25/04/2026
হাসান মঞ্জিল,ময়মনসিংহ
ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি নির্মিত হয়েছিল বাংলা ১৩৩৪ (১৯২৭)সালে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ির প্রখ্যাত জমিদার সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর কনিষ্ঠ পুত্র সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী এটি নির্মাণ করেন। জনশ্রুতি আছে, নিজের কন্যার আবাস হিসেবে তিনি এই মনোরম ভবনটি গড়ে তুলেছিলেন। ময়মনসিংহ অঞ্চলের ইতিহাসে এটি প্রথম দিকের মুসলিম স্থাপত্য হিসেবে বিশেষভাবে স্বীকৃত। ধনবাড়ির জমিদারদের সামাজিক মর্যাদা, সংস্কৃতি ও ঐশ্বর্যের ছাপ ভবনের প্রতিটি অংশে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
ভবনটির মূল ফটকের উপরে রয়েছে চার খিলানবিশিষ্ট একটি ছোট গম্বুজ, যা প্রবেশমুহূর্তেই চোখে পড়ে। ছাদের দুই পাশে নহবতখানার আদলে নির্মিত বড় দুটি গম্বুজ এবং তার সঙ্গে ছোট ছোট গম্বুজ ভবনটিকে দিয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য। উপরের কোণাগুলোতে রয়েছে শৈল্পিক বুরুজ, যা স্থাপনাটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তোলে। পুরো ভবনটি সাদা রঙে আবৃত, আর দেয়ালজুড়ে রয়েছে সিমেন্টের সূক্ষ্ম কারুকাজ। একতলা এই ভবনের মেঝেতে রঙিন মোজাইকের কাজ করা, যেখানে লতাপাতার নকশা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ভেতরে মাঝখানে রয়েছে একটি খোলা আঙিনা, যা আলো-বাতাস চলাচলের জন্য উপযোগী, আর ছাদে ওঠার জন্য রয়েছে একটি প্যাঁচানো সিঁড়ি।
সময়ের প্রবাহে এই ভবনের ব্যবহারেও এসেছে পরিবর্তন। একসময় এটি ছিল জমিদার পরিবারের আবাসস্থল, কিন্তু ১৯৫৮-৫৯ সালের দিকে এখানে ‘মরিয়ম স্কুল’ পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারি কাজে ভবনটি ব্যবহৃত হয়েছে। একসময় এটি "মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর" এর জেলা কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল। বর্তমানে এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি "ময়মনসিংহ ডায়াবেটিস সমিতি"র কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
©: Patwary with Patwary