Kazol Rani

Directions

Kazol Rani আসসালামু আলাইকুম, গল্পের শহরে স্বাগতম। যা সকল প্রকার রহস্যময়, ভৌতিক, হাস্যকর ও ইসলামিক গল্পের সমারোহ
(1)

 #অচেনা_সেই_তুমি_-৯৩( ধামাকা পর্ব)সবাই অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে। নাসিমা চৌধুরী বলেন- বলো, তুমি কি বলতে চাও ...
12/07/2026

#অচেনা_সেই_তুমি_-৯৩( ধামাকা পর্ব)

সবাই অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে। নাসিমা চৌধুরী বলেন- বলো, তুমি কি বলতে চাও বলো? আমরা সবাই তোমার কথা শুনছি।
-- আপ.. আপনি যাকে আপনার মেয়ে বলে জানেন সে আসলে আপনার মেয়ে নয়। আপনার বোনের মেয়েই আপনার মেয়ে।

বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষ এই কথাগুলো শুনে চমকে ওঠে। এসব কি বলছে এই মেয়েটা? নাসিমা চৌধুরী কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলেন- এসব কি বলছ তুমি? --আমি একদম ঠিক বলছি। আপনার আর আপনার বোনের মেয়ে একই দিনে, একই হাসপাতালে জন্মেছিল। আপনার বোনের মেয়ে হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আপনার মেয়ে হয়। তখন আপনার বোন আমার মাকে টাকা দিয়ে আপনার পাশে আপনার বোনের মেয়েকে রেখে দেয় ।আর আপনার মেয়েকে আপনার বোন নিয়ে যায়। ওই সময়ে আমার মা এই হাসপাতালের আয়া ছিলেন। তখন আপনার বোন আমার মাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে এই কাজটি করতে বাধ্য করে। আপনার মেয়ে জন্মানোর সাথে সাথেই আমার মা আপনার মেয়েকে নিয়ে আপনার বোনের হাতে তুলে দেয় ।
নাসিমা চৌধুরী চিৎকার করে বলে ওঠেন- না....! এটা হতে পারে না।
-- আপনার আমার কথা বিশ্বাস না হলে এটা নিন (মেয়েটা বালিশের নিচ থেকে একটা বাটন ফোন বের করে নাসিমা চৌধুরীর হাতে দিল)। এটার মধ্যে আমার মায়ের সমস্ত স্বীকারোক্তি রেকর্ড করা আছে। আপনাদের সাথে এত বড় অন্যায় করে আমার মা শান্তিতে বাঁচতে পারেনি ।ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে আমার মায়ের। আর এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আমি কিছুদিন আগেই আমার মায়ের কাছ থেকে এসব জানতে পেরেছি। আমি কাল যখন আপনাদের বাড়িতে এসব বলার জন্য যা ছিলাম তখন কিছু বখাটে ছেলে আমার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়।

এই পর্যায়ে নাসিমা চৌধুরী চিৎকার করে কেঁদে ওঠেন ।বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষ এসব শুনে হতবাক হয়ে যায়। আশরাফ চৌধুরী সেখানেই বসে পড়েন। কাঁপতে কাঁপতে ফাইল থেকে রিপোর্ট বের করেন। রিপোর্টে চোখ বুলাতেই তার বুকের ভেতরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। নাজিউর রহমান চৌধুরী, ইনা চৌধুরী আশরাফ চৌধুরীর হাতে থাকা ফাইলটা দেখতে থাকেন। সেখানে জ্বলজ্বল করছে পরি আশরাফ চৌধুরীর মেয়ে।
আশরাফ চৌধুরী কোনমতে বলেন- কয়েকদিন ধরেই মনটা কেমন যেন খচখচ করছিল।
বড্ড মায়া হতো মেয়েটার প্রতি। বারবার মনে হতো ওর সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক আছে। ও আমার নিজের মেয়ে। এইসব ভেবেই ওর আর আমার ডিএনএ টেস্ট করালাম। আমি তো আমার মনকে শান্ত করার জন্য টেস্ট করেছিলাম ।কিন্তু এভাবে যে মিলে যাবে তা ভাবতে পারিনি।

-- তাহলে আমরা যখন নাসিমা আর পরির ডিএনএ টেস্ট করিয়েছিলাম তখন রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছিল কেন?( ইনা চৌধুরী মনে মনে বললেন)

আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা একজন লোক কাউকে ফোন করে বলল - হ্যালো বস, চৌধুরী ভিলার সবাই সবকিছু জেনে গেছে।
অচেনা: What?কি বলছো এসব?কি করে জানলো?
লোক: জেসমিন নামের মেয়েটি সবকিছু বলে দিয়েছে।
অচেনা: ওহ্ শীট...! ওকে শেষ করো নি তোমরা?
লোক: শেষ করেছিলাম বস কিন্তু কিভাবে যে বেঁচে গেল..?
অচেনা: তোদের কেটে আমার কুকুরদের খাওয়াবো জানোয়ারের বাচ্চারা? কতগুলো টাকা দিয়েছি কাজটা করার জন্য? তবুও করতে পারলি না?পরির কি অবস্থা?
লোক: ওকে একবারে শেষ করে দিয়েছি বস।ও আর কখনো আমাদের মাঝে আসবে না।
অচেনা: যাক, অন্তত একটা ভালো খবর তো শুনলাম।শোন তুই ওদিকে খেয়াল রাখবি।আর যা হয় আমাকে জানাবি।
লোক:ওকে বস।

অচেনা লোকটা ফোন কেটে হোল হো করে হেসে উঠলো। একজন গার্ডকে ডেকে বলল- আজ রাতে পার্টির আয়োজন করো। এই কথা বলে সে হাসতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর লোকটা চেয়ার থেকে উঠে সামনে এগিয়ে গেল। সামনে দেওয়ালে চৌধুরী ভিলার প্রত্যেক সদস্যের একটি করে ছবি লাগানো হয়েছে।নাজিউর রহমান চৌধুরী,ইনা চৌধুরী, আশরাফ চৌধুরী, নাসিমা চৌধুরী, মিহির এমনকি পরির ছবিও বাদ যায় নি।পরির হাস্যোজ্জ্বল ছবিতে লাল কালি দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেওয়া। অচেনা লোকটা ঠান্ডা গলায় পরির ছবির দিকে তাকিয়ে বলল - ঠিক এইভাবে, ঠিক এইভাবে চৌধুরী পরিবারের সবাইকে শেষ করে দিবো আমি। কাউকে বাঁচতে দেব না, কাউকে না..। গোটা চৌধুরী বংশকে নির্বংশ করে দিব। মাটির সাথে মিশিয়ে দিব ওই চৌধুরী সাম্রাজ্য। এই বলে লোকটা বাঁকা হাসি দিল। তারপর পেছনে তাকিয়ে উচ্চ কন্ঠে বলল -ভেতরে এসো..।
লোকটা ডাকা মাত্রই একজন অত্যন্ত সুন্দরী মহিলা ঘরের ভেতরে ঢুকলো।
#চলবে..।
#কাজল_রানী_বাই_মীম।

গল্প শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। সবাই একটু লাইক কমেন্ট করবেন প্লিজ

12/07/2026
 #অচেনা_সেই_তুমি_পর্ব-৯২আগে পরিকে খুঁজে বের করতে হবে। দেখি ওকে এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে কিনা? মিহির ওর গার্ডদের নিয...
11/07/2026

#অচেনা_সেই_তুমি_পর্ব-৯২

আগে পরিকে খুঁজে বের করতে হবে। দেখি ওকে এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে কিনা?

মিহির ওর গার্ডদের নিয়ে চারদিকে খুঁজছে পরিকে। কিন্তু কোথাও পাচ্ছে না। এটা সেই জায়গা যেখানে দুই বাসের এক্সিডেন্ট হয়েছিল। বাস দুটো এখনো আগের মতোই পড়ে আছে। বাসের ভেতর থেকে এখনো আহত- নিহত মানুষদের বের করা হচ্ছে। মিহিরের গার্ডরাওও এই কাজে সাহায্য করছে। চারদিকে কান্না আর অসহায় মানুষদের আর্তনাদ ।কত মানুষ এখনো বাসের ভেতরে ঢুকছে তাদের প্রিয় মানুষের খোঁজে। মিহির এখনো খুঁজে চলেছে ওর মায়াবতীকে। মায়াবতীকে না পাওয়া পর্যন্ত ওর এই চলা থামবে না।

সম্পূর্ণ হাসপাতলে মানুষের ভিড়ে যেন পা ফেলার জায়গা নেই এমন অবস্থা। চারদিকে লাশ আর লাশ ।প্রিয় মানুষদের হারিয়ে স্বজনদের ভেঙ্গে পরা কান্না, আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালে পরিবেশ। কিন্তু এখানেও সাংবাদিকরা থেমে নেই। তাদের ঢল যেন রোগীদের চেয়েও বেশি। প্রিয় মানুষকে হারিয়ে স্বজনদের মনের অবস্থা কি তা জানতে চাইছে সাংবাদিকেরা। এগুলো আবার বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে। কিছু মানুষরূপী পশু আবার সেখানে দাঁড়িয়ে সেলফিও তুলছে। এরা আবার নিজেদেরকে মানুষ বলে দাবি করে।

নাজিউর রহমান চৌধুরী, আশরাফ চৌধুরী, নাসিমা চৌধুরী ও ইনা চৌধুরী মিলে পরিকে হাসপাতালে খুঁজে চলেছে। চার জনের অবস্থাই বেহাল। সারা হাসপাতাল খুঁজেও পরিকে পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে এইমাত্র মিহির ফোন করে জানিয়েছে যেখানে এক্সিডেন্ট হয়েছে সেখানেও পরিকে পাওয়া যায়নি। অ্যাক্সিডেন্টের জায়গা থেকে সব মানুষকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভেঙেচুরে যাওয়া দুই বাসকেও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পরির দেখা কোথাও মেলেনি। নাসিমা চৌধুরী কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সূর্য তখন পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সূর্য ডুবে যাবে। চৌধুরী পরিবারের সবাই এবার মর্গেও ঢুকলো। সবার মনে তখন একটাই প্রার্থনা। পরিকে যেন মর্গে লাশ হিসেবে পাওয়া না যায়। পুরো মর্গ দেখে নিল ওরা। সেই সাথে বেওয়ারিশ লাশ গুলোও দেখে নিল। নাসিমা চৌধুরী প্রতিবার লাশ দেখার সময় দুচোখ বন্ধ করেছিলেন। এক একটা লাশ দেখার শেষ হলে সবার উপর থেকে যেন একেকটা ফারা কেটে যেত।

