কুরআন, হাদীস। তার দাওয়াতে মদিনার বড় বড় গোত্র, প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ইসলাম গ্রহন শুরু করলেন।
*
আল্লাহর তরফ থেকে নেমে এলো জিহাদের ডাক। বদর শেষ হয়েছে। এরপর শুরু হয়েছে ওহুদের জিহাদ।

উহুদ যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মুসলিম বাহিনীর পতাকা তুলে দিলেন মুসআব ইবনে উমাইয়র (রাঃ) এর হাতে। শুরু হলো তুমুল লড়াই। মুসলিম বাহিনী বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। মুজাহিদদের প্রাণ বিনিয়ে দিয়ে লড়াইয়ে একেরপর এক পড়তে থাকে কাফেরদের লাশ। ঠিক তখনই সামান্য এক ভুলের কারণে বিপাকে পড়ে যায় মুসলিমরা। চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে কাফের সৈন্যরা, এবং আক্রমণ করে নবী সল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লামের উপর।

আর তখনই নবীজিকে রক্ষার জন্য সামনে এসে দাঁড়ায় মুসআব (রাঃ)। লড়াই শুরু হয়। তখন একজন মুশরিক এসে মুসআব (রাঃ) ডান হাতে কেটে ফেলে। মুসআব (রাঃ) তৎক্ষণাৎ বাম হাত দিয়ে ইসলামের পতাকাটি তুলে ধরেন। এরপর কাফের সৈন্যটি তার বাম হাতও কেটে ফেলে।

দুই হাত হারানোর পরেও মুসআব (রাঃ) ইসলামের পতাকাটি মাটিতে পড়তে দেননি। তিনি তার দুই হাতের অবশিষ্ট অংশ দিয়ে ইসলামের পতাকাটি বুকের মাঝে চেপে ধরেন। শেষে মুশরিকটা বর্শা দিয়ে মুসআব (রাঃ) এর বুকে আঘাত করলেন। একদম এফোঅফোর। শাহাদাৎ বরণ করলেন। শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন মুসআব (রাঃ)। এবং তখন পতাকাটি মাটিতে পড়ে যায়।

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই জান্নাতি মানুষটি তার বুক দিয়ে আগলে উচিয়ে রেখেছিলেন আমাদের পতাকা, মুসলমানের পতাকা, উম্মাহর পতাকা, ইসলামের পতাকা।
*
যুদ্ধের পর যখন শহীদদের দাফন করা হচ্ছিল, তখন দেখা গেল ইসলামের এই মহান বীরের কাফন দেওয়ার মতো বড় কোনো কাপড় নেই। যিনি ছিলেন মক্কার সব চেয়ে ধনী ও বিলাসী যুবক, ইসলামের জন্য সেসব ত্যাগ করেছিলেন। তার কাছে থাকা ছোট চাদরটি দিয়ে মাথা ঢাকলে পা বের হয়ে যাচ্ছিল। আর পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যাচ্ছিল।

অবশেষে নবীজির নির্দেশে চাদরটি দিয়ে তার মাথা ঢাকা হয় এবং পা দুটি “ইযখিত” নামক ঘাস দিয়ে ঢেকে দাফন করা হয়। এরপর নবীজি মুসআব (রাঃ) ও অন্যান্য শহীদদের দেহ সামনে রেখে কুরআনের একটি আয়াত পাঠ করা শুরু করলেন, “মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কেউ কেউ যুদ্ধে শাহাদাৎ বরণ করেছে, আর কেউ কেউ শাহাদাতের অপেক্ষায় আছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তণ করেনি”।

নবীজি খুব আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আবেগ মাখা কণ্ঠে বললেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তারা আল্লাহর নিকট জীবিত’।
*
মহান আল্লাহর কাছে আমরা সেই মৃত্যু চাই যার মাধ্যমে আমাদের হাশর হবে মুসআব ইবনে উমাইর (রাঃ)দের সাথে। আমাদের জীবন আল্লাহ কবুল করুক, আমাদের শরীর-রক্ত আল্লাহ কবুল করুক তার দ্বীনের জন্য। আমাদের ঈমান আল্লাহ কবুল করুন।

