17/08/2026
We want justice. Say no to auto rickshaw .
The post is collected from another person.
আসেন, একটা গল্প শোনাই।
গল্পটা যাকে নিয়ে, সে এখন আর এই দুনিয়াতে নেই।
ওলি নূর—আমার অফিসে তিন মাসের ইন্টার্নশিপ করা একটা ছেলে। আমি যেখানে বসি, ঠিক তার অপোজিটেই ওর ডেস্ক ছিল। তিনটা মাস প্রতিদিন একসাথে অফিস করেছি।
ওলি ছিল অসম্ভব ভদ্র, ট্যালেন্টেড আর হাসিখুশি একটা ছেলে। খুব ভালো সেন্স অব হিউমার ছিল। প্রতিদিন সকালে এসে আমাকে একটা প্রশ্ন করত—
“ভাই, What is the meaning of life?”
আমি বলতাম, “আমিও খুঁজতেসি, পাইলে জানাচ্ছি!”
খুব চিল পার্সোনালিটির একটি ছেলে ছিলো, কিন্তু ওর যে সময় এত কম ছিলো কে জানতো।
ইন্টার্নশিপ শেষে ও নিজের তিন মাসের জার্নি নিয়ে ছোট্ট একটা জার্নালের মতো ফাইল বানিয়ে গিয়েছিল। শুধু নিজের কাজ না—আমাদের নিয়ে, অফিসের মানুষগুলো কেমন, কার সাথে কেমন অভিজ্ঞতা—এমন অনেক ছোট ছোট বিষয় লিখেছিল। এত অল্প সময়ের একটা জায়গাকেও ও এভাবে মনে রাখার মতো করে রেখে গিয়েছিল।
ইন্টার্নশিপ শেষ করার পর বৃহস্পতিবার আবার অফিসে এসেছিল। বলল, “ভাই, জাফলং থেকে ঘুরে আসছি। ঢাকায় এসে ভালো লাগতেছে না। চলেন, আবার কোথাও ঘুরতে যাই।”
আমি বলেছিলাম, “ঠিক আছে, প্ল্যান করি।”
শুক্রবার গেল। শনিবার গেল।
আজ রবিবার সকালে খবর পেলাম—ওলি বাইক অ্যাক্সিডেন্ট করেছে।
চীন মৈত্রী এলাকার রাস্তায় একটা অটোরিকশার সাথে ধাক্কা লেগে ও ছিটকে পড়ে। পেছন থেকে আসা একটা ট্রাক ওর মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। ট্রাকটা এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
ওলি কোনো বেপরোয়া রাইডার ছিল না। আমি নিজে ওর সাথে বাইক রাইড করেছি। হেলমেটও পরা ছিল।
তবুও ও মারা গেল।
হ্যাঁ, মৃত্যু হয়তো নসিবে লেখা ছিল। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায়—এই মৃত্যুটা কি এভাবে হওয়ার কথা ছিল?
একটা অটোরিকশা যদি নিয়ম মেনে চলত, ওলিকে যদি সেটা এড়াতে না হতো, পেছনের ট্রাকটা যদি নিরাপদ ব্রেকিং ডিস্ট্যান্স মেইনটেইন করত—হয়তো আজ ওলি বেঁচে থাকত।
আমাদের দেশে মানুষ কবে ট্রাফিক আইন মানতে শিখবে?
কবে বুঝবে, রাস্তায় একটা গাড়ি বা বাইক চালানো মানে শুধু নিজের জীবন না—অন্য মানুষের জীবনও আপনার হাতে?😔
আর একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরছে—
যে মানুষটা আজ ওলির মাথার ওপর দিয়ে ট্রাক চালিয়ে গেল, সে রাতে বাসায় গিয়ে ঘুমাবে কীভাবে? তার কি পরিবার নেই? বাচ্চা নেই? একটা মানুষের মৃত্যু কি তাকে একবারও ভাবাবে না?
আমরা দুদিন-তিনদিন কষ্ট পাবো, পোস্ট দেব, RIP লিখব। তারপর ভুলে যাব।
কিন্তু আমি নিজেও বাইক চালাই। আপনারাও চালান।
আজ ওলি। কাল হয়তো আমি, পরশু আপনি কিংবা আমাদের পরিচিত কেউ।
কয়েকদিন আগেই ও বলেছিল, “ভাই, কয়েকদিন ব্রেক নেব, অনেকদিন ভালো ঘুম হয় না। তারপর ধীরে সুস্থে দেখব কী করা যায়, আর না হলে দেশের বাইরে চলে যাব। কারণ ভাই, দেশে কোনো ফিউচার দেখতেছি না।”
কী অদ্ভুত!
যে ছেলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছিল, তার ভবিষ্যৎটাই আজ এই দেশ কেড়ে নিল।
আজ ওলির মায়ের কান্না শুনে আসলাম। এই কান্নার মূল্য শুধু একজন মা-ই জানেন।
ওলি আর কোনোদিন এসে বলবে না—
“ভাই, What is the meaning of life?”
আর কোনোদিন বলবে না—
“ভাই, চলেন কোথাও ঘুরতে যাই।”
তোর সাথে সেই ঘোরাঘুরিটা আর হলো না, ভাই। মাফ করে দিস। ভুল থাকলে ক্ষমা করে দিস ভাই।
আল্লাহ ওকে ক্ষমা করে দিক, ওর কবরটা শান্তির হোক এবং তোর মা-বাবাকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দিক।
Oli noor lives…🫡
-------------------------
রিয়াদ মাহমুদ
প্রাক্তন শিক্ষার্থী, EWU
মার্কেটিং এক্সি. স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিঃ