19/09/2025
⭐️হযরত ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর জীবনী ⭐️
⭐️ জন্ম ও পরিবার
হযরত ইয়াকুব (আ.) ছিলেন ইসহাক (আ.)-এর পুত্র এবং ইবরাহিম (আ.)-এর নাতি। তাঁর মায়ের নাম ছিল রিফকা (রিবকা)। আল্লাহ তাঁকে নবী হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। ইয়াকুব (আ.)-এর আরেক নাম ইসরাইল। তাঁর বংশধরদের বলা হয় বনি ইসরাইল।
⭐️শৈশব
ইয়াকুব (আ.) ছোটবেলা থেকেই আল্লাহভীরু ও নেক স্বভাবের ছিলেন। তিনি আল্লাহর ইবাদত করতেন এবং মানুষের প্রতি সদয় ছিলেন। আল্লাহ তাঁকে জ্ঞান ও হেদায়েত দান করেছিলেন।
🦋পরিবার ও সন্তান
ইয়াকুব (আ.)-এর একাধিক স্ত্রী ও বহু সন্তান ছিল। তাঁর ১২ জন পুত্রের মধ্যে একজন ছিলেন ইউসুফ (আ.), যিনি নবী হয়েছিলেন। বাকি সন্তানদের মধ্য থেকেই বনি ইসরাইলের ১২টি গোত্রের সূচনা হয়।
🦋ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনা
ইয়াকুব (আ.)-এর জীবনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল তাঁর পুত্র ইউসুফ (আ.)-কে হারানো। ভাইয়েরা হিংসা করে ইউসুফ (আ.)-কে কূপে ফেলে দেয়। তাঁরা বাবাকে মিথ্যা বলে যে ইউসুফ (আ.) নেকড়ের হাতে মারা গেছে।
ইয়াকুব (আ.)-এর চোখ কান্নায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবুও তিনি ধৈর্য ধরে বলতেন—
“আমি শুধু আমার দুঃখ-কষ্ট আল্লাহর কাছেই প্রকাশ করি।”
🌻পুনর্মিলন
অনেক বছর পর আল্লাহর ইচ্ছায় ইউসুফ (আ.) মিসরের মন্ত্রী হন। তখন দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে ইয়াকুব (আ.)-এর পরিবার খাদ্য সংগ্রহের জন্য মিসরে যায়। অবশেষে ইউসুফ (আ.) ও ইয়াকুব (আ.)-এর পুনর্মিলন হয়। আল্লাহ তাঁর চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেন এবং তাঁকে আবার খুশি করেন।
🌼চরিত্র
• আল্লাহভীরু, ধৈর্যশীল ও দয়ালু ছিলেন।
• পরীক্ষার সময় কখনো হতাশ হননি।
• সর্বদা সন্তানদের তাওহীদ শিক্ষা দিয়েছেন।
🌷মৃত্যু
ইয়াকুব (আ.) বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি সন্তানদের বলেছিলেন—
“তোমরা আমার পর কাকে উপাসনা করবে?”
সন্তানরা উত্তর দিয়েছিল—
“আমরা তোমার উপাস্য, তোমার পিতা ইবরাহিম, ইসহাকের উপাস্য একমাত্র আল্লাহকেই উপাসনা করব।”
তাঁকে ফিলিস্তিনে কবর দেওয়া হয়, ইবরাহিম (আ.) ও ইসহাক (আ.)-এর পাশেই।
⸻
👉 হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর জীবনের শিক্ষা হলো—ধৈর্য, আল্লাহর উপর ভরসা এবং সন্তানদের সঠিক পথে লালণ পালণ করা ।
🩵🩵🩵🩵🩵🩵🩵🩵🩵🩵🩵🩵🩵🩵🩵🩵🩵