মহান আল্লাহ প্রতিষ্ঠিত করে দেক দুনিয়ার যমীনে তার কালেমা পতাকা। যে পতাকা মুসলমানের, যে পতাকা উম্মাহর, যে পতাকা ইসলামের। যে পতাকা ভাগ করে দেয় ঈমান কুফর। যে পতাকা ভাগ করে দেয় মুত্তাকী এবং মুনাফেক। যে পতাকা কাঁপন ধরিয়ে দেয় কুফফারদের বুক।

আল্লাহর কালেমা পতাকা এই শহরে, এই যমীনে, দুনিয়ার প্রতিটা কোণে ভাসিয়ে তুলুক। এই উম্মাহর প্রতিটা হাত হয়ে যাক মুসআব ইবনে উমাইর এর হাত, কালেমার পতাকা উচিয়ে ধরুক আল্লাহর বিস্তৃত আসমান জুড়ে। আল্লাহর বাতাসে ভেসে বেড়াক আমাদের পতাকা। ইয়া আল্লাহ! আপনি মহান, আপনি পবিত্র, আপনি কবুল করে নিন। আপনি আমাদের অন্তর্ভুক্ত করুন মুসআব ইবনে উমাইরদের দলে…।

19/06/2026

#বৃষ্টি 💭💦

18/06/2026
বিশ্বকাপ শুরুর রাতে ফি*লিস্তিনের (গা জা র) দৃশ্য 💔এসব দেখেও একজন মুসলিম কিভাবে ফুটবল উন্মাদনায় মেতে থাকে? কিভাবে কুফফারদ...
14/06/2026

বিশ্বকাপ শুরুর রাতে ফি*লিস্তিনের (গা জা র) দৃশ্য 💔

এসব দেখেও একজন মুসলিম কিভাবে ফুটবল উন্মাদনায় মেতে থাকে? কিভাবে কুফফারদের ভালোবাসতে পারে? লজ্জা হওয়া উচিত– নিজেকে মুসলিম দাবি করেন, আবার কুফফারদেরও ভালোবাসেন - ছিঃ।

যে অন্তর কাফের'দের নিয়ে গাফেল সে হৃদয় কীভাবে এ ব্যথা অনুভব করবে?

❝ ওরা দাজ্জালের অনুসারী। আবার আপনিই ওদের অনুসারী। এখন সমীকরণটা কী দাঁড়ায়? ❞
14/06/2026

❝ ওরা দাজ্জালের অনুসারী। আবার আপনিই ওদের অনুসারী। এখন সমীকরণটা কী দাঁড়ায়? ❞

আমরা মুসলিম। পৃথিবীতে আমাদের সংখ্যা প্রায় ২০০ কোটি। অথচ পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আমাদের অসংখ্য ভাই-বোনদের দিক...
14/06/2026

আমরা মুসলিম। পৃথিবীতে আমাদের সংখ্যা প্রায় ২০০ কোটি। অথচ পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আমাদের অসংখ্য ভাই-বোনদের দিকে তাকালে বুকের ভেতরটা ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে। মনে হয়, আমরা যেন একটি আহত উম্মাহ—যার ক্ষতস্থান হতে অনবরত তাজা রক্ত ঝরছে।

আজ বাংলাদেশের সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে দিনের পর দিন অনাহারে-অর্ধাহারে পড়ে আছে হিন্দুত্ববাদী ভারত থেকে বিতাড়িত মুসলিমরা। পৃথিবী তাদের জন্য এতটাই সংকীর্ণ হয়ে গেছে যে, এক টুকরো নিরাপদ আশ্রয় কোথাও নেই। হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা তাদের তাড়িয়ে দিচ্ছে আর আমরা মুসলিমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি, যেন কিছুই করার নেই।

অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "মুমিনরা পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতায় একটি দেহের ন্যায়। যখন তার একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন সমগ্র দেহ জ্বর ও নিদ্রাহীনতার মাধ্যমে তার সাড়া দেয়।" [সহীহ বুখারী (৬০১১), সহীহ মুসলিম (২৫৮৬)]

