08/06/2026
প্রা ই ড মান্থ মূলত L G B T Q পরিচয়, দৃশ্যমানতা ও তথাকথিত “অধিকার”কে কেন্দ্র করে পশ্চিমা সমাজে গড়ে ওঠা একটি সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন। ১৯৬৯ সালের স্টোনওয়াল বিদ্রোহকে এই আন্দোলনের ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর জুন মাসে শোভাযাত্রা, কর্পোরেট ক্যাম্পেইন, শিক্ষামূলক কার্যক্রম, মিডিয়া প্রচারণা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে এই আদর্শকে সামাজিকভাবে স্বাভাবিক ও নৈতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলে।
এখন প্রশ্ন হলো: মুসলিমরা এই আলোচনায় কোথায় দাঁড়াবে?
সমাজে বসবাসরত মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য এই প্রশ্নটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সেখানে “সহনশীলতা” আর “সমর্থন”-এর সীমারেখা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘোলা করে ফেলা হয়েছে। আপনি যদি কাউকে ঘৃণা না করেন, তাহলে আপনাকে তার জীবনাচারকেও বৈধ বলতে হবে। আপনি যদি কারও বিরুদ্ধে সহিংসতার বিরোধিতা করেন, তাহলে আপনাকে তার আদর্শের পক্ষেও দাঁড়াতে হবে। যেন মানুষের প্রতি ন্যায্য আচরণ করা আর একটি নির্দিষ্ট নৈতিক দর্শনকে সত্য বলে মেনে নেওয়া— একই জিনিস।
ইসলাম অবশ্য এই বিভ্রান্তি তৈরি করে না।
ইসলাম মানুষের অনুভূতি, আকর্ষণ কিংবা আবেগকে অস্বীকার করে না। ভালোবাসা, দাম্পত্য, ঘনিষ্ঠতা এসবকে ইসলাম আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত হিসেবেই দেখে। কিন্তু প্রতিটি নিয়ামতের মতো এখানেও সীমারেখা আছে। কারণ ইসলামে নৈতিকতার ভিত্তি মানুষের প্রবৃত্তি, সামাজিক ট্রেন্ড কিংবা কর্পোরেট স্লোগান না; বরং আল্লাহর ওহি ও রাসূল ﷺ-এর শিক্ষা।
অর্থাৎ কোন কাজ বৈধ হবে আর কোনটা অবৈধ হবে; এটা সমাজের ভোটে নির্ধারিত হয় না।
কুরআনে হযরত লূত (আ.)-এর কওমের ঘটনা একাধিক স্থানে এসেছে। তাফসির ও ফিকহের মূলধারার ব্যাখ্যায় এই ঘটনাগুলোকে স ম লি ঙ্গে র যৌন সম্পর্কের নিষেধাজ্ঞার দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। চৌদ্দশ বছরের ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যে, চার সুন্নি মাযহাব হোক বা মূলধারার শিয়া আলেম, এ বিষয়ে কার্যত কোনো দ্বিমত ছিল না।
ইসলামে বিবাহকে ধারাবাহিকভাবে নারী ও পুরুষের বৈধ বন্ধন হিসেবেই সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পরিবারকে দেখা হয়েছে সমাজের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে। বংশধারা সংরক্ষণ, সামাজিক স্থিতি, দায়িত্ববোধ ও প্রজন্ম গঠনের সাথে এই কাঠামোকে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
কিন্তু আধুনিক লিবারেল ডিসকোর্সে সমস্যাটা অন্য জায়গায়।
এখানে আপনাকে শুধু আইন মানলেই হবে না; আপনাকে নৈতিক স্বীকৃতিও দিতে হবে। শুধু সহিংসতার বিরোধিতা করলেই হবে না; আপনাকে বলতে হবে “এটাও স্বাভাবিক”, “এটাও সুন্দর”, “এটাও সমানভাবে বৈধ”। অন্যথায় আপনি “ঘৃণাবাদী”, “অসহিষ্ণু”, কিংবা “বিপজ্জনক”।
অর্থাৎ, আপনার আপত্তি যদি আচরণের বিরুদ্ধে হয় কিন্তু মানুষের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে না হয়; তবুও আপনাকে একই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
এটাই পুরো আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।
একজন মুসলিম বিশ্বাস করতে পারেন যে কাউকে অপমান, নিপীড়ন বা বিনাবিচারে সহিংসতার শিকার করা অন্যায়। একইসাথে তিনি এটাও বিশ্বাস করতে পারেন যে ইসলামের দৃষ্টিতে সমলিঙ্গের যৌন সম্পর্ক বৈধ নয়। এই দুই অবস্থানের মধ্যে কোনো স্ববিরোধিতা নেই।
কিন্তু আধুনিক পশ্চিমা রেটোরিক এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটাকে মুছে ফেলতে চায়। কারণ তাদের কাছে “সহাবস্থান” যথেষ্ট না; প্রয়োজন নৈতিক আত্মসমর্পণ।
তাই আজকের প্রশ্নটা কেবল “অধিকার” নিয়ে না। প্রশ্নটা হলো, নৈতিকতার উৎস কে নির্ধারণ করবে? আল্লাহর ওহি, নাকি সময়ের সাথে বদলে যাওয়া সামাজিক চাপ?
এবং একজন মুসলিমের উত্তর, স্বাভাবিকভাবেই, প্রথমটাই।