Voice of Madrid

Voice of Madrid Información de contacto, mapa y direcciones, formulario de contacto, horario de apertura, servicios, puntuaciones, fotos, videos y anuncios de Voice of Madrid, Medio de comunicación/noticias, Avenida De Nuestra Señora De Valvanera, 91, Madrid.

Madrid,Spain's central capital,is a city of elegant boulevards and expansive,manicured parks such as the Buen Retiro.It’s renowned for its rich repositories of European art.It’s mostly renowed for Football clubs including Real Madrid FC.🇪🇸🇪🇺🇪🇸

ইউরোর ওপারেপর্ব ২০: সুমু, তুমি যাবে, যাবে মোর গাঁয়মাদ্রিদের সকালগুলো বড় অদ্ভুত।একই রাস্তায় প্রতিদিন হাজার মানুষ হাঁটে, অ...
24/09/2026

ইউরোর ওপারে

পর্ব ২০: সুমু, তুমি যাবে, যাবে মোর গাঁয়

মাদ্রিদের সকালগুলো বড় অদ্ভুত।

একই রাস্তায় প্রতিদিন হাজার মানুষ হাঁটে, অথচ প্রত্যেকের বুকের ভেতর আলাদা আলাদা একটা দেশ থাকে।

কারও দেশে মা অপেক্ষা করে।
কারও দেশে স্ত্রী।
কারও দেশে সন্তান বড় হয়ে যায়, অথচ বাবা তাকে বড় হতে দেখে না।

আর কারও দেশে থাকে শুধু একটা নদী।

যে নদীটার কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য মানুষ কখনো কখনো অর্ধেক পৃথিবী পেরিয়ে আসে।

সেদিন সকালে সুমুর ফোনটা কয়েকবার বেজে উঠল।

Feroz 2.0 ফিরোজ।

সুমু ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে হাসির শব্দ।

“কী রে?”

“তুই ঘুম থেকে উঠছিস?”

“হ্যাঁ।”

“আজ আমার দিন।”

সুমু একটু থেমে বলল,

“কী হয়েছে?”

ফিরোজ এমনভাবে হাসল, যেন কথাটা বলার জন্য সে অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিল।

“আজ আমার রেসিডেন্ট কার্ড হাতে পাব।”

সুমু কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

এই একটা ছোট্ট প্লাস্টিকের কার্ডের জন্য কত মানুষ কত রাত ঘুমায়নি।

কতবার অফিসের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ভেবেছে,
“আজ হয়তো হবে।”

কতবার একটা চিঠির খাম খুলতে গিয়ে হাত কেঁপেছে।

কতজনের ফোনে ‘favorable’ শব্দটা আসার পর মনে হয়েছে, পৃথিবীটা বুঝি একটু সহজ হলো।

কার্ডটা দেখতে ছোট।

কিন্তু প্রবাসীর কাছে কিছু ছোট জিনিসের ওজন অনেক বেশি।

একটা রেসিডেন্ট কার্ড কখনো কখনো শুধু পরিচয়পত্র নয়।

এটা কয়েক বছরের অপেক্ষার একটা উত্তFeroz 2.0 বলল,

“সুমু, জানিস আজ কার কথা মনে পড়ছে?”

“কার?”

“আবাবিল ঘাট।”

সুমু হাসল।

“তুই তো এখনও নদী ভুলিস নাই।”

“নদীকে কেউ ভুলতে পারে?”

ফিরোজের গলার স্বরটা হঠাৎ নরম হয়ে গেল।

“মাদ্রিদের রাস্তা সুন্দর, সুমু। কিন্তু আমার গ্রামের নদীর পাড়ে যে বাতাস, ওই বাতাসের কোনো কাগজ লাগে না।”

সুমু কিছু বলল না।

ফিরোজ নিজেই বলতে লাগল,

“কার্ডটা হাতে নিয়ে প্রথমে আমি একটা ছবি তুলব।”

“তারপর?”

“তারপর তোকে পাঠাব।”

“শুধু ছবি?”

“না।”

“তাহলে?”

ফিরোজ হেসে উঠল।

তারপর হঠাৎ কবিতার মতো করে বলল,

“সুমু তুমি যাবে, যাবে মোর গাঁয়,
নদীর ধারে বসব দুজন, সন্ধ্যা নামবে নীরব ছায়ায়।
আবাবিল ঘাট চিনবে তোকে,
জলের ঢেউও ডাকবে তোকে,
বলবে, এতদিন কোথায় ছিলি,
মাদ্রিদের কোন পরদেশে?”

সুমু হেসে বলল,

“তুই কবি হয়ে গেলি কবে?”

“রেসিডেন্ট কার্ড পেলে মানুষ অনেক কিছু হয়ে যায়।”

“কী কী?”

“কেউ কবি হয়, কেউ ব্যবসায়ী হয়, কেউ দেশের মন্ত্রী হয়, আর কেউ গ্রামে গিয়ে সবাইকে বলে, ‘ইউরোপ থেকে এসেছি।’”

দুজনেই হেসে উঠল।

প্রবাসের হাসির মধ্যেও কখনো কখনো একটা দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে থাকে।

যে দীর্ঘশ্বাসের ভাষা কোনো অনুবাদকের জানা নেই।

⸻

সুমু সেদিন ফিরোজের সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

মাদ্রিদের অফিসের দিকে যেতে যেতে ফিরোজ বারবার পকেটটা হাত দিয়ে দেখছিল।

যদিও কার্ডটা তখনও হাতে আসেনি।

সুমু বলল,

“এতবার পকেট দেখছিস কেন?”

“কার্ডটা হারিয়ে ফেলব না তো?”

“কার্ড তো এখনও তোর কাছেই আসে নাই।”

ফিরোজ বলল,

“তবু মনে হচ্ছে আছে।”

সুমু জানালার বাইরে তাকাল।

মাদ্রিদের পুরোনো ভবনগুলো ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছিল।

তার মনে হলো, মানুষের জীবনে কিছু জিনিস আগে আসে মনে, পরে আসে হাতে।

রেসিডেন্ট কার্ডও হয়তো তেমনই।

আগে মানুষ স্বপ্নে নাগরিক হয়, পরে কাগজে।

⸻

অফিসের সামনে গিয়ে অনেক পরিচিত মুখ দেখা গেল।

কেউ নতুন কার্ড নিতে এসেছে।

কেউ স্বামীকে নিয়ে এসেছে।

কেউ বন্ধুকে।

কেউ আবার একা।

কিন্তু সবার মুখে একই ধরনের অপেক্ষা।

যে অপেক্ষা প্রবাসীরা খুব ভালো চেনে।

দরজা খুলল।

নাম ডাকা শুরু হলো।

একজন বের হয়ে এসে কার্ড হাতে নিয়ে এমনভাবে তাকালেন, যেন বহুদিন পর নিজের মুখ আয়নায় দেখেছেন।

আরেকজন কার্ডটা বুকে চেপে ধরে ফোন করলেন দেশে।

“হ্যাঁ মা, হয়ে গেছে।”

ওপাশ থেকে কী বলা হলো, শোনা গেল না।

কিন্তু লোকটার চোখ দেখে বোঝা গেল, কথাগুলো খুব সাধারণ নয়।

ফিরোজ চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল।

তার চোখে তখন মাদ্রিদের অফিস নেই।

সে হয়তো দেখছিল একটা কাঁচা রাস্তা।

একটা নদী।

একটা ঘাট।

কয়েকটা আবাবিল।

আর দূরে তার গ্রামের বিকেল।

⸻

“ফিরোজ।”

নামটা ডাকল ভেতর থেকে।

ফিরোজ একবার সুমুর দিকে তাকাল।

“যাই।”

সুমু মাথা নেড়ে বলল,

“যা।”

কয়েক মিনিট পর ফিরোজ বেরিয়ে এল।

তার হাতে ছোট্ট একটা কার্ড।

কিন্তু তার চোখে তখন একটা বিশাল আকাশ।

সে কার্ডটা সুমুর হাতে দিয়ে বলল,

“ধর।”

সুমু কার্ডটা দেখল।

তারপর ফিরোজের দিকে তাকাল।

“খুশি?”

