07/01/2026
কালো রঙকে 'অশুভ' মনে করার বিষয়টি ইসলামি কোনো বিধান নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক কুসংস্কার।
কা’বা শরীফ কালো গিলাফ (কিসওয়া) দিয়ে ঢাকা থাকে এবং এটি মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত সম্মান ও পবিত্রতার প্রতীক। অন্যদিকে, বিয়ে বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কালো রঙকে 'অশুভ' মনে করার বিষয়টি ইসলামি কোনো বিধান নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক কুসংস্কার।
এর পেছনে প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রভাব:
ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হিন্দুধর্মীয় ও লোকজ সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের প্রভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সনাতন ধর্ম বা প্রাচীন লোকজ বিশ্বাসে কালোকে শোক, অন্ধকার বা অশুভের প্রতীক ধরা হয়। এই সাংস্কৃতিক প্রভাবের কারণেই অনেক মুসলিম পরিবার বিয়ে বা খুশির অনুষ্ঠানে কালো এড়িয়ে চলেন।
২. শোকের প্রতীক হিসেবে দেখা:
বিশ্বের অনেক সংস্কৃতিতে কালো রঙকে মৃত্যু বা শোকের চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিয়ের মতো একটি আনন্দময় মুহূর্তে মানুষ সাধারণত উজ্জ্বল রঙ (যেমন- লাল, সবুজ, সাদা) পছন্দ করে যা জীবন ও সজীবতার প্রতীক। তাই অবচেতনভাবেই অনেকে কালোকে 'ম্লান' বা 'অশুভ' মনে করেন।
৩. ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি:
ইসলাম ধর্মে নির্দিষ্ট কোনো রঙকে 'অশুভ' বলা হয়নি। রাসূলে কারীম (সা.) অনেক সময় কালো রঙের পাগড়ি বা চাদর ব্যবহার করেছেন। কা’বা শরীফের গিলাফও কালো। তাই ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে কালো রঙ অশুভ হওয়ার কোনো ভিত্তি নেই। কোনো দিন, মাস বা রঙকে অশুভ মনে করাকে ইসলামে 'তাতাইয়্যুর' বা কুসংস্কার বলা হয়, যা পরিহার করা উচিত।
৪. আভিজাত্য বনাম কুসংস্কার:
বর্তমানে আধুনিক যুগে এই ধারণা অনেক পরিবর্তন হচ্ছে। এখন অনেক মুসলিম বিয়েতে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে কালো রঙের পোশাক (যেমন- শেরওয়ানি বা স্যুট) ব্যবহার করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপ: কা’বা শরীফের কালো রঙ পবিত্রতার প্রতীক, কিন্তু সামাজিক অনুষ্ঠানে একে অশুভ মনে করা সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা ও সামাজিক কুসংস্কার, যার সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।