ইনা চৌধুরী বেশিক্ষণ মর্গে থাকেন না। লাশ দেখতে দেখতে তার গা গুলিয়ে আসে। তাই তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। সেখান থেকে বেরিয়ে চলে যাচ্ছিলেন এমন সময় তার কানে কিছু একটা আওয়াজ আসতে থাকে। তার মনে হতে থাকে কেউ একজন ক্ষীণ কন্ঠে বলছে- নাসিমা.. চৌধুরী..! না.. নাসিমা.. চৌধুরী! হঠাৎ তার পা দুটো থেমে যায়। এই হাসপাতালে কে এভাবে ক্ষীণ কন্ঠে নাসিমা চৌধুরীর নাম নিচ্ছে? মনে হয় তার গলায় যেন কোন জোর নেই। আচ্ছা এটা পরি নয় তো? এই ভাবনা মাথায় আসতেই তিনি শব্দের উৎসব খুঁজতে থাকেন। এমন সময় হঠাৎ শব্দটা আসা বন্ধ হয়ে যায়। ইনা চৌধুরীর মনে ভয় দানা বেঁধে যায়। তিনি আশেপাশে খুঁজতে থাকেন। খুঁজতে খুঁজতে হাসপাতালের এক চিপা গলিতে ঢুকে যান। সেখানেও কয়েকটা লাশ পড়ে আছে। পুরো হাসপাতাল টাকে লাশের ঘর বলে মনে হচ্ছে। চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। লাশগুলোর মুখ সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা। ইনা চৌধুরীর যথেষ্ট সাহসী হলেও লাশগুলোর কাছে গিয়ে তাদের কাপড় উল্টে মুখ দেখার মত অত সাহস তার নেই। ইনা চৌধুরী সেখান থেকে চলে আসবেন এমন সময় তার কানে আবারো একই আওয়াজ ভেসে আসে। কেউ একজন অত্যন্ত ক্ষীণ কণ্ঠে বলছে- নাসিমা.. চৌ..! না.. চৌ.. ধর..।
ইনা চৌধুরী বুঝতে পারেন না এমন একটা জায়গায় নাসিমা চৌধুরীকে কে ডাকছে? তিনি সেই গলি থেকে বেরিয়ে আসেন ।হঠাৎ তার নজর যায় গলির মুখে বামদিকে ছোট্ট একটা ঘর। এই ঘরটা থেকেই আসছে আওয়াজ। ইনা চৌধুরী বুকে কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে সেই ঘরের ভেতরে ঢুকেন। ঢুকতেই দেখেন সেখানে নীল রঙের সেলোয়ার কামিজ পড়া ১৬-১৭ বছর বয়সী একটা মেয়ে। ইনা চৌধুরী মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেন এই ভেবে যে এটা পরি নয়। তাহলে পরি কোথায় আছে? এর মধ্যেই মেয়েটা আবারও নাসিমা চৌধুরীর নাম ধরে ডাকতে থাকে। ইনা চৌধুরী মেয়েটাকে আস্তে করে ডাক দেন। ইনা চৌধুরীর ডাক শুনে মেয়েটা চোখ খুলে তাকায়। মেয়েটা বলে ওঠে- আ..পনি কি..কি না..না..সিমা চৌধুরীকে চিনেন? তার সাথে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে আমার।
ইনা চৌধুরী এই কথা শুনে চমকে ওঠেন। অস্থির কন্ঠে বলেন- কি গুরুত্বপূর্ণ কথা? আমাকে বলো? আমি নাসিমা চৌধুরীর জা ইনা চৌধুরী।
মেয়েটা অনেক কষ্টে বলল- আপনি প্লিজ নাসিমা চৌধুরীকে ডাকুন। আমি শুধু তাকেই বলবো কথাগুলো। আর কাউকে না। আমার সময় কম। প্লিজ তাকে ডাকুন।

ইনা চৌধুরী দ্রুত সবাইকে ডেকে নিয়ে আসতে যান। সবাইকে নিয়ে এসে ইনা চৌধুরী দেখেন মেয়েটা হাপাচ্ছে। আশরাফ চৌধুরী তার পানির বোতলটা নাসিমা চৌধুরীর হাতে দিয়ে বলেন- এই নাও ।ওকে একটু পানি খাইয়ে দাও। নাসিমা চৌধুরী পানির বোতলটা নিয়ে মেয়েটাকে একটু পানি খাইয়ে দেন। তারপর জিজ্ঞেস করেন- কে তুমি? আর আমাকেই বা কেন খোঁজছো?
মেয়েটা ক্ষীণ কন্ঠে বলে- আ..আমি জেসমিন। আমার আপনাকে কিছু জরুরী কথা বলার আছে। আমার হাতে সময় খুব কম। আমাকে এখন কোন প্রশ্ন করবেন না। আর আমি যা বলছি তা মন দিয়ে শুনুন।
#চলবে..।
#কাজল_রানী_বাই_মীম।