ফিরোজ বলল,

“খুশি না।”

“তাহলে?”

“মুক্তির মতো লাগছে।”

সুমু কার্ডটা ফেরত দিয়ে বলল,

“এটা যত্ন করে রাখিস।”

ফিরোজ কার্ডটা পকেটে রাখল।

তারপর বলল,

“এখন দেশে যাব।”

“কবে?”

“যেদিন টিকিট কেটে ফেলব, সেদিন।”

“আর আবাবিল ঘাট?”

“ওটা তো আমার জন্য অপেক্ষা করছে।”

⸻

সেদিন বিকেলে তারা একটা ছোট কফিশপে বসেছিল।

ফিরোজ কফির কাপের দিকে তাকিয়ে বলল,

“জানিস সুমু, মানুষ ভাবে সে দেশ ছেড়ে আসে।”

“আসলে?”

“আসলে দেশটা মানুষের ভেতর থেকে যায় না।”

সুমু হাসল।

“এই কথাটা তুই কোথায় শিখলি?”

ফিরোজ বলল,

“আবাবিল ঘাটে।”

দুজনেই চুপ করে গেল।

কিছু কথা উত্তর চায় না।

⸻

কিন্তু সেদিনের আনন্দের মাঝেও একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল।

সুমুর ফোনে একটা মেসেজ এল।

কোনো নাম নেই।

শুধু একটা ছবি।

ছবিতে একটা পুরোনো কাঠের টেবিল।

তার ওপর রাখা একটি নীল ব্যাগ।

কিন্তু এবার ব্যাগটা একা নয়।

তার পাশে রাখা একটি পুরোনো রেসিডেন্ট কার্ডের ফটোকপি।

ছবিটা এত পুরোনো যে লেখা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না।

সুমু ছবিটা বড় করল।

তারপর থেমে গেল।

কার্ডের নামটা পড়া যাচ্ছে না।

শুধু শেষের কয়েকটা অক্ষর দেখা যাচ্ছে।

…LAIMAN

সুমুর বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল।

সুলাইমান?

অসম্ভব।

সুমু আবার ছবিটা বড় করল।

নীল ব্যাগটার ওপর একটা ছোট কাগজ রাখা।

স্প্যানিশ ভাষায় মাত্র তিনটি শব্দ।

“No lo abras.”

খুলবে না।

সুমু কিছুক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর ফোনে আরেকটা মেসেজ এল।

এবার লেখা,

“আজ ফিরোজ কার্ড পেল।
সবাই ঘরে ফেরার স্বপ্ন দেখে।
কিন্তু কেউ কেউ ঘরে ফেরার আগে জানতে পারে, সে আসলে কী রেখে গিয়েছিল।”

সুমু মেসেজটা কয়েকবার পড়ল।

তারপর ফিরোজের দিকে তাকাল।

ফিরোজ তখন নিজের রেসিডেন্ট কার্ড বের করে হাসতে হাসতে বলছে,

“দেখ, এবার আমি সত্যিই বৈধ মানুষ!”

সুমু হাসল।

কিন্তু তার চোখের ভেতর হাসি এল না।

কারণ সে জানত, মাদ্রিদে কিছু গল্প কাগজে শুরু হয় না।

কিছু গল্প শুরু হয় একটা পুরোনো ব্যাগ দিয়ে।

আর কিছু ব্যাগ মানুষের জিনিস বহন করে না।

বহন করে মানুষের ফেলে আসা জীবন।

⸻

সন্ধ্যায় সুমু একা হাঁটছিল।

মাদ্রিদের বাতাস ঠান্ডা হয়ে এসেছে।

রাস্তার আলো একে একে জ্বলছে।

হঠাৎ তার ফোন বেজে উঠল।

অচেনা নম্বর।

সুমু ধরল।

ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর খুব শান্ত একটা পুরুষ কণ্ঠ বলল,

“সুমু।”

“কে?”

“আজ ফিরোজ কার্ড পেয়েছে, তাই না?”

সুমু চুপ।

লোকটা বলল,

“ওকে দেশে যেতে দিস।”

“কেন?”

“কারণ কিছু মানুষকে ঘরে ফিরতে হয়।”

একটু বিরতি।

“আর কিছু মানুষকে ফিরতে হয় সেই জায়গায়, যেখানে তারা কখনো ছিল না।”

সুমুর গলা শুকিয়ে গেল।

“আপনি কে?”

ওপাশ থেকে এবার একটা প্রশ্ন এল।

“চৌধুরী সাহেব কি তোকে কখনো বলেছে, সুলাইমানের প্রথম রেসিডেন্ট কার্ড কোথায় তৈরি হয়েছিল?”

সুমু উত্তর দেওয়ার আগেই কল কেটে গেল।

সে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে রইল।

মাদ্রিদ তার চারপাশে আগের মতোই চলছে।

বাস যাচ্ছে।

মানুষ হাঁটছে।

কফিশপে আলো জ্বলছে।

কেউ জানে না, একটা ফোনকল কখনো কখনো মানুষের পরিচিত পৃথিবীর ভেতর একটা অচেনা দরজা খুলে দেয়।

সুমু ধীরে ধীরে ফোনটা পকেটে রাখল।

তার মনে হলো,

ফিরোজ আজ রেসিডেন্ট কার্ড পেয়েছে।

আর ঠিক সেই দিনই, সুমুর সামনে খুলে গেল অন্য এক রেসিডেন্টের পুরোনো জীবন।

একজনের কার্ড তাকে ঘরে ফেরার রাস্তা দেখাচ্ছে।

অন্যজনের কার্ড হয়তো খুলে দেবে এমন এক দরজা,

যার ওপাশে আছে নীল ব্যাগ।

সুলাইমান।

চৌধুরী সাহেব।

আর এমন একটি সত্য,
যেটা এতদিন ধরে কেউ কারও কাছে পুরোপুরি বলেনি।

চলবে.......

"ফেসবুক যখন ১৯৮০ সালে চলে গেলপৃথিবী তখন ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে।"মানুষ চাঁদে যাওয়ার পর এখন মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার রাস্তা খুঁজছে। ক...
11/09/2026

"ফেসবুক যখন ১৯৮০ সালে চলে গেল
পৃথিবী তখন ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে।"

মানুষ চাঁদে যাওয়ার পর এখন মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার রাস্তা খুঁজছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সঙ্গে গল্প করছে, গাড়ি নিজে নিজে রাস্তা চিনছে, আর কোথাও কোথাও রোবটও চাকরি খুঁজে বেড়াচ্ছে।

ঠিক সেই সময় বাংলাদেশের ফেসবুক খুলে সুমু দেখল—
“আমার শৈশব ১৯৮৫ সালে।”

সুমু একটু অবাক হলো।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, লোকটা ২০২৬ সালের মানুষ। কিন্তু পাশে পুরোনো সাইকেল, মাথায় তেল দেওয়া চুল, গায়ে ৮০ দশকের জামা।

সুমু কমেন্ট করল,
— ভাই, আপনি কি সত্যিই ১৯৮৫ সালে ছিলেন?

