19/05/2026
৯০ মিনিটে আমি বুঝলাম, ব্রাজিল সাপোর্টার কখনো বদলায় না 🙂
আমি জীবনে অনেক বিশ্বাসঘাতকতা দেখছি।
বন্ধু টাকা মেরে দিছে,
মানুষ প্রেম করে অন্যজনকে বিয়ে করছে,
এমনকি এক লোককে দেখছি বিরিয়ানির আলু ফেলে দিতে।
কিন্তু ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের রাতে আমার সাথে যেটা হইছিল…
ওইটার পর থেকে আমি মানুষ চেনা প্রায় ছেড়েই দিছি।
ঘটনার শুরু আগের রাত থেকে।
আমার দুই ব্রাজিল সাপোর্টার বন্ধু— ইব্রাহিম আর ছোট ভাই শফিক, হঠাৎ খুব ভদ্র হয়ে আমার রুমে আসলো।
তাদের মুখে অদ্ভুত শান্তি।
যেই শান্তি সাধারণত মানুষ হজ করে আসার পর বা প্রেমে ধরা খাওয়ার পর আসে।
ইব্রাহিম এসে বলল,
“দোস্ত… ব্রাজিল তো বাদই গেছে… কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী, মেসির জন্য খারাপ লাগে। এবারের কাপটা মেসি জিতুক মন থেকে চাই।”
শফিকও মাথা নেড়ে বলল,
“হ, ভাই। মেসি কাপ না নিলে ফুটবলের প্রতি অবিচার হবে…”
আমি তখন তাদের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবলাম—
“মানুষ আসলেই বদলায়…”
কারণ এই দুইজনই ব্রাজিল বাদ পড়ার পর থেকে আমাকে এমন খোঁচা মারছে যেন আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বের করে দিছি।
কিন্তু সেদিন তাদের কথা শুনে বুকের ভিতর অন্যরকম আবেগ কাজ করল।
আমি সিদ্ধান্ত নিলাম—
না, এদেরকে আমি আপন করে নিবো।
ফুটবল মানুষকে এক করে।
পরের দিন আমরা চারজন গেলাম University of Dhaka-এর ঐতিহাসিক মহসিন হল মাঠে।
বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখবো।
আমি নিজের পকেটের টাকা খরচ করে চারটা আর্জেন্টিনার পতাকা কিনলাম।
চারজনের মাথায় বাঁধলাম।
মুখে নীল-সাদা রং দিয়ে আর্জেন্টিনার পতাকা আঁকলাম।
আর একটা বিশাল আর্জেন্টিনার পতাকা কিনে চারজন মিলে সামনে ধরে দাঁড়ালাম।
সেদিন আমাদের দেখে মনে হচ্ছিল—
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে না, বুয়েনস এইরেসে দাঁড়িয়ে আছি। 🇦🇷
খেলা শুরু হলো।
Lionel Messi বল ধরলেই পুরো মাঠ কাঁপে।
আমরা চিৎকার দিচ্ছি।
সিহাব তো উত্তেজনায় প্রায় হার্ট অ্যাটাকের পর্যায়ে।
তারপর আর্জেন্টিনা গোল দিল।
আমি আর সিহাব পাগলের মতো লাফালাফি শুরু করলাম।
আর যেটা দেখে আমি সবচেয়ে বেশি আবেগাপ্লুত হয়েছিলাম—
ইব্রাহিম আর শফিকও আমাদের সাথে উদযাপন করছে!
ইব্রাহিম তো এক পর্যায়ে “মেসি! মেসি!” বলে এমনভাবে চিৎকার দিচ্ছিল, মনে হচ্ছিল সে ছোটবেলা থেকে রোজ সকালে দাঁত ব্রাশ করার আগে আর্জেন্টিনার জাতীয় সংগীত গায়।
আমি তখন আবেগে প্রায় গলে যাচ্ছি।
মনে মনে ভাবছি—
“ফুটবল ঘৃণা না, ফুটবল ভালোবাসা শেখায়…” 🥺
তারপর এলো সেই মুহূর্ত।
যে মুহূর্তের পর আমি বুঝলাম—
মানুষের DNA বদলানো সম্ভব না।
খেলার শেষ দিকে Kylian Mbappé হঠাৎ পরপর দুইটা গোল দিল।
পুরো মাঠ নিস্তব্ধ।
আমার হাত-পা ঠান্ডা।
সিহাব চুপ।
আমি জীবনে প্রথমবার বুঝলাম স্ট্রেসে মানুষের কিডনিও কাঁপতে পারে।
ঠিক তখনই খেয়াল করলাম—
আমাদের সামনে থেকে বড় আর্জেন্টিনার পতাকাটা গায়েব।
আমি প্রথমে ভাবলাম বাতাসে উড়ে গেছে।
তারপর সামনে তাকিয়ে দেখি—
ইব্রাহিম আর শফিক মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এমবাপ্পের গোল উদযাপন করছে।
না, আপনি ঠিকই পড়ছেন।
যাদের মুখে আর্জেন্টিনার পতাকা আঁকা…
মাথায় আর্জেন্টিনার পতাকা বাঁধা…
হাতে আর্জেন্টিনার বিশাল পতাকা…
তারা সেই পতাকা নিয়েই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে উল্লাস করতেছে। 🙂
শফিক এমনভাবে লাফ দিচ্ছিল যেন ব্রাজিল আবার ২০০২ সালে ফিরে গেছে।
আর ইব্রাহিমের চেহারায় এমন আনন্দ, মনে হচ্ছিল এমবাপ্পে গোল না— তার জমি সংক্রান্ত মামলা জিতে গেছে।
আমি দূর থেকে দাঁড়িয়ে শুধু একটা কথাই ভাবতেছিলাম—
“এরা বন্ধু না…
এরা সুপ্ত ব্রাজিল…” 🇧🇷
কিছুক্ষণ পর দুইজন আবার ফিরে আসলো।
মুখ নিচু।
চোখে অপরাধবোধ।
হাতজোড় করে বলল—
“ভাই… সরি…
আবেগ কন্ট্রোল করতে পারি নাই…”
সেদিন আমি জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা পাইছি।
ব্রাজিল সাপোর্টারকে আপনি আর্জেন্টিনার জার্সি পরাতে পারবেন…
মুখে আর্জেন্টিনার পতাকা আঁকতে পারবেন…
এমনকি তাকে দিয়ে “মেসি মেসি” স্লোগানও দেওয়াতে পারবেন…
কিন্তু খেলার চাপে তার ভিতরের ব্রাজিল একসময় বের হবেই। 😂
কারো কি এমন ‘মীরজাফর’ বন্ধু আছে? ট্যাগ করুন কমেন্টে! 👇