21/05/2026
রামিসার ঘটনা শুধু একটা খবর না, এটা আমাদের সমাজের নগ্ন বাস্তবতা।
আজ আমরা সবাই ক্ষোভ দেখাচ্ছি, প্রতিবাদ করছি, আলোচনা করছি। কিন্তু কিছুদিন পর আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আমরা আমাদের জীবনে ব্যস্ত হয়ে যাব, নতুন কোনো ঘটনা আসবে, পুরোনো কষ্টগুলো চাপা পড়ে যাবে। কিন্তু একটা পরিবার? তারা কি কোনোদিন স্বাভাবিক হতে পারবে?
একটা মা-বাবা সন্তানের স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত মেনে নিতে পারে না, সেখানে এত নৃশংসভাবে নিজের সন্তানের মৃত্যু কিভাবে সহ্য করবে?
যে বাবা নিজের মেয়ের ছিন্নভিন্ন গলা সুতা দিয়ে জোড়া লাগিয়ে কবর দিয়েছে, আর বলেছে “আমি কারো কাছে বিচার চাই না, কারণ কেউ আমাকে বিচার দিতে পারবে না”— এর থেকে নির্মম কথা আর কী হতে পারে?
আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, এই সমাজে শুধু পশুসম পুরুষই নেই, এমন কিছু নারীও আছে যারা আরেকটা নারী বা ছোট শিশুর উপর নির্যাতনে সহযোগিতা করে। এটা আমাদের মানবতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অনেকেই বলে মেয়েদের আটকে রাখো, বাইরে যেতে দিও না। কিন্তু তাহলে ছোট ছোট ছেলে শিশুরা কেন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে? বছরের পর বছর বয়সী বাচ্চারা কি নিরাপদ? সমস্যা মেয়েদের পোশাকে না, বাইরে বের হওয়াতে না। সমস্যা অসুস্থ মানসিকতায়, বিকৃত মানুষগুলোর মধ্যে।
আমরা বিচার চাই না ভিক্ষা হিসেবে। বিচার আমাদের অধিকার।
এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং কঠোর আইন দরকার, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার আগে শতবার ভাবে।
আর যারা টাকার জন্য ধর্ষকদের পক্ষে দাঁড়িয়ে এসব অপরাধকে আড়াল করার চেষ্টা করে, তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা উচিত।
রামিসার জন্য বিচার শুধু একটা পরিবারের দাবি না, এটা পুরো সমাজের মানবতার দাবি।
আজ যদি আমরা চুপ থাকি, কাল হয়তো আরেকটা রামিসার নাম নিয়ে আবার একইভাবে পোস্ট লিখতে হবে।