21/07/2026
সম্প্রতি সাতক্ষীরার একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রথমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে একজন নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর অনেক কর্মী-সমর্থক শুরুতে দাবি করেন, এটি এআই (AI) দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত ভিডিও। তাদের অনেকের কাছেই বিষয়টি বিশ্বাস করা কঠিন ছিল।
পরবর্তীতে গাজী নজরুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি বলেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি আরও দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ধারণ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, একাধিক বিয়ে ইসলামে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বৈধ। তাহলে একজন ব্যক্তি যদি সেই শর্ত মেনে বৈধভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করে থাকেন, তবে সেটি প্রকাশ করতে সমস্যা কোথায়? আমাদের সমাজে দেখা যায়, অনেকেই দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখেন। বিশেষ করে রাজনীতিবিদ বা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি দেখা যায়। অথচ কোনো বিতর্ক তৈরি হলে তখনই দ্বিতীয় স্ত্রী বা একাধিক বিয়ের বিষয়টি সামনে আসে।
আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, যদি বিষয়টি বৈধ হয়, তাহলে শুরু থেকেই তা স্বাভাবিকভাবে স্বীকার করতে দ্বিধা থাকার কথা নয়। আর যদি সমাজের ভয়ে বিষয়টি লুকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে সেই সমাজকে পরিবর্তনের কথাও ভাবতে হবে।
আরেকটি বিষয় আমার নজরে এসেছে। দ্বিতীয় যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, সেখানে দেখা যায় তিনি ভিডিও করতে নিষেধ করছেন। যদি পরিস্থিতি তার দাবি অনুযায়ীই হয়ে থাকে, তাহলে তখনই তিনি বলতে পারতেন, "উনি আমার বৈধ স্ত্রী।" হয়তো তখন থেকেই অনেক বিভ্রান্তির অবসান হতো।
জামায়াতে ইসলামীও এ ঘটনায় একটি কেন্দ্রীয় বিবৃতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমিও চাই, তদন্ত হোক নিরপেক্ষভাবে এবং সত্য যাই হোক, সেটিই সামনে আসুক।
আরেকটি বিষয় আমাদের ভাবতে হবে। ফেসবুক স্ক্রল করলেই দেখা যায়, কিছু ঘটনা প্রচণ্ডভাবে ভাইরাল হয়। কিন্তু একই সময়ে চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ আরও অনেক গুরুতর অপরাধ তুলনামূলকভাবে কম আলোচনায় আসে। রামিসার ঘটনার আগ থেকে আজ পর্যন্ত কত নিষ্পাপ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, কিন্তু কয়টি ঘটনার বিচার আমরা দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখতে পেরেছি?
আমরা যদি সত্যিই ন্যায়বিচার চাই, তাহলে ব্যক্তি বা দল দেখে নয়, অপরাধ দেখে বিচার করতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, সে যে কোন দলের হোক —অপরাধ করলে তার বিচার হওয়াই উচিত।
দলকানা বা অন্ধ সমর্থক না হয়ে, ন্যায়ের পক্ষেই অবস্থান নেওয়া উচিত।
- Redwan Hossain