 #অচেনা_সেই_তুমি_পর্ব-৯১যেন তার ভেতরে কোন প্রাণ নেই। মিহির বলল- বাবা এখন এসব শোনার সময় নয় ।আমি পরিকে খুঁজতে যাচ্ছি।-- ...
07/07/2026

#অচেনা_সেই_তুমি_পর্ব-৯১

যেন তার ভেতরে কোন প্রাণ নেই। মিহির বলল- বাবা এখন এসব শোনার সময় নয় ।আমি পরিকে খুঁজতে যাচ্ছি।
-- ঠিক আছে। যা খুঁজে নিয়ে আয়। (নাজিউর রহমান চৌধুরী)।
ইনা চৌধুরী বলেন- না মিহির। তুই কোথাও যাবি না ।মিহিরের বাবা, তুমি জানো না পরি কি করেছে? পরি..।

এবার নাজিউর রহমান চৌধুরী চিৎকার করে বলেন- কি এমন করেছে পরি? তোমাদের দুজনের সাহস কি করে হয় আমার বাড়ি থেকে পরিকে বের করে দেওয়ার? পরি কোন অন্যায় করলে ওকে আমি শাস্তি দিতাম। তোমরা দিতে গেলে কেন?
নাজিউর রহমান চৌধুরীর গলা ধরে আসে। তার বুকটা পরির জন্য পুড়ে যাচ্ছে ।মেয়েটাকে কি করে পারলো ওরা বের করে দিতে?
-- নাসিমা তুমি কি করে পরিকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে ?
নাসিমা চৌধুরীর কোন হেলদোল নেই। তিনি আগের মতোই দাঁড়িয়ে থাকেন। তার দুচোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
মিহির পরিকে খুঁজতে বেরোবে এমন সময় ওর ফোন বেজে ওঠে ।মিহির তাড়াতাড়ি ফোন রিসিভ করে ।ওপাশ থেকে মিহিরের গার্ড ওকে যা বলে তা শুনে মিহির স্থির হয়ে যায়। মিহির সেখানেই বসে পড়ে। এতে নাজিউর রহমান চৌধুরী, ইনা চৌধুরী ঘাবড়ে যান। নাজিউর রহমান চৌধুরী মিহিরকে জিজ্ঞেস করেন- কি হয়েছে মিহির? বল না.. মিহির কি হয়েছে? পরি মামনির কোন খোঁজ পেয়েছিস?

মিহির আগের মতই স্থির হয়ে আছে। ওর মস্তিষ্ক যেন ফাঁকা হয়ে গেছে। ছেলের এই অবস্থা দেখে দুজনেই ঘাবড়ে যান। বারবার মিহিরকে জিজ্ঞেস করতে থাকেন কি হয়েছে? তাতেও মিহিরের কোন হেলদোল নেই। নাজিউর রহমান চৌধুরী ছেলের দুই বাহু ধরে ঝাকাতে থাকেন আর জিজ্ঞেস করতে থাকেন। মিহির হুশে ফিরে আসে। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে কোনমতে বলে- পরি যে বাসে করে চট্টগ্রাম যাচ্ছিল সে বাস আরেকটা বাসের সাথে এক্সিডেন্ট করেছে ।
-- না..! এটা হতে পারে না। আমার পরি এক্সিডেন্ট করতে পারেনা..(নাসিমা চৌধুরী)।
নাজিউর রহমান চৌধুরীর শরীর ছেড়ে দেয়। তিনি সেখানে বসে পড়েন ।ইনা চৌধুরী মুখে হাত দিয়ে কাঁদতে থাকেন। তিনি তো পরিকে শুধু মিহিরের জীবন থেকে সরাতে চেয়েছিলেন। পরি পৃথিবী থেকেই সরে যাক এটা তো তিনি চাননি।

চারদিকে বিধ্বস্ত অবস্থা। মানুষের কান্না, আহাজারি আর ছোটা ছুটি। দুটো বাস সরাসরি একে অপরের সাথে ধাক্কা খেয়েছে। দুই তলা বিশিষ্ট দুই বাস মিলে প্রায় শতাধিক মানুষ এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। কারো শরীর থেকে হাত কিংবা পা আলাদা হয়ে গেছে। আবার কারো অবস্থা তার চেয়েও খারাপ। এক মর্মান্তিক অবস্থা! কেউ কেউ তাদের প্রিয় মানুষদের খুঁজছে, আবার অনেক ছোট ছোট বাচ্চারা কাঁদছে। চারদিকে পোড়া পোড়া গন্ধ। অথচ এসবের মাঝেও একদল মানুষরূপী পিশাচ এসব ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়ছে। এই মানুষরূপী পিশাচদের দেখে মনে হয় এরা অনুভূতিহীন। চার -পাঁচ বছরের বাচ্চা যাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন তাকে সাংবাদিকরা দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করছে - এক্সিডেন্টের পর তার কেমন লাগছে? এরা মানুষ নামে কলঙ্ক।