উত্তর এলো,
— না ভাই, AI দিয়ে বানাইছি।

সুমু বলল,
— তাহলে ছবির নিচে ১৯৮৫ কেন?
— ভাই, ব্যাপারটা অনুভূতির!

সুমু চুপ করে গেল।
এরপর আরেকজন পোস্ট দিল—

“উন্নতিতে আমেরিকা ২০৭৫ সালে, চীন ২০৬০ সালে।
আর আমরা বাংলাদেশিরা ফিরে গেছি ১৯৮০ সালে।”

পোস্টের নিচে হাজার হাজার লাইক।

কেউ লিখেছে,
“আমাদের সময়টাই ভালো ছিল।”

আরেকজন লিখেছে,
“বর্তমান প্রজন্ম শেষ।”

তৃতীয়জন লিখেছে,
“AI দিয়ে পুরোনো ছবি বানিয়ে অন্তত শান্তি পাই।”

সুমু ভাবল, পৃথিবীর মানুষ ভবিষ্যৎ বানাতে ব্যস্ত, আর আমরা অতীত বানাতে ব্যস্ত।

ঠিক তখন ফিরোজ Feroz Alam ভাই ফোন দিলেন।

— সুমু, তুই কি আমার একটা ছবি বানিয়ে দিতে পারবি?

— কিসের ছবি?

— ১৯৮২ সালের।
— ভাই, আপনি তো ১৯৮২ সালে ছিলেন না!

— সেটা সমস্যা না। Facebook-এ কেউ জিজ্ঞেস করবে না।

সুমু বলল,
— কী থাকবে ছবিতে?

ফিরোজ ভাই গম্ভীর হয়ে বললেন,
— একটা পুরোনো রিকশা, পাশে চায়ের দোকান, হাতে খবরের কাগজ। এমন ভাব যেন আমি তখন থেকেই দেশের অর্থনীতি নিয়ে চিন্তিত।

সুমু হেসে বলল,
— ভাই, আপনার বয়স তখন কত ছিল?

— সেটা ছবিতে দেখা যাবে না। দাড়ি একটু সাদা করে দিস।

সুমু বলল,
— কিন্তু আপনি তো চা-ও খান না,এমনিতেই লাভাপিয়েসে চা খাওয়াইলে আপনার নাকি রাতে ঘুম হয় না!

ফিরোজ ভাই বললেন,
— আরে ভাই, এটা বাস্তব জীবন না। এটা Facebook!

সুমু ফোন রেখে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।

তারপর নিজের Facebook খুলে দেখল—
আরেকজন বন্ধু পোস্ট দিয়েছে,

“Me in 2075.”

ছবিতে সে মহাকাশের পোশাক পরে চাঁদের মতো কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।

ক্যাপশন:

“স্বপ্নের বাংলাদেশ।”

সুমু কমেন্ট করল,
— ভাই, ২০৭৫-এ যাওয়ার আগে ২০২৬-এর বাসার ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

কিছুক্ষণ পর কমেন্ট মুছে গেল।

সুমু বুঝল, AI যতই উন্নত হোক, সত্য কথার প্রযুক্তি এখনো আবিষ্কার হয়নি।

তবে একটা ব্যাপার সে মেনে নিল।

ট্রেন্ড খারাপ না।

মানুষ যদি কয়েকটা পুরোনো ছবি বানিয়ে আনন্দ পায়, বানাক।

কেউ ১৯৮০-তে যাক, কেউ ২০৭৫-এ যাক।

শুধু সুমু নিজের ফোনটা রেখে মনে মনে বলল—

“আমি কোথাও যাচ্ছি না।
আমি ২০২৬-এই থাকব।
কারণ এই সময়ের ভাড়া, বাজার আর বিল—এসব সামলাতেই আমার AI-এর চেয়েও বেশি বুদ্ধি লাগে!”Feroz Alam

10/09/2026

গ্রাম বাংলায় ছোলা,পেয়াজু,মুড়ি সাথে সরিষা তৈলের ঝাঁজ!!

10/09/2026

ইউরোর ওপারে

পর্ব ১৯ :"দরজার ওপাশে কে?"

মাদ্রিদে মানুষকে চেনা খুব সহজ।
কেউ প্রতিদিন দেখা যায় বলে চেনা হয়ে যায়।
কেউ প্রতিদিন কথা বলে বলে চেনা হয়ে যায়।
আবার কেউ কেউ আছে, বছরের পর বছর পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও তাদের জীবনের দরজাটা খোলে না।

সুমুর মনে হয়, প্রবাসে আসলে সবাই একটা করে দরজা নিয়ে ঘোরে।

বাইরে থেকে দরজাটা খুব সাধারণ।
ভেতরে কী আছে, সেটা কেউ জানে না।

সেদিন কাজ শেষে সুমু তার শপ ক্লোজ করছিলো।

তিয়েন্দার সামনে মারিয়ার সঙ্গে দেখা।

মারিয়া তিয়েন্দার উপরে একই বিল্ডিংয়েরই একটি ফ্ল্যাটে তার স্বামী রাহুলের সঙ্গে বসবাস করেন।

রাহুলকে সুমু খুব বেশি কথা বলতে দেখেনি।

কিন্তু মারিয়া যেন প্রতিদিন সুমুর জন্য দুই মিনিট সময় রেখে দেন।

“Hola, Sumu. ¿Cómo estás?”

সুমু হেসে বলল,
“Bien,Señora María. ¿Y tú?”

মারিয়া মাথা নেড়ে বললেন,
“Yo bien. Pero tú pareces cansado.”
তোমাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে।

সুমু হেসে বলল,

“Mucho Trabajo.”

মারিয়া বললেন,
“Siempre trabajo.”

তারপর একটু থেমে যোগ করলেন,

“Come bien.”
ভালো করে খেয়ো।

সুমু জানে না কেন, এই কথাটা শুনলে তার মাঝে মাঝে নিজের মায়ের কথা মনে পড়ে।

মাদ্রিদে মা নেই।
কিন্তু মায়ের মতো দু-একজন মানুষ থাকে।

মারিয়া সেই তালিকায় ঢুকে গেছে কবে, সুমু নিজেও জানে না।

মারিয়া চলে যাওয়ার সময় হঠাৎ বললেন,
“আজ রাহুল তোমার সঙ্গে কথা বলতে চায়।”

“আমার সঙ্গে?”

“হ্যাঁ।”

“কেন?”

মারিয়া হাসলেন।
“আমি জানি না। পুরুষ মানুষ কখনো কখনো নিজেরাই জানে না কেন কথা বলতে চায়।”

সুমু হেসে ফেলল।

মারিয়া চলে গেলেন।

সুমু দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর হঠাৎ খেয়াল করল, মারিয়ার হাতে একটা ছোট নীল খাম।

নীল।

শব্দটা দেখলেই এখন তার বুকের ভেতর অকারণে একটা দরজা খুলে যায়।

⸻

রাতে সুমু বাসায় ফিরে পুরোনো কিছু মেসেজ দেখছিল।

নীল ব্যাগের সেই ছবি।

সেই লেখা।

No es tuyo.