বাংলাদেশের সীমান্ত মানেই নিপীড়ন, নির্যাতন ও রক্ত। এদেশের মুসলিমরাই ফেলানি হয়ে কাঁটাতারে ঝুলতে থাকে। হিন্দুত্ববাদী বিএসএফ-এর বন্দুকের নল সবসময় সীমান্তবর্তী মুসলিমদের দিকেই তাক করা থাকে। তারা গুলি করে মুসলিমদের লাশ ফেলে, আর অথর্ব বিজিবি সেই লাশ হাসিমুখে বহন করে নিয়ে আসে। যেন নূন্যতম লজ্জাও নেই তাদের। অপরদিকে এই ভয়াবহ অপরাধের বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে পারে না এদেশের তথাকথিত বলদ নেতারা।

আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে বাস করি, অথচ আমরাই নিরাপদ নই এদেশে। উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা আমাদের মুসলিম বোনদের “ভাগোয়া লাভ ট্র্যাপে” ফেলেও পার পেয়ে যাচ্ছে। আইনজীবী আলিফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেও বিচারের মুখোমুখি হতে হয় না ইসকন সন্ত্রাসীদের। এদেশের নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে? হিন্দুত্ববাদীদের আশীর্বাদপুষ্ট নেতাদের হাতে? অথচ এদেশ মুসলিমদের, এখানে রয়েছে অসংখ্য আলীমে দ্বীন, গবেষক ও ইসলামী নেতৃত্ব। কি দায়িত্ব পালন করছি আমরা?

অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।” [(সহীহ বুখারী (৭১৩৮), সহীহ মুসলিম (১৮২৯)]

প্রায় প্রতিদিনই আমাদের সামনে খবর আসে, “জয় শ্রী রাম” শ্লোগান দিয়ে কোন না কোন মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। কোন মুসলিম বোনকে রাস্তার উপর অপমান করছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী শয়তানেরা। নিরাপরাধ কাশ্মীরি মুসলিমদের পাইকারি হারে হত্যা করা হচ্ছে শতাব্দীকাল ধরে। অথচ আমরা পার্শ্ববর্তী মুসলিমরা একেবারেই নিরব। আমাদের বলদ নেতারা বলে “এটা পার্শ্ববর্তী দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের কিছুই করার নেই।”

বাংলাদেশের আরেকদিকে রয়েছে চির নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার অপরাধেই যাদেরকে পৈশাচিক কায়দায় গণহত্যা করা হচ্ছে যখন-তখন। তারা আজ আশ্রয় খুঁজে ফিরছে। এত এত মুসলিম দেশ থাকা সত্ত্বেও তারা আজ পরবাসী। সবাই মিলে যেন আজ তামাশা দেখছে। চরম নিপীড়ন থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের অনেকেই আজ উত্তাল সাগরে পাড়ি জমায়, কিন্তু তীরে পৌঁছানোর আগেই লাশ হয়ে ঢেউয়ের সাথে মিশে যায়। এ কেমন পরিণতি আজ মুসলিমদের? এসবের কি জবাব দিব আমরা মহান রবের সামনে?

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:"তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশুদের জন্য যুদ্ধ করছো না, যারা বলে হে আমাদের রব! আমাদেরকে এ অত্যাচারিত জনপদ থেকে বের করে নিন।"— (সূরা আন-নিসাঃ ৭৫)

রোহিঙ্গা মুসলিমদের মূল অংশটিই আজ শরণার্থী। যাদের কোন মানবিক মূল্যবোধ ও মর্যাদা নেই। রয়েছে কেবল একরাশ হতাশা। এখানে এমন অনেক শিশু রয়েছে, যারা জন্মের পর থেকে শুধু শরণার্থী শিবিরই দেখেছে। তারা জানে না তাদের গ্রামের রাস্তা কেমন ছিল, তাদের পূর্বপুরুষদের বাড়ি কোথায় ছিল। তারা ঘুমাতে যায় উদ্বাস্তু হিসেবে, আবার জেগেও ওঠে উদ্বাস্তু হিসেবেই।

এই লজ্জা কার? অবশ্যই আমাদের। আমরা কি এই শিশুদের জন্য উত্তম কোন বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছি? আমরা কি তাদের জন্য কোন আদর্শিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি? আমরা কি এই নিপীড়িত মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়েছি? তাদের স্বাধীনতার জন্য কোন উদ্যোগ নিয়েছি? তাহলে কিভাবে তারা আরাকানে ফিরে যাবে সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে?

অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তার ওপর জুলুম করে না এবং তাকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেয় না।” [সহীহ বুখারী (২৪৪২), সহীহ মুসলিম (২৫৬৪)]

আমরা দেশের সম্মানিত আলীমগণকে বলতে চাই, উম্মাহ যখন রক্তাক্ত, তখন আমরা মসজিদের মিম্বার ও মাদ্রাসার দারস থেকে শুধু ব্যক্তিগত নেক আমল ও ক্যারিয়ার ভিত্তিক আলোচনা না করে, উম্মাহর ক্ষত তথা মজলুমদের উদ্ধারের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিন। আজ যদি আপনাদের পক্ষ থেকে এমন পদক্ষেপ না আসে, তবে অচিরেই এই জাতি আপনাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। যা হবে অত্যন্ত লজ্জাজনক।

এব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন: “তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-বুঝে সত্য গোপন করো না।” (সূরা আল-বাকারাঃ ৪২)

অপরদিকে এদেশে আমরা বড় বড় অনেকগুলো ইসলামিক দল দেখতে পাই। আমাদের প্রশ্ন হল, তারা কি কাজ করছে? তারা তো প্রতিনিয়তই বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে হরক রকম শ্লোগান, মানববন্ধন ও মিছিল করার পাশাপাশি বিবৃতি দিয়ে থাকে। কিন্তু মজলুম এবং উম্মাহর সংকট নিয়ে কি তাদের কোন দায়িত্ব নেই?

তারা কি আল্লাহ্‌র সামনে দাঁড়িয়ে জবাবদিহিতা করাকে ভয় করছেন না? কি হবে এসব তথাকথিত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের পেছনে পড়ে থেকে যদি ধীরে ধীরে উম্মাহ হারিয়ে যায় কালের গর্ভে? দয়া করে মজলুমদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌কে ভয় করুন, নয়তো আপনাদের পরিণতি হবে অত্যন্ত করুণ।

এছাড়াও আমাদের দেশে রয়েছে হাজারো লেখক, গবেষক ও বক্তা! কিন্তু উম্মাহর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত নিরাময়ে তাদের কোন কাজটি চোখে পড়ার মত? তারা বরং এমন সব গিবত ও বিতর্ক নিয়ে ব্যস্ত, যা উম্মাহকে আরো বড় খাদের কিনারায় টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তাইতো মজলুম আজ কারো উপরেই আস্থা রাখতে পারছে না। একমাত্র মহান আল্লাহ্‌ ব্যতীত এই এই এতিম উম্মাহর যেন কেউই নেই। সবাই আজ প্রচন্ড ব্যস্ত নিজেদের ব্যক্তিগত অথবা দলীয় স্বার্থ নিয়েই।

হে মুসলিম উম্মাহ! আর কত মজলুমের আহাজারি শুনলে তুমি জেগে উঠবে? আর কত বোন অপমানিত হলে তোমার আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগবে? আর কত মুসলিম উদ্বাস্তু হলে তোমার রক্তে শিহরণ জাগবে? উঠে দাঁড়াও, তোমাকেই তো মজলুমের মুখে হাসি ফোটাতে হবে। আজ যদি তুমি না জাগো, তবে অচিরেই নব্য তাতারিদের হাতেই তুমি বেঘোরে মারা পড়বে। সেইসাথে তোমার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও সম্পদ সবই তোমার চোখের সামনেই বিলীন হয়ে যাবে। আর হাশরের মাঠে চরমভাবে লজ্জিত হবে তুমি শেষ বিচারক মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিনের সামনে।

সুতরাং আপনি যেই হোন না কেন, আজ আপনার সামনে কেবল ২টি পথ খোলা রয়েছে। হয় মজলুমদের উদ্ধারকারী হয়ে ইতিহাস রচনা করবেন, নয়তো অধঃপতিত হয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে যাবেন।

তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, মুসলিমরা এই অঞ্চলে চিরকাল পরাভূত হয়ে থাকবে না; তারা বিজয়ী হবেই ইনশাআল্লাহ্‌। হয় আপনাকে নিয়ে, অথবা আপনাকে ছাড়াই...

যাদের র'ক্তে এই উৎসব, আমরা আজ তাদেরই সমর্থক।💔
14/06/2026

যাদের র'ক্তে এই উৎসব, আমরা আজ তাদেরই সমর্থক।💔

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when World Muslim مجتمع posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share