21/06/2026
শফিকুল ইসলাম মাসুদের স্ত্রী ডা. জাকিয়া ফারহানার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে—তাঁর বাৎসরিক আয় ৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ ১২ লাখ ২৩ হাজার টাকা।
অথচ অভিযোগ উঠেছে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তিনি ইসলামী ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন।
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—যাঁর ঘোষিত বাৎসরিক আয় মাত্র ৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা, তিনি কোন নিয়মে, কোন জামানতে এবং কী ধরনের ঋণযোগ্যতা দেখিয়ে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা ঋণ পেলেন?
আমার জানামতে, একজন ঋণগ্রহীতার আয়, পরিশোধের সক্ষমতা, জামানত এবং ব্যাংকিং ইতিহাস যাচাই করেই ঋণ অনুমোদন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে বাৎসরিক আয়ের কয়েক গুণের বেশি ঋণ পাওয়াও কঠিন। সে হিসাবে তাঁর সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৩০–৩২ লাখ টাকার আশপাশে হওয়ার কথা। তাহলে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা অনুমোদন হলো কীভাবে?
কোন সম্পদ বন্ধক রাখা হয়েছে?
কারা এই ঋণের অনুমোদন দিয়েছেন?
ঋণটি নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে কি না?
নাকি রাজনৈতিক পরিচয়ই এখানে সবচেয়ে বড় জামানত?
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—এই ঋণের কিস্তিও নাকি নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে না। অভিযোগটি সত্য হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথি জনগণের সামনে আনতে হবে।
সালমান এফ রহমানদের মতো ব্যাংক লুটেরাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই এ দেশের মানুষ ৫ আগস্টের পরিবর্তনকে সমর্থন করেছিল। পুরোনো লুটেরারা বিদায় নেবে, আর তাদের জায়গায় নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের সুবিধাভোগীরা এসে বসবে—এটা কোনোভাবেই মানুষের প্রত্যাশা ছিল না।
জামায়াত ও তাদের যুবসংগঠন সারাক্ষণ ঋণখেলাপি ও ব্যাংক লুটেরাদের বিরুদ্ধে গর্জন তোলে। অথচ তাদের প্রভাবশালী নেতাদের পরিবারের বিরুদ্ধেই যখন এমন অভিযোগ ওঠে, তখন তারা নীরব কেন? অন্যের ক্ষেত্রে এক নীতি, নিজের লোকের ক্ষেত্রে আরেক নীতি—এ দ্বিচারিতা মানুষ মেনে নেবে না।
৫ আগস্টের আগে যাঁদের কণ্ঠে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রতিবাদ শোনা যায়নি, তাঁরাই যদি ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে অস্বাভাবিক সুবিধা নেন, তাহলে সেটি পরিবর্তন নয়—শুধু লুটেরাদের মুখ বদল।
গত ১২ তারিখে বাংলাদেশের মানুষ সকল অপপ্রচার, গুজব ও নেতিবাচক লেবেলিংয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। এখন বিএনপিকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা সাধারণ মানুষের পক্ষে থাকবে, নাকি নতুনভাবে আবির্ভূত রাজনৈতিক সুবিধাভোগী ও কথিত ব্যাংক লুটেরাদের পক্ষ নেবে?
দেশের মানুষ জবাব চায়।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চায়।
আর অভিযোগ সত্য হলে—পরিচয় নয়, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা চায়।