খুব কম সময়ের মধ্যে এক্সিডেন্টের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ অসহায় মানুষদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। আবার কেউ কেউ আসে অসহায় মানুষদের আর্তনাদ শুনতে।

আশরাফ চৌধুরী হাসপাতালের একটা চেয়ারে বসে আছেন । তিনি এক্সিডেন্টের খবর এখনো জানেন না।দুচোখ বন্ধ তার। তার হাতে একটা রিপোর্টের ফাইল দেখা যাচ্ছে। আশরাফ চৌধুরী দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগছেন যে তিনি রিপোর্টটা খুলে দেখবেন কিনা? তিনি ফাইলটা হাতে নিয়ে বসে থাকেন ।এভাবে কিছু সময় পার হওয়ার পর তিনি ফাইলটা বের করেন। রিপোর্ট দেখবেন এমন সময় তার সামনে নাজিউর রহমান চৌধুরী হাজির হন। নাসিমা চৌধুরী, ইনা চৌধুরী ও আসেন। নাসিমা চৌধুরী স্বামীর বুকের উপর ঢুলে পড়েন ।আশরাফ চৌধুরী দ্রুত রিপোর্ট রেখে নাসিমা চৌধুরীর মাথায় হাত রাখেন ।হাত বুলাতে বুলাতে বলেন- কি হয়েছে নাসিমা? তুমি এখানে এভাবে কাঁদছো কেন?
নাসিমা চৌধুরী হেঁচকি তুলতে তুলতে বলেন- আমাদের.. প..রি..আমাদের পরি..।
-- কি হয়েছে আমাদের পরির?
-- আমাদের পরি এক্সিডেন্ট করেছে।

এই কথা শুনে আশরাফ চৌধুরীর দুনিয়া থমকে যায়। তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন-- what? কি বলছ এসব তুমি?
-- হ্যাঁ আমি একদম ঠিক বলছি।

এবার নাজিউর রহমান চৌধুরী বলেন- আশরাফ তুই জানিস না অ্যাক্সিডেন্টের কথা? তাহলে এখানে কি করছিলি? এই হাসপাতালে নাকি আরো অনেক এক্সিডেন্ট হওয়া মানুষকে আনা হয়েছে? তুই দেখিস নি?
-- হ্যাঁ, আমার সামনে দিয়ে কয়েকজনকে ভেতরে নিয়ে গেছে ।কিন্তু কি হয়েছে বলতো? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
-- তুই আমাদের সঙ্গে ভেতরে চল। আমরা যেতে যেতে তোকে সব বলছি। আগে পরিকে খুঁজে বের করতে হবে।
#চলবে..।
#কাজল_রানী_বাই_মীম।

 #অচেনা_সেই_তুমি_পর্ব-৯০কেঁপে উঠছি মাঝে মাঝে ।প্রায় ১৮ বছর বয়সেও আমার আপন বলতে কেউ নেই। এই পৃথিবীতে আমি সম্পূর্ণ একা। ...
05/07/2026

#অচেনা_সেই_তুমি_পর্ব-৯০

কেঁপে উঠছি মাঝে মাঝে ।প্রায় ১৮ বছর বয়সেও আমার আপন বলতে কেউ নেই। এই পৃথিবীতে আমি সম্পূর্ণ একা। আমার হাত পা যেন ভেঙে আসছে ।আমি আর পারছি না। আমি ভেতর থেকে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি। এই ভাঙাচোরা আমিটাকে জোড়া দেওয়ার মত কেউ নেই। বড্ড একা আমি। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলাম। এই শরীরের ভারটাও আজ বোঝার মত লাগছে। যার অনেক আছে তাকে আরো দেওয়া হয়। আর যার কিছুই নেই তার কাছ থেকে তার সামান্য টুকুও ছিনিয়ে নেওয়া হয় ।আমি তো এমনিতেই নিঃস্ব ছিলাম। আমাকে আরো নিঃস্ব করে দেওয়া কি খুব প্রয়োজন ছিল? আমি তো স্বেচ্ছায় এখানে আসিনি। আমাকে নিয়ে আসা হয়েছে ।দিনের পর দিন এত মানুষের এত কথা শুনেও দিনশেষে একটাই কথা ভাবতাম আমার মামনি- বাবাই তো আমার পাশে আছে। আমার চাচ্চু- চাচিমনি তো আমার সাথে আছে। এসব ভেবেই সুখী ভাবতাম নিজেকে। কিন্তু আজ আমার সেই সুখটাও হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। না চাইতেও মুখ দিয়ে একটাই শব্দ বেরিয়ে এল। মা..! কাঁপা কাঁপা গলায় কাঁদতে কাঁদতে বললাম-মা...! তুমি কেন আমার আপন হলে না মা..! সারা পৃথিবী আমায় ঘৃণা করুক তবুও যদি তুমি আমায় ভালবাসতে? খুব কষ্ট হচ্ছে আমার খুব..! খুব বেশিই কষ্ট হচ্ছে আমার। আমি পারছি না এই কষ্ট সহ্য করতে..! আমার হাত পা ছুড়ে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে ।এই জীবন এত কষ্টের কেন মা..! বিশ্বাস কর মা.. আমার খুব কষ্ট হচ্ছে! ওমা.. তুমি আমার একটু কাছে আসো না মা..। তুমি তো আমায় তোমার গর্ভে ধারণ করেছিলে..! আমার কষ্টে তোমার কি একটুও কষ্ট হয় না..! একবার দেখো না মা আমার কত কষ্ট হচ্ছে? এতই পাষাণ তুমি মা..! আমার সারা শরীর কাঁপছে ।চোখ থেকে অনবরত পানি পড়ছে। আমি পরি আজীবন কষ্ট, দুঃখ - অবহেলার মধ্যে বড় হয়েছি। আমার জ্বর হয়েছে। বিছানায় পড়ে মরে যাওয়ার মত অবস্থা হয়েছে। তবুও কেউ কখনো আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় নি। আমাকে কেউ ঔষধ এনে দেয় নি। আমি পরি আজীবন নিজের খরচ নিজে বহন করেছি। না খেয়ে থেকেছি, জ্বর, ঠান্ডা- কাশিতে বিছানায় পড়ে থেকেছি। তবুও কেউ কখনো আমার খোঁজ নেয়নি। আমার মা আমার সামনে তার বোনের মেয়েকে আদর করতো, কোলে নিত, খাইয়ে দিত ।আর আমি সেদিকে অশ্রুভেজা চোখে তাকিয়ে থাকতাম। আমার নিজের বাড়িতে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর নায়রা থাকতো। আমার পরিবারের সবার আদর ভালোবাসা ভোগ করতো। আমি কখনো টু শব্দ ও করিনি। অথচ আজ সেই মেয়ে বলছে আমি নাকি তার জায়গা কেড়ে নিচ্ছি। হায়রে জীবন..! হায়রে আমার ভাগ্য..! আমি পরি আজীবন একা ছিলাম, আজও একা আছি আর ভবিষ্যতে যতদিন বেঁচে থাকব একাই থাকবো। আমার জন্য আমার আল্লাহই যথেষ্ট।

সব মেয়ের কি আর পরিবার থাকে? সবার ভাগ্যে কি ঘর, আশ্রয় আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা লেখা থাকে?কত মেয়েই তো জীবনের শুরুতেই ঝড়ে ভেসে যায়। হারিয়ে ফেলে আপনজনের ছায়া। আমারও না হয় পরিবার না হলো? আমি না হয় একা পথেই চললাম। কারণ কিছু মানুষকে জীবন খুব তাড়াতাড়িই বড় করে দেয়।সবার ভাগ্যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা থাকে না। কিছু মানুষকে নিজের শক্তিতেই বেঁচে থাকার গল্প লিখতে হয়। আমিও না হয় নিজের গল্প নিজেই লিখলাম।এভাবে নানা কথা বলে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার ডুকরে কেঁদে উঠলাম। ১৭ বছর ১১ মাস বয়স আমার ।কিন্তু জীবনের এত অভিজ্ঞতায় নিজেকে বুড়ি মনে হচ্ছে। বুকের এই কষ্ট থেকে কিছুতেই নিস্তার পাচ্ছি না। মহান আল্লাহর দরবারে এই কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করতে লাগলাম। আচমকা আমি বাসের জানালার সাথে ধাক্কা খেলাম। আমার মাথা জানালার কাচের সাথে ধাক্কা খাওয়ায় আমার মাথা ফেটে রক্ত বের হতে লাগলো। মুহূর্তেই বাসের মধ্যে হইচই বেঁধে গেল। ড্রাইভার হঠাৎ এলোমেলো ভাবে গাড়ি চালাচ্ছে। আমরা একজন আরেকজনের সাথে ধাক্কা খেতে লাগলাম ।এমন সময় কে যেন চিৎকার করে বলল - গাড়ি ব্রেক ফেল করেছে রে, গাড়ি ব্রেক ফেল করেছে।
কথাটা শেষ হতেই সামনে তাকিয়ে দেখলাম একটা বাস দ্রুত গতিতে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে ।আমি জোরে জোরে সূরা ইউনুস পড়তে লাগলাম ।হঠাৎ একটা বিকট শব্দ হলো। আমি চোখ বন্ধ করে দুকানে হাত দিয়ে রাখলাম।

