12/07/2026
#অচেনা_সেই_তুমি_-৯৩( ধামাকা পর্ব)
সবাই অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে। নাসিমা চৌধুরী বলেন- বলো, তুমি কি বলতে চাও বলো? আমরা সবাই তোমার কথা শুনছি।
-- আপ.. আপনি যাকে আপনার মেয়ে বলে জানেন সে আসলে আপনার মেয়ে নয়। আপনার বোনের মেয়েই আপনার মেয়ে।
বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষ এই কথাগুলো শুনে চমকে ওঠে। এসব কি বলছে এই মেয়েটা? নাসিমা চৌধুরী কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলেন- এসব কি বলছ তুমি? --আমি একদম ঠিক বলছি। আপনার আর আপনার বোনের মেয়ে একই দিনে, একই হাসপাতালে জন্মেছিল। আপনার বোনের মেয়ে হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আপনার মেয়ে হয়। তখন আপনার বোন আমার মাকে টাকা দিয়ে আপনার পাশে আপনার বোনের মেয়েকে রেখে দেয় ।আর আপনার মেয়েকে আপনার বোন নিয়ে যায়। ওই সময়ে আমার মা এই হাসপাতালের আয়া ছিলেন। তখন আপনার বোন আমার মাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে এই কাজটি করতে বাধ্য করে। আপনার মেয়ে জন্মানোর সাথে সাথেই আমার মা আপনার মেয়েকে নিয়ে আপনার বোনের হাতে তুলে দেয় ।
নাসিমা চৌধুরী চিৎকার করে বলে ওঠেন- না....! এটা হতে পারে না।
-- আপনার আমার কথা বিশ্বাস না হলে এটা নিন (মেয়েটা বালিশের নিচ থেকে একটা বাটন ফোন বের করে নাসিমা চৌধুরীর হাতে দিল)। এটার মধ্যে আমার মায়ের সমস্ত স্বীকারোক্তি রেকর্ড করা আছে। আপনাদের সাথে এত বড় অন্যায় করে আমার মা শান্তিতে বাঁচতে পারেনি ।ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে আমার মায়ের। আর এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আমি কিছুদিন আগেই আমার মায়ের কাছ থেকে এসব জানতে পেরেছি। আমি কাল যখন আপনাদের বাড়িতে এসব বলার জন্য যা ছিলাম তখন কিছু বখাটে ছেলে আমার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়।
এই পর্যায়ে নাসিমা চৌধুরী চিৎকার করে কেঁদে ওঠেন ।বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষ এসব শুনে হতবাক হয়ে যায়। আশরাফ চৌধুরী সেখানেই বসে পড়েন। কাঁপতে কাঁপতে ফাইল থেকে রিপোর্ট বের করেন। রিপোর্টে চোখ বুলাতেই তার বুকের ভেতরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। নাজিউর রহমান চৌধুরী, ইনা চৌধুরী আশরাফ চৌধুরীর হাতে থাকা ফাইলটা দেখতে থাকেন। সেখানে জ্বলজ্বল করছে পরি আশরাফ চৌধুরীর মেয়ে।
আশরাফ চৌধুরী কোনমতে বলেন- কয়েকদিন ধরেই মনটা কেমন যেন খচখচ করছিল।
বড্ড মায়া হতো মেয়েটার প্রতি। বারবার মনে হতো ওর সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক আছে। ও আমার নিজের মেয়ে। এইসব ভেবেই ওর আর আমার ডিএনএ টেস্ট করালাম। আমি তো আমার মনকে শান্ত করার জন্য টেস্ট করেছিলাম ।কিন্তু এভাবে যে মিলে যাবে তা ভাবতে পারিনি।
-- তাহলে আমরা যখন নাসিমা আর পরির ডিএনএ টেস্ট করিয়েছিলাম তখন রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছিল কেন?( ইনা চৌধুরী মনে মনে বললেন)
আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা একজন লোক কাউকে ফোন করে বলল - হ্যালো বস, চৌধুরী ভিলার সবাই সবকিছু জেনে গেছে।
অচেনা: What?কি বলছো এসব?কি করে জানলো?
লোক: জেসমিন নামের মেয়েটি সবকিছু বলে দিয়েছে।
অচেনা: ওহ্ শীট...! ওকে শেষ করো নি তোমরা?
লোক: শেষ করেছিলাম বস কিন্তু কিভাবে যে বেঁচে গেল..?
অচেনা: তোদের কেটে আমার কুকুরদের খাওয়াবো জানোয়ারের বাচ্চারা? কতগুলো টাকা দিয়েছি কাজটা করার জন্য? তবুও করতে পারলি না?পরির কি অবস্থা?
লোক: ওকে একবারে শেষ করে দিয়েছি বস।ও আর কখনো আমাদের মাঝে আসবে না।
অচেনা: যাক, অন্তত একটা ভালো খবর তো শুনলাম।শোন তুই ওদিকে খেয়াল রাখবি।আর যা হয় আমাকে জানাবি।
লোক:ওকে বস।
অচেনা লোকটা ফোন কেটে হোল হো করে হেসে উঠলো। একজন গার্ডকে ডেকে বলল- আজ রাতে পার্টির আয়োজন করো। এই কথা বলে সে হাসতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর লোকটা চেয়ার থেকে উঠে সামনে এগিয়ে গেল। সামনে দেওয়ালে চৌধুরী ভিলার প্রত্যেক সদস্যের একটি করে ছবি লাগানো হয়েছে।নাজিউর রহমান চৌধুরী,ইনা চৌধুরী, আশরাফ চৌধুরী, নাসিমা চৌধুরী, মিহির এমনকি পরির ছবিও বাদ যায় নি।পরির হাস্যোজ্জ্বল ছবিতে লাল কালি দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেওয়া। অচেনা লোকটা ঠান্ডা গলায় পরির ছবির দিকে তাকিয়ে বলল - ঠিক এইভাবে, ঠিক এইভাবে চৌধুরী পরিবারের সবাইকে শেষ করে দিবো আমি। কাউকে বাঁচতে দেব না, কাউকে না..। গোটা চৌধুরী বংশকে নির্বংশ করে দিব। মাটির সাথে মিশিয়ে দিব ওই চৌধুরী সাম্রাজ্য। এই বলে লোকটা বাঁকা হাসি দিল। তারপর পেছনে তাকিয়ে উচ্চ কন্ঠে বলল -ভেতরে এসো..।
লোকটা ডাকা মাত্রই একজন অত্যন্ত সুন্দরী মহিলা ঘরের ভেতরে ঢুকলো।
#চলবে..।
#কাজল_রানী_বাই_মীম।
গল্প শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। সবাই একটু লাইক কমেন্ট করবেন প্লিজ