24/02/2026
নতুন শিক্ষামন্ত্রী মিলন সাহেবের ইন্টেনশানটা হয়তো ভালো—কিশোরদেরকে রাতে বিরাতে বাইরে ঘুরাঘুরি করতে দিবে না। উনার নির্দেশ পেয়েই হয়তো, পুলিশকে কিছু জায়গায় বেশ মারমুখী হতে দেখলাম। এক কিশোরের গালে একজন কনস্টেবলকে সজোরে একটা চড় লাগিয়ে দিতেও দেখলাম একটা ভিডিওতে।
( মাদকবিরোধি অভিযানের ঘটনার বাইরে)
কিন্তু, মিলন সাহেবের বোঝা উচিত, এটা ২০২৬ সালের দুনিয়া। ২০০১/২০০৫ নয়।
আমাদের সময়ে, স্কুল শিক্ষককে সাইকেল চালিয়ে আসতে দেখলে আমরা রাস্তা থেকে ভো-দৌঁড়ে বাঁশঝাঁড়ে ঢুকে পড়তাম। স্যারকে যতক্ষণ দেখা যেত, ততক্ষণ বেরই হতাম না।
কিন্তু এখনকার জেনারেশান তো এরকম না। তারা বড় হচ্ছে একটা ভিন্ন টাইমফ্রেমে, ভিন্ন ডাইমেনশানের দুনিয়ায়।
মিলন সাহেব ও তার পুলিশ যদি মনে করে যে, এভাবে মোরাল পুলিশিং করে করে তারা কিশোরদেরকে মানুষ করে ফেলবে, তাহলে বলব এটা ভুল অ্যাপ্রোচ। বর্তমান দুনিয়ায় এতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
আমি কোনোভাবেই কিশোরদের রাতের বেলা বাইরে টাইম পাসের পক্ষপাতী কেউ নই। কিন্তু, পুলিশ যে অ্যাপ্রোচে তাদেরকে ঘরে ফেরাতে চাইছে, সেটা বাড়াবাড়ি আর অত্যন্ত বাজে কৌশল।
এই ছেলেপিলেগুলোকে ঘরে ফেরত পাঠালেই কি তারা পড়ার টেবিলে বইখাতা নিয়ে বসে পড়বে? ওদের হাতে হাতে স্মার্টফোন। সারা দুনিয়ার সাথে ওরা কানেক্টেড৷ টাইম পাসের জন্য ওদের কি গলির মোড়ে আর উদ্যানের মাঝে বসে থাকা লাগবে?
মিলন সাহেব যদি সত্যিই এই কিশোরদের পড়াশুনার টেবিলে ফেরাতে চান, তাহলে সবার আগে তার মাথা থেকে ২০০১-২০০৫ এর মাইন্ডসেট ঝেঁড়ে ফেলে দিতে হবে। হেলিকপ্টারে উড়ে নকল প্রতিরোধের উনার যে সোনালি দিন ছিল, সেই কৌশল এখন ব্যাকডেইটেড।
উনি যদি সত্যিই কিশোরদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে চান, উনার প্রথম কাজ হওয়া উচিত পরীক্ষাপদ্ধতিতে কড়াকড়ি আরোপ করা। প্রশ্নপত্রের মান বাড়ানো। কঠিনভাবে প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা করা—যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয়।
ভালো এবং মানসম্মত প্রশ্নপত্র হলে, যারা সত্যিকারভাবে পড়াশুনা করে, তারাই উতরে যাবে। যারা বাইরে, উদ্যানে, রাতেবিরাতে ঘুরে ঘুরে টাইম পাস করে, তারা নিশ্চিতভাবে ধরা খাবে।
এই ধরা খাওয়াটাই তাদেরকে টেবিলে টেনে আনবে।
সাথে আরেকটা কাজও নিশ্চিত করতে হবে—শিক্ষকদের যোগ্যতা বাড়ানো। এখনও অধিকাংশ শিক্ষকেরা সেই আগের সময়ের মতোই প্রশ্নপত্র তৈরি করেন, আগের সময়ের মতোই খাতাপত্র যাচাই করেন।
রাত বিরাতে ঘুরাঘুরি থেকে বিরত করতে হলে দরকার যুগোপযোগী পদক্ষেপ। কাউন্সেলিং এবং বন্ধুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল আচরণ। এসব না করে, পুলিশ দিয়ে মোরাল পুলিশিং করে, চড় থাপ্পড় মেরে, লাঠিচার্জ করে এখনকার জেনারেশানকে টেবিলে ফেরানো তো অসম্ভবই, ঘরে ফেরানোটাও দায় হবে।
এরা কিন্তু AI জেনারেশান।
কালেক্টপড- আরিফ আযাদ