06/06/2026
যেভাবে মোদি সরকারের পতন ঘটাবে 'ককরোচ জনতা পার্টি'!
দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট ও অপশাসনের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের তীব্র ক্ষোভের কারণে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল, মাদাগাস্কার ও পেরুতে সরকার পতন হয়েছে৷ এই রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোকে "জেন-জি বিপ্লব" হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কেনিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মরক্কোতে জেন-জি আন্দোলনের চাপে পড়ে সরকারগুলো তাদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, কর বৃদ্ধি ও সংসদীয় বিশেষ সুবিধা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। এবার জেন-জি চাপে পড়েছে পাশের দেশ ভারত। তবে উপরোক্ত দেশগুলোর তুলনায় ভারতের জেন-জিদের নেতৃত্ব দেয়া তরুণেরা উচ্চশিক্ষিত এবং পেশাগতভাবে অত্যন্ত সফল ও দক্ষ ব্যাকগ্রাউন্ডের। তারা অন্যান্য সফল জেন-জি আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়েই মাঠে নামছে। প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে ভারতের রাজনীতির রুপ বদলে দিতেই "ককরোচ জনতা পার্টি" রাজনীতির মাঠে।
আসুন ককরোচ পার্টির নেতৃত্বে থাকা চার যুবকের শিক্ষা ও পেশাগত যোগ্যতা দেখে নিই:
১. শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দিপকে পুনে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক রিলেশনস স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পেশায় দিপকে একজন রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ। তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জনমত গঠন, ন্যারেটিভ বিল্ডিং এবং অনলাইন প্রচারণার কাজে বিশেষভাবে দক্ষ। পূর্বে আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিমেও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছেন অভিজিৎ।
২. প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন বিষয়ে স্নাতক করেছেন। পেশায় তিনি একজন খ্যাতিমান স্বাধীন অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিক। মূলত সুশাসন, তথ্যের অধিকার, বিচার বিভাগীয় জবাবদিহিতা ও আইনি বিষয় নিয়ে কাজ করেন সৌরভ। আল জাজিরা, দ্য ক্যারাভান, দ্য অ্যার্টিক্যাল ১৪ এবং দ্য ওয়ার-এর মতো প্রথম সারির আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গণমাধ্যমে তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
৩. মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআইটি কানপুর থেকে মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক ডিগ্রি নেন। পরবর্তীতে লন্ডনের বিখ্যাত লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও পাবলিক পলিসি বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পেশায় তিনি লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং ফার্ম ম্যাককিনসে অ্যান্ড কোম্পানিতে স্ট্র্যাটেজিক কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর ২০২৫ সালে দেশে ফিরে পরিবেশ, শিক্ষা এবং যুব অধিকার আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী হিসেবে যোগ দেন।
৪. মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়া দিল্লির মর্যাদাপূর্ণ দিল্লি টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। পেশায় তিনি একাধারে একজন রাজনৈতিক গবেষক, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি ভারতের হরিয়ানভি ভাষায় 'দরারিন' এবং 'ওপরি পরাই' নামে দুটি সিনেমা পরিচালনা করেছেন। এছাড়া তিনি জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির রিসার্চ ও স্ক্রিপ্ট রাইটিং টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন।
"ককরোচ জনতা পার্টি"র দাবিগুলো:
শিক্ষা: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির বিচার, পরীক্ষা ফি মওকুফ বা হ্রাস।
রাজনীতি: দলবদল বিরোধী কঠোর আইন, অবসরোত্তর বিচারবিভাগীয় পদের বিলুপ্তি, সংসদে নারীদের ৫০% সংরক্ষণ, স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম।
যুব অধিকার: বেকারত্ব দূরীকরণ, জনকল্যাণমুখী বাজেট।
এতদিন উপরোক্ত দাবিগুলো নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন একটি শান্তিপূর্ণ ডিজিটাল ও প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে চলেছে। তবে আজ শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দিপকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে চলে এসেছেন। দাবিগুলো নিয়ে তিনি আজ সরাসরি মাঠে নামছেন। আজ নয়াদিল্লির ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদস্থল 'যন্তর মন্তর' দলটির প্রথম সমাবেশ শুরু হয়েছে। মোদি সরকার যদি দাবিগুলো না মানে এবং কোনরূপ শক্তি প্রদর্শন করে। তবে ভারতের কোটি কোটি যুবসমাজের এক দফার "গণ-বিপ্লবে" রূপ নেবে এবং দেশের অধিকাংশ মানুষ রাজপথে নেমে আসবে। যদিও ভারতের বিশাল ভৌগোলিক আয়তন এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামোর কারণে দেশজুড়ে এমন তীব্র বিপ্লব গড়ে তোলা অত্যন্ত জটিল, তবে তা অসম্ভব নয়!