এটা তোমার নয়।

সুমু অনেকক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর চৌধুরী সাহেবকে ফোন করল।

ফোন বন্ধ।

চৌধুরী সাহেবের ব্যাপারটাই এমন।

কখনো মাদ্রিদে।

কখনো বার্সেলোনা।

কখনো লিসবন।

কখনো আবার এমন কোনো দেশে, যার নাম শুনে সুমু Google খুলে দেখে।

ব্যবসা করেন।

কী ব্যবসা করেন, সেটা সুমু পুরোপুরি জানে না।

চৌধুরী সাহেব বলেন,

“ব্যবসার সবচেয়ে বড় হিসাবটা কাগজে থাকে না।”

সুমু একবার বলেছিল,

“তাহলে কোথায় থাকে?”

চৌধুরী সাহেব বলেছিলেন,

“মানুষের মাথায়। আর কখনো কখনো মানুষের পকেটে।”

তারপর হেসেছিলেন।

চৌধুরী সাহেব সুমুর চাচা।

রক্তের সম্পর্কের চেয়ে অনেক গভীর একটা সম্পর্ক।

কিন্তু তাঁর জীবনেও এমন কিছু ঘর আছে, যেখানে সুমুকে এখনো ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

নীল ব্যাগের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আছে, এটা সুমু অনেক আগেই বুঝেছে।

কিন্তু কতটা সম্পর্ক?

সেটা সে জানে না।

⸻

পরদিন সকালে মারিয়া বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সুমুর তিয়েন্দায় আসলেন,
মারিয়া জানে সুমু প্রতিদিন সকাল ১০ টার আগেই তিয়েন্দা ওপেন করে।
তিয়েন্দার স্যাটার (লোকোতরিও) আর মারিয়ার বিল্ডিংয়ের গেইট পাশাপাশি।

মারিয়া বললেন,
Buenos Días!
Que tal hombre?

সুমু বললো
Estoy muy bien Señora María. Y tú?

Maria বললো,
Muy bien Sumu
“রাহুল তোমাকে কিছু দিতে বলেছে।”

সুমু অবাক।
“আমাকে?”

মারিয়া ছোট একটা খাম এগিয়ে দিলেন।
খামটা নীল নয়।
সাদা।

সুমু খামটা হাতে নিয়ে বলল,
“কী আছে?”

“জানি না।”

“আপনি দেখেননি?”
মারিয়া হেসে বললেন,

“না। স্বামীকে বিশ্বাস করি।”

তারপর একটু থেমে বললেন,
“তবে বেশি বিশ্বাস করাও ভালো না।”

সুমু হেসে ফেলল।

মারিয়াও হাসলেন।

মাদ্রিদে এই ছোট ছোট কথাগুলোই কখনো কখনো মানুষের দিনটাকে সহজ করে দেয়।

সুমু খামটা পকেটে রাখল।

⸻

দুপুরে খাম খুলে সে প্রথমে কিছুই বুঝতে পারল না।
ভেতরে একটা পুরোনো কাগজ।

আর একটি ছোট USB।
কাগজে মাত্র কয়েকটি শব্দ।

“এটা সুমুকে দিও।
সে নীল ব্যাগের ব্যাপারে যতটা জানে, তার চেয়ে কম জানে।”

নিচে কোনো নাম নেই।

সুমুর হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।

সে সঙ্গে সঙ্গে রাহুলকে ফোন করল।

রাহুল ফোন ধরল না।

মারিয়াকে ফোন করল।

মারিয়া ধরলেন।

“মারিয়া, রাহুল আমাকে এটা কেন দিয়েছে?”

ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর মারিয়া বললেন,

“আমি জানি না।”

“আপনি নিশ্চিত?”

“হ্যাঁ।”

“রাহুল কোথায়?”

“বাইরে গেছে।”

“কোথায়?”

মারিয়া একটু থেমে বললেন,

“সে শুধু বলেছে, তোমাকে দিতে।”

কল কেটে গেল।

⸻

সুমু রাতে USB-টা খুলল।

একটা মাত্র অডিও ফাইল।

সময় মাত্র এক মিনিট সতেরো সেকেন্ড।

সে প্লে করল।

প্রথমে বাতাসের শব্দ।

তারপর একটা বৃদ্ধ নারীর কণ্ঠ।

খুব দুর্বল।

কিন্তু পরিষ্কার।

সুমুর বুকের ভেতর ধাক্কা লাগল।

এই কণ্ঠ সে চেনে।

আদ্রিয়ানা।

সুমু চোখ বন্ধ করল।

আদ্রিয়ানা মারা গেছেন।

এটা সে জানে।

কয়েক মাস ধরে এই সত্যটাই সে জানে।

তাহলে এই রেকর্ডিং?

কণ্ঠটা বলছে,

“Sumu… if you are hearing this, I am no longer there.”

সুমুর চোখ খুলে গেল।

কিছুক্ষণ পর আদ্রিয়ানার কণ্ঠ আবার শোনা গেল।

“Don’t trust the bag.”

একটু নীরবতা।

তারপর,

“Don’t trust the person who says it belongs to Solaiman.”

সুমু স্থির হয়ে বসে রইল।

সুলায়মান?

তাহলে এতদিন যে ধারণা ছিল, নীল ব্যাগটি সুলায়মানের সঙ্গে যুক্ত…

সেটাও কি ভুল?

রেকর্ডিংয়ের শেষ দিকে আদ্রিয়ানার কণ্ঠ আরও নিচু হয়ে গেল।

“Your uncle knows where it came from.”

সুমুর বুকের ভেতর যেন কেউ দরজা বন্ধ করে দিল।

Your uncle.

তোমার চাচা।

চৌধুরী সাহেব।

তারপর একটা শব্দ।

খুব ক্ষীণ।

মনে হলো আদ্রিয়ানা আরেকটি নাম বলতে যাচ্ছেন।

কিন্তু শব্দটা পরিষ্কার হলো না।

অডিও শেষ।

⸻

সুমু অনেকক্ষণ ফোন হাতে নিয়ে বসে রইল।

তার মাথায় শুধু একটা প্রশ্ন।

চৌধুরী সাহেব জানেন নীল ব্যাগ কোথা থেকে এসেছে।

কিন্তু তিনি কি জানেন ব্যাগটা কার?

নাকি তিনি নিজেই সেই গল্পের একজন মানুষ?

সুমু চৌধুরী সাহেবকে আবার ফোন করল।

এবার ফোন বেজে উঠল।

একবার।

দুইবার।

তিনবার।

তারপর ওপাশ থেকে কণ্ঠ এল।

“হ্যালো।”

সুমু চুপ।

চৌধুরী সাহেব বললেন,

“কী হলো? কথা বলিস না কেন?”

সুমু ধীরে বলল,

“চাচা… আপনি কোথায়?”

“মাদ্রিদে।”

“কোথায়?”

“কেন?”

সুমু সরাসরি প্রশ্ন করল,

“নীল ব্যাগটা কোথা থেকে এসেছিল?”

ওপাশে নীরবতা।

এই প্রথম সুমু চৌধুরী সাহেবের নীরবতাকে ভয় পেল।

কয়েক সেকেন্ড পর চৌধুরী সাহেব বললেন,

“কে তোকে এই প্রশ্ন করতে বলেছে?”