২ ঘন্টা পর।
মিহির চৌধুরী ভিলায় ঢুকে জোরে জোরে ওর মাকে ডাকতে লাগলো। মিহিরের ডাকে নাসিমা চৌধুরী, ইনা চৌধুরী দুজনেই নিচে নেমে এলেন। মিহির ওর মায়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল- মা পরি কোথায়?পরি আজ কলেজে যায়নি কেন?
দুজনেই চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
-- কি হলো মা কথা বলছো না কেন? তোমরা দুজনেই এভাবে চুপ করে কেন আছো? তাহলে কি আমার গার্ড যা বলেছে তাই সত্যি?
-- কি হয়েছে মিহির?( নাজিউর রহমান চৌধুরী বাসায় ঢুকতে ঢুকতে বললেন)
--বাবা, মা -কাকিমা দুজন মিলে পরিকে এই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

নাজিউর রহমান চৌধুরীর যেন একটা ধাক্কা খেলেন।
-- এসব তুই কি বলছিস মিহির?
ইনা আর নাসিমা মিলে পরিকে বের করে দিয়েছে? কিন্তু কেন? কি এমন অন্যায় করেছে আমার পরি মামনি?
--সেটা না হয় তোমার ছেলেকেই জিজ্ঞেস করো?(ইনা চৌধুরী)

নাসিমা চৌধুরী পাথরের মত দাঁড়িয়ে আছেন। যেন তার ভেতরে কোন প্রাণ নেই।
#চলবে..।
#কাজল_রানী_বাই_মীম।

 #অচেনা_সেই_তুমি_পর্ব-৮৯আমিই জানিয়েছি ।মা তো আমার কথা বিশ্বাস ই করতে চায়নি ।কিন্তু যখন মাকে ডেকে কালকের ঘটনা দেখালাম ত...
02/07/2026

#অচেনা_সেই_তুমি_পর্ব-৮৯

আমিই জানিয়েছি ।মা তো আমার কথা বিশ্বাস ই করতে চায়নি ।কিন্তু যখন মাকে ডেকে কালকের ঘটনা দেখালাম তখন বিশ্বাস করে নিল। আমি মাকে এটাও বলেছি যে তুই মিহিরকে ফাঁসাচ্ছিস ।সত্যি তো এটাই তাই না?

আমি অশ্রুসিক্ত নয়নে নায়রার দিকে তাকিয়ে রইলাম। ও আমাকে ঘৃণা করে এটা জানতাম ।কিন্তু এত বেশি ঘৃণা করে এটা জানতাম না। ওর এই ঘৃণার জন্য কি আমি দায়ী ?
-- দেখ পরি, তোর কাছে এখন দুটো অপশন আছে। এক. দুই সারা জীবনের মতো এই বাড়ি ছেড়ে চলে যা। আর দুই. তুই আব্রাহাম ভাইয়ার সাথে বিয়ে করে নে। কিন্তু এখানেও সমস্যা আছে। কারণ মিহির তোর বিয়ে আব্রাহাম ভাইয়ার সাথে হতে দিবে না। এতে কি হবে জানিস? বাবা- মা,চাচ্চু- চাচিমনি সবাই তোর উপর ক্ষেপে যাবে। বাবা, চাচ্চু কিন্তু এখনো এসব জানেনা। এসব যদি একবার তাদের কানে যায় তাহলে কি হবে তুই ভাবতে পারছিস? তাই আমি বলব তুই প্রথম অপশন টাই বেছে নে। তুই এই বাড়ি ছেড়ে চিরকালের মত চলে যা। আর কত আমাদের ঘাড়ে বসে বসে খাবি বল? আর তাছাড়া তোর আর মিহিরের বিষয়টা সবাই জেনে গেলে মামা এমনিতেও তোকে তাদের বাড়ির বউ করে নিবে না। তোকে ছুঁড়ে রাস্তায় ফেলে দেবে ।তাই তুই বরং আবার চট্টগ্রামেই ফিরে যা। ওটাই তোর আসল জায়গা। তুই এই বাড়ির কেউ না পরি। আজ মা -চাচিমনি তোর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ।কাল দেখবি বাবা ,চাচ্চু ,মিহির ও তোর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে ।আসলে কি জানিস তো? এক গাছের ছাল কখনো আরেক গাছে লাগেনা। তেমনি পরও কখনো আপন হয় না। তাই তুই এই বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে সেটা তোর জন্যই ভালো হবে। তুই আর দেরি করিস না পরি। তুই বরং কাল ই চট্টগ্রামে চলে যা। কেন শুধু শুধু আমার জায়গায় পড়ে আছিস বলতো? তুই কি বুঝতে পারছিস না যে তুই আমার সাথে অন্যায় করছিস?

আমি দুচোখের পানি মুছে ভাঙ্গা গলায় বললাম- আমি তোকে কথা দিচ্ছি নায়রা, আমি কাল ভোরেই এই বাড়ি ছেড়ে চিরকালের মত চলে যাবে। তুই তো কোন কিছু বলিস নি। তুই ভাবিস না আমি কালই চলে যাব।

এই বলে সেখান থেকে চলে এলাম ।ঘরে এসে দরজা লাগিয়ে কাঁদতে লাগলাম। চিৎকার করে বললাম- মামনি..! তুমি কি করে আমাকে অবিশ্বাস করতে পারলে?