সুমুর গলা শুকিয়ে গেল।

“আদ্রিয়ানা।”

ওপাশে আবার নীরবতা।

তারপর চৌধুরী সাহেব খুব আস্তে বললেন,

“আদ্রিয়ানা তো মারা গেছে।”

“জানি।”

“তাহলে?”

“তার একটা রেকর্ডিং পেয়েছি।”

চৌধুরী সাহেব এবার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

“সুমু…”

“জি?”

“কিছু দরজা বন্ধ থাকলে ভালো।”

“কিন্তু চাচা, দরজাটা তো আপনি বন্ধ করে রেখেছেন।”

চৌধুরী সাহেব কোনো উত্তর দিলেন না।

তারপর শুধু বললেন,

“কাল দেখা কর।”

“কোথায়?”

চৌধুরী সাহেব বললেন,

“যেখানে তুই প্রথম নীল ব্যাগটা দেখেছিলি।”

কল কেটে গেল।

সুমু ফোনটা নামিয়ে রাখল।

তারপর জানালার বাইরে তাকাল।

মাদ্রিদের রাত আগের মতোই চলছে।

কেউ কাজে যাচ্ছে।

কেউ ফিরছে।

কেউ বাংলাদেশে ফোন করছে।

কেউ আগামীকাল কীভাবে ভাড়া দেবে, সেটা ভাবছে।

কেউ নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখছে।

আর এই একই শহরের কোথাও একটা পুরোনো দরজা খুলতে যাচ্ছে।

যে দরজার ওপাশে হয়তো সুলায়মান আছে।

হয়তো আদ্রিয়ানার অসমাপ্ত গল্প।

হয়তো চৌধুরী সাহেবের অজানা অতীত।

অথবা…

নীল ব্যাগের আসল মালিক।

সুমু ঘুমাতে যাওয়ার আগে শেষবার USB-টার দিকে তাকাল।

হঠাৎ তার মনে হলো,

অডিওতে আদ্রিয়ানা যে শেষ শব্দটি বলেছিলেন, সেটা সে ঠিকমতো শুনতে পায়নি।

সে আবার ফাইলটা চালু করল।

শেষ কয়েক সেকেন্ড বাড়িয়ে দিল।

শব্দের ভেতর খুব ক্ষীণ একটা আওয়াজ ভেসে এল।

একটা নাম।

সুমু হেডফোন খুলে ফেলল।

কারণ নামটা ছিল এমন একজনের…

যাকে সুমু এখনো মৃত বলে জানে না।

চলবে.........

09/09/2026

ইউরোর ওপারে

পর্ব ১৮: "ডিসেম্বরে দেশের টিকিট"

মাদ্রিদের আকাশে সেদিন বেশ রোদ ছিল।
কিন্তু ফিরোজের মুখে রোদের চেয়েও বেশি আলো।

সুমু দূর থেকেই দেখে বুঝে গেল, লোকটার নিশ্চয়ই কোনো খবর আছে।

কাছে গিয়ে বলল,
“কী ব্যাপার রে? মুখের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে স্পেন সরকার তোকে আজকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে দিয়েছে!”

ফিরোজ হেসে বলল,স
“প্রধানমন্ত্রী না। তার চেয়েও বড় কিছু।”

“কী?”
“ফেবারেবল।”

সুমু কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বলল,
“আলহামদুলিল্লাহ!”

ফিরোজের মুখের হাসিটা এবার আরও বড় হলো।
“আর শুধু ফেবারেবল না। কয়েকদিন আগে ফিঙ্গারও দিয়ে আসছি।”

সুমু বলল,
“তাহলে তো এখন তুই পুরোপুরি সিরিয়াস মানুষ!”
“কেন?”
“এতদিন তুই স্পেনে ছিলি মানুষ হিসেবে। এখন কাগজেও মানুষ হয়ে গেলি।”

ফিরোজ হেসে বলল,
“তুইও না সুমু!”

সুমু বলল,
“ভাই, এতদিন তোর সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তুই ফিরোজ। এখন থেকে পরিচয় হবে, ফিরোজ, ফেবারেবল পাওয়া মানুষ।”

ফিরোজ একটু চুপ করে গেল।
তারপর ধীরে বলল,
“তুই জানিস না, এই একটা শব্দের পেছনে কত রাত আছে।”

সুমু আর হাসল না।

সে জানে।
প্রবাসে কিছু শব্দ শুধু শব্দ নয়।
“ফেবারেবল” কারও কাছে একটা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
আর কারও কাছে সেটা মায়ের ঘুমহীন রাতের শেষ।
কারও কাছে বাবার ধার করা টাকার একটা উত্তর।
কারও কাছে দেশে ফেরার সাহস।
আবার কারও কাছে নতুন করে জীবন শুরু করার দরজা।

ফিরোজ ফোন বের করে বলল,
“জানিস, দেশে ফোন করে ভাতিজাকে বলেছি, ডিসেম্বরের দিকে দেশে যেতে পারি।”

সুমু অবাক হয়ে বলল,
“যেতে পারিস?”

“হ্যাঁ।”
“তারপর?”
ফিরোজ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“তারপর আর কী! খবরটা গ্রামে ছড়িয়ে গেছে।”
“কতটুকু?”
ফিরোজ ফোনটা সামনে ধরে বলল,

“গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা হয়নি, এই যা!”
সুমু হেসে ফেলল।
“মানে?”

ফিরোজ বলল,
“কালকে একজন ফোন করে বলছে, ‘ফিরোজ, শুনলাম ডিসেম্বর মাসে আসতেছিস।’”

“ভালো তো।”
“আমি বললাম, কে বলছে?”
“তারপর?”
“বলল, ‘আমি বলতেছি, তোর পাশের বাড়ির কাসেমের শ্বশুরের ভাতিজা।’”

সুমু এবার আর হাসি আটকাতে পারল না।

ফিরোজ বলল,
“আরেকজন ফোন করে বলছে, ‘ভাই, দেশে আসলে আমাদের বাড়িতে একদিন আসবেন।’”

“তুই কী বললি?”
“বললাম, ইনশাআল্লাহ।”

“তারপর?”
“বলল, ‘আচ্ছা, আপনি কয় তারিখে আসবেন?’”
“তুই কী বললি?”
“বললাম, এখনো টিকিট কাটিনি।”

“তারপর?”
“বলল, ‘টিকিট কাটলে আমাকে জানাবেন।’”
সুমু বলল,
“মানুষ তোকে খুব ভালোবাসে।”

ফিরোজ মুখ বাঁকিয়ে বলল,
“ভালোবাসে না। সবাই নিশ্চিত হতে চায় আমি সত্যিই আসছি কি না।”

“কেন?”
“কারণ দেশে গেলে কে কী চাইবে, সেটা আগে থেকেই ঠিক করতে হবে।”

সুমু হেসে বলল,
“তোর জন্য গ্রামের মানুষের একটা কমিটি করা দরকার।”

ফিরোজ গম্ভীর মুখে বলল,
“কমিটি হয়ে গেছে।”
“কী কমিটি?”
“ফিরোজ আগমন প্রস্তুতি কমিটি।”

দুজনেই হেসে উঠল।
ঠিক তখন পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন হারুন ভাই।
মাথায় পুরোনো টুপি, হাতে কফির কাপ।
তিনি কিছুক্ষণ তাদের দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন,
“হাসো। হাসতে থাকো।”

সুমু বলল,
“চাচা, আপনি হাসছেন না কেন?”
হারুন ভাই কফিতে চুমুক দিয়ে বললেন,
“আমি হাসি কম, দেখি বেশি।”
ফিরোজ বলল,
“কী দেখেন?”
হারুন ভাই ধীরে বললেন,

“প্রবাসে মানুষ যখন বলে, ‘ডিসেম্বরে দেশে যাব’, তখন সে শুধু একটা তারিখ বলে না। সে আসলে নিজের শিকড়কে একটা চিঠি পাঠায়।”

সুমু চুপ করে গেল।
ফিরোজের হাসিটাও একটু থেমে গেল।

হারুন ভাই আবার বললেন,
“শিকড় যত দূরে থাকে, টান তত বেশি লাগে।”
কথাটা বলে তিনি হাঁটতে শুরু করলেন।

ফিরোজ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,
“এই মানুষটা কথা বলে এমনভাবে, মনে হয় আগে থেকেই সব জানে।”

সুমু বলল,
“তাই তো মাদ্রিদে মানুষ ওনাকে ইউরো চাচা বলে।”
ফিরোজ মাথা নেড়ে বলল,
“কথার দাম ইউরোর চেয়েও বেশি।”

⸻
ডিসেম্বর
ডিসেম্বর শব্দটা ফিরোজের মাথার ভেতর ঢুকে গেছে।
রাতে ঘুমানোর আগে ডিসেম্বর।
সকালে ঘুম থেকে উঠে ডিসেম্বর।
মোবাইলে দেশের নম্বর দেখলে ডিসেম্বর।

ভাতিজা ফোন করলে ডিসেম্বর।
এমনকি দোকানে শীতের কাপড় দেখলেও ডিসেম্বর।
একদিন সুমুকে বলল,
“জানিস, দেশে গিয়ে প্রথম দিন কিছুই করব না।”
“কী করবি?”
“বাড়ির উঠানে বসে থাকব।”
“তারপর?”
“মায়ের রান্নাঘরের গন্ধ নেব।”

সুমু একটু থেমে বলল,

“কতো মাস হলো মায়ের হাতের রান্নার ঘ্রাণ নিতে পারছিনা!!"

ফিরোজ চুপ করে গেল।
তারপর খুব স্বাভাবিকভাবে বলল,
“হ্যাঁ।
আমাদের সবারই সেই সুযোগ বারবার আসুক।”
কথাটা এমনভাবে বলল, যেন খুব সাধারণ একটা কথা।

কিন্তু কিছু কথা মানুষ মুখে সহজ করে বলে,বুকের ভেতর ধুমরে মুচড়ে যায়।
ফিরোজ সুমুকে বলল,কি যে সুখ গ্রামের সেই উঠানের দৃশ্যে,নদীর পাড়ের চেনা ঘাটে।

মাদ্রিদের রাস্তায় গাড়ি ছুটছিল।
মানুষ ছুটছিল।
বাস ছুটছিল।
জীবন ছুটছিল।
কিন্তু দুজন মানুষের মনে তখন একটা গ্রামের উঠান থেমে ছিল।
⸻

উজ্জ্বল
সেই বিকেলেই সুমুর সঙ্গে দেখা হলো উজ্জ্বলের।

উজ্জ্বলকে প্রথম দেখলে বোঝার উপায় নেই, লোকটা কতবার ব্যবসা শুরু করে আবার শূন্যে ফিরে এসেছে।
চোখে সবসময় একটা অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস।
যেন ব্যর্থতা তাকে অপমান করে না, বরং নতুন একটা আইডিয়া দেয়।
উজ্জ্বল সিঙ্গাপুর থেকে স্পেনে এসেছিল।

শুরুতে মাদ্রিদে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজ করত।গ
ঘর সাজাত।
দোকান সাজাত।
অফিস সাজাত।
কখনো এমন একটা জায়গাকে বদলে দিত, যেখানে মানুষ ঢুকে বলত,
“এটা কি আগের সেই জায়গা?”

উজ্জ্বল হাসত।
“জায়গা একই। চোখ বদলে গেছে।”
ব্যবসা ভালো চলছিল।
টাকাও আসছিল।
তারপর একদিন মাথায় এলো, সাইকেলের ব্যবসা করবে।
একটা বিশাল গ্যারেজ নিল।
প্রায় বারো হাজার স্কয়ার ফুট।
মাদ্রিদের এক প্রান্তে তখন সেই গ্যারেজ নিয়ে বেশ স্বপ্ন দেখছিল উজ্জ্বল।
সাইকেল থাকবে।
রিপেয়ার হবে।
স্টোরেজ হবে।
ডেলিভারি রাইডারদের জন্য জায়গা থাকবে।

নতুন ছেলেরা আসবে।
ব্যবসা বাড়বে।
স্বপ্নেরও একটা ঠিকানা হবে।
কিন্তু প্রবাসে সব ঠিকানা নিজের থাকে না।
কিছুদিন পর ব্যবসায় প্রতিযোগিতা শুরু হলো।
কথা বাড়ল।
চোখাচোখি বাড়ল।
কেউ সামনে কিছু বলল না।
কেউ পেছনে কী বলল, উজ্জ্বলও সব জানত না।
একদিন গ্যারেজ বন্ধ।
ব্যবসা শেষ।
স্বপ্নটা যেন এক সকালে তালা হয়ে ঝুলে রইল।

তারপর মাসের পর মাস উজ্জ্বল গ্যারেজের ভাড়া দিয়েছে।
অনেকেই বলেছে,
“ছাড়েন।”
কেউ বলেছে,
“আপনার কপালে ব্যবসা নাই।”
কেউ বলেছে,
“এখানে আর কিছু হবে না।”
উজ্জ্বল কাউকে উত্তর দেয়নি।

শুধু একদিন সুমুকে বলেছিল,
“ব্যবসা বন্ধ হতে পারে। ব্যবসা করার মানুষটা বন্ধ হয় কীভাবে?”

সুমু তখন হেসে বলেছিল,
“তুই একদিন কী ব্যবসা করবি, সেটা তুই নিজেই জানিস না।”
উজ্জ্বলও হেসেছিল।
“ব্যবসার নাম জানি না। কিন্তু ব্যবসা করার ইচ্ছাটা জানি।”

এখনো সে নতুন কিছু খুঁজছে।
কখনো ইন্টেরিয়র।
কখনো সাইকেল।
কখনো নতুন কোনো সার্ভিস।

কখনো এমন একটা ব্যবসা, যার নাম সে নিজেও এখনো ঠিক করেনি।
সুমু একদিন মজা করে বলেছিল,
“ভাই, তোর ভিজিটিং কার্ডে কী লিখবি?”
উজ্জ্বল বলেছিল,
“উজ্জ্বল, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়ী।”

⸻
সেদিন তিনজন বসেছিল একটি ছোট কফির দোকানে।
ফিরোজ।
সুমু।
উজ্জ্বল।
ফিরোজ বলল,
“উজ্জ্বল, আমি ডিসেম্বর দেশে যাচ্ছি।”
উজ্জ্বল সঙ্গে সঙ্গে বলল,
“আমাকেও নিয়ে যা।”

সুমু বলল,
“তুই তো দেশ থেকে এসে আবার স্পেনে ব্যবসা শুরু করবি।”
উজ্জ্বল মাথা নেড়ে বলল,
“ঠিক তাই।”
ফিরোজ বলল,
“তুই দেশে গিয়ে কী করবি?”
উজ্জ্বল কফিতে চুমুক দিয়ে বলল,
“দুই সপ্তাহ থাকব। তারপর আবার মাদ্রিদে আসব।”
“কেন?”