নীল রঙের সেলোয়ার- কামিজ পড়া একটা মেয়ে রাস্তা দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে ।ওর পেছনে পেছনে দৌড়াচ্ছে তিন-চারটা ছেলে। মেয়েটা প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে যাতে ছেলেগুলো ওকে ধরতে না পারে। কিন্তু মেয়েটা কি আর ওদের সাথে দৌড়ে পারে? ছেলেগুলো চারপাশ থেকে ওকে ঘিরে ধরে। মেয়েটা ভয়ে, আতঙ্কে জড়োসড়ো হয়ে যায়। এটা দেখে ছেলেগুলো হাসতে থাকে। মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে ওদের সামনে হাতজোড় করে বলে- আমাকে যেতে দিন প্লিজ। আমি চৌধুরী ভিলায় যেতে চাই ।নাসিমা চৌধুরীর সাথে একটু দেখা করতে চাই। উনার সাথে আর উনার মেয়ের সাথে অনেক বড় অন্যায় করা হয়েছে। আমি সেসব উনাকে জানাতে চাই।

মেয়েটার কথা শুনে ছেলেগুলো হাসতে লাগলো। একটা ছেলে বলল- কিন্তু সেই সুযোগ তো আমরা তোমাকে দেবো না মামনি..!
এটা বলেই ছেলেটা হাসতে হাসতে পেছন থেকে ছুরি বের করল। চকচকে, ধারালো ছুড়িটা দেখে মেয়েটা ঘাবড়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছেলেটা মেয়েটার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। আশেপাশে থেকে মানুষ আসতে দেখে ছেলেগুলো ভয় পেয়ে দৌড়ে চলে যায়।লোকজন এসে দেখে মেয়েটা মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছে। ওর রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারপাশ ।সবাই ওকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সকালের আলো ফোঁটার সাথে সাথে রাতের আঁধার মিলিয়ে যায়। মেঘকে আড়াল করে ওঠে সূর্য। সূর্য সকল শক্তির আধার। সকালের নরম ও হালকা বাতাস এক নতুন সময় আগমনের বার্তা দেয়। মেঘকে আড়াল করে ওঠা সূর্য অশুভ শক্তির পরাজয়ে শুভ শক্তির বিজয়কে ইঙ্গিত দেয়।

চৌধুরী ভিলার ড্রয়িং রুমের বড় অ্যালার্ম ঘড়িটা যখন আটটা বাজার সাথে সাথে টন টন করে ওঠে তখন নাসিমা চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেলে সেটার দিকে তাকান। হাতের বাকি কাজটুকু শেষ করে আঁচলে হাত মুছতে মুছতে পরির ঘরের দিকে এগিয়ে যান ।আজ প্রকৃতিতে একদিকে ঠান্ডা বাতাস বইছে অন্যদিকে উঠেছে সূর্য। প্রকৃতির বাতাসে চৌধুরী ভিলার দরজা ও জানালার পর্দাগুলো দোল খাচ্ছে। নাসিমা চৌধুরী পরীর ঘরের দরজা ঠেলে ঘরে প্রবেশ করেন ।ঘরের জানালা, বারান্দার দরজা সবই খোলা। পর্দা গুলো বাতাসে উরাউরি করছে। সূর্য ওঠার পরও আকাশটা কেমন যেন গুমট হয়ে আছে। প্রকৃতি যেন কিসের একটা ইঙ্গিত দিচ্ছে?পরির ঘরের চারপাশে চোখ বুলিয়ে নাসিমা চৌধুরীর বুকটা কেমন যেন খালি খালি লাগে। পরি তাহলে নেই..? ও চলে গেছে। নাসিমা চৌধুরী দু চোখ বন্ধ করে ফেলেন। গতকাল নায়রা পরিকে যে কথাগুলো বলেছিল তার সবই শুনেছেন নাসিমা চৌধুরী ।কিন্তু অন্যদিনের মতো কাল আর প্রতিবাদ করেননি। মনে মনে তিনিও হয়তো চেয়েছিলেন পরি তার নিজের জায়গায় ফিরে যাক। ইনা চৌধুরী ও পরির ঘরে ঢুকেন। দেখেন পরির কিছুই নেই ঘরে। তিনি কখনোই চাননি পরি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাক। কিন্তু তার ছেলের ভালোর জন্য তিনি এটা করতে বাধ্য হয়েছেন। মনের ভেতরে কোথাও একটা অনুশোচনা হচ্ছে এমন কাজ করার জন্য।তিনি আর নায়রাই নাসিমা চৌধুরীকে উস্কেছেন এই কাজটা করার জন্য। কিন্তু তিনি কি করতেন? পরি নাজমা রহমানের মেয়ে। আর তার মেয়েকে ইনা চৌধুরী কখনোই তার একমাত্র ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিবেন না। কখনো না। পরি টেবিলের উপর একটা চিঠি লিখে রেখে গেছে। সেটার দিকে তাকিয়ে থাকেন নাসিমা চৌধুরী।

বাস তার আপন গতিতে চলছে। আমি জানালার পাশের সিটে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছি আর কাঁদছি। কেঁপে উঠছে মাঝে মাঝে।
#চলবে..।
#কাজল_রানী_বাই_মীম।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Kazol Rani posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share