“কারণ আমার যুদ্ধটা এখানেই।”
ফিরোজ তাকিয়ে রইল।
উজ্জ্বল বলল,
“দেশে গেলে সবাই বলবে, ‘বিদেশে গিয়ে কী করলি?’”

“তুই কী বলবি?”
উজ্জ্বল হেসে বলল,
“বলব, পড়ে গেছি।”
সুমু বলল,
“এটা কেউ বলতে চায়?”
উজ্জ্বল মাথা নেড়ে বলল,
“আমি চাই।”
“কেন?”
“কারণ পড়ে যাওয়ার গল্পটা না বললে উঠে দাঁড়ানোর গল্পটা মানুষ বুঝবে কীভাবে?”
হারুন ভাই তখন পাশের টেবিলে বসেছিলেন।
এতক্ষণ চুপ করে শুনছিলেন।
কফির কাপ নামিয়ে বললেন,
“ব্যবসায় লোকসান হলো বলে মানুষ গরিব হয় না।”
তিনজন তাকাল।
হারুন ভাই বললেন,
“লোকসানের পরেও যদি নতুন কিছু ভাবার সাহস থাকে, তখন মানুষ গরিব নয়। তখন তার কাছে শুধু টাকা কম থাকে।”
উজ্জ্বল মুচকি হাসল।
“চাচা, আপনার কাছে সব কথার উত্তর আছে?”
হারুন ভাই বললেন,
“না। তবে প্রবাসে এত বছর থাকলে প্রশ্নের চেহারা চিনতে শেখা যায়।”
তারপর একটু থেমে বললেন,
“মনে রাখিস, প্রবাসে কেউ একবার হারে না। মানুষ এখানে প্রতিদিন একটু একটু করে হারায়। আর প্রতিদিন একটু একটু করে আবার জেতে।”
সুমু তাকিয়ে রইল।
ফিরোজ ফোনের স্ক্রিনে দেশের একটা ছবি খুলে রাখল।
একটা গ্রামের রাস্তা।
কাঁচা রাস্তার পাশে বাঁশঝাড়।
দূরে একটা পুকুর।

ছবিটা দেখে সে আস্তে বলল,
“ডিসেম্বর…”

কেউ কিছু বলল না।
মাদ্রিদের সন্ধ্যা তখন ধীরে ধীরে নেমে আসছে।
রাস্তার বাতিগুলো জ্বলছে।
দূরের কোনো বাসের ব্রেকের শব্দ শোনা যাচ্ছে।

আর তিনজন প্রবাসীর সামনে তিনটা আলাদা ভবিষ্যৎ।
ফিরোজের সামনে ডিসেম্বর।
উজ্জ্বলের সামনে নতুন ব্যবসা।

আর সুমুর সামনে?
সুমু নিজেও জানে না।

তবে সেদিন রাতে বাসায় ফেরার সময় তার ফোনে অচেনা নম্বর থেকে একটা মেসেজ এলো।
মাত্র একটি লাইন।
“ফিরোজের ডিসেম্বরের খবর সবাই জানে। কিন্তু উজ্জ্বলের গ্যারেজের গল্পটা কি সত্যিই শেষ?”

সুমু কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর মেসেজটা আবার পড়ল।
একবার।
দুবার।
তিনবার।
মাদ্রিদের রাত তখন আরও গাঢ় হয়েছে।
আর বহুদিন পর, নীল ব্যাগের কথা না ভেবেও সুমুর মনে হলো,
কিছু গল্প তালা দিয়ে বন্ধ করা যায়।
কিন্তু কিছু দরজা বন্ধ করার পরও ভেতর থেকে কেউ যেন কড়া নাড়ে।

চলবে...

অভিনন্দন ইলিয়াস রবিন।অনাগত ভবিষ্যত মসৃণ হোক শুভ কামনা।
08/09/2026

অভিনন্দন ইলিয়াস রবিন।
অনাগত ভবিষ্যত মসৃণ হোক
শুভ কামনা।

07/09/2026

Greenwich Park,London!!

07/09/2026

মানুষের কল্যাণে প্রবাসীদের উদ্যোগে একটি হাসপাতাল ( সিলেটের কানাইঘাট গাছবাডী এলাকায়) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া সত্যিই একটি মহৎ ও মানবিক কাজ। অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

আশা করি এই হাসপাতাল ভবিষ্যতে অসংখ্য মানুষের চিকিৎসা ও সেবার ভরসার জায়গা হয়ে উঠবে। মহান আল্লাহ এই মহৎ উদ্যোগকে কবুল করুন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন।

06/09/2026

"মানুষ হয়ে বিপদে আছি,চারপাশে সব ফেরেশতা"
----ফিরোজ আলম Feroz Alam

মাদ্রিদের এক পাড়ায় চার কামরার একটি ফ্ল্যাট ছিল।

ফ্ল্যাটটি খুব বিলাসবহুল কিছু নয়। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাজারে এর একটা আলাদা কদর ছিল। কারণ মাদ্রিদে চার কামরার একটা বাসা পাওয়া যতটা কঠিন, সেখানে নিজের নামে একটা ঘর পাওয়া তার চেয়েও কঠিন।

এ শহরে বাসা আছে, কিন্তু বাসা যেন সবার জন্য নেই।

কেউ একটা ঘরে চারজন থাকে, কেউ ডাবল বেডে দুজন, কেউ আবার দুই তলা খাটের নিচে ঘুমিয়ে ইউরোপের উন্নত জীবন উপভোগ করে। আর ড্রইংরুম?

ড্রইংরুমের কথা বলবেন না।

কেউ কেউ এতদিন স্পেনে থেকেও ড্রইংরুমকে শুধু বিজ্ঞাপনে দেখেছে।

এই চার কামরার বাসাটিতে প্রায় দুই বছর ধরে থাকত অনিরুদ্ধ।

লোকটা একটু অদ্ভুত ধরনের।

নিজের কাজের চেয়ে অন্যের কাজ নিয়ে বেশি চিন্তা করে।

কারও পাদ্রন লাগবে?

অনিরুদ্ধ।

কাগজ জমা দিতে হবে?

অনিরুদ্ধ।

উকিলের কাছে যেতে হবে?

অনিরুদ্ধ।

নতুন কেউ দেশে থেকে এলো, কোথায় থাকবে?

অনিরুদ্ধ।

কারও বাসা দরকার?

অনিরুদ্ধের ফোন নম্বর যেন মাদ্রিদের একটি ছোটখাটো হেল্পলাইন।

তবে অনিরুদ্ধ একটা বিষয় বুঝতে পারেনি।

মানুষকে উপকার করা যায়, কিন্তু মানুষকে নিজের করে ফেলা যায় না।

একদিন বাসায় নতুন এক দম্পতি এলো। ইউরোপের এক বরফঢাকা উন্নত দেশ থেকে এসেছে তারা।

স্বামীটির নাম ধরা যাক, রূপক।

রূপক প্রথম দিন অনিরুদ্ধকে দেখে এমনভাবে হাসল, যেন বহুদিনের হারানো ভাইকে মাদ্রিদের রাস্তায় খুঁজে পেয়েছে।

“ভাই, আপনার এই উপকার কোনোদিন ভুলব না।”

অনিরুদ্ধও সরল মানুষ।

সে মনে মনে ভাবল,

“আহা, বিদেশে মানুষ পেয়েছি!”

তারপর কয়েক মাস কেটে গেল।

একদিন খুব সামান্য একটা ঘটনা ঘটল।

সেই সামান্য ঘটনাই অনিরুদ্ধকে একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিল।

মানুষ সামনে যতটা আপন হতে পারে, পেছনে তার চেয়েও বেশি অপরিচিত হতে পারে।

অনিরুদ্ধ কিছু কথা শুনল।

কথাগুলো তার সম্পর্কে।

আর আশ্চর্যের বিষয়, কথাগুলো এমন মানুষের মুখ থেকে এসেছে যাকে সে নিজের মানুষ ভাবতে শুরু করেছিল।

সেদিন অনিরুদ্ধ কোনো ঝগড়া করল না।

শুধু কথা বলা কমিয়ে দিল।

কারণ সে জানত, কিছু সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর সমাপ্তি হলো চুপ হয়ে যাওয়া।

এর কিছুদিন পর বাসায় নতুন আরেক পরিবার এলো।

নতুন পরিবার আসতেই বাসার ভেতর নতুন এক জোট গড়ে উঠল।

মাদ্রিদের সংসদে নির্বাচন হয় না, কিন্তু শেয়ারিং বাসায় জোট সরকার খুব দ্রুত গঠিত হয়।

একজন রান্না করলে একজন প্রশংসা করে।

একজন পরিষ্কার করলে আরেকজন ছবি তোলে।

আর কেউ ভুল করলে?

গ্রুপে ছবি যায়।

তার নিচে লেখা হয়,

“আমরা তো কাউকে কিছু বলছি না, সবাই যেন একটু সচেতন হই।”

অনিরুদ্ধ তখন বুঝল,
“কাউকে কিছু বলছি না” হচ্ছে প্রবাসী বাসার সবচেয়ে বিপজ্জনক বাক্য।

কারণ তার পরের লাইনে সাধারণত কারও নাম না থাকলেও সবাই বুঝে যায় কার কথা বলা হচ্ছে।

একদিন গ্রুপে একটি ছবি এল।

ছবিতে রান্নাঘরের একটা সামান্য অগোছালো জায়গা।

তারপর আরেকটি ছবি।

তারপর আরেকটি।

মন্তব্য আসতে লাগল।

“এভাবে তো থাকা যায় না।”

“কেউ তো দায়িত্ব নেয় না।”

“সবাই যদি একটু বুঝত!”

অনিরুদ্ধ ছবিগুলো দেখে চুপ করে রইল।

কারণ সে জানত, ছবির আসল বিষয় রান্নাঘর নয়।

বিষয়টা সে নিজে।

একসময় যে মানুষটি অনিরুদ্ধের ঘরে বসে চা খেয়ে বলত,

“ভাই, আপনি না থাকলে আমরা এখানে টিকতেই পারতাম না”,

সেই মানুষটিই এখন গ্রুপে এমনভাবে ছবি দেয়, যেন অনিরুদ্ধ মাদ্রিদের সব নোংরা-আবর্জনার একমাত্র প্রতিনিধি।

অনিরুদ্ধ ভাবল,

“বাহ! মানুষ আমাকে কতটা ভালোবাসে!”

তবে এই ভালোবাসার একটা বিশেষত্ব আছে।

সামনে মিষ্টি, পেছনে ছুরি।

মজার ব্যাপার হলো, ছুরিটাও এখন আধুনিক হয়েছে।

আগে মানুষ পেছন থেকে ছুরি মারত।

এখন মানুষ পেছন থেকে স্ক্রিনশট পাঠায়।

কেউ ছবি পোস্ট করে।

কেউ কমেন্ট করে।

কেউ সেই কমেন্টে লাইক দেয়।

আর সবশেষে একজন এসে লেখে,

“ভাই, ব্যক্তিগতভাবে কিছু নেবেন না।”

ব্যক্তিগতভাবে না নিলে আর কীভাবে নেবে?

অনিরুদ্ধ একদিন গ্রুপ থেকে বের হয়ে গেল।

কোনো ঘোষণা নেই।

কোনো বিদায় নেই।

কোনো “সবাই ভালো থাকবেন” নেই।

সে শুধু বের হয়ে গেল।

বের হওয়ার সময় তার মনে হলো, পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ জায়গা সম্ভবত সেই WhatsApp গ্রুপ, যেখানে সে আর নেই।

এখন বাসায় কী হচ্ছে, সে জানে না।

কে ছবি পোস্ট করছে, জানে না।

কে কাকে লাইক দিচ্ছে, জানে না।

কারা তাকে বাসা থেকে বের করার নতুন কৌশল আবিষ্কার করছে, তাও জানে না।

তবে একটা জিনিস সে বুঝে গেছে।

যাদের জন্য সে পাদ্রনের ব্যবস্থা করেছিল, যাদের কাগজ জমা দিতে নিজের সময় নষ্ট করেছিল, যাদের উকিলের কাছে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের কাছে সে এখন যেন বাসার সবচেয়ে বড় সমস্যা।

অর্থাৎ অনিরুদ্ধের অপরাধ একটাই।

সে মানুষকে মানুষ ভেবেছিল।

মাদ্রিদ তাকে আরেকটা শিক্ষা দিল।

প্রবাসে কারও বিপদে পাশে দাঁড়ানোর আগে একটু ভেবে দাঁড়াতে হয়।

কারণ আপনি যখন কারও বিপদে পাশে দাঁড়াবেন, তখন আপনি ভাই।

কিন্তু যেদিন আপনার নিজের বিপদ আসবে, সেদিন সেই ভাইয়েরা আপনাকে দেখে এমনভাবে পাশ কাটিয়ে যাবে, যেন আপনি তাদের চিনতেই পারেন না।

তবু অনিরুদ্ধ কাউকে দোষ দিল না।

কারণ সে জানে, মাদ্রিদে বাসা পাওয়া কঠিন।

তার চেয়েও কঠিন হলো মানুষের আসল চেহারা পাওয়া।

আর সবচেয়ে কঠিন হলো,

মানুষ হয়ে বেঁচে থাকা।

অনিরুদ্ধ তাই মাঝে মাঝে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই বলে,

“ভাই, ভুল করেছিস।”

“কী ভুল?”

“তুই মানুষ হয়ে গেছিস।”

তারপর চারপাশে তাকিয়ে মৃদু হাসে।

চারদিকে এত ফেরেশতা!

কেউ রান্না করে ফেরেশতা।

কেউ ঘর পরিষ্কার করে ফেরেশতা।

কেউ ছবি তুলে ফেরেশতা।

কেউ কমেন্ট করে ফেরেশতা।

কেউ লাইক দিয়ে ফেরেশতা।

শুধু অনিরুদ্ধটাই মানুষ।

আর সেই কারণেই সম্ভবত বিপদে আছে।

একাকী মন ভাবায়-
"মানুষ হয়ে বিপদে আছি,
চারপাশে সব ফেরেশতা"

Dirección

Avenida De Nuestra Señora De Valvanera, 91
Madrid
28025

Notificaciones

Sé el primero en enterarse y déjanos enviarle un correo electrónico cuando Voice of Madrid publique noticias y promociones. Su dirección de correo electrónico no se utilizará para ningún otro fin, y puede darse de baja en cualquier momento.

Contacto La Empresa

Enviar un mensaje a Voice of Madrid:

Atajos

Compartir